ঢাকা পর্ব- ৫ Tahir Ibn Muhammad তাহির ইবনে মোহাম্মদ

---ঢাকা পর্ব -৫----
Tahir Ibn Muhammad 

কিছু অভিজ্ঞতা হলো লাইফের।

ব্যবসায়ী ছাড়া ব্যবসায়ী পার্টনারশিপ হয় না।
পার্টটাইম ব্যবসায়ী,চাকুরীজীবী ( এদের কলিজা খুব ই ছোট হয় বেশির ভাগের,ব্যতিক্রম আছে হয়তো।তবে ব্যতিক্রম উদাহরণ হয় না), কাছের বন্ধু যে আমার সবলতা দূর্বলতা জানে এমন মানুষ পার্টনার হলে ব্যবসা ও ব্যবসা মনকে নষ্ট করে দেয়। যদিও সবার ব্যবসার শুরুতে এসব মানুষ ই চলে আসে।

টাকার কামড় সহ্য করতে হয় সব ক্ষেত্রেই। সেটা ভাল পথেই হোক আর খারাপ পথেই হোক। টাকা লস এর কোন ভাল খারাপ পথ নাই।

সম্পদ কিনলে যাচাই করেই কেনা উচিৎ। হোক সেটা আপন জনের ই।

টাকা ধার দেয় মানুষ ক্লোজ মানুষদের কেই। আর টাকা মারেও ক্লোজ রা।তাই ধার নিবো কিন্তু দিবো না এইটাই হওয়া উচিৎ ব্যবসায়ী মনোভাব। ধার দিলেও সময় মত ফেরত না দিলে লাগলে গলায় পারা দিয়ে টাকা তুলে নিতে হবে।

আর সব থেকে বড় অভিজ্ঞতা হলো নিজের লাইফে না ঘটা পর্যন্ত কেউ ই সত্যিকারের অভিজ্ঞ হয় না।অপরের অভিজ্ঞতা আপনার কোন কাজেই আসবে না কখনো ই।

জীবনে কঠিন দিন গুলো চলে এলো। একে একে পার্টনার না সরে গেল যে যার পাওনা নিয়ে কারন তারা শপ গুলো ক্লোজ করে দিতে চাইছিলো।আর আমার কাছে এ গুলো এক এক টা সন্তানের মত।ভাবলাম সন্তান অসুস্থ হলে কি আমি ছেড়ে চলে আসবো না চিকিৎসা করাবো। পার্টনার রা শপ গুলোর সেল ভ্যালু ধরে যে যার ভাগের টাকা নিয়ে সরে গেল।আমি সবাই কে টাকা দিয়ে দিলাম। আর শপ আমার একার হয়ে গেল।কিন্তু আরো একটা ভুল করলাম। ডুবন্ত জাহাজে চড়তেই হয় না আমি তাই কিনে নিলাম। সকল দেনা শোধ করলাম। চারিদিকে সবার কাছে টাকা পাই অথচ কেউ আমাকে চরম মূহুর্তে হেল্প করলো না আমার নিজের টাকা ফেরত দিয়েই।ধার তো দুরের কথা।জমি সেল করতে পারলাম না। দাম কম অনেক। আসলে কম দামী জমি ই আমি বেশি দামে কিনেছিলাম। বিজনেস এ চারিদিকে লস আর লস খাইতে শুরু করলাম। আগে যারা আমার উপরে কোটি টাকা ইনভেস্ট করতো তারা এডভান্স চাওয়া শুরু করলো। আর আমি যাদের কাছে সেল করতাম তারা বাকী ফেলা শুরু করলো আরো বেশি করে। এতে করে আমার মেইন ব্যবসা পুরোপুরিভাবে অফ হয়ে আসলো। অফিস ছেড়ে দিলাম।আর হিসাব করলাম ১৮ লাখ টাকা খরচ করেছি অফিস দিয়েই যা দরকার ছিলো না। শুরু হলো আমার খরচ কমানোর প্রক্রিয়া।
source: ঢাকা পর্ব- ৫

No comments:

Post a Comment