****************বিনা পুঁজিতে ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠা******************
১৯৪০সাল হবে। গিরেনদা নামের এক বেকার যুবক কাজের জন্য প্রার্থনা জানালে ঠাকুর বলেন, মানুষের সেবা কর, তা'তে পুঁজি লাগে না।
গিরেনদা ঠিক বুঝতে না পেরে জিজ্ঞেস করেন, সেটা কি রকম?
ঠাকুর বলেন, তুমি মাঠ থেকে,পুকুর থেকে কচুর শাক, হিঞ্চে শাক, কলমী শাক তুলে নিয়ে আশ্রমের বাড়িতে পয়সা না নিয়ে দিতে থাক, তারাই তোমাকে পথ দেখাবে।ঐ ভাবে চল।
ঠাকুরের আদেশ মত গিরেনদা প্রকৃতির অকৃপণ দানের শাক,পাতা- লতা আশ্রমের বাড়ীতে বাড়ীতে সরবরাহ করতে থাকেন।
ক্রমশঃ আশ্রমিকদের অনুরোধে আড়ৎদারদের সাথে যোগাযোগ করে কৃষিজাত সব্জী,আলু, পটল,বেগুন,মুলো,কুমড়ো,প্রভৃতি ন্যায্য মূল্যে সরবরাহ করে আশ্রমিকদের দৈনন্দিন সব্জীর চাহিদা মেটাতে শুরু করেন।
আড়ত থেকে সকালে সব্জী নিয়ে বাড়ি বাড়ি বিক্রি করে সন্ধ্যায় গিয়ে আড়ৎদারদের পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে নিজের প্রাপ্য লাভটুকু নিয়ে ঠাকুরের চরণ নিবেদন করতেন।
ঠাকুরের নির্দেশ মেনে লাভের এক পঞ্চমাংশ জমিয়ে জমিয়ে মূলধন করেন। ক্রমে গিরেনদা নানাবিধ ব্যবসা শুরু করেন।
ঠাকুরের আদেশ মেনে শূন্য হাতে গিরেনদা একজন নামী সৎ ব্যবসায়ী রুপে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
শ্রীশ্রীঠাকুর বলেন, ব্যবসায় উন্নতি করতে গেলে প্রধান জিনিস হ'ল সেবাবুদ্ধি। তুমি যদি নিজের লাভের দিকে লক্ষ রেখে চল, তা,তে কিন্তু কৃতকার্য হতে পারবে না।
তোমার সবসময় লক্ষ রাখতে হবে, যাতে মানুষের প্রয়োজন পরিপূরন করে তার ভিতর দিয়ে তুমি লাভবান হতে পার।
আমি যে বলেছি, "মানুষ আপন টাকা পর/ যত পারিস মানুষ ধর।"
ব্যবসায়ীদের এই জিনিসটা খুব রপ্তত করা দরকার। তোমার কাছে এসে মানুষ যদি আপনজনের মত ব্যবহার পায়,তাহলে খরিদ্দাররা আপনা থেকে তোমার দোকানে ছুটে আসবে।
খুলনার বিনোদ সাধুখাঁ ছিল, সে শুনেছি নাকি কেরোসিন তেল বিক্রি করতো। তার দোকানে সবাই বোতল ও লন্ঠন রেখে যেত।সে তার ছেলেকে দিয়ে যে সব বোতলের দড়ি পঁচে গেছে, সেগুলিতে ভাল পাটের দড়ি লাগিয়ে দিত, আর লন্ঠনের চিমনী পরিস্কার করে পলতে ইত্যাদি ঠিক করে রাখতো।
তাতে দিনের পর দিন খরিদ্দার রেড়ে যেত।সেবাবুদ্ধি যাদের থাকে,তারা বড় হয়ই। বিনোদ সাধুখাঁ পরে খুব নাম করা লোক হয়ে গেল।
আঃপ্রঃ ১৯খন্ড
।জয়গুরু সবাইকে। পরমপিতার জয়জয়াকার হোক। বন্দে পুরুষোত্তমম।
No comments:
Post a Comment