টপিকঃ বাংলাদেশে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী বিভিন্ন খাত সম্পর্কে লিখুন, এবং বাংলাদেশের আর কোন কোন পণ্য বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়?
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পণ্য হলো টালি। এই টালি সাধারণত ঘরের টিনের বদলে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এই শিল্প যশোর এলাকায় অনেক বেশি পাওয়া যায়।
স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে ইতালি ও ইউরোপ এর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়ে থাকে।
বাংলাদেশের টালির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হচ্ছে।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পণ্য হলো কৃষিজাত পণ্য বা সবজি।
বাংলাদেশের সবজির মান ভালো হওয়াতে এই সবজি ফ্রিজিং করে প্যাকেটজাত করে বিশ্ব এর অনেক দেশে পাঠানো হয়ে থাকে।
সবজি ও সবজিজাত পণ্যের চাহিদা ইউরোপ প্রধান দেশ গুলোতে রয়েছে।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারে মৃৎশিল্প খাত থেকে। কারন মাটির
তৈরী জিনিস গুলো হলো গ্রিন প্রডাক্ট এই মাটির তৈরী জিনিস গুলো বাইরের দেশেও
রপ্তানিতে ভূমিকা পালন করতে পারে। এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার জন্য বিশেষ ভূমিকা পালন করতে পারে।
আমাদের দেশের এই খাতকে জিআই পণ্য হিসেবে অর্জন করতে পারলে রপ্তানিতে ভূমিকা রাখতে পারবে। এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে পারবে।
আমরা বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী প্রথম যে খাত টাকে জানি তা হলো আমাদের পোশাক শিল্প।আমাদের দেশের সিংহ ভাগ মুদ্রা এই খাত থেকে অর্জিত হয়।
কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না এই শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করতে আমাদের অনেক অংশ এই খাতে চলে যায়।আমাদের এখন যেই খাত এই শিল্পের পরেই রয়েছে সেটা হলো রেমিট্যান্স। মানে প্রবাসী যারা আছেন তাদের পাঠানো অর্থ দিয়েই বেশি রিজার্ভ এর কাজ চলে।
দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণ সুপারি উৎপাদন হয়। সুপারির মাধ্যমে আমরা জানি যে বিভিন্ন ধরনের রং প্রস্তুত করার জন্য এবং বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক উৎপাদন করার জন্য তা ব্যবহার করা হয়।
আমাদের দেশের প্রয়োজন মিটিয়ে আমরা প্রচুর পরিমাণে সুপারি বিদেশে রপ্তানি করি যার মাধ্যমে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে থাকি।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী অন্যতম খাত হলো শুঁটকি।
আমাদের দেশের কক্সবাজার, দুবলার চরে প্রচুর পরিমাণ শুটকি উৎপাদন করা হয়। যা আমরা দেশের বাইরে বেশি রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি।
আর শুটকি মাছ,দীর্ঘ দিন সংরক্ষণ করা যায় বলে এই শিল্পকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া সহজ হয়।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী অন্যতম খাত হলো পাটজাত পণ্য তৈরী করে তা দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা হচ্ছে। পাট হলো আমাদের দেশের প্রধান অর্থকারী ফসল।
পাটজাত বিভিন্ন ধরনের পন্য তৈরী,করে বিভিন্ন দেশে পাঠানো হচ্ছে। পাটের তৈরী শাড়ি,থ্রিপিস দিয়েও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হচ্ছে। যা দেশের জিডিপিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আমাদের দেশে থেকে তৈরি পোশাক ছাড়াও আমরা পোশাক খাত থেকে প্রাপ্ত ঝুট উৎপাদন করা হয় সেগুলোর রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জন করা হয়। আমাদের দেশ থেকে যে সকল দেশের ঝুট রপ্তানি করা হয় সেগুলোর মধ্যে ভারতে হল অন্যতম প্রদান দেশ। যেখানে আমরা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ঝুট রপ্তানি করে থাকি এবং বৈদেশিক মুদ্রা আহরন করে থাকি
আমাদের দেশ থেকে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সফটওয়্যার রপ্তানি করা হয় । আমরা জানি যে আমাদের দেশ আইটি সেক্টর দিন দিন অনেক ভালো করছে এবং বিভিন্ন ধরনের এর আইটি পার্ক এবং হাইটেক পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে যেখানে সফটওয়্যার নিয়ে গবেষণা করা হয়েছে । আমাদের দেশ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সফটওয়ার বিদেশের রপ্তানি করে থাকে। বিশেষ করে ভারত তার সবচেয়ে বড় ক্রেতা।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পণ্য হলো গ্যাস। এখন বাংলাদেশের ঘরে ঘরে গ্যাস পৌঁছে গেছে। লাইনের গ্যাস না হলেও এখন সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করার হার দেখতে পাওয়া যায়। বাংলাদেশ নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে এখন ভারতের সেভেন সিস্ট্রার্স খ্যাত সাতটি রাজ্যতে গ্যাসের সাপ্লাই করে থাকে।
গ্যাসের রপ্তানি করে বাংলাদেশ অনেক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারছে, যা দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী অন্যতম খাত হলো লিচু।আমাদের দেশের বিভিন্ন জেলাতে প্রচুর লিচু উৎপাদিত হয়।
একেক জেলার লিচুর,স্বাদ একেক রকম। লিচু থেকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যায় সহজেই।যেমন, দিনাজপুর জেলার বেদানা লিচু।
এছাড়া রাজশাহী,সাতক্ষীরা জেলাতে প্রচুর লিচু উৎপাদিত হয়। যা থেকে সহজেই বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা যায়।
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী অন্যতম খাত হলো ঔষধশিল্প।
বাংলাদেশে তৈরী কৃত বিভিন্ন কোম্পানি ঔষধ দেশের বাইরে রপ্তানি করা হচ্ছে। যা থেকে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা হচ্ছে।
আর ঔষধ তৈরী করে দেশের চাহিদা পূরণ করে বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে। যা থেকে আমরা প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয়,করতে পারছি।
এছাড়া আমাদের মৎস্য সম্পদ থেকেও প্রচুর সম্ভবনা রয়েছে।শুধু চিংড়ি বা ইলিশ ই নয় আমাদের দেশের আরো অনেক সুস্বাদু মিষ্টি পানির মাছ রয়েছে যা আমরা বিদেশে রপ্তানি করতে পারি।
আমাদের সমুদ্রের বিশাল একটা ভান্ডার রয়েছে তাকেও আমাদের যত্নের আওতায় আনা উচিত বলে মনে হয়।
No comments:
Post a Comment