- ক্রেতার আস্থা স্থাপনে করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
পণ্যেে কোয়ালিটিই কেবল আস্থা তৈরীতে যথেষ্ট না,উদ্যোক্তার ব্যাক্তিত্ব,তার দায়িত্বশীল অাচরন ক্রেতাদের আস্থা অর্জনে সাহায্য করে।
ক্রেতার আস্থা স্থাপনে আন্তরিকতা থাকতে হবে, ক্রেতার প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী পণ্যের যোগান দিকে অাস্থা তৈ্রি হয়।
ক্রেতার অাস্থা অর্জনে পণ্যের প্যাকেজিং গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে,যত্নের সাথে একটি পণ্য ক্রেতার হাতে পৌঁছাতে পারলে ক্রেতা খুশি হয়।
অনেক শখের পণ্য সঠিকভাবে প্যাকেজিং না হলে ক্রেতা আহত হয় আস্থা হারায়
বিজনেস একটি প্রচলিত প্রবাদ আছে, দুই কান একটি মুখের সঠিক ব্যাবহার করা জানতে হবে।
।অর্থাৎ শুনতে হবে বেশি বলবে কম।
ক্রেতার কথা যত বেশি মনোযোগী শ্রোতা হয়ে শুনবে সমস্যা সমাধানে সহজ হবে,,
এতে করে ক্রতার আস্থার জায়গাটি তৈরী হয.
আস্থা শুধু পণ্যে না ব্যাক্তির উপর থাকা জরুরি। যে সকল উদ্যোক্তা নেগেটিভিটি ছড়ায়,সোশ্যাল মিডিয়ার প্রপার ব্যাবহার করতে জানে না,তাকে হালকা ব্যাক্তিত্বের মনে করা হয়,,এতে করে তার প্রতি আস্থা রাখা সম্ভব হয় না.
ক্রেতার সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করতে হবে।। কেউ যদি সমস্যা থেকে সমাধানের পথ খুঁজে পায় তাহলে অবশ্যই সে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে।।
অনলাইন বিজনেসে যেহেতু প্রোডাক্ট হাতে ধরে দেখার সুযোগ নেই,,ক্রেতাকে ছবি দেখেই পছন্দ করতে হয়।সেক্ষেত্রে একজন বিক্রেতার উচিত যতটা সম্ভব রিয়েল পিক দেওয়া।কারণ পন্যটা কিন্তু ক্রেতার কাছেই পৌঁছাবে।ক্রেতা পন্য হাতে পেয়ে যখন ছবি এবং বাস্তবের মধ্যে মিল পাবে তখন সেই বিক্রেতার উপর বিশ্বাস আসবে।
প্রোডাক্ট হাতে পাওয়ার পর ক্রেতা যখন ছবি এবং বাস্তবের মধ্যে মিল দেখতে পাবেন তখন সেই ক্রেতা বিক্রেতার প্রতি আস্থাশীল হবেন।
বর্তমানে অনলাইন বিজনেসে অাস্থা অর্জনের পরই বিজনেস শুরু করা বাঞ্ছনীয়, আস্থা অর্জন মানে পার্সোনাল ব্রান্ডিং এর অনুরুপ ও বলা যেতে পারে।
তার কাছ থেকেই কিনি যাকে চিনি,,পরিচিত পর্বেই আস্থা /ভরসার জায়গাটি তৈরী হয়.
IKEIA ফার্নিচার প্রতিষ্ঠান ক্রেতাদের সাথে অন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ব্যাপারে অনেক বেশি সচেতন। তাদের ফার্নিচার শোরুমে গ্রাহক এসে অনেকটা সময় কাটানোর সুযোগ পায়,এমনকি ঘুমিয়ে থাকার সুযোগ দেয়।বিয়ের আয়োজন করে এই প্রতিষ্ঠানটি এতে করে অনেক লোকের সাথে তাদের সম্পর্ক তৈরী হয়।
।এমনকি ফ্রী স্নাকস এর ব্যাবস্থা আছে,টানা দশ বছরে সাধারণ মানুষ এই সার্ভিসটি নিতে পারে।
তারা বিশ্বাস করে এতে করে ক্রেতাদের সাথে একটি শুন্দর সম্পর্ক তৈরী হয় যা তাদের ভবিষ্যতে ফার্নিচার কেনার ব্যাপারে উৎসাহিত করবে।
পণ্য বিক্রি না করেও তারা আস্থার একটি জায়গা তৈ্রি করতে পেরেছে.
ক্রেতার সংগে সুসম্পর্ক বজায় রাখাও অনেক বড় একটা বিষয়।ক্রেতার বিশেষ দিন গুলো তে তাকে উইশ করেও তার মধ্যে স্পেশাল ফিল আনা যায়।এক্ষেত্রেও একজন ক্রেতা একজন বিক্রেতার প্রতি আস্থা রাখায় আগ্রহী হতে পারে।
লেনদেনে স্বচ্ছতা, ডেলিভারি চার্জ আছে কিনা,,কোন অফার চলছে কিনা এ বিষয় গুলো ক্লিয়ার করা উচিত।
ফ্রি ডেলিভারি সবাই হয়ত দেয় না কিন্তু ক্রেতা ফ্রি মনে করে পেমেন্ট করল না পরবর্তীতে এই পেমেন্ট দিতে ক্রেতা বিরক্তবোধ করতে পারে
আস্থার জায়গাটা ঠুনকো হয়ে যায়,
অনেকসময় ক্রেতার কাছে ভুল প্রোডাক্ট চলে যেতে পারে।সেক্ষেত্রে প্রোডাক্ট রিটার্নের অপশন রাখতে হবে।প্রয়োজনে প্রোডাক্ট চেইঞ্জ করে দিতে হবে।এসব বিষয় গুলো মাথায় রেখে কাজ করলে অবশ্যই ক্রেতার আস্থা অর্জন করা যায়।
অতিরিক্ত প্রাইসিং,,,,
এই বিষয়টি আমাদের খুব ভালো ভাবে খেয়াল রাখতে হবে।সমজাতীয় পন্য নিয়ে অনেকেই কাজ করেন।সুতরাং পন্যের প্রাইসিং এর ক্ষেত্রে বাজার বিশ্লেষণ করে প্রাইসিং ঠিক করতে হবে।সোর্সিং অনুযায়ী প্রাইসের ক্ষেত্রে একজনের সাথে আরেকজনের কিছুটা এদিক সেদিক হতেই পারে।কিন্তু সেটা যেন একটা রেইঞ্জের মধ্যে থাকে।কারণ একজন ক্রেতা যখন সেইম পন্য আপনার থেকেও অনেক কম প্রাইসে পাবে,,তখন আপনার প্রতি বিশ্বাস হারাবে।
পোষাকের ক্ষেত্রে অনেক সময় ক্যামেরায় রিয়েল কালার আসেনা। সেক্ষেত্রে ক্রেতাকে আগেই কালারের বিষয় টা ক্লিয়ার করতে হবে।তাহলে প্রোডাক্ট হাতে পাওয়ার পর ক্রেতা অসন্তুষ্ট হবে না।
খাবারের ফটোগ্রাফির ক্ষেত্রে ও আমাদের বিশেষ ভাবে এসব বিষয় খেয়াল রাখতে হবে।অনেকেই ফিল্টার ইউজ করে খাবারের চকচকে কালারের ছবি তুলে পোস্ট দেন।কিন্তু ক্রেতা যখন প্রোডাক্ট হাতে পাওয়ার পর ছবি আর বাস্তবের সাথে মিল পাবেনা,,তখন আপনার উপর দ্বিতীয় বার ভরসা করতে পারবেনা সে.
ক্রেতার আস্থা অর্জন করার জন্য কয়েকটি বিষয় অত্যন্ত দক্ষতার সাথে রপ্ত করতে হবে।যেমন –
👉প্রোডাক্ট কোয়ালিটি তে কোন কম্প্রোমাইজ করা যাবেনা।
👉কথায় ও কাজে মিল রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে।
👉ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী পন্য সরবরাহ করতে হবে।
👉ক্রেতাকে সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দিতে হবে।
👉ক্রেতার কথায় শেষ কথা,,এটা মাথায় রাখতে হবে।
👉ক্রেতার কথা মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে।
👉ক্রেতার সমস্যার সমাধানে আন্তরিক হতে হবে।
👉কোন অবস্থাতেই ক্রেতাকে ভুল প্রমাণ করার চেষ্টা করা যাবেনা।
👉ক্রেতা সন্তুষ্টির জন্য নিজের কথার উপর ক্রেতার কথাকে প্রাধান্য দিতে হবে।
ক্রেতা হ্যান্ডেল করার যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে জ্ঞানার্জন করার জন্য কাকুলি আপুর কাস্টমার সার্ভিস রিলেটেড পোস্ট গুলো অসাধারণ ভূমিকা পালন করে।ডিজিটাল স্কিলস গ্রুপে কাস্টমার সার্ভিস লিখে সার্চ দিলেই আপুর পোস্ট গুলো আসে।আপুর কাস্টমার সার্ভিস রিলেটেড পোস্ট গুলো সব একই লিংকেও দেওয়া আছে।গুগলেও কাস্টমার সার্ভিস লিখে সার্চ দিলে কাকুলি আপুর পোস্ট গুলোই আগে আসে।প্রতিটি উদ্যোক্তার অবশ্যই আপুর পোস্ট গুলো পড়া উচিত।
No comments:
Post a Comment