ঢাকা পর্ব-৬- Tahir Ibn Muhammad তাহির ইবনে মোহাম্মদ

--- ঢাকা পর্ব-৬---
Tahir Ibn Muhammad
3 March 2018 

সব কিছুর মধ্যে একটাইই শান্তি ছিলো আমার কাছে কেউ টাকা পেত না। যাও পেত তা আমার আয়ত্বের মধ্যেই।
শুরু হলো আমার স্ট্রাগল লাইফ। কোটি টাকার উপরে লস খেলাম, আরো কাছাকাছিভাবে কোটি টাকা মার্কেটে আটকায়ে গেল। কেউ ই টাকা দিচ্ছে না। কম্পিউটার শপে ৪০ লাখ টাকা লস খেয়ে অফ করে দিলাম। বড় বড় নামকরা কোম্পানি লেনদেন এর ব্যাপারে যে কতখানি খারাপ তা যারা কাজ করে তারাই জানে। বাকি পাওয়া যেন বাপ দাদার সম্পত্তির অধিকার।কমিশন ছাড়া মাল নিবেই না।যত ভাল ই হোক। কমিশনে টাকা,পানি, বিদেশ ভ্রমন সাথে সংগীসাথী সব চলে। যারা এসব ভাল ম্যানেজ করতে পারে তারাই ভাল ব্যবসা পায়। ছোট কোম্পানি দের কে বড় রা নানান ভাবে ক্ষতিসাধন করে। দাম কমায়ে মার্কেট রেট ফেলে দিয়ে ক্ষতি করে। ব্যবসা জগত হলো সমুদ্রের মত। এখানে হাংগরের বাস,তিমির বাস। ছোট মাছ কে গিলে খাবেই তারা।কোন দয়া দেখায় না।
খাবারের শপ গুলো ধরে রাখলাম কোনভাবে। আর মনে মনে পার্টনার খুঁজতে লাগলাম। আগের বারের ভুল থেকে যা পারলাম শিক্ষা নিয়ে চলা শুরু করলাম। বাসে চড়া শুরু করলাম মন কে এটা বোঝানোর জন্য যে আমি আগের অবস্থানে নাই।
আমার একটা দোষ ছিলো, হ্যা এটা দোষ ই বলবো। তা হলো যা ইনকাম হতো তা আমার পরিবার জানতো। আমার মা,বাবা,ভাই, বউ সবাই। আমি শেয়ার করে আনন্দ পেতাম। আজ এত টাকা লাভ হইছে বলতে ভাল লাগতো।কিন্তু বুঝিনাই এতে তাদের মনে একটা ধারনা তৈরী হচ্ছে আমি খালি লাভ ই করি। একেরপর এক শপ দিয়ে সে ধারনা কে শক্ত করে দিলাম আরো। যেদিন থেকে খারাপ সময় আসলো আমি তাও শেয়ার করলাম। সবাই বুঝলো কিন্তু আমার উপরে আকাঙ্ক্ষা কমলো না।
আমার এবনরমাল ( হ্যা আমার কামাই নরমাল ছিলো না) কামাই এর কারনে আমার বাকি ৩ ভাই সবাই কামাই করা,ক্যারিয়ার বানানো ভুলে গেল। একটা প্লাটফর্ম পেলে সবার ইচ্ছে থাকে আরো উঁচু তে উঠার।আর আমার ভাই রা উঁচু থেকে নিচে লাফ দিলে কেমন লাগে সেই প্রাকটিস করতে লাগলো। আমার টাকা তাদের কে ও ক্ষতি করে দিলো। চাইলেই টাকা পাওয়া যায় এই অবস্থা মানুষ কে নষ্টই করে দেয় বেশি। অথচ আমি ভাবতাম প্রয়োজন সঠিক সময়ে মিটলে আরো ভাল করবে। আমি বাবার সংসার, আমার সংসার সব এক করে চালাচ্ছি। বাবা এরমাঝে কাজ ছেড়ে দিয়ে ব্রেন স্ট্রোক করে নরম হয়ে গেল। জীবন এর নানান ঘাত প্রতিঘাত শুরু হয়ে গেল আমার জীবনেই। বাবার ঢাকা ভাল লাগে না বলে বাবার জন্য নওগাঁ তে ২ বিঘা জমি বাউন্ডারি দিয়ে ভেতরে পুল সহ রিসোর্ট টাইপের বাড়ি করে দিলাম। বাবা মা ঢাকা আসে ২-৩ মাস থাকে,আবার চলে যায়।
ভাই এর বিয়ে দিলো মা।অথচ ভাই কিছুই করে না। ফেন্সিডিল আসক্তি তার কাজ করার স্পৃহা পুরোপুরিভাবে নষ্ট করে দিছিলো। মায়ের ধারনা বিয়ে দিলে ঠিক হয়ে যাবে। ওর পছন্দের মেয়ে কে বিয়ে করলো। আমার ভাই গ্রাজুয়েশন করতে পারে নাই অথচ বউ মাস্টার্স পাশ। ওই মেয়ে কে আমার মা নিষেধ করলো।বললো মা তুমি যদি আমার মেয়ে হতে তাহলে এই ছেলের সাথে বিয়ে দিতাম না। মেয়ে বলে ওর কি দোষ।কাজ করে না। করবে। মা বা আমি কেউ ই জানতাম না তখন সে আসক্ত। আমার পাব্লিকেশন বিজনেস ওই ভাইএর হাতে ছেড়ে দিলাম। বিয়ে হয়ে গেল। মাসে ৫০-৬০ হাজার টাকা লাভ হয় বিজনেসের।৬ মাস পরে দেখি বিজনেস শেষের দিকে। আর এ টাকা পায়, ও টাকা পায়। ধরলাম ভাই কে।বলে আমি হিসাব বুঝিনা।তাই এমন হইছে।আসলেই সে হিসাব বুঝেনাই। ১ লাখে ৩-৪ হাজার টাকা লাভ হইছে আর সে খাইছে ১৫-২০ হাজার।। বুঝলাম এরে দিয়ে হবে না। সরিয়ে দিলাম। আমার ভাই গুলো হয়ে গেল জমিদার। খায় আর ঘুমায়। ব্যবসায় যে তাদের সহযোগীতা পাবো তা আর হলো না। ভাইয়ের বউ বাচ্চা সহ ভাই কে আজো আমাকেই দেখতে হয়। মা এর কথা যদি ও পংগু হতো তাহলে কি আমি ফেলে দিতাম। মা এর মন। কি আর করা।পংগু তো করেই ফেলেছি আমি আমার কামাইএর টাকা দিয়ে। অথচ ভেবেছিলাম আরো বড় হবে।আমি সেই বড় ভাই যে ভাইদের উন্নতি তে বাবার মত ই খুশি হয়।

সব ব্যবসা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলাম।ফোকাস ঠিক হচ্ছিলো না। কি করবো কি করবো করতে করতেই দিন যাচ্ছিলো। টাকা খরচ ঠিক ই হতে লাগলো।এভাবে ২ বছর আমি কোন কাজ করতেই পারিনাই।ফোকাস ঠিক করতে পারিনাই।সব কিছুই লাভজনক আর পারবো বলে মনে হতো। এটা একটা মানুষিক ব্যাধি।আমি আমার পরিচিত কাছের সকল মানুষ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলাম। সম্পূর্ণ নতুন কিছু মানুষের সাথে মিশতে শুরু করলাম। ফুড ব্যবসা প্যাশন এমন একজন কে খুঁজে পেলাম। তাকে বিজনেস পার্টনার বানায়ে নিলাম।আর ফুড ব্যবসা পুরোপুরিভাবে তার উপরে ছেড়ে দিলাম। আমি আইটির মানুষ আইটি ই আমার প্যাশন,আইটি নিয়ে রাত দিন পরে থাকলে আমার বোরিং লাগে না। তবে আমি ইনভেস্টর। আইটি শিখে সেটা দিয়ে একাকী কামাই করবো এমন আর আসে না মাথায়।সময় ও নাই। আমি লোক খাটাবো আর ব্যবসা দাড় করাবো।
ফুড ব্যবসা, বিকাশ ফ্লেক্সিলোড, পাব্লিকেশন, আই এস পি ব্যবসা আছে আর একটা নতুন আইডিয়া নিয়ে এখন ঘুরছি ফিরছি আর আড্ডা মারছি।
খারাপ সময়ে সব থেকে বড় লস টা করে ফেলেছি আমি যা কোন দিন ই পূরণ হবার নয়
source: ঢাকা পর্ব-৬

No comments:

Post a Comment