স্টাট-আপ ব্যবসায়কে গ্রোথ স্টেটেজি করার জন্য ৬ টি কৌশল -‎Jannat Kader Chowdhury‎

Jannat Kader Chowdhury
June 7, 2018 ·
যখন আপনি একটি স্টাট-আপ ব্যবসায় শুরু করবেন ,আপনি বাজারে দীর্ঘদিন টিকে থাকবেনকিভাবে ? বর্তমানে বেশীর ভাগ স্টাট-আপ ব্যবসায় গূলো প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকতে পারে না ।কেননা বেশীরভাগ স্টাট-আপ ব্যবসায়ের কোন দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনা নেই । তাই আপনাকে আপনার ব্যবসায়ের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট গ্রোথ স্টেটেজি বা বৃদ্ধির কৌশল আগে থেকেই পরিকল্পনা করে রাখতে হবে।
গ্রোথ স্টেটেজি বলতে বোঝায় এমন একটি পদ্ধতি যেখানে একটি স্টাট-আপ ব্যবসায়ের মূল লক্ষ্য থাকবে ব্যবসায়ের দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য ও ব্যবসায় কে বড় করার নানা রকম কৌশল এবং কিভাবে মার্কেটে শেয়ার বৃদ্ধি করা যায়।যদি সুনির্দিষ্ট গ্রোথ স্টেটেজি না থাকে তাহলে আপনি নিজেই আপনার স্টাট-আপ ব্যবসায়কে অস্তিত্ব বাজার থেকে বিলীন করে দেওয়ার পথ সুগম করে দেন।
ব্যবসায়কে গ্রোথ স্টেটেজি করার জন্য ৬ টি কৌশল গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে-

১। ভেল্যু প্রোপজিশন বৃদ্ধিঃ আপনার স্টাট-আপ ব্যবসায়কে বাজারে দীর্ঘ সময় ধরে বা টিকিয়ে রাখার জন্য প্রথমেই আপনার পন্য বা সেবার ইউনিকনেস বা সতন্ত্রতা খূজে বের করতে হবে যা আপনার কম্পিটিটর বা প্রতি্যোগীর থেকে সম্পূর্ণ আলাদা । কেন কাস্টমার বা ক্রেতারা আপনার পন্য বা সেবা নিবে তা চিহ্নিত করতে হবে, কেন আপনার পন্য বা সেবা অন্যদের তুলনায় বেশী নির্ভরযোগ্য ও সত্রন্ত্র এবং আপনার পন্য বা সেবা কি কি সুবিধা প্রধান করছে এইসকল জিনিস গুলো কাস্টমারের সামনে তুলে ধরতে হবে।
২। আদর্শ কাস্টমার বাছাইঃ আপনার কাস্টমার কারা? কারা লয়্যাল বা বিশ্বস্ত কাস্টমার?কাকে আপনি পন্য বা সেবা প্রধান করবেন? এসকল বিষয়গুলো সম্পর্কে স্পট ধারনা থাকতে হবে। আপনি যদি সব ধরনের কাস্টমার আপনার ব্যবসায়ে আনতে চান তবে নিশ্চিত থাকুন আপনার স্টাট-আপ ব্যবসায় বাজারে বেশী দিন টিকে থাকতে পারবে না। তাই নির্দিষ্ট একটি মার্কেট কে লক্ষ্য রেখে সামনে এগুতে হবে।
৩।মূল ইন্ডিকেটর গুলো চিহ্নিত করুনঃ আপনি ব্যবসায় বৃদ্ধি করার জন্য নানা রকম পরিকল্পনা করেছেন, কিন্তু অনেক সময় সবগুলো পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয় না। তাই পরিবর্তন গুলোকে অবশ্যই পরিমাপ করতে হবে এবং লক্ষ্য রাখতে হবে মূল ইণ্ডিকেটর গুলো যেগুলো ব্যবসায় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করছে। পরবর্তীতে সে সকল বিষয় গুলোকে আর বেশী সময় ও ইনভেস্ট করতে হবে এবং যে সকল পরিকল্পনা গুলো কাজ করছে না সেগুলো নিয়ে রিসার্চ বা গবেষণা করতে হবে কি করে সেগুলকে নতুন করে কাজে লাগিয়ে ব্যবসায়কে আর ও বেশী সম্প্রসারন করা যায়।
৪। রেভিনিউ বা আয়ের প্রবাহ যাচাইঃ আপনার বর্তমান আয়ের প্রবাহ কেমন? কোন কোন জায়গায় ইনভেস্ট করলে ব্যবসায় আর ও বেশী লাভজনক হতে পারে? যখন আপনি একবার আয়ের প্রবাহ চিহ্নিত করে ফেলবেন তখন নিজেই বুঝতে পারবেন ব্যবসায় কি দীর্ঘদিন টিকবে কিনা? এর মাধ্যমে ব্যবসায়ের লোকসানের পরিমান ও আয় ব্যায়ের সম্পর্কে স্পষ্ট ধারনা পাওয়া যায়।
৫। স্টেঞ্জ বা শক্তির দিকে ফোকাস করুনঃ আপনার ব্যবসায়ের স্টেঞ্জ গুলো কি কি এবং সেগুলো নিয়ে বেশী কাজ করুন । অনেকেই ব্যবসায়ের দুর্বলতা গুলো কাটাতে অধিক সময় ও টাকা খরচ করে । অবশ্যই ব্যবসায়ের দুর্বলতা গুলো খেয়াল রাখবেন কিন্তু তাই বলে অধিক সময় দেওয়া উচিত নয়। যখন আপনি স্টেঞ্জ গুলোর দিকে বেশী ফোকাস করবেন তখন ব্যবসায়ের গ্রোথ অনেক বেশী বৃদ্ধি পাবে।
৬। সঠিক কর্মী বাচাইঃ বেশীর ভাগ ব্যবসায়ে কর্মীদের সাথে কাস্টমারদের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে। তাই কর্মী নির্বাচনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। সে জন্য এমন কর্মী নির্বাচন করুন যারা আপনার ভেল্যু প্রোপজিশন কাস্টমারদের সামনে তুলে ধরতে পারবে বা যারা কাস্টমারের সাথে সহজেই সম্পর্ক স্থাপন করতে পারবে।কর্মীদের সঙ্গে আপনার অনুকূল সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে যেন তারা আপনার ব্যবসায়ের কাজে সঠিক ভাবে মনোনিবেশ করতে পারে এবং বৃদ্ধির কাজে সহযোগিতা করে।

সুত্রঃ  https://www.entrepreneur.com/article/240853
স্টাট-আপ ব্যবসায়কে গ্রোথ স্টেটেজি করার জন্য ৬ টি কৌশল
--------------------------------------------------------------------------------

No comments:

Post a Comment