#StartUp_Funding
#ক্রাউড_ফান্ডিং:
এবার বলব ক্রাউড ফান্ডিং নিয়ে। ক্রাউড মানে ভিড় এবং ফান্ডিং মানে টাকা দেয়া। কোন একটি স্টার্ট-আপে বিনিয়োগের জন্যে যখন একসাথে অনেক লোক অল্প অল্প করে টাকা দেয় তাকেই সোজা কথায় বলে ক্রাউড ফান্ডিং। বিভিন্ন নিশ পণ্য বা সেবা যেখানে অনেক ক্রেতা আছে । যারা তাদের প্যাশনের জন্যে উক্ত পণ্য বা সেবা ক্রয় করে থাকেন সেসব ব্যবসার ক্ষেত্রে ক্রাউড ফান্ডিং খুবই ভাল পন্থা বিনিয়োগ যোগাড় করার। কোন ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান যদি তাদের নিজস্ব পণ্য ডেভেলপ করতে চায় সেক্ষেত্রেও ক্রাউড ফান্ডিং বিনিয়োগ সংগ্রহ করার জন্যে একটি কার্যকরী পদ্ধতি হতে পারে। কোন ব্যক্তির হয়তো একটি নির্দিষ্ট পণ্য তৈরি করার আইডিয়া আছে সেক্ষেত্রেও ক্রাউড ফান্ডিং খুবই ভাল। অনলাইনে কিকস্টার্টার (Kickstarter) ,এবং ইন্ডিগোগো (Indiegogo) নামে দুটি জনপ্রিয় ক্রাউড-ফান্ডিং প্ল্যাটফর্ম আছে। ক্রাউডফান্ডিং এর একটি বড় সুবিধা হচ্ছে যে উদ্যোক্তা তার ব্যবসার পুরো মালিকানা রাখতে পারে।
যারা টাকা তুলতে সহায়তা করে, তাদের প্লাটফর্ম বলে। ক্রাউড ফান্ডে যারা অর্থায়ন করেন, তাদের ‘বেইকার’ বলা হয়। তাদের প্রদত্ত অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ধরনের পুরস্কার, স্বীকৃতি ইত্যাদি দেয়া হয়। পুরস্কারগুলোর অর্থমূল্যের চেয়ে শুভেচ্ছামূল্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ যেমন— টি-শার্ট, স্টিকার, ধন্যবাদ জ্ঞাপক পত্র। প্লাটফর্ম তাদের সেবার বদলে সার্ভিস চার্জ পায়। একটি নির্দিষ্ট অংকের টাকা উঠলেই তারা এই টাকা পায়। কিকস্টার্টার ৫ শতাংশ চার্জ করে। ইন্ডিগোগো আরেকটি ক্রাউড ফান্ডিং প্লাটফর্ম। তারা ৪ শতাংশ সার্ভিস চার্জ ও ৩ শতাংশ ক্রেডিট কার্ড প্রসেসিং ফি হিসেবে নেয়। যিনি টাকা তুলবেন, তার কত টাকা প্রয়োজন— তা আগে ঘোষণা করতে হয়। কেউ যদি ওই পরিমাণ টাকা তুলতে না পারে, তবে ইন্ডিগোগো ৯ শতাংশ চার্জ করে। কিন্তু বাকিটা উদ্যোক্তা নিয়ে নিতে পারে। গো-ফান্ড-মি ২০১৪ সালে ৪৭০ মিলিয়ন ডলার তুলেছে। ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে ২০১২ সালে ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার উত্তোলন করা হয়েছে। ক্রাউড ফান্ডিং চার ধরনের হয়— অনুদান, ঋণ, পুঁজি বা মালিকানাভিত্তিক ও সহযোগীকে সহযোগীর (পিয়ার টু পিয়ার) ঋণ। ওপেন ডাটা ইনস্টিটিউটের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ২০১০-এর অক্টোবর থেকে মে ২০১৩ পর্যন্ত সারা পৃথিবীতে ৪৯ হাজার বিনিয়োগকারী ৩৭৮ মিলিয়ন পাউন্ড পিয়ার টু পিয়ার ঋণ দিয়েছে।
ক্রাউড ফান্ডিংয়ের জন্য বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন বিধিবিধান রয়েছে । যেমন— আমেরিকায় ১২ মাসে ১ মিলিয়ন ডলার, যুক্তরাজ্যে ১২ মাসে ২ দশমিক ৫ মিলিয়ন পাউন্ড তোলা যাবে। নিউজিল্যান্ডে ১২ মাসে ২০ জন বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে ২ মিলিয়ন ডলার উত্তোলন করা যাবে। অস্ট্রেলিয়ায় ১২ মাসে ২ মিলিয়ন ডলার তোলা যাবে অথবা ২০ জনকে টাকা প্রদান করা যাবে। ফ্রান্সে প্রতি বছর প্রতি ক্যাম্পেইনে সর্বোচ্চ ১ মিলিয়ন পাউন্ড তোলা যাবে। কানাডায় প্রতি বছর সর্বোচ্চ ১ দশমিক ৫ মিলিয়ন ডলার তোলা যাবে। কোনো কোনো দেশে আবার কী ধরনের উদ্যোগের জন্য পুঁজি (ইকুইটি) ক্রাউড ফান্ড তোলা যাবে, তার বিধি-নিষেধ দেয়া আছে। যেমন— ইতালিতে সে দেশের চেম্বার কর্তৃক স্বীকৃত ৪৮ মাসের কম বয়সী উদ্ভাবনী স্টার্টআপের জন্য টাকা তোলা যাবে।
কারা বিনিয়োগ করতে পারবেন? ক্রাউড ফান্ডিংয়ে অনেক ঝুঁকি আছে। হরেক রকম জালিয়াতি হতে পারে। সেটি প্রতিরোধ বা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বিভিন্ন দেশ নানা ব্যবস্থা নিয়েছে। আমেরিকায় যে কেউ বিনিয়োগকারী হতে পারবেন না। এ ব্যাপারে বিধি-নিষেধ আছে। একজন বিনিয়োগকারীর বার্ষিক আয় ১ লাখ ডলারের কম হলে ১২ মাসে ২ হাজার ডলার বা তার সম্পদ বা আয়ের ৫ শতাংশ (যেটি বেশি) প্রদান করতে পারবেন। বিনিয়োগকারীর সম্পদ বা বার্ষিক আয় ১ লাখ ডলার বা তার বেশি হলে ১২ মাসে তার সম্পদ বা আয়ের ১০ শতাংশ (যেটি বেশি) বিনিয়োগ করতে পারবেন। যুক্তরাজ্যে যেসব বিনিয়োগকারীকে পেশাদার উপদেষ্টারা উপদেশ দেন বা যারা ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম বা করপোরেট ফিন্যান্সের সঙ্গে সংযুক্ত অথবা যেসব বিত্তশালী (ঝুঁকি বোঝার সক্ষমতা) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ, তাদের জন্য কোনো সীমা নির্ধারণ করা নেই।
ক্রাউড ফান্ডিং বাংলাদেশে তেমন চালু হয়নি। তবে এক্ষেত্রে সম্ভাবনা ব্যাপক। এর আগে ইক্যাবের পক্ষ থেকে বা ব্যক্তিগত উদ্যোগে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হলেও উল্লেখযোগ্য তেমন উদাহরণ পাওয়া যায়না।
একটি ক্লাউডফান্ডিং সফটওয়্যারের নাম: অপরাজয়
বিস্তারিত https://oporajoy.org/ লিংক থেকে জেনে নিতে পারবেন।
#তথ্যসূত্র: বণিকবার্তা, প্রথম আলো, ই-ক্যাব ব্লগ, সামহোয়্যারব্লগ ও ইন্টারনেটের বিভিন্ন সূত্র।
No comments:
Post a Comment