Writer, Blogger : Partho Pratim Mazumder. I am an Content Writer. This Partho Notes blog is just a round of my life which I see, think, write, Thank you for being patience and reading Me, writer: Partho Pratim Mazumder
হোস্টিং কি? ভালো হোস্টিং এর বৈশিষ্ট্য কি কি?
হোস্টিং কি? ভালো হোস্টিং এর বৈশিষ্ট্য কি কি?
~ পার্থ প্রতীম মজুমদার
আজকে হোস্টিং সম্পর্কে কিছু কথা বলবো। হোস্টিং কি তা এক কথায় বললে আপনার সাইট যে ঠিকানায় রাখা হয় , সেটাই হোস্টিং। যেমন, আপনার ৫ মেগাবাইট এর একটা ওয়ার্ড বা টেক্সট ফাইলকে গুগল ড্রাইভে বা ফেইসবুকে আপলোড করে রাখি। সেই গুগল ড্রাইভ বা ফেইসবুক ই হলো হোস্ট অথবা হোস্টিং। তারপর আমরা একটা লিঙ্কের মাধ্যমে তা বন্ধুদের সাথে শেয়ার করি সেটা হলো ইউ আর এল । সেই লিঙ্কে যখন ক্লিক করি ব্রাউজারের উপর বা ব্রাউজারের এড্রেস বারে লিঙ্ক বা সেই ইউ আর এল আমরা দেখতে পাই। এখন ৫ মেগাবাইটের টেক্সট ফাইল গুগল বা ফেইসবুক আপলোড করার আগে কোথায় ছিল? আমাদের মোবাইলে অথবা ডেস্কটপ পিসির হার্ডডিস্কে বা পেন ড্রাইভ বা পোর্টেবল কোন ড্রাইভে। কিন্তু ওই ৫ এমবির ফাইলটা আমরা বন্ধুর সাথে শেয়ার করি পারি না , যদিও করতে হয় তাহলে পেন ড্রাইভে বা হার্ড ডিস্কে শেয়ার করতে হবে। কিন্তু এটি অনেক ব্যয় বা সময় সাপেক্ষ। কিন্তু এই ছোট্ট একটা ফাইল আমরা গুগলে বা ফেইসবুকে শেয়ার করি , তখন খুব কম সময়ের মধ্যে তা আমরা দেখতে পাই। ইউটিউবে ভিডিও আমরা ঠিক একই ভাবে দেখি। আপনি যতক্ষণ না কোন রান্নার বা কোডিং এর উপর করা ভিডিও আপলোড না করছেন, আপনার বন্ধুরা বা ভিউয়ারস তা দেখতে পারবেন না। ইউটিউবও একটা হোস্টিং। যেটাকে আমরা ভিডিও শেয়রিং সাইট বলে জেনে থাকি।
হোস্টিং আর কিছুই না , আমাদের যেমন পিসিতে হার্ডডিস্কে ডাটা থাকে বা ফাইল থাকে অর্থাৎ ওই ৫ এম্বির ফাইল যেভাবে হার্ডডিস্কে ছিলো ঠিক সেভাবে ফেইসবুক বা গুগল ড্রাইভে আপনার ফাইলটা সেভাবে কোন হার্ডডিস্কে রাখা আছে। ইন্টারনেট কানেক্শনের মাধ্যমে আমারা ফাইলটি সেখান থেকে ডাউনলোড বা আপলোড করতে পারছি। কিন্তু আপনি ফেইসবুকে বা গুগল ড্রাইভে ফাইল স্টোর করতে পারবেন, শেয়ার করতে পারবেন , কিন্তু সাইট বানাতে পারবেন না । যেমন গুগল ড্রাইভ একটা সাইট। একে ফাইল স্টোরেজ বলা হয়। অর্থাৎ আপনি আপনার ফাইল তাদের সার্ভার বা হোস্টিং এ রাখতে পারবেন। ফেইসবুক সোসিয়াল সাইট হলেও ভিডিও বা ফাইল শেয়ারিং এদের আলাদা একটা সার্ভিস। আবার ইউটিউব ভিডিও শেয়ারিং ওয়েবসাইট।
এখন আপনি ওয়েবসাইট বানাবেন কিভাবে, এইটা এমন কিছু ফাইল যেখানে আপনার কোম্পানির কিছু তথ্য বা ভিডিও বা ছবি থাকে এবং তা ইন্টারনেট থেকে এক্সেস করা যাবে। অর্থাৎ, সেটার জন্য প্রথমে একটা ঠিকানার দরকার হবে যেখানে আপনার বন্ধু টাইপ করলে সহজে আপনার সাইট পেতে পারে । এক বলা হয় ডোমেইন। অর্থাৎ এড্রেস। আপনি যে বাসায় থাকেন সেই রকম একটা এড্রেস। অর্থাৎ ফেইসবুক বা গুগলের এড্রেস কোনটা www.facebook.com বা www.google.com। একে বলা হয় ডোমেইন। তো আপনার সাইটের জন্য ডোমেইন আপনাকে কিনতে হবে।
এখন ঠিকানা তো আপনি পেয়ে গেলেন। আপনার জন্য শুভকামনা!! এখন আপনার বন্ধু আপনার সাইটের ঠিকানায় যেয়ে কি দেখবে? কিছু দেখবে না , কারন আপনি এখনো সাইট লঞ্চ করেন নি , অর্থাৎ , আপনার সাইট এর ফাইল গুলোকে হোসটিং এ আপলোড করে তা চালু করেন নি। ধরুন , আপনার কোন আত্মীয় আপনার পরিবারকে দেখতে চাচ্ছে। এখন আপনি তাদের ঠিকানা দিলেন , কিন্তু যেয়ে দেখলো সেই ঠিকানায় আপনার পরিবার নেই। তখন কি হবে? অর্থাৎ আপনার দেয়া ঠিকানা বরাবর আপনার পরিবারকে থাকতে হবে। ঠিক তেমনি আপনার ডোমেইন এড্রেস বরাবর আপনার সাইট থাকতে হবে। এটাই হোস্টিং এর কাজ। অর্থাৎ আপনার বাড়ির মতন। যেই বাড়িতে আপনার আপনি বা আপনার পরিবার থাকে। আর সেই হোস্টিং এ আপনার কোম্পানির ফাইল থাকবে। একে আপনি আরেক কোথায় ডিজিটাল বাড়িও বলতে পারেন। যেখানে আপনার ডিজিটাল বা ইলেকট্রনিক তথ্য বা কোম্পানির ফাইল থাকবে।
তাহলে এখন আপনি হোসটিং কি তা বুঝে গেলেন। শুভকামনা আপনার জন্য। চলুন এবার আপনার জন্য কিছু হোসটিং বা ডিজিটাল বাড়ি দেখে আসি। অনেক ধরনের হোস্টিং আছে, যেমন hostgator, bluehost, namecheap, google cloud , amazon cloud, alibaba cloud আরও অনেক হোস্টিং আছে ।
এখন হোসটিং সাইটগুলোতে গেলে দেখবেন বিভিন্ন ধরনের প্ল্যান আছে। প্রহমে যে অপশন থাকবে , সেটা হচ্ছে স্টোরেজ। অর্থাৎ আপনার বাড়িটা আপনি কতটুকু জমির উপর করতে চান? আপনার চারজন পরিবার মিলে থাকতে কতটুকু জায়গা বা জমির দরকার, ভবিষ্যতে পরিবারের মেম্বার বা সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি পেলে আপনি বাড়াতে পারবেন কি না ,এই ধরনের চিন্তা ভাবনা করে আপনি জায়গা বা বাড়ি ভাড়া নেন। হোসটিং এর বেলায়ও একই রকম হিসাব। অর্থাৎ আপনার ফাইল , ছবি, ভিডিও আপনি কতটুকু স্টোরেজ বা কত জিবির দরকার? পরে সাইটের কন্টেন্ট বারাবেন তখন কি পরিমান জায়গা লাগতে পারে, ভিডিও বা ছবি লাগতে পারে। এই ধরনের অনেক হিসাব। ধরে নেন, আপান্র সাইট প্রথমে সব মিলিয়ে ৫০ এম্বির মতন লাগবে। তাহলে আপনি স্টোরেজ প্ল্যান ১ জিবি পছন্দ করতে পারেন। এখন আপনি জিজ্ঞেস করতেই পারেন আমার সাইট তৈরি করতে ১ জিবি স্টোরেজ লাগবে বুঝবো কিভাবে? এটা আনুমানিক হিসাব। এখন ভিডিও , ছবি ছাড়া, প্রাথমিকভাবে সাইট ৫-১০ এম্বির বেশি হয় না। এখন আপনি টা বুঝবেন কিভাবে, ওকে , আপনি কোন একটা সাইট যান, ধরে নিন , প্রথম আলো সাইট গেলেন, এখন রাইট ক্লিক করে , "সেইভ এস" অপশন এ ক্লিক করুন। তারপর "ওয়েবপেইজ কমপ্লিট" অপশন পছন্দ করে সেইভ অপশন ক্লিক করে দিন । তারপর সেই ফাইলে গিয়ে রাইট বাটন ক্লিক করে প্রপার্টিস নামে অপশনে ক্লিক করলে আপনার ফাইলের সাইজ কতটুকু টা বুঝে যাবেন। এই তো গেলো একটা পেইজ , এখন আপনার সাইটে কতটুকু পেইজ আছে টা আনুমানিক হিসাব করে নিন। ধরে নিন ,আর্টিকেল , ছবি সহ দশটি পেইজ আছে , তাহলে দশ-১৫ এম্বি সাইজ হবে। ভিডিও বড় থাকলে বড় সাইজ হবে, ইউটিউবে ভিডিও আপলোড ডাউনলোড করলেি বুঝা যায় ভিডিও সাইজ কেমন হয়। এছাড়া আগের ওয়েবপেইজের সাইজ যেভাবে বের করেছেন, ঠিক সেইভাবে বের করতে পারবেন। এখন শুধু প্রাথমিকভাবে ওয়ার্ডপ্রেস ইন্সটল করতে ৫ এম্বির মধ্যে হয়ে যায় , পড়ে আর্টিকেল হিসাব করলে আস্তে আস্তে আরও বাড়ে।
এখন আসি ব্যান্ডউইথের বেলায়। কতটুকু ব্যান্ডউইথের দরকার হয়। এটা কিছু ফ্যাক্টরের উপর নির্ভর করে। আপনি ৫ এম্বির ফাইল ডাউনলোড হতে কতটুকু ডাটার দরকার হয়? বলতে পারবেন ? ৫ এম্বি?
মোটেই না, আপনার মোবাইল ডাটা কাউন্ট করার এপ্স থাকলে বুঝতে পারবেন , ৫ এম্বির ফাইল ডাউনলোড হতে ১০ এম্বি যায়। কারন, প্রথম ৫ এম্বি ডাটা প্রথমে রিসিব করে , তারপর ৫ এম্বি ডাটা সেন্ড করে । এখন কি এটা এক সাথে করে , না এটি বিট হিসেবে করে । অর্থাৎ এক বিট সেই গ্রহন করার সাথে সাথে আপনার কাছে সেন্ড করে দিবে। অনেক সময় নেটওয়ার্কে সমস্যা থাকলে দেখবেন, পেইজ একটু এসে আর আসে না। অর্থাৎ পেইজের ডাটা পুরোটুকু রিসিব করা হয় নি।
অর্থাৎ, আপনার ভিজিটর আপনার পেইজ পড়তে কতটুকু ব্যান্ডউইথের দরকার তা আপনাকে ঠিক করতে হবে, অর্থাৎ একটা পেইজ যদি ৫ এম্বি হলে, তাহলে ব্যান্ডউইথ মিনিয়াম ৫ এমবি যায়। আবার সার্ভারের হিসাব আছে। অর্থাৎ আপনার হোস্টিং কত দূরে বা রিপন্স টাইম কেমন এগুলোর উপর ডিপেণ্ড করে। যেমন অনেক লোকাল সাইট আছে, সেগুলো লোকাল বাদে অন্য দেশ থেকে এক্সেস করলে রিপন্স টাইম বেশি যাবে, ব্যান্ড উইথও বেশি যাবে।
তাঁর মানে, একটা পেইজে কি পরিমান ভিজিটর আসছে, সেইটার উপর নির্ভর করে ব্যান্ডউইথ পরিমান করা হয়। পরিমান ভিউজ হলে বা ৫ এম্বির একটা পেইজে ৫০ জন ভিজিটর আসলে ৫০০ এম্বি ব্যান্ডউইথের দরকার পড়ছে । প্রথম দিকে ১ জিবি নিলেই হয়, কিনতু ইকমার্স বা কোম্পানি হাই ট্রাফিক ওয়েবসাইট এর হিসাব আলাদা। তখন হেবি ব্যান্ডউইথ নিতে হয় । যেমন প্রথম আলো হেবি ব্যান্ড উইথ দিয়ে অপারেশন করা হয়।
আরেকটা বিষয়, আপনি সকালে দেখলেন ভিজিটর কম আবার রাতে ভিজিটর বেশি । তখন আপনি কি করবেন, ব্যান্ডউইথ প্ল্যান কি বারবার চেইঞ্জ করবেন, বা বেশি ব্যান্ডউইথ কিনে রাখলে টাকা নষ্ট হয়, তখন কি করবেন , এইখান থেকে পে পার ইউজ অপশন চালু হয়েছে। আর এই অপশন গুগল ক্লাউড, এমাজন ওয়েব সার্ভিস এ আছে।
তারপর কোন প্যাকেজে কয়টা সাইট ইন্সটল করতে পারবেন, কয়টা পেইজ রাখতে পারবেন, কি সুযোগ সুবিধা আছে, তা দেখে নিতে পারেন। তারপরে পছন্দ মতন কোন একটা প্ল্যান পছন্দ করে বাই অর্ডার অথবা এড কার্ট অপশনে ক্লিক করে ,তথ্যাদি পুরন করে মাষ্টার কার্ড বা পেওনিয়ার বা ব্যাঙ্ক এর কার্ড দিয়ে আপনি আপনি হোস্টিং কিনতে পারবেন। তবে এইসব সাইট থেকে কেনা কাটা করতে ডলারে করা লাগে । বাংলাদেশও অনেক হোস্টিং আছে। ভালো মন্দ জেনে শুনে কিনে নিবেন।
কিন্তু শুবিধার জন্য সাধারন ব্লগ সাইট এর জন্য ফ্রি কিছু হোস্টিং সাইট আছে । যেখান থেকে সাধারন ভাবে ব্লগ সাইট বা কোম্পানির সাইট বানাতে পারবেন,যেমন , blogger.com , wix.com,weebly.com, medium.com। ফ্রি এর মধ্যে blogger.comএর লোডিং স্পিড অনেক ভালো। গুগলেরই ব্লগ সার্ভিস হলো blogger। কিন্তু সেটার জন্য ডোমেইন আলাদা করে কিনতে পারেন , আরও নয়তো সেই সেইসব ফ্রি ব্লগসাইট এর সাব ডোমেইন ব্যবহার করতে পারেন। যেমন ,ব্লগার হলেabc.blogspot.com। কিন্তু এটিতে আপনি মনের ইচ্ছামতন পরিবর্তন করতে পারবেন, বা প্রফেশনাল লুক দিতে পারবেন না, বা স্টোরেজ বেশি দরকার হলে সে ফ্রি সাইটগুলো কাজে আসবে না, সেই জন্য হোস্টিং এর প্রয়োজন।
আর হ্যাঁ, হোস্টিং কেনার আগে সেই সব হোস্টিং এর লোড করা যে কোন সাইটের লোডিং স্পিড চেক করে নিবেন, সাইট লোডিং যেন ২-৩ সেকেন্ডের বেশি না হয়। আর প্ল্যান কিনার সময় নাম ঠিকানা এবং সি প্ল্যানেল কি কি অপশন আছে তা ভালো করে চেক করে নিবেন।
আর হোস্টিং কেনার পর সি প্যানেল এর কাজ। কারন সাইট সি প্যানেলই আপলোড ইন্সটল করতে হয়।
এখন সি প্যানেল অপশন গুলো নিয়ে পরে না হয় কথা হবে, আর ডি এস বি সহ অনেক গ্রুপেই সি প্ল্যানেল নিয়ে লেখা হয়েছে। পরে নিতে পারেন। সেই পর্যন্ত ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
~পার্থ প্রতীম মজুমদার
Subscribe to:
Post Comments (Atom)
No comments:
Post a Comment