স্টাটআপ ব্যবসায়ে মূলধন সংগ্রহে ৭ টি কার্যকরী উপায়- Jannat Kader Chowdhury-জান্নাত কাদের চৌধুরী

Jannat Kader Chowdhury is with Razib Ahmed. June 2, 2018
স্টাটআপ ব্যবসায়ে মূলধন সংগ্রহে ৭ টি কার্যকরী উপায়-

মূলধন হল যেকোন ব্যবাসায়ের প্রাণ এবং মূলধন ছাড়া ব্যবসা প্রায় অচল । যে কোন ব্যবসায় কে দ্রুত সম্প্রসারণের জন্য অনেক বেশী মূলধনের প্রয়োজন হয় ।সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে প্রায় ৯০ শতাংশ স্টাট-আপ প্রথম বছরেই বাজার থেকে হারিয়ে যায় পর্যাপ্ত মূলধনের অভাবে। কারন ব্যবসায়ের প্রতিটি স্টেজ বা ধাপে টাকার প্রয়োজোন হয়।
নিম্মে স্টাট-আপ ব্যবসায়ে ক্যাপিটাল বা মূলধন সংগ্রহ করার ৭ টি কার্যকরী উপায় দেওয়া হল-

১।বুটস্ট্রাপিং বা নিজস্ব ফান্ডঃ স্টাট-আপ ব্যবসায়ের জন্য মূলধন সংগ্রহের সবচেয়ে কার্যকরী উপায় হল নিজস্ব ফান্ড । প্রথম যখন কেও ব্যবসায় শুরু করবে তখন অন্য কোন উৎস থেকে টাকা সংগ্রহ করা কঠিন। কারন আপনি কি ধরনের ব্যবসায় করবেন এবং তা থেকে কিভাবে লাভবান হওয়া যাবে তার যোক্তিক পরিকল্পনা ঋণ সরবারহকারী ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সামনে উপস্থাপন করতে হবে যা নতুন ব্যবসায়ের জন্য জটিল কাজ। তাই নিজস্ব ফান্ড বা আত্মীয় স্বজনের কাজ থেকে টাকা সংগ্রহ করে স্টাট-আপ ব্যবসায় করলে বেশী সুবিধাজনক হবে ।

২। ক্রাউড ফান্ডঃ স্টাট-আপ ব্যবসায়ের জন্য মূলধন সংগ্রহ করার নতুন একটি পদ্ধতি হল ক্রাউড ফাণ্ডিং এবং দিন দিন এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। ক্রাউড ফান্ডিং এর মূল সুবিধা হল স্বল্প সময়ে এক সাথে বিপুল জনগনের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করা যায় । এতে আরেকটি সুবিধা হল যে মানুষ আপনার ব্যবসায় সম্পর্কে সহজেই জানতে পারছে । তবে মনে রাখতে হবে যে ক্রাউড ফান্ডিং খুবই প্রতিযোগিতামূলক বাজার । তাই আপনার পন্য বা সেবা ভাল না হলে এই ফান্ড সংগ্রহ করা কঠিন ।

৩। এঞ্জেল ফান্ডঃ এঞ্জেল ইনভেস্টর হল যারা স্টাট-আপ ব্যবসায়ে প্রচুর টাকা বিনিয়োগ করে এবং এর বিনিময়ে তারা ব্যবসায়ের কিছু শেয়ারের মালিক হন । অনেক এঞ্জেল ইনভেস্টর মূলধন সরবারহের পাশাপাশি ব্যবসায় পরিচালনার করার জন্য দিক-নির্দ্দেশনা দিয়ে থাকে এবং পুরো ব্যবসায় পর্যবেক্ষণ কয়রে । অনেক বড় বড় কোম্পানী যেমন –গুগল,ইয়াহু,আলিবাবা এঞ্জেল ইনভেস্ট দিয়ে ব্যবসা শুরু করেছিল এবং এখন পর্যন্ত তারা মার্কেটে ভাল অবস্থানে রয়েছে।

৪।ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডঃ ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড অনেকটা এঞ্জেল ফান্ডের মতন। ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ড হল একটি প্রফেশনাল ফান্ড যেখানে ফান্ড সরবারহকারী ব্যাক্তি ব্যবসায়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে। তারা সাধারণত ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করবে ইকুয়্যাটি বা মালিকানার পরিবর্তে এবং তারা আইপিও (ইনিসিয়াল পাবলিক অফারিং) তে থাকবে। অনেক স্টাট-আপ কোম্পানী জেমন-ফ্লিফকার্ড ,উবার যারা খুব দ্রুত সফল হয়েছেন ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডের মাধ্যমে।

৫। বিভিন্ন ইনকিউভেটর বা এক্সিলেটর ফান্ডঃ বর্তমানে সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান স্টাট-আপ কোম্পানী গুলোকে ফাণ্ড দিচ্ছে । প্রায় প্রত্যেক দেশেই এই ধরণের সংগঠন রয়েছে যারা বছরে ২ বার করে নতুন নতুন স্টাত-আপ কোম্পানী গুলোকে টাকা সরবারহ করে। এখানে ইনকিউভেটর গুলো পিতা-মাতার ভুমিকা পালন করে যারা প্রাথমিক ও ছোট ছোট স্টাট-আপ গুলোকে ফান্ড সরবারহেরর পাশাপাশী বিভিন্ন ট্রেনিং ও দিকনির্দেশনা দিয়ে বড় করে তোলে।

৬। ব্যাংক লোনঃ যে কোন ব্যবসায়ী ব্যবসায় শুরু করার প্রথম থেকেই ব্যাংক লোনের কথা চিন্তা করে । ব্যাংক সাধারণত ২ ধরনের ব্যাংক লোন সরবারহ করে। একটি হল ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল লোন আরেকটি হল ফান্ডিং । ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল লোন হল এমন একটি লোন যেখানে একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রেভিনিঊ সংগ্রহ করে এবং লোন পরিশোধ করতে হয়। ফান্ডিং এর ক্ষেত্রে স্টাট-আপ ব্যবসায়ের পরিকল্পনা , ভেলুয়েশন ডিটেইলস ও অনান্য কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরে ব্যাংক সিন্ধান্ত নেয় কি ধরনের লোন সরবারহ করবে একটি স্টাট-আপ কোম্পানীকে। ব্যাংক লোন একটি জটিল প্রক্রিয়া এবং সময় সাপেক্ষ পদ্ধতি ।

৭। মাইক্রো-ফাইনান্স ফাণ্ডঃ অনেকে ব্যাংক লোণর বিকল্প হিসেবে মাইক্রো-ফাইনান্স ফান্ডের মাধ্যমে স্টাট-আপ ব্যবসায়ের টাকা সংগ্রহ করে। এটি ব্যাংক লোণের মত জটিল নয় এবং সল্প সময়ে টাকা সংগ্রহ করা যায়। দিনে দিনে মাইক্রো-ফাইনান্স ফান্ডের জনপ্রিয়তা বাড়ছে কারন এখানে কাগজপত্রের সীমিত লিমিটেশন থাকে এবং ক্রেডিট রেটিং এর ঝামেলা থাকে না।
source: স্টাটআপ ব্যবসায়ে মূলধন সংগ্রহে ৭ টি কার্যকরী উপায়

No comments:

Post a Comment