প্রথমেই আপনি নিজের মনকে প্রশ্ন করুন কেন আপনি পডকাস্ট তৈরি করতে চান? কোন উদ্দেশ্যে এটি তৈরি করতে চান, ফ্রিল্যান্সিং কাজের জন্য, ব্যবসার জন্য, পণ্যের মার্কেটিং এর জন্য নাকি বিনোদনের জন্য? আগে আপনাকে টার্গেট সেটআপ করতে হবে আপনার পডকাস্ট তৈরির প্রকৃত উদ্দেশ্য নিয়ে। অথবা আপনি চাইলে শখের বশেও পডকাস্টিং করতে পারেন আপনার অবসর সময়কে কাজে লাগিয়ে। শখের বশে পডকাস্টিং করলে অবশ্যই আপনার ভাললাগা বিষয় গুলিই আপনার পছন্দের তালিকায় থাকবে।
তারপর নির্ধারণ করুন পডকাস্ট আপনি কাদের জন্য বানাতে চান। কাদেরকে আপনি আপনার পডকাস্টের শ্রোতা হিসেবে দেখতে চান। মনে করুন যে আপনি একজন হেলথ বিশেষজ্ঞ তাহলে আপনার শ্রোতা হবে স্বাস্থ্য সচেতন লোকজন। আপনি ক্রিকেট নিয়ে পডকাস্ট তৈরি করবেন তাহলে অডিয়েন্স তৈরি হবে যারা ক্রিকেটকে ভালবাসে এমন লোকজন। আপনাকে সময়ের চাহিদা অনুযায়ী টপিক নির্ধারণ করতে হবে আসলে অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছানোর জন্য। যেমন সামনে ফুটবল বিশ্বকাপ আসছে আপনি যদি এ নিয়ে পডকাস্ট বানান তাহলে তা খুব সহজেই হিট হতে পারে। মানে আপনাকে আগে টার্গেট অডিয়েন্স ঠিক করতে হবে এবং সেই অনুযায়ী পরিকল্পনা করে সামনে অগ্রসর হতে হবে। অডিয়েন্সের সামনে কিছু কারণ উল্লেখ করুন কেন তারা আপনার পডকাস্টের শ্রোতা হবেন। সঠিক পরিকল্পনা করুন আপনি কোন শ্রেণীর দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে চান এবং কিভাবে পৌঁছাতে চান। দর্শকদের নিকট সুনির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করুন কেন আপনার পডকাস্ট তাদের শুনা উচিৎ এবং এ থেকে তারা কি সুবিধা পেতে পারে।পডকাস্টের একটি পর্বের শেষ মুহূর্তে দর্শদেরকে আগামী পর্ব শুনার কারণ উল্লেখ করুন এবং আগামী পর্ব থেকে তারা কি সুবিধা পেতে পারে।
তারপর আপনার পডকাস্ট সিরিজের জন্য সুন্দর একটি নাম নির্বাচন করুন। আপনি যখন একটি পডকাস্ট সিরিজ শুরু করবেন তখন আপনার অডিয়েন্স কিন্তু সেই বিষয়ের উপর সার্চ দিয়ে ইন্টারনেট থেকে তথ্য জানার চেষ্টা করবে তাই অতি আনকমন কঠিন নাম ব্যবহার না করাই উত্তম। খুব বড় বা শব্দবহুল নাম ব্যবহার না করাই শ্রেয় যা অডিয়েন্সের নিকট বিরক্তির কারণ হতে পারে। কঠিন বা জটিল শব্দের ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকবেন। একটি আকর্ষণীয় ও মনোমুগ্ধোকর নাম আপনার পডকাস্টের জনপ্রিয়তাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে তাই এক্ষেত্রে আপনাকে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হবে।
আপনি যখন পডকাস্ট সিরিজ শুরু করবেন তখন আপনি অবশ্যই আপনার রিয়েল নাম ব্যবহার করবেন। আপনি যদি অন্য কোন নাম ব্যবহার করেন তাহলে কোন এক সময় এ ব্যাপারে আপনার অডিয়েন্স কনফিউজড হয়ে যাতে পারে। যতটা সম্ভব চেষ্টা করবেন নিজেকে কিভাবে বিতর্কের ঊর্ধে রাখা যায়।
এবার আপনি পরিকল্পনা করুন পডকাস্ট পর্বগুলিকে কিভাবে সাজাবেন। কি ধরনের কনটেন্ট থাকবে আপনার পডকাস্ট সিরিজে সে ব্যাপারে সঠিক পরিকল্পনা করুন। কনটেন্টই আপনার পডকাস্ট সিরিজের মূল প্রাণ তাই এ ব্যাপারে সঠিক গবেষণা দরকার। প্রতিটি পর্ব কত সময় নিয়ে হওয়া উচিত সে ব্যাপারে ভাবুন। টাইম ডিউরেশনটা অবশ্য কনটেন্টের উপর নির্ভর করে। অনেকের মতে ছোট দৈর্ঘ্যের একটি পডকাস্ট পর্ব ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে হলেই ভাল এবং বড় দৈর্ঘ্যের একটি পডকাস্ট পর্ব ৪৫ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার মধ্যে হওয়াটাই বেটার। আবার অনেকেই মনে করেন প্রতিটি পর্ব ২০-২৫ মিনিটের মধ্যে করাটাই স্মার্ট। তবে সময় নিয়ে অতি মাত্রায় চিন্তিত হবার কিছু নেই তা নির্ভর করে মূলত দুটি বিষয়ের উপর, একটি হলো আপনার অডিয়েন্সের চাহিদা এবং অন্যটি হলো কনটেন্ট। আপনার কনটেন্টের প্রাসঙ্গিকতা যদি ৫০ মিনিট থাকে তাহলে আপনি কেন একে ২০ মিনিট বানাবেন সেটি হলো ফ্যাক্ট। আবার প্রশ্ন হলো আপনি যদি বিষয়টি ২০ মিনিটে উপস্থাপন করতে পারবেন তাহলে কেন এটিকে ৩০ মিনিটে দীর্ঘায়িত করবেন সেটাও একটি ফ্যাক্ট।
তবে আপনার শ্রোতারাই মূল্যায়ন করবে আপনার পডকাস্ট পর্ব দীর্ঘ হচ্ছে নাকি সংক্ষিপ্ত হচ্ছে। প্রয়োজনে আপনি বছরে দুয়েকবার আপনার অডিয়েন্সের উপর এ ব্যাপারে জরিপ চালাতে পারেন। তবে দুয়েকজন দর্শক মন্তব্যের উপর নির্ভর করে কখনই বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নিবেন না বরং এ ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্ক থাকবেন। অধিকাংশ শ্রোতাই যাতে সুবিধা পেতে পারে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হয়েই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
এখন প্রশ্ন হলো প্রতিটি পর্ব প্রচারের মাঝে কেমন গ্যাপ থাকবে, দিনে কতবার চলবে অথবা সপ্তাহে কতদিন চলবে অথবা কত দিন পর পর চলবে, এই ব্যাপারটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি প্রতি সপ্তাতে, পনের দিনে বা মাসে একবার করেও পডকাস্ট পর্ব চালাতে পারেন। আপনার পডকাস্ট সিরিজ যখন হিট হয়ে যাবে তখন আপনার অডিয়েন্স এক পর্ব শুনার পর অপর পর্ব শুনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবেন। তবে প্রতিটি পর্বে কেমন গ্যাপ থাকবে এ ব্যাপারে আপনাকে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিতে হবে। আবার অন্যদিকে মাসে গড়ে চারটি পর্ব না চালিয়ে প্রতি মাসে একটি আকর্ষণীয় পর্ব চালিয়ে নিজের জনপ্রিয়তাকে ধরে রাখতে পারেন। অথবা আপনি অডিয়েন্সের নিকট থেকে মতামত নিতে পারেন প্রতিটি পর্ব কত দিন পর পর চালানো উচিৎ। অন্যদিকে আপনি সাময়িক পডকাস্ট সিরিজ ও চালাতে পারেন যেমন সামনে ২০১৮ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ কে উপলক্ষ্য করেও তা করতে পারেন। সুতরাং বিশেষ কোন ঘটনার উপলক্ষ আপনার পডকাস্ট সিরিজ তৈরিতে অনেক বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
আপনার নির্ধারিত টপিককে কয়েকটা ক্যাটাগরিতে ভাগ করে পডকাস্ট সিরিজ চালাতে পারেন এবং প্রতিটা ক্যাটাগরিকে আপনি চাইলে একেকটি কোর্স বা ই-বুকে রূপান্তরিত করতে পারেন যা আপনার জন্য একটি চমৎকার আইডিয়া হতে পারে।
মাঝপথে যদি আপনি অডিয়েন্সে আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন তাহলে কিছুদিনের জন্য একটু বিরতি নেন, আপনি কখন আবার ফিরবেন তা অডিয়েন্সকে অবহিত করুন, নিজেকে আবার ভালভাবে প্রস্তুত করুন, সমস্যা গুলি নিয়ে কাজ করুন এবং শ্রোতাদেরকে দেওয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই ফিরে আসুন।
পর্ব ১, পর্ব২, পর্ব৩ এমন নাম দেওয়া থেকে বিরত থাকুন বরং প্রতিটি পর্বের জন্যই সুন্দর একটি নাম পছন্দ করুন। প্রতিটা পর্বেই একটি মূল বিষয়কে হাইলাইট করুন এবং শ্রোতাদের সামনে কারণ উল্লেখ করুন কেন ওদের এ পর্বটি শুনা উচিৎ। শ্রোতাদের নিকট স্পষ্টভাবে এ পর্বের আকর্ষণ গুলি উপস্থাপন করুন। এক কথা বলতে হয় যে, প্রতিটা পর্বের একটি সুন্দর টাইটেল নাম দিতে হবে।
বিভিন্ন ফরম্যাটের পডকাস্ট শো রয়েছে আপনি সব গুলি ফরম্যাটই পরীক্ষামূলকভাবে চালিয়ে দেখতে পারেন কোনটি আপনার জন্য হিট হয়। প্রথমেই আমি আলোচনা করছি সোলো শো সম্পর্কে। আপনি যখন একক ভাবে কোন শো চালাবেন তখন সঠিক বিষয় নির্বাচনটা খুব মুখ্য একটি ব্যাপার। এক্ষেত্রে পডকাস্ট শো এর আপনিই একমাত্র কর্ণধার। পর্বগুলি রেকর্ডে আপনাকে কারো উপর নির্ভর করতে হবে না এবং এর প্রোফিট ও আপনাকেও কারো সাথে শেয়ার করতে হবে না। একজন শিক্ষানবিশ পডকাস্টারের জন্য এ ফরম্যাটটি একটু চ্যালেঞ্জিংই বটে। এখানে সবচেয়ে বড় যে ব্যাপার তা হলো, সোলো শোতে আপনি যখন নিজের সাথে নিজে কথা বলবেন তখন আপনার অনুভূতিটা থাকতে হবে যে আপনি মূলত শ্রোতাদের সাথে কথা বলছেন।
তারপর আলোচনা করবো কো-হোস্টেড শো সম্পর্কে। আপনি আপনার বন্ধু বা সহকর্মীকে পডকাস্ট শো এর কো-হোস্টেড করে আকর্ষণ বাড়িয়ে দিতে পারেন। আপনাদের দুজনের রসায়নে পডকাস্ট শো টি বেশ জমে উঠতে পারে। হাসি-ঠাট্টা বা গঠনমূলক বিতর্কের মাধ্যমে পডকাস্ট শোটি শ্রোতাদের নিকট বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে। কো-হোস্টেড ফরম্যাটে সময় ম্যানেজিং টা একটু চ্যালেঞ্জিং হতে পারে কিংবা পডকাস্টের মালিকানা নিয়ে দুজনের মাঝে যেকোন সময় বিরোধ বাঁধতে পারে অথবা পডকাস্ট থেকে আয়ের অংশটা কিভাবে বণ্টিত হবে সেটা নিয়ে বিরোধ লাগতে পারে এবং আপনার কো-হোস্ট যদি পডকাস্ট সিরিজের মাঝপথে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে কিংবা কোন কারণে তাকে পাওয়া না যায় তখন এ শো এর ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিতে পারে।
আরেক ধরনের পডকাস্ট ফরম্যাট আছে যেটা সাক্ষাৎকারভিত্তিক শো।একজন সেলিভ্রেটিকে বা জনপ্রিয় কোন ব্যক্তিকে আপনার শোতে আমন্ত্রণ জানিয়ে তার সাক্ষাতকার নিয়ে পডকাস্ট শো কে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন। এখানে দুটি ব্যাপার আছে, আপনার সাবস্ক্রাইভ করা শ্রোতারা এই অডিও শো টি উপভোগ করবে সাথে সাথে ঐ বিশেষ ব্যাক্তির নিজস্ব অনুসারী বা দর্শকরাও এই অনুষ্ঠানটি উপভোগ করবেন। আরো একটি লাভ হচ্ছে ঐ সেলিভ্রেটির দর্শকরাও কিন্তু তখন আপনার শো তে সাবস্ক্রাইভ করবেন এতে আপনার অডিয়েন্সও বেড়ে গেলো। সাক্ষাৎকারভিত্তিক অডিও শো চালানোর জন্য আপনাকে যথেষ্ট দক্ষ হতে হবে। স্কাইপি কলে বা ইন্টারনেটভিত্তিক কোন কলে অতিথির সাক্ষাৎকার নিবার জন্য আপনার যথেষ্ট প্রযুক্তি জ্ঞান থাকা উচিৎ। শুরতেই টপ র্যাঙ্কের অতিথিদের সাক্ষাৎকার নেওয়াটা কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ তাই এক্ষেত্রে আপনাকে ধাপে ধাপে অগ্রসর হতে হবে।
আরো কিছু অন্যান্য ফরম্যাট আছে যেমন, গোলটেবিল আলোচনা। এ ফরম্যাটের পডকাস্টে একজন নিয়মিত হোস্ট ও তার সাথে কয়েকজন অতিথি একটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন। তারপর আপনি ডকুমেন্টারিভিত্তিক পডকাস্ট সিরিজ চালাতে পারেন। তারপর আপনি ছোট ছোট নাটক ও ডকুমেন্টারির মাধ্যমে কোন শিক্ষণীয় বিষয়কে উপস্থাপন করতে পারেন। যাইহোক বিভিন্ন ফরম্যাটের খুঁটিনাটি জেনেই তা বাছাই করা উচিৎ।
ধরে নিলাম পডকাস্ট রেকর্ডিং এর জন্য আপনি প্রস্তুত সুতরাং এখন আপনাকে এর সরঞ্জাম নিয়ে ভাবতে হবে। এর জন্য যেটা দরকার একটি কম্পিউটার যেখানে ভাল মানের একটি মাইক্রোফোন ও ইন্টারনেট সংযোগ রয়েছে। আপনার সরঞ্জাম যত কোয়ালিটি হবে, পডকাস্টের সাউন্ড কোয়ালিটিও তত উন্নত হবে। ইউএসবি মাইক্রোফোন সেটআপ সাউন্ড কোয়ালিটিতে যথেষ্ট ভাল ভূমিকা রাখতে পারে। আপনার মুখ থেকে মাইক্রোফোন কত দূরত্বে থাকলে সাউন্ড কোয়ালিটি বজায় থাকবে সে ব্যাপারে আপনাকে স্পষ্ট ধারণা রাখতে হবে। মূল কথা হলো ভাল মানের একটি পডকাস্ট সিরিজের জন্য আপনার সরঞ্জাম গুলিও ভাল মানের হওয়া চাই।
আপনার কম্পিউটারে একটি ইউএসবি মাইক্রোফোন প্লাগিন করার পর সর্বপ্রথম যেটা দরকার সেটা হলো আপনার ভয়েস রেকর্ড ও এডিট করার জন্য ভাল মানের একটি ভয়েস রেকর্ডার সফটওয়ার। আপনার জন্য সুখবর হচ্ছে এর জন্য আপনাকে একটি টাকাও খরচ করতে হবে না। পডকাস্টিং রেকর্ডিং এর জন্য খুব উন্নত মানের একটি সফটওয়ার হচ্ছে Audacity যা আপনি ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে খুব সহজেই ব্যবহার করতে পারেন। তাছাড়াও আরো অন্যান্য সফটওয়ার আছে যেগুলির জন্য আপনাকে পে করতে হবে কিন্তু আমরা আজকে সেদিকের আলোচনায় যাচ্ছি না।
এখন ধরে নিলাম আপনার কম্পিউটারে মাইক্রোফোন সেটিংস ও অডিও রেকর্ডিং সফটওয়ার সহ অন্যান্য সবকিছু সুন্দরভাবে স্থাপন করা হয়েছে সুতরাং পরবর্তি করণীয় কি? এখন আপনি রেকর্ড করবেন বা কি বলবেন? হ্যাঁ সেটার জন্য প্রথমেই আপনার একটি স্ক্রিপ্ট দরকার। স্ক্রিপ্টিং বলতেই আমরা লিখিত কোন ডকুমেন্টকেই বুঝি। এখানে একটা সূক্ষ্ম ব্যাপার আছে খেয়াল করুন, কোন একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের উপর স্ক্রিপ্ট লিখা হল এবং আপনি অনর্গল পাঠ করে গেলেন এটা কিন্তু শ্রোতাদের নিকট আপনাকে বোকা বানাবে। স্ক্রিপ্ট এমন ভাবেই উপস্থাপন করতে হবে যেন অডিয়েন্স মনে করে যে আপনি ওদের সাথে সরাসরি কথা বলছেন। সুতরাং এই ব্যাপারটি মাথায় নিয়ে অবশ্যই আপনি স্ক্রিপ্ট প্রস্তুত করবেন। সবচেয়ে বেটার হয় আপনি যদি স্ক্রিপ্টে কিছু বুলেট পয়েন্ট এড করতে পারেন তাহলে তা আপনার জন্য অনেক সুবিধা বয়ে আনবে। একটা ব্যাপার মনে রাখবেন স্ক্রিপ্টই কিন্তু আপনার পডকাস্ট সিরিজের মূল প্রাণ তাই স্ক্রিপ্ট যত ভাল হবে অডিও সিরিজটিও তত ভাল হবার সম্ভবনা থাকবে।
একটি পডকাস্ট সিরিজ উপস্থাপনায় মানসিকতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি ফ্যাক্ট। আপনি যখন কথা বলবেন তখন যদি মনে করেন যে আপনি নিজের সাথে নিজে কথা বলছেন বা মাইক্রোফোনের সাথে কথা বলছেন তাহলে কিন্তু বিষয়টি জটিল হয়ে যাবে। আপনার মানসিকতা এমন ভাবে প্রস্তুত করতে হবে যেন আপনি অডিয়ন্সের সাথে সরাসরি কথা বলছেন। বিষয়টি যদিও সিম্পল মনে হচ্ছে কিন্তু একটি সার্থক ও কার্যকরী পডকাস্টিং এ এটাও খুবই স্পর্শকাতর একটি ব্যাপার। শ্রোতাদের মাঝে এমন ভাবে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে তারা যেন এটা ধরেই নেয় আপনি তাদের সাথে সরাসরি কথা বলছেন। এই একটি কাজই আপনার পডকাস্টিং সিরিজকে হিট করার জন্য ৬০% ভূমিকা রাখবে।
পডকাস্টে সিরিজে আপনি চাইলে কো-হোস্ট বাহিরের যেকোন দেশ থেকেই নিতে পারেন কিংবা বাহিরের দেশের যেকোন অতিথির সাক্ষাৎকারও আপনি নিতে পারেন। সবচেয়ে ভাল উপায় হচ্ছে স্কাইপি কলে কথা বলে তা রেকর্ড করে নেওয়া। আগেই বলেছিলাম এক্ষেত্রে আপনাকে কিছু প্রযুক্তি জ্ঞান অর্জন করে নিতে হবে। আপনার কনটেন্ট রেকর্ডিং এর সবচেয়ে যে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার তা হলো এডিটিং এবং এটি আপনাকে খুব দক্ষতার সহিত করতে হবে। অডিও ক্লিপ গুলিকে একত্রিত করতে হবে, প্রয়োজনে কিছুটা কাটছাঁট করতে হবে, মিউজিক এড করতে হবে এবং সর্বোপরি শ্রোতাদের নিকট এটার সাউন্ড কোয়ালিটি মানসম্মত করে ফুটিয়ে তুলতে হবে। আগেই উল্লেখ করেছিলাম অডিও রেকর্ড ও এডিটিং আর জন্য Audacity সফটওয়ারই বেস্ট। আর আপনি যদি এডিটিং এ দক্ষ না হয়ে থাকেন তাহলে কিছু টাকা খরচ করে বিশেষজ্ঞ দ্বারা এডিট করে নেওয়াটাই উত্তম।
মিউজিক এড করার ব্যাপারটা আসলে এখানে বাধ্যতমূলক নয়। আপনি যদি মনে করেন যে পডকাস্টকে আকর্ষণীয় করার জন্য এর শুরুর দিকে বা শেষ দিকে মিউজিক এড করা উচিৎ তাহলে করতে পারেন। টিভি শো বা ফিল্ম শো থেকে মিউজিক কপি না করে ইউনিক কিছু মিউজিক এড করাই উত্তম। অনেক ধরনের ওয়েবসাইট রয়েছে যেখান থেকে আপনি পডকাস্টের জন্য খুব ভাল ভাল মিউজিক সংগ্রহ করে নিতে পারেন। এদের মধ্যে রয়েছে ফ্রি রয়্যালটি মিউজিকি, স্টক মিউজিক, লাইব্রেরী মিউজিক। এছাড়াও আপনি লাইসেন্স বা সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমেও ফ্রি মিউজিক সংগ্রহ করে নিতে পারেন। তাছাড়া কিছু স্টাডি করে পডকাস্ট মিউজিকের সোর্চ গুলি খুঁজে নিবেন।
পডকাস্ট সিরিজের প্রতিটা পর্বের টাইটেল নামের সাথে সাথে আপনার প্রথম ইম্প্রেশনটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে একটি কভার আর্ট ফ্রন্টলাইনে থেকে ভূমিকা রাখতে পারে। আপনার কভার আর্টটি ১৪০০*১৪০০ পিক্সেলের জেপজি বা পিএনজি ফর্ম হলেই ভাল হবে এবং এর আকার হওয়া উচিৎ ৫০০ কেবির মধ্যে।
ধরে নিলাম আপনার পডকাস্টটি রেডি হয়ে গেছে এখন প্রশ্ন হলো এটিকে কিভাবে শ্রোতাদেরকে শুনাবেন এবং এ জন্য আপনার একটি মিডিয়া হোস্ট লাগবে যেখানে পডকাস্ট কনটেন্ট মজুদ হয়ে থাকবে এবং সেটি অডিয়েন্সকে শুনতে, ডাউনলোড করতে বা সাবস্ক্রাইভ করতে সুযোগ করে দেয়।মানে কথা হল আপনার অডিও পডকাস্ট প্রচারের জন্য মিডিয়া হোস্টিং সার্ভিসে সাইনআপ করতে হবে অথবা তাদের সাইটে আপনি একটি ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও পাবলিশ করতে পারেন অথবা আপনার নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও তা করতে পারেন। আপনি যখন মিডিয়া হোস্টে বিভিন্ন ডিরেক্টরিতে অডিও শো সাবমিট করেন তখন তা শ্রোতাদেরকে খুঁজে পেতে, ডাউনলোড করতে বা সাবস্ক্রাইভ করতে সুযোগ করে দেয়। আপনি যখন মিডিয়া হোস্টে সাইনআপ করবেন তখন ফ্রিতে একটি ওয়েবসাইট পাবেন যাতে আপনি খুব সহজেই সাইটটি চালাতে পারবেন তবে এখানে আপনার জন্য কিছু সীমাবদ্ধতা থাকবে। আর আপনি যদি আরো বেশি নিয়ন্ত্রণ চান, আরো টুল ব্যবহার করতে চান, নিজের একটি ব্রান্ডিং চান, পডকাস্ট লাইভ করার মত নিজের একটি স্পেস চান তাহলে আপনাকে সেটির নিজস্ব ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে মানে ওয়েব হোস্টিং কিনে নিতে হবে। আর আপনার যদি ব্যবসা বা নিজের ব্রান্ডিং এর উদ্দেশ্যে আগেই ওয়েবসাইট তৈরি করা থাকে তাহলে নতুন করে ওয়েব হোস্টিং না কিনে সেখানেই পডকাস্ট সেটআপ করে নিতে পারেন। পডকাস্টের জন্য ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট ও ভাল একটি অপশন হিসেবে কাজ করে।
link:
পডকাস্ট
No comments:
Post a Comment