সরকারকে দেখলাম ইলার্নিং এর দিকে ভালোই মনোযোগ দিচ্ছে । মুক্তপাঠ সহ আরও কিছু সরকারিভাবে ইলার্নিং সাইট তৈরি হচ্ছে। সরকারিভাবে ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে । আর এদের ফাউন্ডার পর্যায়ে একটু তাকালেই বোঝা যাবে, এদের বেশির ভাগ লোকই সরকারির ভালো ভালো পর্যায়ের। কিন্তু ব্যাপারটা কি কতটুকু আনন্দের ব্যাপার তা আমার বোধগম্য নয়।সরকারি ভাবে ফ্রিল্যান্সিং বা উদ্যেক্তা বা ইকমার্স ট্রেনিং দেয়া হচ্ছে । অনেক অরগাইনেসজন এর মাধ্যমেও এই ধরনের উদ্দ্যেগ নেয়া হচ্ছে। শুভ উদ্দ্যেগ। উদ্দ্য্যেক্তাদের ট্রেনিং এর তো অবশ্যই দরকার। কিন্তু সরকার , এসোসিয়েশন বা অরগাইনেসজন কেন ? কোম্পানি এখানে থাকতে পারে না কেন?
সরকার ট্রেনিং কোম্পানি যারা আছে তাদেরকে নিয়ে বসবে , আর নয়তো এসোসিয়েশন বা অরগাইনেজনকে বলবে। তাদের মেম্বার কোম্পানিগুলো দেরকে নিয়ে ট্রেনিং দিবে। কিন্তু অরগাইনেসজন বা এসোসিয়েশনও দেখি, পার্সোনাল ভাবে ট্রেনিং দেয়ায়, মেম্বার কোম্পানির মারফত না। এখানেও যদি ইগোর প্রব্লেম থাকে , তাহলে কিভাবে কি হবে? সরকারি পর্যায়ে কোম্পানির নাম যায় কিনা তা আমি জানি না। কারন ট্রেইনারের সাক্ষরের সময় ট্রেইনারের নাম যায়, কোম্পানির নামের জায়গা দেখি নাই। উদ্দ্যেক্তাদের জায়গা যদি কোথাও না হয়, তাহলে উদ্দ্যেক্তারা কোম্পানি কেন বানায় , মেম্বার কেন হয়, ট্যাক্সের বোঝা কেন মাথায় নেয় , সরকারিভাবে দেখলাম অনলাইন শপও করা হয়েছে , বিকাশের মতন পেইমেন্ট সার্ভিসও বের করেছে। সরকার যদি সব করে তাহলে উদ্দ্যেক্তাদের জায়গা কোথায়? উদ্দ্যেক্তা নিয়ে এতো আয়োজন, পরিকল্পনা কিসের তা আমি জানি না। উলটো সরকারের উচিত ছিল , অনলাইন শপ , পেইমেন্ট গেইওয়ে সার্ভিসের ট্রেনিং দেয়া।
কারণ, আমি যতুটুকু জানি , সরকার ব্যবসা করতে পারে না। সরকার উদ্দ্যেক্তা বা ব্যবসায়ীদেরকে সাপোর্ট দিবে। কিন্তু এখন ধারণাটা উলটো। সরকারের মন্ত্রী বা উচ্চ পর্যায়ে , সেনাবাহিনীর কিছু লোক স্টার্ট আপ বা অন্যান্য ব্যবসাতে কাজ করছে। এখন সরকার জনগণকে উদ্দ্যেক্তা নামক ট্র্যাম্প কার্ডে উৎসাহ দিয়ে সরকার এখন নিজেই উদ্দ্যেক্তা হচ্ছে, ব্যাপারটা কি দেশের জন্য কতুটুকু ভালো তা আমি বুঝতে পারছি না। সরকারের পজিশন বা পদের খমতার সাথে সাধারণ ছোট উদ্দ্যেক্তাদের শক্তিতে কুলাবে না। কোথায় তারা ছোট ছোট ব্যবসায়ী বা উদ্দ্যেক্তাদের সাপোর্ট দিবে, তারা উল্টা পজিশনের বসে ভালো ব্যবসা করছে। ওকে !! সরকার বলতেই পারেন, এখন কি আমি
ব্যবসা বন্ধ করতে পারি ? আমি বলবো আমি জানি না। তাহলে তারা ট্যাক্স ফাকি দিবে বা পজিশনের ক্ষমতা দিয়ে বড় বড় নিজের ব্যবসা করে যাবে, বড় বড় ডিল করবে, তারা নিজেরাই আলিবাবা এমাজন হতে যাবে। তাহলে ছোট বা নতুন উদ্দ্যেক্তারা কি করবে? তাদের তো অতো ক্ষমতা নেই । সরকার যদি নিজেই ব্যবসা করবে, তাহলে উদ্দ্যেক্তা বা ব্যবসায়ীদের উপর ট্যাক্সের বোঝা কেন পড়বে, তা আমি বুঝতে পারছি না।
সরকার কোথায় নতুন উদ্দ্যেক্তাদের এক্সপোর্ট ইম্পোর্ট শিখাবে বা ক্লায়েন্ট খুঁজে দেয়া বা চুক্তিতে সহায়তা করা এই ধরনের কাজে সহায়তা করার কথা। অথছ সরকারের পজিশনের লোকজনরাই দেখি দাপটের সাথে কাজ করছে । তাহলে সাধারণ উদ্দ্যেক্তাদের জায়গা কোথায়? তারা ত সরকারি পজিশনের সুযোগ সুবিধা পাবে না। এখন তাদের পজিশনের চেয়ে ব্যবসা এতো বড় হয়ে যায়, তাহলে তারা পজিশন ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা করলেই পারে। নিষেধ কে করেছে ? ইলার্নিং ব্যাপারটা সরকার একা করবে কেন ? তাহলে দেশীয় স্টার্ট আপ গুলা উৎসাহ পাবে কোথা থেকে?
বরং সরকার সব স্টার্ট আপ গুলা নিয়ে বসে কাজ করলেই পারে। বা সরকারের কিছু প্ল্যান থাকলে তা স্টার্ট আপ গুলাকে বললেই তারা তা বাস্তবায়ন করে দিবে। হ্যাঁ। এখন সরকার তো আমাদের মতই সাধারণ মানুষ। ইগো প্রব্লেম থাকতেই পারে। ফান্ড কেন এদেরকে দিবো?
নো প্রব্লেম । তাহলে স্কুল কলেজ আছে , স্কুল কলেজ , ভার্সিটি কেন্দ্রিক ইলার্নিং সাইট করা হোক। সরকার কেন একা করবে? স্কুল থেকে বা
ভার্সিটি থেকে নাকি টিচার ডেকে নাকি শিক্ষামুলক ভিডিও সম্প্রচার করানো হবে। তা সরকার আর জনগণ দেখবে। কেন স্কুল কলেজে ইলার্নিং সাইট বানিয়ে তা সরকার প্রচার মাধ্যমে প্রচার করলেই পারে। সাধারণ ছাত্র ছাত্রীরা তা দেখবে। তারাও উৎসাহ পাবে। নাকি দেশের স্কুল কলেজের নাম দেখালে বা প্রচার করতেও কারোর ইগোতে সমস্যা হবে। কেন এমাইটি , হার্ভার্ডে অনলাইন ইলার্নিং সাইট নেই।
দেশে বড় বড় ফ্লাইওভার হচ্ছে , মেট্রোরেল হচ্ছে , দেশে কাজ করছে কে , সরকার, আর বিদেশ থেকে কাজ করছে কারা? প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান !!! বিদেশি সরকার সেখান থেকে আরও তাদের ব্যবসায়ীদেরকে সাপোর্ট দিচ্ছে । গ্যাস ফিলডে তাকালে দেখা যাবে তিতাস কাজ করে , বিদেশ থেকে কাজ করে প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান। ওয়াসা, সড়ক সব জায়গাতে একই অবস্থা। ব্যবসা বলতে যদি কিছু থাকে সেটা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের!! তাহলে দেশে ব্যবসা , বা উদ্দ্যেক্তা কলেবর কিভাবে বাড়বে? আমি বলবো জানি না । এদিক দিয়ে সরকার বলে ব্যবসায়ি , উদ্দেয়ক্তাদের সংখ্যা বাড়াবে, আবার এদিক দিয়ে চাকুরি চাকুরি করে। চাকুরির চাহিদা আগেও ছিল , ভবিষয়তেও থাকবে। কিন্তু ভালো ব্যবসা বা উদ্দ্যেক্তা ক্ষতিগ্রস্থ হলে সেটা আর ফিরে আসে না। কারন, ইমেজ ইস্যুর প্রব্লেম থাকে।
হাঁ, সরকার এখন হিংসা বা ইগোর কারণে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে আরও বেশি করে সাপোর্ট দিবে, তাদের থেকে সুযোগসুবিধাও বেশি পাওয়া যাবে বলে। তাহলে কিছু বলার নাই। ফেইসবুক, গুগল, মাইক্রোসফট সব এমেরিকান স্থায়ি প্রতিষ্ঠান। সরকার থেকে ভালো সাপোর্ট পেয়েছে বলে তারা আজকে এখানে আসতে পেরেছে। এখন সরকারি লোকজন নিজেরা ব্যবসা না করে , তারা যদি নতুন উদ্দ্যেক্তাদের এভাবে সাপোর্ট বা ট্রেনিং দিতো , তাহলে অনেক দূর যাওয়া যেতো। অনেকে বলে দেশে আলিবাবা নাই, এমাজনের মতন কোম্পানি নাই। আলিবাবা , এমাজন আসলে দেশে সরকারি মহলে অনেক টাকা আসবে, আসতেই পারে। দেশিয় উদ্দেয়ক্তাদের সাপোর্ট দিলে কি এই ধরনের কোম্পানি হতে পারতো না। অবশ্যই হতে পারতো। আমি তো দেখছি হচ্ছে।
স্যাটেলাইট এর প্রসঙ্গ আসলে সরকার আসছে , কেন এটা দেশীয় কোন টিম বানিয়ে তাদেরকে ট্রেনিং ব্যবস্থা করে এ ধরনের কাজ করানো যেতো না। আমি তো জানি সরকারের আগেই এই কাজ হয়েছে। ব্রাক সরকারের আগেই এই ধরনের স্যাটেলাইট এর কাজ করেছে, করছে। এখন ঐ যে ইগো প্রব্লেম । এখন ব্র্যাক এর সাথে কাজ করতে যদি সমস্যা হয় , তাহলে নতুন কোন টিমদের অবিজ্ঞ করে নেয়া হোক। একটা স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে, এখন সামনে নাকি আরও স্যাটেলাইট পাঠাবে। সেটা দেশীয় টিম দ্বারা পাঠাক। সরকারের ভিতর অবিজ্ঞ লোক নাই যায় তা না, তারা নতুন উদ্দ্যেক্তাদের সাপোর্ট দিলেই পারে।
এখন অনেকে বলতে পারেন, বাংলাদেশে ইনোভেশন হচ্ছে না? অনেক নতুন নতুন তরুন গবেষক হচ্ছে। কিন্তু এটা ঝড়ে বক মরার মতন । এভাবে হুট হাট করে দুই একজন অনেক আশ্চর্জ অনেকে কিছু দেখায়,কিন্তু তাদের মধ্যে ব্যবসায়ীক সফলতা কতজন পেয়েছে , তা আমার জানা নেই। যখন ক্রেজের দরকার পড়বে, ধরে নিয়ে এসে সাপোর্ট দেখাবে, তারপর সব চুপচাপ। তাহলে আর কেমনে আগাবে? আমি চাই , সরকারি মহল নিজে থেকে স্বার্থ সংশ্লিসট কাজে না জড়িয়ে নতুন সাধারন উদ্দেক্তাদের সাপোর্ট আরও বাড়ানো হোক।
--পার্থ প্রতীম মজুমদার
No comments:
Post a Comment