শিক্ষায় ইন্টারনেট - Mojidul Islam & Razib Ahmed

শিক্ষায় ইন্টারনেট
লেখক- Mojidul Islam & Razib Ahmed

শিক্ষায় ইন্টারনেট বলতে বুঝানো হয়েছে আপনি আমি,বা আমরা ইন্টারনেট কে কাজে লাগিয়ে পড়ালেখা করতে পারি। আমরা আগে পড়ালেখা করেছি ব্লাকবোর্ডে তারপর একটু বড় হতে না হতেই আপনার আমার হাতে চলে আসলো বই।এখনো বই আমাদের নিত্য দিনের সঙ্গী।আর এসব বই গুলোকে বর্তমানে ডিজিটাল উপায়ে নিদিষ্ট রূপ দেয়া হয়েছে। আর এসব বই গুলোকে বলা হয় পিডিএফ বই। আর ইন্টারনেট কে কাজে লাগিয়ে বই পড়াকে বুঝায় ই-লার্নিং। আর এই ই-লার্নিং এর মাধ্যমে ইন্টারনেট কে ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রকার শিক্ষা ও প্রশিক্ষন দেয়া হয়। আপনারা সবাই এখন নিত্য ইন্টারনেট শব্দটির সাথে পরিচিত।আবার আপনি, আমি,আপনারা, এই ইন্টারনেট ব্যবহার করছি। আবার কেউ কেউ এই ইন্টারনেট বিষয়ে জানেও না বা ব্যবহারও করে না।এই বহুল পরিচিত ইন্টারনেট প্রযুক্তিটি বর্তমানে সারা প্রথিবী জুড়ে খুব বড় পরিবর্তন সাধন করেছে। কিন্তু আপনি আমি চাইলেই এই ইন্টানেট কে আমাদের পড়া লেখার কাজে লাগাতে পারবো না।নিশ্চই আপনার মনে প্রশ্ন এসেছে যে কেনো কাজে লাগে পারবো না? কারন হলো এই ইন্টারনেট কে পড়ালেখার কাজে লাগাতে হলে প্রথমে আপনাকে এর অবকাঠামোর সাথে পরিচিত সহ ব্যবহার জেনে নিতে হবে।এবং এই ইন্টারনেট কিন্তু বিনামুল্যে ব্যবহার করতে পারবেন না। ইন্টারনেট ব্যবহার করতে হলে আপনার আর্থিক ভাবে সচ্ছলতা থাকতে হবে। আর আপনি আপনার সাধ্য ও প্রয়োজন মত, কম্পিউটার,ল্যাপটপ,ট্যাবলেট,মোবাইল ফোন ব্যবহার করে আপনি আপনার শিক্ষার কাজে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন।তবে শিক্ষার কাজে আপনি ট্যাবলেট কে কাজে লাগাতে পারেন।দাম ও কাজ দুটোই মাথায় রেখে বর্তমানে ট্যাবলেটকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। আপনার হাতে ল্যাপটপ,কম্পিউটার,ট্যাবলেট, মোবাইল ফোন চলে আসলেই কিন্তু আপনি আপনার শিক্ষার কাজে এসব ব্যবহার করতে পারবেন না।কারণ হলো আমি আগেই বলেছি বিনামুল্যে ইন্টারনেট ব্যবহার যোগ্য নহে,এরজন্য আপনাকে মেগাবাইট কিনতে হবে। আপনি আপনার সিমের অফার অনুযায়ি ইন্টারনেট কিনতে পারেন।আর যাদের কাসায় ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে তারা তাদের উক্ত সংযোগ দিয়ে শিক্ষার কাজে ব্যবহার করতে পারবেন। আপনি ইন্টারনেটের মাধ্যমে ডিজিটাল কন্টেন্ট,বা ডিজিটাল ক্লাস গুলো ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করতে পারবেন।যেকোন গণিতের ভিডিও ডাউনলোড করতে পারবেন। আপনি আপনার ক্লাসের বই গুলো ইন্টারনেট থেকেই ডাউনলোড করতে পারবেন। যেমন ই-বুক। বর্তমানে আমাদের শিক্ষায় এমন ভাবে প্রভাব পরেছে যে আপনি চাইলে আপনার স্কুল,কলেজ এ না গিয়েও ঘরে বসে আপনার ক্লাস গুলো করতে পারবেন। এরকম অনেক কাজে ইন্টারনেট আমাদের কে শিখতে সাহায্য করতেছে। আপনি কি শিখতে চান তা ঘরে বসেই শিখতে পারবেন।আর এভাবেই শিক্ষায় ইন্টারনেট কাজ করছে।
বর্তমানে আপনার,আমার,কিংবা আমাদের জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রেই সফলভাবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিই ব্যবহৃত হচ্ছে। কর্মক্ষেত্র থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হচ্ছে এই তথ্য প্রযুক্তির একটি বহন তা হলো ইন্টারনেট। চারি দিকে যখন এই ইন্টারনেটের গতি ছড়িয়ে পরছে তখন কেনই বা থেমে থাকবে শিক্ষার ক্ষেত্রে আর এজন্যই ইন্টারনেটকে শিক্ষার কাজে বিশেষ ভাবে ব্যবহার করার জন্য সরকার নানা রকন পদক্ষেপ গ্রহন করেছে।

এবছরে এই ইন্টারনেট নামক আবিষ্কারকে কাজে লাগিয়ে আরও শক্তিশালি ই-লার্নিং এর কাজে ব্যবহার করবে সরকার এমনটিই জানানো হয়েছে গনমাধ্যম গুলোকে। এই ইন্টারনেটের সেবা দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে ইতিমধ্যে। এবং বড় বড় স্কুল,কলেজ,ভার্সিটি গুলোতেও ইন্টারনেট সংযোগ চালু করা হয়েছে। এতে করে ক্লাসের পাঠ্য দানের সময় বিশেষ করে জীববিজ্ঞান, রসায়ন,পদার্থ বিজ্ঞান,গনিত, সহ অন্যান্য সাবজেক্টের প্রতিটি বিষয়ে শিক্ষক মহাদয় গন শিক্ষার্থীদের কে পাঠ্য পরিচালনা দেয়ার সুযোগ পেয়েছে। ফলে শিক্ষকদের ও বেশি উন্নতি সাধিত হয়েছে। একদিকে তারাও যেসব বিষয়ে দূর্বল ছিল সেসব দূর্বল পয়েন্ট গুলোকে লিষ্টা আকারে তারা তাদের সেসব বিষয়ে দক্ষতা অর্জন শুরু করেছে। আর সেই দক্ষতার আঙ্গিকে তারা ক্লাসের মধ্যে পাঠ্য দান করতে আরও বেশি উৎসাহ পাচ্ছে। আর এসব সম্ভব হয়ে এই ইন্টারনেটের ফলে।

বর্তমানে শিক্ষা ক্ষেত্রে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহার শিক্ষাকে আরও আধুনিকরন ও আনন্দদায়ক করে তুলেছে।হয়তো আপনার মনে প্রশ্ন জাগতে পারে পড়া লেখায় তো এতো দিন জেনে এসেছি কষ্ট আর কষ্ট এখন আপনি বলতেছেন আনন্দদায়ক? আপনার মনে যদি এমন প্রশ্ন জেগে থাকে তবে আপনার প্রশ্নর আলোকে বলতেই হয় হ্যা আনন্দদায়ক।কিভাবে তা হলো-এখন আপনি, আমি, আমরা ইচ্ছা করলেই যে কেউ বাংলাদেশে বসে আমেরিকার কোন লাইব্রেরি থেকে বই পড়তে পারবো শুধু বই যে পড়তে পারবো তা নয় সেই সাথে ক্লাসও করতে পারবো।বিদেশের কথা বাদ দিলাম আমাদের বাংলাদেশে বর্তমানে আপনি আপনার ঘরে বসে থেকে আপনার স্কুল, কলেজের ক্লাস গুলো করতে পারবেন। বর্তমাসে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের যেকোন সেরা বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে এসব বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে ক্লাস করতে পারবেন। অর্থাৎ বলা যায় অনলাইন বা ই-লার্নিং পদ্ধতিতে একজন শিক্ষার্থী এখন ক্লাসে উপস্থিত না থেকেও দেশ,বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় হতে বিভিন্ন ডিগ্রী অর্জন করতে পারবে।

এছাড়াও আমি আমার গত পোস্টে আলোচনা করেছি যে বর্তমানে স্মার্টফোন,ল্যাপটপ,ট্যাবলেট,কম্পিউটার এসব ডিভাইসে ইন্টারনেট সংযোগ সংযুক্ত করে সহজেই শিক্ষার যাবতীয় বিষয়ে জ্ঞানার্জন করা যায়।বর্তমানে প্রচলিত বইয়ের স্থান দখল করেছে ই-বুক বা ইলেকট্রনিক বই। আর এই ই-বুকের জনক হলো মাইকেল এস হার্ট। তবে ই-বুক বা ইন্টারনেট থেকে জ্ঞানার্জন করার জন্য অনেক ই-লার্নিং ওযেবসাইট রয়েছে।এধরনের কয়েকটি সাইট হলো।
2.www.searchenglish.com (ইংরেজী শেখার সাইট)
3.www.khanacademy.com
4.www.nctb.gov.com (সরকারি সাইট)
উদাহরন 
5. www.ebook.com (বিভিন্ন ক্লাসের পিডিএফ বই পাওয়া যায়) এছাড়াও আরও অনেক সাইট রয়েছে।

বর্তমানে তথ্য ও প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে নতুন নতুন মাধ্যমের সুচনা করেছে যা পূর্বের থেকে অনেক শক্তিশালী ও কার্যকর।আর এসব শক্তিশালী কার্যকরি শ্রেনিকক্ষে পাঠদান সহজতর করতে প্রাথমিক পর্যায় থেকে মাল্টিমেডিয়া ক্লাসরুম চালু হয়েছে। আর এই সুযোগ সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্টান গুলো পাঠ্যদান পরিচালনা করছে বর্তমানে।

আজকাল আপনি,আমি,বা আমরা যেকেউ ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্টানে পড়াশুনার পাশাপাশি পরিক্ষাও দিতে পারবো আর এটি হলো অবাক করার বিষয়।

No comments:

Post a Comment