স্টার্ট–আপ ফান্ডিং বুক- Jannat Kader Chowdhury & Razib Ahmed

স্টার্ট–আপ ফান্ডিং বুক-
Jannat Kader Chowdhury is with Razib Ahmed

গতকাল রাতে দ্বিতীয় যে ই-বুক টি পড়লাম তার নাম ছিল স্টার্ট–আপ ফান্ডিং বুক। এই ই-বুকটি ২২৬ পৃষ্ঠার যেখানে প্রায় তের টি চাপ্টারেরে মাধ্যমে সবকিছু বিশদ ভাবে আলোচনা করা হয়েছে স্টার্ট–আপ ফান্ডিং নিয়ে। এই ই- বুকটির বিশেষত্ব হল এখানে সব চ্যাপ্টারে বাস্তব স্টার্ট- আপ গুলোকে বিভিন্ন কেইস স্টাডির মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও সেগূলোর সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। সব গুলো চ্যাপ্টার নিয়ে পোস্ট দেওয়ার ইচ্ছা রয়েছে ।

চলুন জানা যাক প্রথম ও দ্বিতীয় চ্যাপ্টারে কী বলা হয়েছে-

চ্যাপ্টার ১
আপনার কি সত্যি ফান্ডিং প্রয়োজনঃ কখন এবং কোথা থেকে আপনি ফান্ড সংগ্রহ করতে পারবেন এটা নির্ভর করে আপনার স্টারট-আপের ধরন অনুযায়ী।আপনাকে সকল ধরনের স্টার্ট- আপ সম্পর্কে এবং ফান্ডিং এর ব্যবহার সম্পর্কে আগে থেকেই জানতে হবে । এখানে তিন ধরনের আলোচনা রয়েছে ।

টাইপ ১- আপনার এক্সটারনাল ফান্ডিং প্রয়োজন নেই!!
কিছু কিছু কোম্পানীর এক্সটারনাল ফান্ডিং এর প্রয়োজন নেই কারন কিছু কিছু স্টার্ট –আপে প্রোডাক্ট দ্রুত লঞ্চ করা যায় এবং তা থেকে রেভিনিউও অর্জন করা যায়।এক্ষেত্রে বিক্রয় এবং মার্কেটিং খরচ ও অল্প হয় কেননা সল্প সময়ের পর এ ধরনের ব্যবসায় বন্ধ করে দিতে হয় তাই বহিরাগত ফান্ডিং এর প্রয়োজন হয় নআ। ধরুন আপনি সিদান্ত নিলেন একটি কনসালটেন্সি ফার্ম শুরু করবেন এ জন্য আপনার এক বা একাধিক কম্পিউটার,অফিস ও ইন্টারনেট কানেকশন ছাড়া তেমন কোন বাড়তি খরচ নেই।সেক্ষেত্রে আপনার আর ফান্ডিং এর প্রয়োজন না ও হতে পারে।

টাইপ ২- আপনার ফান্ড এর প্রয়োজন স্টার্ট- আপকে বৃদ্ধি করার জন্যঃ বেশীরভাগ স্টার্ট- আপ ব্যবসায়ের এক্সটারনাল ফান্ডিং প্রয়োজন যখন কোন নতুন পন্য বা সেবা স্থাপন করতে যায়। ধরুন আপনি ক্যান্সের নতুন প্রতিষেধক আবিষ্কার করবেন সেক্ষেত্রে আপনার ব্যাপক রিসার্চ করতে হবে। তাছাড়া ল্যাব বা প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্ট বা যারা বছরের পর বছর রিসার্চ এক্সপেরিমেন্ট চালিয়ে যাবে সেক্ষেত্রে এক্সটারনাল ফান্ডিং অনেক বেশী প্রয়োজন হয়।

টাইপ ৩- ফান্ডিং ছাড়া স্টার্ট-আপ গ্রোথ করা কষ্টকর- যখন আপনি মিনিমাল ভায়াবল প্রোডাক্ট তৈরি করে ফেলবেন তখন ব্যবসায়ের গ্রোথ বৃদ্ধির জন্য ফান্ডিং এর প্রয়োজন হয়। আর যখনই মানুষ আপনার পন্য কিনতে চাইবে তখন ইনভেস্টরাও আপনার কোম্পানীতে ইনভেস্ট করতে চাইবে। তাই যদি আপনি বেশী করে কাস্টমার ব্যবসায়ে আনতে চান সেজন্য প্রোডাক্ট ডেভেলপমেন্টের জন্য ফান্ডিং দরকার যা অনেক বেশি ইউনিক ও ইউজার ফ্যান্ডলি হতে হবে।

চ্যাপ্টার ২; আপনার স্টার্ট-আপ ব্যবসায়ের রিক্স/ রিওয়ার্ড প্রোফাইল
আপনার স্টার্ট – আপ ব্যবসায়ে ফান্ড পাওয়ার জন্য আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে ইনভেস্টটরা কোন কোন দিকগূলো বিবেচনা করে বিনিয়োগ করে বা তারা কোন দিকে বেশী ফোকাস করে। সেজন্য আপনাকে আপনার ব্যবসায়ের রিক্স ও রিওয়ার্ড প্রোফাইল সম্পর্কে ভালভাবে জানতে হবে যেন সেগূলো ইনভেস্টটরদের সামনে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা যায়।

ইনভেস্টটর মেটিক্সঃ স্টার্ট – আপ ব্যবসায়ের ভিন্ন ভিন্ন লেভেলে রিক্স নিতে হয় এবং সু্যোগ গুলো কে কাজে লাগাতে হয় যদি আপনি স্টার্ট-আপ ব্যবসায়ে সফল হতে চান। কিন্তু রিক্স এবং রিওয়ার্ড একেক ইনভেস্টোররা একেক ভাবে দেখে। আপনি এই রিক্স/ রিওয়ার্ড প্রোফাইল এর মাধ্যমে ইনভেস্টটর মেটিক্স সঠিকভাবে বিশ্লেষণ করতে পারেন। মেটিক্সের একদিকে রিক্স ও অন্য দিকে রিওয়ার্ড রেখে হাই এবং লো রিক্স ও রিওয়ার্ড নির্ণয় করা যায়। এটা হল এমন একটি সহজ পদ্ধতি যা ইনভেস্টটরা কোথাও বিনিয়োগ করার সময় এই মেটিক্সের মাধ্যমে বুঝে যায় তাদের কি ধরনের আউটফুট আসা সম্ভব ।

তাছাড়া আরও যেই ফ্যাক্টরগূলো জানতে হবে এইটি করার সময় তা হলঃ

১) আপনার মার্কেটঃ যেই ইন্ড্রাস্টিতে আপনি রয়েছেন এবং যেই প্রোডাক্ট আপনি তৈরি করবেন তা দেখে রিক্স/ রিওয়ার্ড প্রোফাইল করা যায়। কিছু ইন্ড্রাস্টিতে শুরু থেকেই অনেক বেশী ঝুকি বিদ্যমান থাকে এবং অনেক বেশি রিটার্নও আশা করা যায়। তাই ভিন্ন ভিন্ন ইন্ড্রাস্টি ভিন্ন ভিন্ন ইনভেস্টদের কে আকর্ষণ করে। যেমন- আমদানী-রপ্তানী ব্যবসায়, ই- কমার্স ওয়েবসাইট ইত্যাদি ব্যবসায়ে রিক্স কম থাকে আবার ফারামাসিউটিকাল,সফটওয়্যার বা টেকনোভেইস ব্যবসায়ে রিক্স বেশী থাকে। রিক্স/ রিওয়ার্ড প্রোফাইল শুধুমাত্র আপনি কোন ইন্ড্রাস্টিতে কম্পিটিশন করছেন বা কোথায় পন্য অফার করছেন সেসম্পরকে ধারনা দেয় ।

২) আপনার ব্যবসায়ের মডেলঃ আপনি এই মেটিক্সের মাধ্যমে ভিন্ন ভিন্ন ব্যবসায়ের মডেল স্থাপন করতে পারেন যেগুলো আপনার সাথে ভাল যায় ।এর মানে হল আপনি রিক্স ও রিওয়ার্ড মডেল এর মাধ্যমে বুঝতে পারবেন কোথায় রিক্স কম ও কথায় বেশী সে অনুসারে ব্যবসায় পছন্দ করতে পারবেন এবং সে অনুসারে বিভিন্ন ইনভেস্টরদেরকে আকর্ষণ করতে পারেন যেই ফান্ডটি আপনার জন্য বেশী কার্যকরী হবে।

৩)আপনি এবং আপনার টিমঃ আপনি কে বা আপনার টিমদের উপর ব্যবসায়ের পারসিভ রিক্স বা রিওয়ার্ড অনেকখানি নির্ভর করে। শুধুমাত্র আপনি ভাল ইনভেস্টরদের সাথ কাজ করলেই হবেনা বরং আপনার টিমমেটদের সাথে সুসম্পর্ক রেখে কাজ করতে হবে। একটি ভাল ব্যবসায়ের প্রোপসাল তৈরী করা যায় সুদক্ষ টিমের মাধ্যমে তাই ইনভেস্টটর খোঁজার আগে আপনাকে একটি শক্তশালী টিম স্থাপন করতে হবে কেননা এটি আপনার ব্যবসায়ের দক্ষতা দেখাতে ভাল টিম খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।

৪) আপনার উন্নতি বা ক্রেতা আকর্ষণঃ রিক্স ও রিওয়ার্ডের চূড়ান্ত উপদান হল আপনার ব্যবসায়ের ক্রেতা আকর্ষণ। আপনি কতটুকু উন্নতি করেছেন ক্রেতা আকর্ষণে তা দেখতে পারেন। এইখানে (মার্কেট + ব্যবসায় মডেল+ টিম ) এই তিনটি জিনিস একত্রিত হয়ে আপনার ব্যবাস্যকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। বেশীরভাগ প্রজেক্টের সল্প রিক্স এবং উচ্চ রিওয়ার্ড থাকে যখন তা আইডিয়া স্টেজে থাকে। কিন্তু গবেষনায় দেখা গিয়েছে যে খুব কম স্টার্ট – আপ ব্যবসায় তাদের আইডিয়াকে দীর্ঘস্থায়ী করতে পারে।কেননা ক্রেতার আকর্ষণ বা টেস্ট প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হতে থাকে । তাই মানুষের আকর্ষণ ধরে রাখার জন্য অনেক মার্কেট গবেশনার প্রয়োজন হয় যা রিক্স ও রিওয়ার্ড প্রোফাইলের মাধ্যমে আর ভালভাবে বুঝা যায়।
source
স্টার্ট–আপ ফান্ডিং বুক-

No comments:

Post a Comment