স্টার্ট আপ বিষয়ে আমি এতদিন যা জানলাম---
আগে কোন বিষয়ে দক্ষ হতে হবে তারপর আপনার ব্যবসার ফ্রেম অয়ার্ক তৈরি করতে হবে , অর্থাৎ যেটাকে mvp বলে, সার্ভিস দিলে কিভাবে দিবেন , কি কি লাগবে , কাকে দিবেন। ধুরন আপনি সফটওয়্যার রিলেটেড কোন সার্ভিস দিতে চান , অথবা ডিজিটাল মার্কেটিং সার্ভিস। ডিজিটাল মার্কেটিং সার্ভিস দিলে প্রথমে যে সার্ভিস দিবেন সেটা কোন কোন বিষয়ে দিতে পারেন , হতে পারে ডিজিটাল মার্কেটিং , ওয়েব ডেভেলাপমেন্ট , এস ই ও সার্ভিস, ভিডিও কন্টেন্ট , সফটওয়্যার অথবা এপ্স ডেভেলাপমেন্ট । অর্থাৎ আপনাকে প্রডাক্ট অথবা সার্ভিস রিলেটেড বিষয়গুলা ভালো করে জানতে হবে। কোন কোন জায়গায় কাস্টমার অসুবিধায় পড়লে আপনি সেখানে সার্ভিস প্রদান করতে পারবেন বা আপনার সার্ভিস বা প্রডাক্ট কাজে আসবে এই সব বিষয়ে ভালো ধারণা থাকতে হবে। এটি ভালো করে জানতে পারলে আপনার কন্টেন্ট মার্কেটিং এ অনেক সুবিধা হবে। কারন , আপনার প্রডাক্ট অথবা সার্ভিস বা মার্কেটিং অথবা প্রডাক্ট ডেভেলাপমেন্ট আপনার চেয়ে কেউ ভালো জানে না।
তারপর সেই বিষয়ে কিভাবে প্রান সঞ্চার করতে হয় সেটা জানতে হবে , অর্থাৎ mvp বা ডায়াগ্রামের এর পরে এর পর আপনি কি করবেন ? আপনাকে ফান্ড বা প্রডাক্ট বিক্রয়ের জন্য তৈরি হতে হবে । যাতে আপনার রেভিনিউ আসে। আপনার ব্যবসার কৌশল এমন হওয়া উচিত যাতে কাস্টমার বা ব্যবহারকারি থেকে টাকা আসে। তাহলে আপনার ফান্ড পেতে সুবিধা হবে। কারন বিনিয়োগকারি সহজে আপনার প্রডাক্ট বা সার্ভিস ভেল্যু বুঝতে পারে। আর বিনিয়োগকারি টাকা দিতে না চায় , তাহলে আপনার টাকা কাস্টমার থেকে যেন আসতে থাকে। যেমন, আপনার সামনে যে দোকান আছে, সেখানে কিন্তু ক্রেতা আসতেই থাকে, তেমনি আপনার ডিজিটাল স্টোর বা সার্ভিস এর জন্য ক্রেতা বা ব্যবহারকারী আসতেই থাকে। যেমন হতে পারে, হোস্টিং ইউজার, ওয়েব ডেভেলাপমেন্ট সার্ভিস এর জন্য ক্লায়েন্ট বা সফটওয়্যার রিলেটেড ক্লায়েন্ট । তবে ক্লায়েন্ট কিভাবে পেতে হবে সেই বিষয়ে দক্ষতা থাকতেই হবে। কারন এটাতো বাজারের মুদি দোকানের মতন কোন ক্রেতা না ।
ক্লায়েন্ট পেতে থাকেন আর মার্কেটিং করতে থাকেন। মার্কেটিং আপনার সার্ভিস বা পন্যের পরিকল্পনার উপর নির্ভর করে। এখন আপনি সফট ওয়্যার সার্ভিস দিতে চান , আপনি তো আর রান্না বান্নার গ্রুপে যেয়ে প্রমোশন চালাবেন না !! ঠিক তাই। আপনার পন্যের নিশ বা ক্যাটাগরি অনুযায়ী মার্কেটিং করতে হবে। এখন মার্কেটিং জিনিষটা অনেকটা কৌশলের উপর নির্ভর করে। কারোর আছে প্রচার নাই । কিন্তু পটেনশিয়াল বায়ার বেশি , আবার অনেকের দশ টাকা পন্যের মার্কেটিং খরচ কোটি টাকার যেমন ইউনিলিভার, গ্রামীনফোন এই রকম । এরা স্টক বা শেয়ার মার্কেটকে প্রাধান্য দিয়েই এই রকম কাজ করে। যাতে ক্রেতার আস্থা বাড়ে। এই রকম স্টার্ট আপ ও আছে, যেমন পাঠাও , উবার। এরা ঢালাও ভাবে প্রমোশন করে কারন যাতে বিনিয়োগরা আকৃষ্ট হয়।
কিন্তু এখন আপনি আইপিও , শেয়ার স্টক এর কথা বলতেই পারেন , কিভাবে কি করতে হয়। এই আর্টিকেল লেখার পর্যন্ত তেমন কোন আয়ডিয়া নাই । আমার নিজেরেও অনেক প্রশ্ন পরিষ্কার না।
কারন সরকারের কাছে বিনিয়োগকারিদের অনেক দাবি দাওয়া শুনি, অথচ ব্রোকার দের কাছে নাকি একবার শেয়ার কিনতে ২০% টাকা কমিশন দেয়া লাগে আবার বেচতে একই পরিমান টাকা লাগে। সাথে সরকারি ট্যাক্স , ফরম ফিলাপ আরও অনেক হিসাব নিকাশ থাকে। অর্থাৎ , আপনি ৫০০০ টাকা বা এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করলে সরকার , ব্রোকারকে খুশি করার পর আপনার কাছে কিছুই থাকে না। আর লাভের অঙ্ক কষতে চাইলে মোটা অঙ্কের বিনিয়োগ করতে হয়। স্টার্ট আপের মধ্যে মনে হয় বিডি জবস, বিকাশ শেয়ার বাজারে লিস্টেড কোম্পানি। এখন আপনি জিজ্ঞেস করতে পারেন, শেয়ার বাজারে আপনার কোম্পানি লিস্টেড হবেন কিভাবে ? হ্যাঁ আপনি বলতেই পারেন DSE সাইটে দেয়া আছে। তাহলে বাকি সফল স্টার্ট আপ গুলা কেন লিস্টেড হতে পারে না , আমি বলবো আমি জানি না। এখন আপনি বলতেই SME এর ব্যাপারে কথা শুনেছিলাম। এই ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না।
এখন মার্কেটিং এর ব্যাপারে বলতে গেলে ডিজিটাল মার্কেটিং এর ব্যাপারে টুকটাক ব্যাপারে জানতে হবে, যেমন ফেইসবুক, গুগলে বুস্ট দেয়া। এখন নতুন কোন নতুন ডিজিটাল সোর্স পান সেগুলোতে অবশ্যই ট্রাই করবেন। কারন , ওগুলোতে ইম্প্রেশন বা রিচ বা ক্লিক ভালো আসে, দর্শকদের সহজে ফোকাসে আসে। অর্থাৎ টার্গেটিং কাস্টমার ভালো পাওয়া যায়। আমি viki তে ড্রামা দেখাকালীন বাংলা এডও প্রচার করতে দেখেছিলাম । ঈদের সময় বেশি হয়। ভারতে নেটফ্লিক্সেও ভালো এড প্রমোশন চালায়।
প্রডাক্ট এর ব্যাপারে কিছু বলার নাই । ডিজিটাল জায়গায় ডিজিটাল কন্টেন্ট হলে ভালো হয়, এটা যার যার কৌশলের উপর নির্ভর করে । তার মানে কি অফলাইন ফিজিক্যাল প্রডাক্ট বা পন্য নিয়ে প্রমোশন করা যাবে না? অবশ্যই যাবে। যেমন এমাজন করে, ফ্লিপকার্ট করে, বিভিন্ন হেলথ বা স্বাস্থ্য রিলেটেড সার্ভিস আছে, তারা অফলাইন প্রডাক্ট বা পন্য নিয়েই কাজ করে। ডিজিটাল প্রডাক্ট বা কন্টেন্ট এইজন্য ভালো কারন এটা বার বার তৈরি করতে হয় না।
তারপর বিনিয়োগকারিদের কথা। এরা কিভাবে বিনিয়োগ করবে, কি কি দেখবে কিন্তু এই ব্যাপারে আমি বিস্তারিত কিছু বলতে পারবো না । এখন আপনি বলতে পারেন, অনেক ছোট ছোট ওয়েবসাইট এর এতো ভেলু বা এতো টাকায় বিক্রি হচ্ছে , সাইট তো আপনি ও বানাচ্ছেন , প্রমোশন করছেন, আপনার সাইট কি আলিবাবা, ওয়ারেন বাফেট বিকাশ এ যেভাবে বিনিয়োগ করেছে, সেভাবে বিনিয়োগ করবে? বলবেন, হয়তো আপনার কোম্পানির ভেলু নাই। তাহলে আপনার সাইট এর ভেলু বাড়ে না কেন , কিভাবে বাড়বে ? আমি বলবো আমি জানি না।
এখন আপনি বলতে পারেন, দোকান বিক্রি হলে তার পজিশন বিক্রি হবে, কিন্ত দোকান শুধু অনলাইন হলে কিভাবে ভেলু এড হবে? একজন দশ হাজার টাকা দিয়ে সাইট বানালো, তারপর বিশ হাজার টাকা বুস্ট করে একটা ক্রেতা পেলো, এখন এইখেত্রে ভেলু কত? আমি বলবো জানি না, আসলে টাকা কামায় কিভাবে আমি জানি না। এখন আপনি বলতে পারেব দোকানে এক ঘণ্টায় ১০০০ টাকার লেনদেন হলে ঐ দোকানের এক ঘণ্টার ভেলু এক হাজার টাকা, তারপর এটাকে বছরে বা দশ বছরে হিসাব করলে যত হয় তত। এখন এই হিসাব যদি অনলাইন এ করি তাহলে কি চলবে ? আমি হাজার টাকার বুস্ট করলাম, সব কিছু প্রুফ রাখলাম, তারপর একশো টাকার সেল করলাম, তাহলে তার ভেলু কতে হবে? তখন কি আমি ফান্ড পাবো। এমাজন, ফ্লিপকার্ট থাকা সত্ত্বেও আমি সেল করে দিলাম। তাহলে আমি ফান্ড পাবো না কেন?
ডোমেইনর ভেলু তো আর কোম্পানির ভেলু না। আপনার ব্লগ সাইট থেকে আপনার কোম্পানির প্রোডাক্টের পাশাপাশি এফিলিয়েট প্রোগ্রাম করতেই পারেন, সেটাও আস্তে আস্তে স্টার্ট আপ হতে পারে, কিন্তু কিভাবে হবে তা আমি জানি না। তখন কি উবার, পাঠাও, বিকাশের মতন বিলিয়ন ডলার ফান্ড পাবেন, তা আমি জানি না। কিন্তু আপনার প্রতি গুগলের দয়া হলে আপনি স্পন্সর বা এফিলিয়েট করে হ্যান্ডসাম এমাউন্ট ইনকাম করতে পারবেন। কারন, আমার তো ফেইসবুক আইডিও ডিলিট হয়ে যায়, সামান্য বাংলা ব্লগ সাইট খুলেছিলাম, র্যাংকিং আপডাউন করে। একই টপিকস নিয়ে লিখলে আমার র্যাঙ্ক এক রকম থাকবে, নিউজ সাইটের র্যাঙ্ক সবার আগে থাকবে। হ্যাঁ, অনেক র্যাঙ্কিং ফ্যাক্টর আছে, হাবিজাবি অনেক কিছু শুনতে হবে। কিন্তু সরকারি সাইট, গুগলের নতুন সার্ভিস, এমাজনের নতুন সার্ভিস আলাদা ডোমেইন নিয়ে কাজ করলেও তা সবার আগে থাকবে।
এখন আপনি বলতেই পারেন, এই বিনিয়োগকারিদের কাছে আপনার শেয়ার বিক্রি করে ফান্ড পেতে হবে। আমি বলবো 'না'। যেমন কে এফ সি ,ফ্র্যানচাইজি মডেল , কোয়ান্টাম এর মতন সার্ভিস বা ডোনেশন মডেল । অরগানেইজন ভিত্তিক হলে সাধারণত প্রডাক্ট বা স্পন্সর ভিত্তিক মডেল হয়। ওরা নিউজলেটার বা ইভেন্ট করে , সেখানে স্পন্সর বা বিজ্ঞাপন এর প্রচার করে। এখন আপনি বলতে পারেন, সার্চ ইংলিশ কোন মডেল আমি বলবো তা আমি জানি না। হ্যাঁ, অবশ্যই ইংরেজির ভালো প্লাটফর্ম। কিন্তু কোন মডেল আমি জানি না। আমি জানি না রবি কিভাবে টেন মিনিট স্কুলকে ফান্ড দিয়েছে। আরও অনেক গ্রুপ আছে, ভালই মেম্বার আছে। বিশ মিলিয়নের উপর অনেক গ্রুপ মেম্বার আছে। ইউটিউবেও অনেক সাবসাক্রাইব আছে। তাহলে তো তাদেরকে ফান্ড দেবার জন্য বিনিয়োগকারীরা দৌড়াদৌড়ি করতো। আরও অনেক ইলার্নিং ফেইসগ্রুপ আছে, ইউটিউব আছে, তাদেরকে ফান্ড দেয় না কেন? তারা কি ফান্ডের জন্য এপ্লাই করতে পারে না? আমি বলবো তা আমি জানি না।
এখন আপনি আস্তে আস্তে আপনার সার্ভিস বাড়াতে থাকবেন, যেটাকে স্ক্যালেবিলিটি বলে। নতুন প্রডাক্ট বা নতুন সার্ভিস প্রদান করতে থাকবেন। মার্কেট শেয়ার বাড়াতে থাকবেন। এখন মার্কেট শেয়ার বাড়ায় কিভাবে ? কারা এগুলো কিভাবে হিসাব করে- আমি বলবো তা আমি জানি না।
তারপর ফান্ডিং অনেকেই পাই, কিভাবে পাই , আমি জানি না। কারন , আমার চোখের সামনে আমি দেখি নাই। মোটা অঙ্কের ফান্ড পায় কিভাবে ? শুধুমাত্র ইনভেস্ট করে শেয়ার নিয়ে নেয় ? নাকি আরও কিছু ফ্যাক্টর আছে? আমি যা জানি পিচিং করে এপ্লাই করতে হয়। ওকে !! নাইচ এপ্রোচ!!
তাহলে এমাজন ঠিকই ফান্ড পাচ্ছে , এমাজন এ যারা বাই সেল করে অনেকটা ক্ষুদ্র উদ্দ্যেক্তার মতন তারা ফান্ড পাচ্ছে না কেন? অথচ গার্মেন্টস সহ ইন্ডাস্ট্রির অনেক ক্যাটাগরিতেই তারা এগিয়ে আছে। অন্যান্য দেশ থেকেও অনেকেও লিস্টেড আছে। ভালোই সেল করছে। তারা ফান্ড পাচ্ছে না কেন? আমি বলবো আমি জানি না।
হুম, স্টার্ট আপ জিনিসটা কি তা এখনো আমার মাথায় ঢুকে না, নাকি প্রভাবশালী পজিশন ভিত্তিক একটা গোষ্ঠীর জন্য? আমার বাসার সামনে রিসার্চের দোকান আছে, সেখানেও দেখলাম স্ক্যালেবিলিটি ব্যাপার আছে। যেমন, সেখানে কম্পিউটার হার্ডওয়ার বেচাকেনা হচ্ছে, ইন্টারনেট সার্ভিস দিচ্ছে , সাথে এই ক্যাটাগরির অনেক কিছু। সেই দিনে যা বেচছে, তাই খাচ্ছে। কই তাঁর জন্য কোন বিনিয়োগ আসতে দেখলাম না। হুম, এখন বলতে পারেন, অনলাইন আসলে বা ইকমার্স হলেই বিনিয়োগ আসবে। আরও অনেক দোকানের ফেইসবুক পেইজ আছে। কই তারা তো বিনিয়োগ পাচ্ছে না। আপনি দেখাচ্ছেন , কিভাবে ফেইসবুক পেইজ খুলা যায়, ইউটিউব চ্যানেল খুলা যায়, কিভাবে সাইট বানানো যায়, সবাই বানাচ্ছে, কিন্তু স্টার্ট আপ ফান্ড নিয়ে অনেক শুনলাম, কিন্তু ১% এর চেয়েও কম হবে তারা পাচ্ছে, কেন, সমস্যাটা কোথায়? নাকি প্রভাব শালী বা বিদেশি কর্পোরেট লেভেলদের একটা মার্কেটিং গিমিগ।
ওকে! ওকে!! মনে মনে বিরোধিতা করতেই পারেন!! তাহলে আপনি এমাজনের মতন ইকমার্স অনলাইন শপ খুলেন। তাহলে আপনি ফান্ড ডলারে ভেসে যাবেন। তাহলে আমাকে গালি দিয়ে সময় নষ্ট করবেন কেন? আপনার পিছনে তখন সাংবাদিক ঘুরবে। সারাদিন অনলাইন উদ্দ্যেক্তাদের অনেকেই ফান্ড কিভাবে পাওয়া যায় তা নিয়ে অনেকে পড়াশুনা করছে, জানার চেষ্টা করছে। কিন্তু কোথা থেকে কিভাবে পাঠাও ভুঁড়ি ভুঁড়ি ফান্ড পাচ্ছে, তা আমি বলতে পারবো না। নাকি এখানেও মারপ্যাচ আছে। উবার থাকাকালে ভারতে ওলা ফান্ড পেয়েছে, তারপর এর আদলে অনেক স্টারআপ কম বেশি ফান্ড পেয়েছে। অন্যদের মতন ইউটিউব চ্যানেল , ফেইসবুক গ্রুপ খোলার মতন এই ধরনের একটা স্টার্ট আপনিও আপ বানান। আপনিও ফান্ড পাবেন। আপনার জন্য অগ্রিম শুভকামনা।
এখানেও অনেকে বিরোধিতা করতেই পারে, ফেইসবুকের মতন অনেক সোশিয়াল সাইট আছে, টুইটার, উইচ্যাট , কোরা তারা অনেক ফান্ড পাচ্ছে। তাহলে আপনি পাচ্ছে না কেন? সমস্যাটা কোথায়? নাকি ফান্ড এর ব্যাপারটা একটা গোষ্ঠীর জন্য নাকি কোন সিস্টেম বা ক্যাতাগরির জন্য? সেটা পরিষ্কার করে জানালেই হয়। এভাবে অনলাইন হাজার হাজার মানুষ দিনের পর পড়ে যাবে , চেষ্টা করে যাবে, কিন্তু কোথা থেকে শপ আপ ফান্ড পাবে, বড় বড় হাই প্রফাইলের লোকজন ফান্ড পাবে, সাকসেস স্টোরি হবে। আপনার মতন সাধারন মানুষ কেন সাকসেস হতে পারে । ধোঁয়াশার মধ্যে দিনের পর দিনে বছরের পর বছর হাতড়িয়ে যেতে হবে? আমি বলবো তা আমি জানি না।
তার চেয়ে মনে হয় পুকুর থেকে মাছ তুলে বাজারে বিক্রি করাটা অনেক সোজা মনে হয়। এমাজন অনলাইন শপ এর চেয়ে বেটার কিছু করছে না। কেউ নাচ গান শিখছে, কেউ স্টার হচ্ছে, আর নয়তো টিউশনি করে দুই বেলা বাচাদের শিখাতে পারছে। যেমন, নোবেল এখন স্টার।
আরেহ বাবা, স্টার্ট আপ শিক্ষিতদের জায়গা। আমার মতন অশিক্ষিতদের জায়গা না। হতে পারে, যেমন, আমার সফটওয়্যার ফার্ম নাই, কোডিং নলেজ নাই, মহাকাশ রকেট স্টার্ট আপ স্প্যাস এক্স , টেসলা, ডাটাবেইজড স্টার্ট আপ এর মতন অতো নলেজ নাই।
তাহলে আমার মতন লোকদের জায়গা কোথায়? ইউটিউব একাউন্ট খোলা শিখতে পারছি , একাউন্ট খুলে ফেলছি , ফেইসবুক গ্রুপ খুলে ফেলছি, কিন্তু স্টার্ট আপ শিখে স্টার্ট আপ করতে পারি না কেন ? সময় যাচ্ছে , শ্রম যাচ্ছে। কিন্তু যারা স্টার্ট আপ শিখাচ্ছে, তারা ঠিকই ফান্ড পাচ্ছে। নানা জায়গা সেলিব্রেট হচ্চছে , আমি আপনি হতে পারছি না। কেন, আপনি যখন অন্যদের মতন ক্লাস ৯-১০ পাশ করেছেন, তাহলে স্টার্ট আপ পারবেন না কেন?
হুম্, সরাসরি বলতেই পারেন, দক্ষতা নাই। তাহলে কি শিখছি, আমি বলবো আমি জানি না। ফান্ডিং বিষয়ে কিছুদিন আগে একটা ভিডিও দেখলাম , উনারা নাকি সফটওয়্যার ক্লোন হলে বা বড় কোন কোম্পানি সহজে বানিয়ে ফেললে তারা ফান্ড দেয় না। ওকে !! তাহলে মাইক্রোসফটেরও ফান্ড পাবার কথা না। এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে , ভারত, পাকিস্তান, এশিয়ার সবাই ক্লোন বা ক্রাক সফটওয়্যার ইউজ করে গেলাম।
সবকিছু বন্ধ করে যদি কেউ এভাবে স্টার্ট আপ শিখতে আসে, হয়তো ভাতে মরতে হবে। সারা দিন রাত ধরে স্টার্ট আপ শিখলেন , তারপর বলবে, আপনার যোগ্যতা কোথায়? সারাদিন রামায়ন শুনায়, তারপর বলে সীতা কার বাপ।
আমি কাউকে নিরুৎসাহিত করার জন্য লেখাটা লিখছি না। আমি চাই, আরও অনেক উদ্দ্যেক্তা হোক, ফান্ডিং ব্যাপারটা আরও স্পষ্ট হোক, সবার ক্যারিয়ারের পথ চলাটা আরও মসৃন হোক। কারণ, সরকার সহ অনেক মহলেই চাচ্ছে, ঘরে ঘরে উদ্দেক্তা হোক। আশা করি , ব্যাপারটা বিনোদন এর মতন ছেলে খেলা বা ওয়ান টু এর মতন কিছু হবে না। পৃথিবীকে উপহার দেবার মতন লাইফচেইঞ্জিং কিছু একটা হবে। সাধারন পর্যায়ে রিসার্চ এর জায়গাটা আরও বাড়ুক , ইনোভেশনে সাধারন মানুষের সম্প্ররক্ততা বাড়ুক। অন্তত মানুষের প্রচেষ্টা যাতে ব্যর্থ না যায়।
ধন্যবাদ
~ পার্থ প্রতীম মজুমদার ।
No comments:
Post a Comment