আমি ব্যবসা বুঝি না
বিজনেস বলতে আমি বুঝি, যেটাতে কারেজ থাকবে , সাহস , বলিষ্ঠতা, উদ্দ্যমতা থাকবে। অনেকটা এপিক যোদ্ধাদের মতন, বাহুব্ল্ির ধিবর গানের মতন। যার নাম শুনলে মানুষ সমীহ করে, শ্রদ্ধায় মস্তক নত হয়ে যায় , নট ভয়ে । যেমন সিটি ব্যাঙ্ক , এপেক্স , আর নয়তো পার্সোনাল কিছু কৌশল যা আপনাকে তাদের মতন করে । হাঁ , শুরুতে হবে না , কিন্তু আস্তে আস্তে হবে, যাতে বড় বড় ব্যাঙ্ক , কর্পোরেট লোকেরা আপনার কাছে কাজ বা চাকুরি খুঁজে আর নয়তো কোন সমাধান। তাহলে এদিক দিয়ে আপনি ছোট খাট বিজনেস করছেন, কিন্তু বড় ব্যাঙ্কের লোকেরা যখন আপনার সাথে কথা বলে তখন আপনি নিজেই হতাশ ফিল করেন। অনেক সময় মশকরা করতে পারে, যেমন, আপনি ব্যবসা করেন, আমি ছোট খাট জব করি। হেন তেন হাবি জাবি। ওকে ঠিক আছে। তাহলে আপনি ভালো আছেন। এবার সে ব্যাংকারকে বলেন তো , উনার মেয়েকে আপনার সাথে বিয়ে দিবে কিনা। উল্টা গালি দিবে, রাস্তা মুদি দোকান্দার হয়ে এতো উপরে চোখ তুলিস কিভাবে? হয়তো আপনি বলতেই পারেন, ছোট থেকে বড় হয়, কথা ঠিক আছে। বড়লোক হলে উনি মেয়ে না উনার নাতিও আপনার পরিবারের জন্য ঠিক করে যাবে। এই ধরনের ৫-১০ হাজার টাকার বিজনেসকে আমি বিজনেস বলে আমি সন্তুষ্ট পাই না। সেটাকে জীবনের অস্তিত্ব বা টিকে থাকা বলে। নট পাওয়ারফুল সামথিং। হাঁ, আপনি ব্যবসাকে ছোট থেক বড় করবেন কেমনে? জানি না। জানা সম্ভব। তা কিভাবে আমি জানি না। আমি ছোট ছোট উদ্দ্যেক্তাদের মতন বা মুদি দোকানদের মতন দশ পনেরো হাজার টাকার সুযোগ খুজতে পারবো, যেটা হয়তো টিউশনি করে সম্ভব। কিন্তু ব্যবসা বলতে যেটা বুঝি সে দিকে হয়তো যাওয়া যাবে না। মানুষ যে বিজনেস বলতে বিশাল কিছু বুঝে, কোট স্যুট , বাংলো , লাক্সারিয়াস গাড়ি। অনেকে এটাকে পাগলামি বা সামথিং ইলুশন বা ভ্রম বলে। কিন্তু আমি বলতে পারি না। কারন তাদের উন্নতি আমি চোখের সামনেই দেখতে পারছি । তারা তো আর কোট স্যুট ভাড়া করে পড়ে নাই। বাংলো নিজের , ভাড়া থাকে না। তাহলে কিভাবে আমি ভ্রম বা দিবাস্বপ্ন বলতে পারি। হয়তো কিভাবে করছে তা আমি জানতে পারছি না। আর নয়তো আমার এক্সিকিউশনে প্রব্লেম আছে। ব্যবসা বা আপনার উদ্দ্যেগ টানাটানি করে শুরু করা যায়, কিন্তু ঐ অবস্থার মধ্যে থাকলে বুঝতে হবে আপনার জ্ঞান নেই আর নয়তো কোনভাবে সামর্থ্যের অভাব। জানি আমি সম্ভব , কিন্তু কিভাবে তা জানি না। আমার মতন তারাও মানুষ। তাদের উন্নতিকে আমি ঈর্ষা বা অবজ্ঞা করতে পারি না। দুর্নিতির প্রসঙ্গ উঠতেই পারে। কিন্তু সেই প্রসঙ্গে আমি যাবো না । প্রশাসন আছে, আমাকে সেটার দায়িত্ব দেয়া হয় নাই। কিন্তু ভালো মতন যতটা সম্ভব কাজ করা যায়। অনেকটাই সম্ভব। কিন্তু কিভাবে আমি জানি না। ফেইসবুক , গুগল দুর্নিতির কি করেছে? জানি না। বলতেই পারেন সফটওয়্যার প্রগ্রামার হতে নিষেধ করেছে কে ? ঐ যে বললাম , সামর্থ্যের অভাব। প্রোগ্রামিং জানতে হবে এমন না। এটা আপনার কাজ বা নিজের উপর নির্ভর করে। শাকিব ের দিকে তাকান, যেখানে হিরোরা টিকতে পারছে না, সেদিকে তাঁকে নিয়ে পুরো ইন্ডাস্ট্রির হিসাব নিকাশ। কিভাবে কি করে তা জিজ্ঞেস করেন তা আমি বলতে পারবো না। তবে এতুটুকু বলতে পারবো তাঁর এক্সিকিউশন ক্ষমতা বেশি। হুম, শুরুর দিকে তেমন ছিল না। এখন টপ টেন বাংলাদেশ ধনীদের একজন। এখন বলতে পারেন, আমি পারি না কেন, আমি বলবো আমি জানি, জ্ঞানের অভাব। আবার বলতে পারেন, আপনি জানেন যে বিষয়ে জ্ঞানের অভাব সে বিষয়ে জানতে পারছে না কেন ? কি জানি না কিভাবে জানব সেটাই জানি না। প্রব্লেম । সবার মতন ক্লাস ওয়ান টু পাস করলে আপনি অন্যদের মতন আস্তে আস্তে ভালো ব্যবসা কেন করতে পারবেন না ? জানি না ।
কোন প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন থেকে যদি নিউজলেটার পাবলিশ করা হয়, তাহলে মিনিমাম সেখানে ১ লাখ টাকার স্পন্সর পাওয়া যাবে। হয়তো সেখানে ১০০-২০০ পেপার সেল করতে কষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু একটা লেবুর শরবর বিক্রেতা বা দোকানদার মাসে ১-২ হাজার গ্লাস বিক্রি করলে তাঁর চলতে কষ্ট হয়ে যায়। এক আইসস্ক্রিম বিক্রেতা তাঁর শুধু গাড়িটা কোম্পানি থেকে যদি তাঁর সেল টার্গেট থাকে , আর সেটা সেল করতে তাঁর ৪-৫ বছর লেগে যায়। অথচ, তাঁর যাতায়াত ভিআইপি সব রাস্তা দিয়েই। মানুষ আসছে , শুধু বিলবোর্ডের মতন দেখে যাচ্ছে তা না , ইন্টারেকশন , রিকারিং সব হচ্ছে , টাকার লেনদেনও হচ্ছে , ছোট বাচ্চাদের মুখে হাসিও আসছে। গুরত্বএর দিক দিয়ে অনেকটা এগিয়ে আছে। কিত্ন তাঁর জীবনে উঠতে কষ্ট হচ্ছে । ঝড় বৃস্টি বা কাস্টমারদের সংখ্যা কম বেশি , নিজের পরিবারের খরচ সব মিলিয়ে তাঁর ৫-১০ হাজার টাকা হতো সেইভ করতে পারবে। কিত্নু চিকিৎসা বা কোন দুর্ঘটনায় সেটা খরচ হয়ে যাচ্ছে । তারপর দেখা যাবে , তাঁর ছেলে মেয়ে বড় হলে এই দিকে আর হয়তো সে উৎসাহ দিবে না , জানি না সমস্যা কোথায়। এখনো বুঝতে পারছি না ।
হয়তো মুটিভেশণ গল্প সুনাবেন , গাড়্রির গ্যারেজ থেকে আজকে এমাজন এতদুর আসছে। ওকে !! কংগ্রাচুলেশন। !! আপনি জানেন কিভাবে এমাজন এতদুর আসছে।এখন আপনি এমাজন হবার জন্য যা করার করে ফেলেন, এমাজন হয়ে যান। তারপর বেঁচে থাকলে আপনি আমাকে অটোগ্রাফ দিবেন, স্টেজে কথা বলবেন, বলবেন কিভাবে আসছেন , আশা করি তখন আপনার সব স্ত্রাটেজি শেয়ার করবেন, গোপন করবেন না।
এখন আপনি বলবেন টানাটানি করে কি সংসার চলে না। হাঁ, চলে তো। যখন বাচ্চার পড়ালেখা , চিকিৎসার বা কোনদিক দিয়ে টান পড়বে শ্বশুর বাড়ি পাঠিয়ে দিবে, আর নয়তো রাস্তায়। শ্বশুর বাড়ি যদি আপনার প্রেমিকের বিপদের আশ্রয়স্থল হয় , তাঁকে সেখানেই রেখে দেন না , আর নিজের দিকে আনার দরকার কি ? কি জন্য সংসার পাতার স্বপন দেখেন , নিজের উন্নতির সপ্ন দেখেন । এখন আপনি বলতেই পারেন , আপনি কি আমার সংসার ভাঙ্গার প্ল্যান করছেন, আমি বলবো না!! সংসার আপনার দুক্ষে কষ্টে ভালোমতন চলে যাবে। আমি চাই কিছু না হোক। সবার জীবন ভালো মতন চলুক । কিন্তু আপনার বিজনেস ক্যারিয়ারের গ্রোথ কিভাবে হবে , সেই বিষয়ে জানা থাকার জরুরি। সেটাই আমি জানতে পারছি না । মাঝে মাঝে মনে হয় নিজের মাথায় নিজেই বাড়ি দিচ্ছি । হাঁ, অনেক বড় বড় অনেক উদ্দ্যেগ দেখেছি, কিন্তু আমি জানি না, কিভাবে এক্সিকিউশন করে। আসলে কি জানি না তাই জানি না। বলতে পারেন, আগে রাস্তায় নামেন, তারপর সব দেখবেন, দেখলাম তো ঐ যে লেবু , আইসস্ক্রিম বিক্রেতা। তারপর আর কিছু দেখি না। এখন কোটি টাকা দিয়ে দোকান দিতে, আমার পক্ষে তা সম্ভব না, লেবু বিক্রি করে মাসে ১০ হাজার টাকা পেতে কষ্ট হয়ে যাবে , ভাতের খরচ আছে , থাকার খরচ আছে, পরিবার আছে, বাবা মা থাকলে তাদের চিকিৎসার খরচ পাটি আছে, নাকি এই ধরনের হিসাব সেটাও আমার দিবাস্বপন। টাকা আসুক আর না আসুক চারপাশের মানুষকে নিয়ে থাকতে হলে, বাচতে হলে আপনাকে চাহিদার যোগান দিয়ে যেতে হবে । আর এইগুলাকে ব্যবসা বলে নাকি জীবিকা বলে তা আমি জানি না। কয়েকজন প্রফেসর লেভেল এ লোকজন তো এগুলোকে জীবিকা বলতে আমি শুনেছি। এখন আমাকে জিজ্ঞেস করেন , আমিও একমত। মিল্ক ভিটা আড়ং দুধ না নিলে গোয়ালাদের এক বেলা ভাত বন্ধ হয়ে যায়।
সেটাকে আমি কিভাবে ব্যবসা বলতে পারি? তেমনি ফেইসবুকে দোকানের পেইজ খুলে অনলাইন শপ চালু করে দেয়াকে কি বলে জানি না, তাহলে আজকেল ডিল কি করে, আর যে ফেইসবুক উদ্যেক্তা বানায় সেই ফেইসবুক কি করে, এরা যা করে এদেরকে কি বলে।
এখন দেখি গরু লোণ দেয়ার নামে সরকার উদ্দেয়ক্তা কর্মসূচি নামে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দেয়ায়। এটা নিঃসন্দেহে অনেক ভালো উদ্দ্যেগ। কিন্তু মুরগি পালন, মাছ চাষ , গরু পালন এগুলো কিভাবে উদ্দ্যেক্তা কর্মসূচি হতে পারে আমি জানি না। এগুলো দারিদ্র বিমোচন কর্মসুচি হতে পারে। হাঁ, এখন যদি তাঁর খামার হয় সেখান থেকে পাঁচ দশ লাখ টাকা আসে তারপর কিছু লোকের কর্মসংস্থান হয় তাহলে সেটাকে উদ্দ্যেগ দেয়া যেতে পারে। একটা বড় খামার বা বড় কোন উদ্দেয়গ কিভাবে ধাপে ধাপে নেয়া যায় - সেই ধরনের প্রশিক্ষণ বা সাপোর্ট দেয়া হয় কিনা আমার জানা নাই। কিন্তু এটা করতে আমার জমি লাগবে, এখন জমি কে দিবে ? জানি না। বুঝলাম গ্রামে এটা কষ্ট আপনি চালায় নিলেন, প্রান্তিক কৃষকদের জমি নাই, পুকুর নাই, সেখানে কিভাবে তারা জীবনে উন্নতি করবে তা আমি জানি না। তারপর শহরে লোকদের চিন্তা কে করবে? তারা এই ধরনের ট্রেনিং কিভাবে পাবে? কিভাবে কি করবে ? জানি না। এখন বলতে পারেন, মানুষের কাছে কাজ খুজবে। কিন্তু আবার দেখি অনেকে বলে ম্যানুফ্যাকচারিং বেইজড বা উৎপাদন শীল বাজার জাত কমে যাচ্ছে, এই ধরনের অনেক কথাবার্তা শুনি। জানি না সরকারে আদৌ কোন চিন্তা আছে কিনা। অন্যের জমি দখল করে ফ্রাইওভার হবে, রাস্তাঘাট হবে, চার লেন হবে পাঁচ লেন হবে সেই রাস্তা দিয়ে বড় বড় ভিআইপি রা যাবে, সি আইপি রা যাবে। অনেক সুন্দর দৃশ্য। হা,এখন কি রাস্তাঘাট হবে না। অবশ্যই হবে। ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলেপমেন্ট অবশ্যই দরকার। কিন্তু আপনি রাস্তা ঘাট বানানর সময় যাদের কাছ থেকে জমিগুলা নিলেন তারা ঠিকমতন টাকা বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে কিনা সেটার খবর কে রাখে, আপনি টোল থেকে বা দ্রব্যমুল্যের দাম বাড়িয়ে যেভাবে হোক আপনি বিদেশি ব্যাঙ্ক থেকে লোণ শোধ করলেন , কিন্তু যাদের কাছ থেকে জমিটা পেলেন তারা কি পেলো? আমি বলবো জানি না। কারন অনেকের কাছে এটাই শেষ সম্বল। তারা তো আর সাধে গিয়ে সরকারের কাছে জমি বিক্রি করে নাই। অনেকটা জোর করে নেয়া হয়েছে। এখন টোল থেকে বা সরকারি ফান্ড থেকে তাদের জন্য টাকা দেয়া হোক। তাহলে বড় বড় সিআইপি বা ভুমিদশ্যু আর সরকারের মধ্যে তফাত কি আমার জানা নেই। কারণ , ঐ জমিতে ধান চাষ করতে পারতো, বা তাদের দুঃসময়ে কাজে লাগতো , সরকার কি তখন তাদেরকে সাপোর্ট দিবে? আমি জানি না। আর জমির দলিল কিভাবে জাল হয় সেটা আমার জানা নেই। আর জোর করে কেন জমি দখল করবে, আমাকে কেন হাইকোর্টে দৌড়াতে হবে, সেটা আমার জানা নেই। হাইকোর্ট তো সরকারের, সরকার আপনাকে কি টাকা দেয় ? আমি বলবো আমি জানি না ।
হাঁ, আপনি বলতে পারেন শুরু করলে হয়ে যায়, হতে পারে , কিন্তু আমার বেলায় হয় নাই। আমি হোটেল - রেস্টুরেন্ট কাচা তরকারি বা যা লাগবে তাই সাপ্লাই দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু সম্ভব হয় নাই। কেউ আমাকে অর্ডার দেয় নাই। অর্ডার পাওয়াটাই মনে হয় সৌভাগ্যের ব্যাপার। সেখান থেকে কতুটুকু লাভ বা কিভাবে চলবো আমি জানি না।
~ পার্থ প্রতীম মজুমদার
No comments:
Post a Comment