----ঢাকা পর্ব--৩---
তাহির ইবনে মোহাম্মদ
ব্যবসা তখন অনেক গুলো সামনে।কিন্তু ব্যবসা করতে যে টাকা লাগে। কিছু টাকা আমার ছিল তা ঘুরেফিরে উড়ায় দিছি। বরাবর প্রভাব বিস্তার করে চলার অভ্যাস। অফিসে বস থেকে পিওন সবাই কে তাদের খারাপ সময়ে হেল্প করতাম। টাকা ধার দিয়ে।এতে বসদের সাথে হয়ে গেল খাতির আর অধিনস্ত উপরে বাড়লো প্রভাব। সবাই বুঝতো আমি জব করি মনের আনন্দের জন্য,পেটের জন্য না। আর এই ধারনা সবার হওয়াতে আমার উপর থেকে জব প্রেশার থাকলো না বললেই চলে।আমি কিন্তু একটা বিজনেস এর মধ্যে শুরু করে দিয়েছি।
আমার এক মামা ছিলেন আই এস পি লাইনের বস।মা এর খালাতো ভাই। বন্ধুর মত ছিলেন। উনি চায়না থেকে মিডিয়া কনভার্টার নিয়ে আসতো। কিন্তু উনার আমার মত বিভিন্ন আই এস পি তে বন্ধু নেটওয়ার্ক ছিলো না। উনি এসব সেল করতে বললেন।এক পেয়ার উনি আমাকে দিতেন ২৫০০ করে। আমি আমার আই এস পি বন্ধুদের কে দিতাম ৩৫০০-৪০০০ এর মধ্যে।তখন এটার মার্কেট প্রাইস ছিল ৪০০০-৪৫০০ টাকার মত। এক পেয়ার সেল হলেই ১২০০-১৫০০ থাকে আমার। প্রথম প্রথম সপ্তাহে ৩-৫ পেয়ার যেত। এরপর এটা এমন ও দিন গেছে দিনে ১০০ পেয়ার ও সেল করেছি।এভারেজ ২৫-৩০ পেয়ার সেল হতোই। একটা সমস্যা ছিল তা হলো বাকী পরতো।তবে লাভের হিসাবে সেটা খুব একটা সমস্যা হতো না। দিনে ২ লাখ টাকা ও কামাই করলাম একবার।আমার চৌদ্দগুষ্টিও এমন কামাই করে নাই।কিন্তু সব এমন কামাই বেশি দিন থাকে না।বছর খানেকের মধ্যেই অনেক প্রতিদ্বন্দ্বী চলে এল মার্কেটে। আমি তখন নেটওয়ার্কিং এর আরো অন্য প্রডাক্ট নিয়ে কাজ করা শুরু করলাম। এরমাঝে জব ছেড়ে দিলাম। মানুষ জব পেয়ে বিয়ে করে।আর আমি ও আমার হবু বউ জব ছেড়ে দিয়ে বিয়ে করলাম। এটা ২০০৯ এর আগষ্টে। জীবনের অন্য মোড়ে হাজির হয়ে গেলাম। এরমধ্যে একদিন বাবা এসে বললো সংসার চালাতে পারবি? আমি বললাম আপাতত আমি ই চালাচ্ছি জনাব। উনি হাসলেন। কারন উনার সরকারী বেতনের ৩০ গুন বেশি কামাই আমার। পরেরদিন উনি রিজাইন দিয়ে চলে এলেন।মানে এক ধাক্কায় ৩ জন জব ছেড়ে দিলাম। আমি বাস থেকে বেবিট্যাক্সি, ইয়োলো ক্যাব ধরলাম। বাইক কিনে নিলাম।গাড়ী কেনা তো সময়ের ব্যাপার। মুরুব্বিরা মানা করলেন।বললেন এতে নজরে পরবে চারিদিকে।এমনিই কম পরো নাই। বাসায় এসি লাগলো। আমার ঘরে লাগানোর আগে বাবা মা এর ঘরে লাগালাম। এরপর দেখি ছোট ভাই গুলো কষ্ট করে। ওদের ঘরেও লাগিয়ে দিলাম। অহ মনে পরলো ২০০৯ এর আগে আমি ২০০৫ এ একজন কে বিয়ের জন্য পাগল হয়েছিলাম। মা এর পছন্দের ছিলো। আমার মা একজন বিশিষ্ট লেখিকা ও কবি।যাই হোক সেই বিয়ে হলো না।কারন তখন জব করি। নতুন নতুন। মেয়ের বাবা ভরসা পেল না। তার উপরে বাড়ির বড় ছেলে।সকল দায়িত্ব তাদের মেয়ের ঘাড়েও চাপবে।বিয়ে না হবার এটাও একটা কারন ছিল। মানুষিক ভাবে পুরোপুরি ভেংগে পরেছিলাম। সেখান থেকে উঠে দাঁড়াতে অনেক কষ্ট হয়েছিল। নিজেকে পুরোপুরিভাবে অন্য মানুষ হিসাবে গড়ে তুলেছিলাম।লাইফে সেটাই করবো যা থেকে টাকা ইনকাম হয়।আড্ডা,খাতির, সব কিছু। এই ধারনা আমার তখন ঠিক মনে হলেও এখন ভুল বলেই মনে হয়। স্বার্থ ছাড়া কেউ কে হেল্প করলে মনে অনেক আনন্দ লাগে।
আমি নেটওয়ার্ক প্রডাক্ট এর ব্যবসা করতে করতে আরো একটা ব্যবসা দিয়ে বসলাম।সেটা ছিলো তখন হট কেক ব্যবসা। সেই ব্যবসাতে সরকার লাইসেন্স দিলো, আমি ও ২ টা নিয়ে নিলাম। কিন্তু সব কিছুর পরেও আমি কেমন জানি আইডেন্টিটি ক্রাইসিস এর ভুগছিলাম। বাসায় বসে বসে সব কাজ করা যায়।দিন দিন আমি অলস হচ্ছিলাম। ক্লাইন্ট ফিক্স হয়ে গেল।আর বাড়ে না।বরং কমে। কিন্তু সেদিকে মন দিলাম না। কারন ভালই চলছিলো। বাসায় ভাল লাগে না বলে অফিস নিলাম।কোন কাজের জন্য না শুধু নিজের মত করে বসে থাকবো আর আড্ডা দিবো বলে। অনেক পরে বুঝলাম এটা ছিল আমার আর একটা ভুল সিদ্ধান্ত। দরকার ছিল না অফিসের।আবার অফিস যখন দিয়েছিই তাহলে অন্য কিছু একটা করে সেটার খরচ চালাতে পারতাম। নতুন কোন ব্যবসা দিতে পারতাম। কিন্তু তা হলো না।
আজ এ টুকুই থাকলো।
আমি অল্প অল্প করে লিখছি কারন একটানা লেখার অভ্যাস নাই আর বড় লেখা সবাই পড়েন ও না। লিখবো সব ই।
No comments:
Post a Comment