ঢাকা পর্ব- Tahir Ibn Muhammad তাহির ইবনে মোহাম্মদ

---ঢাকা পর্ব---
তাহির ইবনে মোহাম্মদ 
1 March 2018 · Dhaka

ঢাকা এলাম ১৯৯৮ এ এইচ এস সি পাশ করে। ভর্তি হলাম জাহাঙ্গীরনগর এ। নৃবিজ্ঞানে। লাইফের প্রথম শুনলাম এই সাবজেক্ট এর নাম।তাও ভার্সিটি তে পড়বো বলে ভর্তি হয়ে গেলাম। এরপর জানলাম সেশন জট চরমে। একদিন এক বড় ভাইএর সাথে দেখা। মাথায় টাক।চোখের নিচে কালো দাগ। মাস্টারস এ পড়ে। ৮ বছর ধরে আছে।মন টাই খারাপ হয়ে গেল।
হল এটাচ ভার্সিটি। আলবিরুনী হলে জায়গা পেলাম। কিন্তু ক্লাস শুরু হয়না। নানান ইস্যু তে ক্লাস অফ। এরমধ্যে সেঞ্চুরিয়ান মানিকের ধর্ষনের সেঞ্চুরি উজ্জাপন। শুরু হয়ে গেল চরম খারাপ অবস্থা। ভার্সিটি বন্ধ।হল বন্ধ। রাত ৩.৩০ এ পুলিশ এসে সবাই কে হল থেকে বের করে দিলো। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি। রাতে কই যাবো? খুব মন খারাপ নিয়ে বের হয়ে গেলাম। যে স্বপ্ন নিয়ে ভার্সিটি তে ভর্তি সব মাটি। এক বছর কোন ক্লাস ই হলো না। মন পুরাই ভেংগে গেল। একেতো সাবজেক্ট পছন্দের ছিল না তার উপরে ভার্সিটির নানান অবস্থার জন্য ক্লাস ই শুরু করতে পারলাম না। বাড়ি চলে গেলাম। কিন্তু বাড়ির পরিবেশ আগের মত নাই। কাজ নাই। ভাল ও লাগে না। একবছরেই আমার সাজানো ফেন্সী কবুতর, লেয়ার মুরগী শেষ। গরু ও যায় যায়। মানে এখানের পর্ব শেষ। আবার ফেরত এলাম ঢাকায় মন কে শক্ত করে। ভার্সিটির ভর্তি ক্যান্সেল করে ভর্তি হলাম কম্পিউটার সায়েন্সে ন্যাশনাল ভার্সিটির প্রথম ব্যাচে। ক্লাস শুরু করে দিলাম। ঢাকা ভার্সিটির রফিক স্যার,হাসান বাবুল স্যার, তারেক স্যার, মিজান স্যার, জলিল স্যার,বুয়েটের কায়কোবাদ স্যার,ফারুক স্যার সহ জাহাঙ্গীরনগর, খুলনা ভার্সিটি, কুষ্টিয়া, রাজশাহী ভার্সিটির স্যার দের সাহচর্য নিয়ে শুরু হলো আমার কম্পিউটার সায়েন্সের অনার্স যাত্রা।
★★ আমাদের ব্যাচ, আমাদের পরের আরো ২ ব্যাচের সবাই বর্তমানে ব্যবসা,চাকুরীতে যে যার অবস্থানে খুব ভাল আছে।
সেশনজট ছাড়া ৪ বছরে অনার্স শেষ। আমি থার্ড ইয়ারে পড়া কালিন ই জবে জয়েন করলাম একটা আই এস পি তে সাপোর্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসাবে। বেতন ২০০০ টাকা মাত্র। যদি আমরা তখন ২০০০-২৫০০ এ সারা মাস পার করে দিতে পারতাম ভালভাবেই। জবের জন্য পড়াশুনার কিছু ক্ষতি হচ্ছিলো কিন্তু তাও জব চালিয়ে গেলাম। অনার্স শেষ করে বন্ধুরা যখন ৪০০০-৫০০০ টাকা বেতনে জব পাবার জন্য হন্য হয়ে ঘুরছে আমি তখন ১২০০০ এর জব বাগিয়ে বসেছি নামকরা আই এস পি তে।

শুরু করলাম জব ভাল ভাবেই।...
আবার লিখবো পরে।
source- ঢাকা পর্ব- Tahir Ibn Muhammad
 



No comments:

Post a Comment