- ঢাকা পর্ব-২----
তাহির ইবনে মোহাম্মদ
1 March 2018 ·
আই এস পি তেই ক্যারিয়ার করলাম। প্রমোশন হলো। বেতন বাড়লো,কাজের পরিধী বাড়লো।বন্ধুদের বেশিরভাগ আই এস পি বা নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার হিসাবেই ক্যারিয়ার করলো।কেউ কেউ টিভি চ্যানেলে ব্রডকাস্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে জয়েন করলো। কেউ বাহিরে চলে গেল।কেউ সফটওয়্যার ফার্মে জয়েন করলো আবার কেউ ব্যাংকেও জব নিলো।
আমাদের সবার মাঝে সব থেকে খারাপ ছাত্র ছিলো রকেট। সে মনোযোগী ছিলো না।পাশ করতে তার ত্রাহিত্রাহি অবস্থা। আমাদের সবার ই কম্পিউটার ছিলো শুধু তার ই ছিলো না।টাকা এনে খরচ করে ফেলেছে অন্য কাজে। যাই হোক সে অনার্স শেষ করে কোথাও জব পেল না। টিউশন করাতো। আর বন্ধুদের কাছে ধারদেনা করতো।আমি ওকে কেন জানি একটু স্পেশাল খাতির করতাম।সহযোগীতা চাইলে করে দিতাম। একদিন বললো দোস্ত একটা জবে ঢুকায়ে দে। আমি জানি রেফারেন্স করে কোথাও দিলেও বাতিল হয়ে যাবে।ওর কোন নলেজ ই নাই কম্পিউটার সায়েন্স এর ব্যাপারে।ওকে বললাম ইংলিশ কোর্স কর।ভাল মত। ও সাইফুর'স এ ভর্তি হয়ে গেল। একটা কোর্স ও বাদ দেয় নাই।সব করে ফেললো একে একে ( এটা জেনেছিলাম পরে)।এক সময়ে কোন রেগুলার টিচার না আসলে রকেট কে বলতো ক্লাস টা নিতে। এভাবেই ও ইংলিশ এ চরম অভিজ্ঞ হয়ে গেল। অনেক দিন পরে দেখা রকেট এর সাথে। ওর ইংলিশ শুনে ওর কনফিডেন্ট দেখেই মনে হলো ও আগের রকেট নাই। এরপর উত্তরা ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার ( আইটি) তে জব পেয়ে গেল একবারেই। ইন্টার্ভিউ তে আইটি দিয়ে না ইংলিশ দিয়েই মাতিয়ে দিছে।
এদিকে আমি আই এস পি এর এসিস্টন্ট সিস্টেম এডমিন হয়েছি। কিন্তু এই জব আর ভাল লাগছিলো না। গৎবাধা কাজ।কোন চ্যালেঞ্জ নাই। চ্যালেঞ্জ বলতে ও ট্রাবল সুটিং। ভাল লাগছিলো না।আমার বিজনেস মন বাধা পরে যাচ্ছিলো। দিলাম জব ছেড়ে। জয়েন করলাম এটা গ্রুপ অফ কোম্পানি এর আই টি ম্যানেজার হিসাবে। এখানে এসেও দেখি কোন কাজ ই নাই। সার্ভার ওকে তো সব ওকে। অনেক সময় পাই।আড্ডা দেই কলিগ দের সাথে। ওই কোম্পানির বিজনেস ডেভেল্পমেন্ট টিম এর কাজ ছিলো দারুন চ্যালেঞ্জ এর। টেন্ডার করতে হয়,ব্যবসা ধরতে হয়, নানান কাজ।আমি ওই টিমের সাথে জয়েন্ট হয়ে গেলাম। নিজের কাজ করে ওদের কে হেল্প করতাম।কোন কিছুই আশা করতাম না।কাজ করে দিতাম রাত দিন খেটে। এরমধ্যেই ওই টিমের একজন জব ছেড়ে দেয়। কাজের মাঝে নতুন মানুষ কিচ্ছু বুঝবেও না। টিম ম্যানেজার এম ডি কে আমার নাম বললো। আমি নাকি কাজ উদ্ধার করতে পারবো। এম ডি ডাকলো। বললো তুমি তো আইটির মানুষ।এসব পারবে। বললাম স্যার এর আগের ৬ টা কাজ আমি ই করে দিয়েছি আর সব গুলো কাজ কোম্পানি পেয়েছে। উনি বললেন কেউ তো তোমার কথা বলে নাই কখনো ই। আমি অবাক হলেও বুঝলাম ক্রেডিট যার নেবার সেই নিছে।কিন্তু মন দিয়ে কাজ করার ফলাফল পেয়ে গেলাম। এই কাজ ও করলাম। এবার আমি টিম লিডার। আইটি তে একজন এসিস্টেন্ট নিয়োগ দেওয়ালাম আর আমি ফুল বিজনেস ডেভেল্পমেন্ট টিমের হয়ে গেলাম আবার আই টি ইনচার্জ হয়েও থাকলাম। স্যালারী বেড়ে গেলো। চলছিলো ভাল ই। কিন্তু কর্পোরেট জবে পলিটিক্স থাকে। নোংরা পলিটিক্স ও চলে। দেখছিলাম আর শিখছিলাম।এমন পলিটিক্স সহ্য করতে না পেরে আমাদের টিমের দুইজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য জব ছেড়ে দিলো। আমরাও তাদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে জব ছেড়ে দিলাম।আর সেদিন ই বুঝলাম কোম্পানির লস হলেও ইগো থেকে বের হতে পারে না অনেক সময়ে। কেউ কারো জন্য ঠেকে থাকে না।
আমি জব নিলাম একটা ডোনার এজেন্সি তে
যারা বাংলাদেশের এনজিও দের কে ফান্ড দেয়। সাপ্তাহিক ২ দিন ছুটি,৯-৫ টা অফিস, কোন প্যাড়া নাই। আরাম আর আরাম। স্যালারী অনেক অনেক বেশি ছিলো আমার জন্য তখন। তখন মনে হলো আমার তো মাস্টার্স করা হয় নাই। ভর্তি হয়ে গেলাম।মাস্টার্স শেষ করলাম।এরমাঝে অফিস আমাকে কয়েকটা ভেন্ডর কোর্স করালো। এম সি এস ই, লিনাক্স, সি সি এন এ সব করে নিলাম অফিসের দক্ষতা বৃদ্ধির ফান্ড থেকে।
কিন্তু আমার মাথায় যে ব্যবসা ঘুরে।সময় পাই বলে ব্যবসায় নজর রাখা শুরু করলাম।
আজ এই টুকুই থাক।
ব্যবসার কথা পরেরবার বলি।
ধন্যবাদ।
source- ঢাকা পর্ব ২ Tahir Ibn Muhammad তাহির ইবনে মোহাম্মদ
No comments:
Post a Comment