ভারতের অনলাইন এডুকেশন এর সামগ্রিক চিত্র
১. ভারতের অনলাইন এডুকেশন এর অবস্থাঃ
KPMG & Google এর রিসার্চ মতে , ভারতে ২০২১ সালে অনলাইন এডুকেশন এর মার্কেট প্রায় ১.৯৬ বিলিয়ন ডলারের মার্কেটে দাঁড়াবে।
নিতিন বাওয়ানকুলে, গুগল ইন্ডিয়ার ইন্ডাস্ট্রি ডিরেক্টর -এর মতে; অনলাইন এডুকেশন সেক্টর ধীরে ধীরে মাল্টি বিলিয়ন ডলার এর সুযোগ এ পরিনত হতে যাচ্ছে। এই সেক্টর এর এত গ্রোথের কারন হলো পর্যাপ্ত সুবিধা,দ্রুত ব্যবহার এবং অনলাইন চ্যানেলের সুযোগ।
এ ছাড়াও তিনি বলেন, পাটনা,গোওয়াহাটি, আলিগাড়, কোটার মত শহর গুলো তে স্মার্টফোন এবং ইন্টারনেট সুবিধার র কারনে শিক্ষা ক্ষেত্রে র এই খোজের কারনেই দিন দিন এর চাহিদা বেড়ে চলেছে।
ভারতে যদি অনলাইন এডুকেশন এর ব্যবহারকারীদের দিকে তাকানো যায়,তবে দেখা যায়-স্কুলের শিক্ষার্থী এবং প্রফেশনাল দের মধ্যে এর সংখ্যা বেশি।
বেশ কিছু স্টার্ট আপ টেস্ট প্রিপারেশন এবং কে-১২ লার্নিং কোর্স নিয়ে কাজ করছে; আবার স্কিল বেইজড এডুকেশন বা নতুন কোন ইনোভেশনও এ ক্ষেত্রে যোগ হচ্ছে।
২.ভারতে অনলাইন এডুকেশন এর ভবিষ্যৎ -জন উবারাসাক্স, ডিরেক্টর, ক্যালিফোর্নিয়ান্স ফর হাইয়ার এডুকেশন ; বলেছেন- এর ভবিষ্যত অসীম বা আনলিমিটেড।
তিনি বলেন, "ডিপ্লোমা ডিস্ক্রিমিনেশন" অর্থাৎ কর্মীদের কাজ পেতে প্রতিস্ঠিত কলেজ থেকে ডিগ্রি বা সনদ দরকার হয়- যেটা কিনা আসলেই উচিত নয়।
তিনি বলেন, কর্মীদের কাজ পেতে তারা কি জানে-তার উপর নির্ভর করে কাজ পাওয়া উচিত, কিভাবে বা কোন প্রতিসঠান তা মুখ্য হওয়া উচিত নয়।
বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর স্বীকৃতি দেয়া ডিগ্রি বা সার্টিফিকেট কাজের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা কে বাধাগ্রস্ত করে।
কিছু সুযোগ সন্ধানী কোরপোরেশন অনলাইন এডুকেশন মার্কেট কে এক তরফা করে নেবার চেস্টা করে ;যদি এরকম হয়,তখন স্বীকৃত দেয়া প্রতিসঠান ছাড়া অন্য কোন জায়গা থেকে শিখতে গেলে শিক্ষার্থী রা বাধাগ্রস্ত করে।
আগেই একবার এর মার্কেট কত হতে পারে, তা বলা হয়েছে;
আবার এও বলা যেতে পারে-অনলাইন এডুকেশনের ক্ষেত্রে পেইড ইউজার এর সংখ্যা ১.৬মিলিয়ন থেকে ৯.৬মিলিয়ন (২০২১ নাগাদ) এ গিয়ে দাঁড়াবে।
৩. শীর্ষ কোম্পানি - যারা ভারতে অনলাইন বা ই লার্নিং সুবিধা দিচ্ছেঃ
কাল্পেশ পারমার, রিসার্চ এনালিস্ট যিনি সাত বছরের বেশি সময় ধরে ই লার্নিং এ অভিজ্ঞতার অধিকারী - তিনি বলেন, ডিজাইন্মেট থ্রিডি যেটাকে তিনি বেস্ট এডুকেশনাল কন্টেন্ট বলে আখ্যায়িত করেছেন।
থ্রিডি ফরমাট শেখানোর পদ্ধতি কে অনেক বেশি থ্রিলিং করে উপস্থাপন করেছে।
একঘেয়ে এবং বৈচিত্রহীন লেখার উপস্থাপন এর চেয়ে থ্রিডি অনেক বেশি বৈচিত্র্যময়, এবং তারা অনলাইনের মাধ্যমে ই এটি শিখিয়ে থাকে।
ডিজাইনমেট এর কন্টেন্ট এমন ভাবে তৈরি করা যাতে কিনা অনেক কঠিন বিষয় কে সহজে গ্রাফিকাল ডায়াগ্রাম এর মাধ্যমে সহজ করে উপ্সথাপন করা হয়।
মজার কথা, এদের সব চেয়ে বেশি এবং উন্নত মানের হাই টেক থ্রি ডি র কালেকশন রয়েছে।
এছাড়াও ইউড্যাসিটি,এডেক্স, কোর্সেরা, খান একাডেমি, ইউডেমি কম্পিউটার সাইন্স এবং প্রগ্রামিং নিয়ে অনলাইন এডুকেশনে কাজ করে যাচ্ছে।
৪.অনলাইন এডুকেশন গ্রোথে বাধা বা অন্তরায়ঃ
এওয়ারনেসের অভাব কে প্রধান বাধা বলে মনে করা হয়।
অনলাইন এডুকেশন আরো অনেক শিক্ষার্থী দের কে উন্নত এবং কার্যকরী শিক্ষা দিতে পারে।
এ ছাড়াও কন্টেন্টের কোয়ালিটি, ইন্টার্যাক্টিভ করার ক্ষমতাকে আরো জোরদার করা গেলে খুব দ্রুত এর প্রসার ঘটানো সম্ভব বলে তারা মনে করেন।
ধারনা করা হচ্ছে, ভারতের এডটেক কন্সেপ্ট যত বেশি সাড়া জাগানো র কথা ছিল, তত টুকু পর্যন্ত পৌছে নি।
সচেতনতা র অভাব এবং দুর্বল ইনফ্রাস্টাকচার কে এর প্রধান বাধা হিসেবে মনে করা হয়।
শিক্ষায় প্রযুক্তি ব্যবহার সাধারণ মানুষের শিক্ষার চাহিদা কে খুব দ্রুত মেটাতে পারে।
তবে ভাল মন্দ মিলিয়ে ভারতের এডটেক ইন্ডাস্ট্রি ভালই করছে এবং দিনে দিনে এর চাহিদা বাড়ছেই। নিশ্চিত ভাবেই বলা যায়, সামনের দিন গুলোতে ভারতে এডটেক মার্কেট বেশ বড় সড় আকার ধারন করবে।
Source-
No comments:
Post a Comment