ঢাকা পর্ব-৪-- Tahir Ibn Muhammad - তাহির ইবনে মোহাম্মদ

--ঢাকা পর্ব-৪--
Tahir Ibn Muhammad

নিজের অফিস সাজালাম। প্রতিদিন অফিস করি। অফিস বলতে বাসা থেকে বের হয়ে নিজের জন্য একাকী সময় বের করা আরকি। সন্ধ্যারপর চাকুরীজীবী বন্ধুরা আসে।আড্ডা দেয়।এভাবেই চলছিলো। কিছু ব্যবসায়ী বন্ধু আসে। নানান কথা হয়। চাকুরীজীবী বন্ধুরা প্রতিদিন বলে তুই একাই কামাই করতেছিস।আমাদের কে সাথে নে। আমার আইটি ব্যবসায় তাদের কে সাথে নেওয়ার উপায় ছিলো না। প্রতিমাসে ব্যাংকে বড় একটা টাকা জমে থাকতো। বন্ধুদের প্রতিদিনের আড্ডায় মনে হলো নতুন ব্যবসা শুরু করি। কি ব্যবসা দেই চিন্তা করতে করতে মেইন রোডে একটা বড় শপ নিয়ে নিলাম। কিন্তু কি ব্যবসা দিবো এই ভাবনা করতে করতে ৪ মাস চলে গেল। হঠাৎ এক বন্ধু বললো সিপি চিকেন এর শপ দেই। ৩ জন এ মিলে দিলাম সিপি শপ। শুরু হলো আমার ফুড বিজনেসের যাত্রা। নতুন শপ।ডেকোরেশন করলাম দারুন।খরচ হলো অনেক। ম্যাক্সিমাম খরচ আমি করে দিলাম শুরু তে। বন্ধুদের টাকা তারা আস্তে আস্তে দিতে লাগলো।
চাকুরীজীবী বন্ধু, সময় দিতে পারে সন্ধ্যার পরেই। সারা দিন তো জব করে।কিন্তু সারা দিন যা যা কাজ, কর্মচারী ম্যানেজ,সব কিছু আমাকেই করতে হতো। আমি মনের আনন্দেই করতাম। শুধু হিসাব টা বন্ধুদের হাতে দিলাম। যেন কোন রকমের সমস্যা না হয়। সিপি এমন একটা কোম্পানি যারা নিজেদের লাভ ছাড়া আর কোন কিছুই বুঝে না। নীল চাষী ইংরেজ দের মত। এমন হিসাব দেয় যার সাথে বাস্তবের মিল নাই ওদের। নতুন ব্যবসায়ী রা ওদের চাল বুঝতে বুঝতে যা লস করার করে ফেলে। শুরুতে লাভ হচ্ছে মনে হলো ভালই। অন্য বন্ধুরা ও এসে ধরলো তাদের কে ও সাথে নেওয়ার জন্য।একে একে ৬ টা শপ দিয়ে বসলাম। এরমধ্যে একটা কম্পিউটার এর শপ ও দিয়ে বসলাম। হুট করেই অনেক টাকা বের হয়ে গেল। আমার মেইন ব্যবসায় নজরদারী কমে গেল। ফান্ড কমে গেল। ক্ষতি হতে লাগলো।সব বন্ধুই চাকুরীজীবী। তারা কেউ ই ফুল টাইম সময় দিতে পারবে না। আমাকেই সব ম্যানেজ করতে হতো এভাবে ৪ বছর চালালাম। লাভ লস মিলিয়ে চলছিলো। লাভ যা হইলো সব আমার এক্সট্রা কাজ করার জন্য।যে মাসেই একটু মনোযোগ কম পরতো লস হতো। কর্মচারী পাওয়া কঠিন হয়ে গেল। এরমধ্যে টু গো নামে একটা কোম্পানি আমার দক্ষ কর্মচারী দের কে বেশি বেতনের লোভ দেখিয়ে ভাগিয়ে নিয়ে গেল। সাথে সাথে পরলাম চরম চাপে। পার্টনারদের কথা হলো সব তুই পারিস ম্যানেজ করতে।তোকে দেখেই ব্যবসায় নামছি। আমরা কি করতে পারবো? তারা সপ্তাহিক ছুটির দিনে পরিবারকে সময় দেয়, ব্যবসায়ে না। এসব ভাল লাগছিলো না। চারিদিকে লস শুরু হলো আমার। মেইন আইটি ব্যবসা নষ্ট হলো। সেটা ঠিক করতে আমি ৬ মাস ফুড ব্যবসা পার্টনার দের হাতে ছেড়ে দিলাম পুরোপুরিভাবে। ৬ মাস পরে এসে দেখি সব বাড়িওয়ালার কাছে ৪-৫ মাসের ভাড়া বাকি, সিপি তে লাখ লাখ টাকা বাকি। ওরা প্রডাক্ট দেওয়া অফ করে দিছে। এরমধ্যে আমি দুই বাচ্চার বাবা। আমাকেও পরিবার কে সময় দিতে হয়। উদ্যোক্তার বউ ও উদ্যোক্তা মানুষিকতার না হলে অনেক সমস্যা হয় একজন উদ্যোক্তার। একজন উদ্যোক্তা কাজের জন্য চোরের সাথেও রিলেশন রাখে আবার পুলিশের সাথে ও রিলেশন রাখে। সমাজের সব স্তরের মানুষের সাথে রিলেশন বানাতে হয় ও রাখতে হয়। এসব নিয়ে নিজের ঘরের মানুষ না বুঝলে নানান প্রতিবন্ধকতা হাজির হয় জীবনে।একজন উদ্যোক্তার জীবন কখনোই মসৃন হবে না।
একদিন এক রিক্সায় যাচ্ছি, রিক্সাওয়ালার গেটাপ দেখে মনে হলো রেগুলার রিক্সাচালক না। জিজ্ঞেস করলাম কেন রিক্সা চালাচ্ছো। বললো ভাই টাকায় কামড় দিছিলো। বাবা মরে যাবার পর ১৫ বিঘা জমি পেয়েছিলাম। সব বেচে বেচে উড়াছি।যাত্রাদল আর হাউজি খেলে। সব শেষ করে ধার দেনায় জর্জরিত হয়ে এলাকা ছাড়া হয়ে জীবন চালাতে রিক্সা চালাচ্ছি। টাকার কামড় যার সহ্য হয় না তার কাছে টাকা থাকে না।
সেদিন নিজেও একটা শিক্ষা নিছিলাম।আমার টাকা যেন খারাপ থেকে নষ্ট না হয়। যতদুর পারছিলাম সামাল ও দিচ্ছিলাম। অনেক গুলো খাবারের শপ আর কম্পিউটার এর শপ দেওয়ার পর বুঝলাম টাকা খালি খারাপ পথেই কামড় দেয় না। ভাল পথেও কামড় দেয়। আমাকে ও টাকায় কামড় দিলো আর তা সহ্য ও হলো না। জমি কিনলাম মামা খালাদের। আপন মানুষ, কোলে পিঠে বড় করেছে।জমি দেখলাম ও না।অথচ তারা ২০ লাখ টাকার জমি ৬০ লাখ টাকা নিলো আমার থেকে।১৫ লাখ টাকার জমি ৩৫ লাখ টাকা নিলো।আরো অনেক টাকা গেল তাদের জন্য। ২ বছর আমি বুঝতেই পারি নাই। এতটা বিশ্বাস। যখন আমার টাকা জরুরী হলো।ভাবলাম একটা জমি সেল করে দেই।তখন বুঝলাম আমি জমি কিনেছি আর তারা ঠকিয়েছে। ছোট বেলায় তাদের কোলে হিসু করেছিলাম।তারা সেটার দাম রেখে দিলো।

আজ এটুকুই থাক।
মন টা ভাল লাগছে না।
source: ঢাকা পর্ব-৪

No comments:

Post a Comment