নিজ খরচে স্টার্ট আপ ফান্ড পরিচালনা করার কৌশল- Jannat Kader Chowdhury

নিজ খরচে স্টার্ট আপ ফান্ড পরিচালনা করা - Jannat Kader Chowdhury
How to manage startup from own pocket

যখন আপনি একটি স্টার্ট -আপ ব্যবসায় শুরু করবেন তখন ফান্ড নিয়ে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। তাই সবচেয়ে ভাল হয় যদি নিজস্ব ফান্ড নিয়ে স্টার্ট -আপ ব্যবসায় শুরু করা যায়। কিন্তু কিভাবে নিজস্ব ফান্ডের মাধ্যমে ব্যবসায় পরিচালনা করে ব্যবসায় কে বড় করা যায় তা অনেকেই জানে না। এ ক্ষেত্রে ৫ টি টিপস অনুসরন করা যেতে পারে-
 ১) ছোট করে ব্যবসায় শুরু করা: প্রথমে যখন আপনি স্টার্ট -আপ ব্যবসায় শুরু করবেন সেক্ষেত্রে বেসিক একটি পন্য ও সাদামাটা ওয়েবসাইট দিয়ে ব্যবসায় শুরু করলে ভাল হবে। এখানে যে জিনিস টি আপনাকে মাথায় রাখতে হবে তা হল অনান্য দিক গুলো যেমন- মার্কেটিং বা ঝাকজমক ওয়েবসাইট বা নতুন ডিজাইন ইত্যাদি এসবের তুলনায় পন্য উন্নয়নের দিকে বেশি ফোকাস করতে হবে। শুরুর দিকে আপনার ক্রেতার সংখ্যাও অনেক কম থাকবে। যখন আপনি ভাল মানের ও ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী পন্য উন্নয়ন করতে যাবেন তখন পন্য তৈরির ব্যয় অনেক বেড়ে যাবে এবং আয়ের প্রবাহ বেশি থাকবে না বা লস ও হতে পারে। কিন্তু যখন এইসকল ক্রেতারা একবার আপনার পন্য ব্যবহার করে সন্তুষ্টি হবে বা উপকার পাবে তখন আস্তে আস্তে আপনার বিক্রয় বেড়ে যাবে। তখন বাড়তি ব্যয়গুলো কমে মারজিনাল খরচে চলে আসবে এবং লাভ ও বৃদ্ধি পাবে।
২)আস্তে যেতে হবে: যেহেতু আপনার ব্যবসায় টি নতুন তাই আপনাকে ধৈর্য ধরে আস্তে আস্তে সামনে যেতে হবে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সাস্টেইন বা টিকে থাকার জন্য। আপনি যেহেতু কারো কাছ থেকে ইনভেস্টমেন্ট বা ফান্ড নিবেন না তখন আপনার উপর বাড়তি চাপ তেমনটা থাকবে না। তাই আপনাকে ফোকাস করতে হবে ইনক্রিমেন্টাল গ্রোথের দিকে এবং যারা আপনার কাস্টমার তাদের সাথে ভাল সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে। শুরুর দিকে বাজারে নতুন নতুন পন্য আনার চেয়ে ও এই বিষয়টির দিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন। পরবর্তী তে যখন ব্যবসায় আস্তে আস্তে বৃদ্ধি পাবে তখন এই সকল কাস্টমাররা ভবিষ্যতে নতুন পন্য আনার পরে সাপোর্ট দিবে।
৩) পন্য বা সেবায় নতুনত্ব নিয়ে আসা: শুধুমাত্রই একটি বেসিক পন্য নিয়ে কাস্টমারের কাছে যাওয়া অনেক কঠিন হবে যেহেতু আপনার মার্কেটিং করার মত পর্যাপ্ত টাকা নেই। সেজন্য আপনাকে শুরু থেকেই কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হবে আপনার মুল পন্য তৈরির সময়। নিজেকে নিজে জিজ্ঞেস করুন আপনি যে পন্য তৈরি করছেন তা কি মানুষের প্রয়োজন বা চাহিদা মিটাবে কিনা,বা কেন আপনার নতুন পন্যটি মানুষ অধিক গ্রহন করবে? অধিক বাজার গবেষনা এক্ষেত্রে অনেক বেশি সাহায্য করতে পারে।
৪) নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখুন: যেহেতু আপনি সম্পূর্ণ নতুন পন্য বা সেবা নিয়ে কাজ করছেন তখন নানা প্রতিকুলতার সম্মুখীন হতে হবে। তাই নিজের কাজের প্রতি আস্থা রেখে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। আর আপনার পন্য বা সেবা টি সম্পর্কে মানুষকে জানানোর জন্য প্রতিনিয়ত বিভিন্ন আর্টিকেল লিখতে হবে যেন মানুষ আপনাকে এই বিষয়ে একজন এক্সপার্ট মনে করে এতে করে কোম্পানীর বৃদ্ধি করা সহজ হবে।
৫) মিডিয়া বা প্রেসের সাথে সম্পর্ক: যদি আপনি বিভিন্ন মিডিয়া বা প্রেসের এডিটর বা লেখকের সাথে ভাল সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেন তাহলে আপনার মার্কেটিং ব্যয় অনেকাংশে কমে যাবে। যদি ও এসকল মানুষের সাথে যোগা্যোগ করা অনেক কঠিন তাই আপনি তাদের কে প্রথমে আপনার ফ্রি পন্য বা সেবা দিতে পারেন। যদি তারা আপনার পন্য বা সেবা ব্যবহার করে ভাল ফলাফল পায় তাহলে তারা নিজে থেকেই আপনার পন্য বা সেবা সম্পর্কে লিখবে। এতে করে আপনার কোম্পানী সম্পর্কে বেশী মানুষ জানতে পারবে ও আপনার স্টার্ট -আপ ব্যবসায়ের বৃদ্ধি পাবে।
source: নিজ খরচে স্টার্ট আপ ফান্ড পরিচালনা করার কৌশল -How to manage startup from own pocket

No comments:

Post a Comment