কৃষ্ণা রানীর জীবন সংগ্রাম -11 November 2018

তার নাম কৃষ্ণা রানী। যে বিয়ের পর ১০ দিনও শশুড়বাড়িতে থাকতে পারেনি। তার অপরাধ ছিল একটাই। তার গায়ের রং কালো। চেহারা সুন্দর নয়। এই অপরাধে শশুড়বাড়ি বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। শত অনুনয় বিনয় করেও ঠাঁই হয়নি শশুড়বাড়ি বাড়িতে। স্বামী তার সাথে থাকলেও তিনি ছিলেন অসহায়। স্বামীকে নিয়ে বাড়ি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। আশ্রয় নেয় ছোট্ট এক বস্তিতে। শুরু হয় নতুন সংগ্রাম। তাঁতের কাজ জানতেন কৃষ্ণা রানী। যোগ দিলেন তাঁতের কাজে। স্বামী ছিল শারিরীকভাবে দুর্বল।
 তাই পরিবারের বোঝা নিজের কাধেই তুলে নেন কৃষ্ণা। সংসার চালানো, ছেলের পড়াশোনার খরচ, সব মিলিয়ে জীবন যেন এক কঠিন যুদ্ধে পরিণত হয়েছে তার জীবনে। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। লড়াই করে গেছেন একা একা। কাজ করতে করতে কিছু টাকা জমান। সেই জমানো টাকা দিয়ে ছোট পরিসরে শুরু করেন নিজের তাঁতের ব্যবসা। ছেলেকে পড়ান ভাল স্কুল কলেজে। আজ তার ব্যবসা অনেক বড় হয়েছে। ব্যাবসার টাকা দিয়ে জায়গা কিনেছেন, বাড়ি করেছেন। ছেলে সুনামধন্য কোম্পানীতে চাকুরী করছেন। আজ আর তার কোন দারিদ্র্যতা নেই, খাবারের কোন কস্ট নেই। কিন্তু একটাই দুঃখ তার শুশুরবাড়ির লোকেরা এখনো তাকে মেনে নেয়নি। কিছু মানুষ সবসময় এমনি হয় কখনোই নিজের অহমিকা থেকে বের হয়ে আসতে পারেনা। এদের মনের নেতিবাচক মানসিকতা তাদের কুড়ে কুড়ে খায়। এরা কখনোই সভ্য সমাজের সুনাগরিক হতে পারেনা। যতদিন এই ধরনের কুরুচিপূর্ণ মানসিকতার মৃত্যু না ঘটবে ততদিন পর্যন্ত কৃষা রানীরা শোষণ নিপীড়ন আর অত্যাচারের বলী হবে। তাই আগে আমাদের সবার মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন আবশ্যক। ধন্যবাদ বন্ধুরা।
source: কৃষ্ণা রানীর জীবন সংগ্রাম

No comments:

Post a Comment