টপিক: মার্কেট সেগমেন্টেশন।
বাংলাদেশ জনবহুল দেশ। সারাদেশে বিভিন্ন পন্যের প্রচুর ক্রেতা রয়েছে যা বলার অপেক্ষা রাখেনা। ব্যবসা করতে চাইলে ব্যবসার শুরুতেই দেশের সব সম্ভাব্য এবং বিদ্যমান ক্রেতাকে স্যাটিসফাই করা সম্ভব না। আবার সবাইকে নিজের পন্যের সম্ভাব্য ক্রেতা ভাবলেও ভুল করা হবে। এজন্য বাজারে পন্য ছাড়ার আগেই সম্ভাব্য ক্রেতার একটা নির্দিষ্ট অংশকে টার্গেট করতে হবে। আজ সারা বিশ্বে যেসকল সফল ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলোর ক্ষেত্রেও কিন্তু একই নিয়ম ফলো করা হয়েছে, প্রথমে একটা নির্দিষ্ট কাস্টমার বেজকে টার্গেট করা হয়েছে।
এই কাস্টমার টার্গেট করার আগের ধাপটি হচ্ছে মার্কেট সেগমেন্টেশন, যা ব্যবসায় কৌশলের অন্যতম একটা অংশ। ব্যবসার শুরুতে মার্কেট রিসার্চ করে নিজের পন্যের জন্য এক বা একাধিক মার্কেট সেগমেন্ট আইডেন্টিফাই করা এবং সে অনুযায়ী প্রোডাকশন এবং মার্কেটিং করা ব্যবসায় সফলতার জন্য খুবই জরুরী।
মার্কেট সেগমেন্টেশন বলতে কি বুঝায়?
মার্কেট সেগমেন্টেশন - শব্দটির বাংলা অর্থ দাঁড়ায় বাজার বিভক্তিকরণ বা বাজারের অংশবিভাজন। সম্পূর্ন বাজারকে একই ধরনের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বিভিন্নভাবে কতগুলো ভাগে বিভক্ত করাই হচ্ছে মার্কেট সেগমেন্টেশন। মার্কেট সেগমেন্ট করলে কোন কোন সেগমেন্ট আপনার ব্যবসার জন্য অ্যাপ্রোপ্রিয়েট তা আপনি বুঝতে পারবেন এবং সে অনুযায়ী প্ল্যানিং করতে পারবেন।
সেগমেন্টেশন সাধারনত দুই ভাগে বিভক্ত। একটা বিজনেস টু কনজিউমার আরেকটি বিজনেস টু বিজনেস।
কনজিউমার সেগমেন্টেশনের ক্ষেত্রে সাধারনত নিচের ৪ টি ভিত্তিতে মার্কেট সেগমেন্টেশন করা হয়:
- জিওগ্রাফিক;
- ডেমোগ্রাফিক;
- বিহেভেরিয়াল;
- সাইকোগ্রাফিক।
জিওগ্রাফিক সেগমেন্টেশনে সম্পূর্ন মার্কেটকে দেশ, শহর, এরিয়া - এভাবে ভাগ করা হয়। আপনার পন্য আপনি কি এরিয়া ভিত্তিতে বিক্রী করবেন না সম্পূর্ন শহর বা দেশের জন্য করবেন সেটা আপনাকে ঠিক করতে হবে, অবশ্যই আপনার রিসোর্সের দিকে খেয়াল রেখে। শুরুর দিকে কাস্টমার বেজ ছোট রাখাটাই কম ঝুঁকিপূর্ন। যেমন - আমাদের এরিয়াতে মেজলী নামে একটি চিপস পাওয়া যায়। এই চিপস আমি আর কোথাও পাইনি। তেমনি অনেক জায়গাতেই লোকালি কিছু ফুড প্রোডাক্ট বিক্রী হয়। যেমন- নুডুলস, চানাচুর, বিস্কুট। এগুলো এরিয়া বেজড বিজনেস। এরিয়া বেজড বিজনেস করতেও আপনাকে মাথা খাটাতে হবে, যেমন আপনি যদি চাইনিজ ফুড বিক্রীর জন্য ফরিদপুরের দামোদরদী গ্রামে চাইনিজ রেষ্টুরেন্ট খুলেন, আপনার যে এক টাকাও সেল হবেনা সে ব্যাপারে আমি কনফার্ম। তার মানে হলো আপনার সিলেক্টেড সেগমেন্টের কাস্টমার সম্পর্কেও আপনাকে খুব ভালো ধারনা নিয়ে ব্যবসা শুরু করতে হবে।
ডেমোগ্রাফিক সেগমেন্টে মার্কেটকে বয়স, পুরুষ মহিলা, ফ্যামিলি সাইজ, আয়, পেশা ইত্যাদির ভিত্তিতে ভাগ করা হয়। যেমন - আপনার পন্য যদি বেবীদের জন্য হয় তাহলে কতজন প্যারেন্টস আপনার সম্ভাব্য ক্রেতা হতে পারে সেটার একটা এসটিমেশন আপনার কাছে থাকতে হবে, নয়তো প্রডাক্ট স্টকে পড়ে পড়ে এক্সপায়ার হবে আর টাকা আটকে থাকবে। পুরুষ মহিলাদের স্পেসিফিক প্রডাক্টেও একই এসটিমেশন থাকতে হবে। আপনার প্রডাক্ট যদি পায়েল হয়, তাহলে আপনাকে শুধু টিনএজা মেয়েদেরকে টার্গেট করতে হবে। আয়ের ক্ষেত্রে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত এভাবে ভাগ করে নিতে হবে। যেমন - কাস্টমারের ক্রয়ক্ষমতা অনুযায়ী বিভিন্ন দামের এবং ডিজাইনের পার্টি কেক বিভিন্ন জায়গায় বিক্রী করা হয়। তবে মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্তের কাস্টমাররা অনেক বেশী প্রাইস সেনসিটিভ হয় সেটা আপনাকে মাথায় রাখতে হবে।
No comments:
Post a Comment