ই- কমার্সে ফটোগ্রাফি বা পণ্যগ্রাফি।

Lipi Sd is with Razib Ahmed 

গতকাল বিকেলে কুমিল্লার ই- কমার্স ইভেন্টটি সত্যিই তথ্যবহুল এবং আনন্দময় ছিল।

ই- কমার্স নিয়ে ধারাবাহিকভাবে লেখার অংশে আজকের লেখার বিষয় হলো ফটোগ্রাফি বা পণ্যগ্রাফি।

আমার পূর্বের একটি পোস্টে উল্লেখ করেছিলাম যে “ ই- কমার্স ব্যবসায় পণ্যের ছবির উপর ৮০% নির্ভর বাকি ২০% কন্টেন্ট এর উপর।”

বলতে পারেন প্রথমে দর্শনধারী পরে গুনবিচারি- এই প্রবাদ বাক্যটা কিন্তু এখানে খাটে। ছবি দেখে আপনার সাইটির পন্য সম্পর্কে যদি ক্রেতা না বুঝে তাহলে কিনবে কি করে?

যেমনঃ একটা ড্রেস ছবি দেখে যদি কোন প্রকার সন্দেহ হলে আপনি বা আমি, আমরা কেউ কিনবো না। যে ড্রেসটার কালার টা জানি কেমন, ডিজাইন ঠিক না, ছবিতে ঠিক মতো দেখতেও পাচ্ছি না।

ছবিতে এতো সুন্দর দেখাছে অর্ডার,করার পর যদি কালারে না মিলে।
এসকল প্রশ্ন একজন ক্রেতার মাথায় আসা স্বাভাবিক যদি না আপনার পন্যের ছবিটি দেখে সন্তুষ্ট না হয়।

এখন কথা হচ্ছে তাহলে করণীয় কি?
অবশ্যই আছে করনীয় আপনার জন্য।

নিম্নে কিছু বিষয় মাথায় রাখলে হয়ে যাবে।

১) পন্যের ছবিটা কোন দিক বা এগেঙ্গল থেকে নিলে ভাল হবে তা দেখে নিন।এক্ষেত্রে আপনি কয়েকটা ডেমোও ছবি তুলে দেখতে পারেন। ছবির এগেঙ্গল ভিওিক ভিন্নতা ছবি কে ফুটিয়ে তোলে বা খারাপ ভাব প্রকাশ করে।

২) পন্যটির ছবি সামনে ও পিছনে উভয় দিক থেকে নিন। বিশেষ করে ড্রেসের ক্ষেত্রে এটা করতে হয়। যেমনঃ আপনি যদি একটি ট্রী শার্ট ক্রয় করেন তাহলে আপনি ক্রেতা হয়ে উভয় পাশটা দেখতে চায়বেন। আর বিক্রেতা হয়ে আপনাকে সেই সুবিধাটা দিতে হবে।

৩) ছবির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্র্যাকউন্ড। আপনাকে পন্যের কালারের সাথে মিলিয়ে ব্যাকউন্ড দিতে হবে। তবে সাদা ব্যাকউন্ড সবচেয়ে ভালো প্রায় সবকিছুতে সুন্দর মিলে যায়৷ তবে আপনি যদি পন্যের সাথে মিল রেখে ব্যাকউন্ড দিতে চান সেটা ও ভাল হবে।তবে বার বার চেক করে নিন। কারন পণ্যের ছবি দেখিয়ে আপনি কিন্তু ব্যবসায় করছেন তা সব সময় মাথায় রাখবেন।

৪) পন্যের ছবিটি এমন হতে হবে আপনার পন্যটির সাথে যেন মিল থাকে। কারন আমাদের দেশে প্রায় অনলাইন ক্রেতার অভিযোগ বাস্তব পন্যটির চেহারার সাথে অনলাইনে ছবির পুরোটায় অমিল। এই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টটি আপনাকে মাথায় রাখতে হবে।

৫) ড্রেস, ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা কুকারিসের জিনিসের একটা আইটেমের অনেক গুলো কালার থাকে। সেক্ষেএে আপনি একটি ছবিতে একটি নিদির্ষ্ট আইটেমের অন্যন্যা কালার গুলো ছোট করে দেখাতে পারেন। যেমনঃ একটি ড্রেস ফুল সেট দেখানোর পর সাথে ছোট করে অন্য কালার গুলো দেখাতে পারেন। এতে কাস্টমার বা আপনার উভয় পক্ষেই জন্য সুবিধা।

৬) আপনি যদি ছবি এডিট করতে চান, তবে অবশ্যই পন্যের ন্যাচারাল লুক যেন ঠিক থাকে।না হলে বিপদে কিন্তু আপনার। কাস্টমার সন্তুষ্টি সবচেয়ে আগে আপনার জন্য।

৭)ব্যাকউন্ড হিসেবে কখনোই চিকচিকে কালার ব্যবহার করবেন না এতে পন্যটার আসল চেহরাটা নাও ফুটে উঠতে পারে। এখানে কালার সম্পর্কে মোটামোটি জ্ঞান থাকা ভাল। তবে না হলে অন্য কারও সাহায্, আপনি নিতে পারেন।

৮) আপনি যে পন্যটি বিক্রয় করতে চান। তা একজন ক্রেতা ঠিক ঠিক ভাবে ব্যবহার,করতে পারবেন তা উল্লেখ করা।যেমনঃ একটি ঝুড়ির ছবির সাথে ফুল বা ফল দিয়ে সহজেই বুঝিয়ে দিতে পারেন।

৯)ইনডোরে সমস্যা হলে আউটডোরে চলে আসুন। একটা ন্যাচারাল ব্যাকউন্ড সহ ছবির লুক কিন্তু অন্য রকম ভাব প্রকাশ পায়।

১০)প্রয়োজন হলে হালকা পন্যের ছবি এডিট করে নিন তবে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত নয়। আবারও বলছি আপনি কিন্তু পন্যের ছবি দিয়ে ই- কমার্সে ব্যবসায়,করবেন।

আশা করছি এই ধাপ গুলো আপনাদের কাজে আসবে।
source -
 ই- কমার্সে ফটোগ্রাফি বা পণ্যগ্রাফি।

No comments:

Post a Comment