অর্থ সংগ্রহের পক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে ক্রাউডফান্ডিংকে মূলত ৪ ভাগে ভাগ করা হয়েছে ।
১। ডোনেশন বা অনুদান ভিত্তিক ক্রাউড ফান্ডিং
২। রিওয়ার্ড বা অর্থ প্রদানের বিনিময়ে কোন পুরস্কার বা
সুযোগ-সুবিধা প্রদানের ভিত্তিতে
৩। ইকোয়িটি বা ব্যবসার শেয়ার প্রদানের মাধ্যমে এবং
৪। সুদ ভিত্তিক ক্রাউড ফান্ডিং কার্যক্রম ।
১। ডোনেশন বা অনুদান ভিত্তিক ক্রাউড ফান্ডিং কার্যক্রমের মাধ্যমে মুলত সামাজিক কাজগুলোর জন্যে ফান্ড বৃদ্ধি করা হয় । এই পন্থায় দাতা কোন প্রকার সুযোগ সুবিধা গ্রহন করার সুযোগ পান না । শুধুমাত্র একটি ভালকাজে সয়াহতা করার জন্যে তৃপ্তি লাভ ছাড়া । বন্যার্তদের সাহায্য করার জন্যে অনুদান ভিত্তিক ক্রাউড ফান্ডিং কর্যক্রম পরিচালিত হতে পারে । এছাড়া, অসহায় কোন ব্যাক্তির ব্যাক্তিগত আর্থিক উন্নয়নের সাহায্যার্থেও অনুদান দেয়া যেতে পারে । ২০০২ সালে ক্রাউড ফান্ডিং প্লাটফর্ম কাজ শুরু করার ১ বছর আগে ক্যারিন বসন্যাক নামে একজন মহিলা তার ক্রেডিড কার্ডের লোন পরিশোধ করার জন্যে সবার কাছে সাহায্যের আবেদন করেন । এরজন্যে তিনি সেভ ক্যারিন নামে একটি ওয়েবসাইটও চালু করেন । এই আবেদনের মাধ্যমে তিনি ১৩ হাজার ডলার সাহায্য পেয়েছিলেন । এরসাথে আরো ৭ হাজার ডলার যোগ করে তিনি তার ক্রেডিড কার্ডের লোন পরিষোধ করেন । অনেকে ক্যারিন বসন্যাককে ক্রাউড ফান্ডিং এর ১ম উদ্যোক্তা বলে থাকেন ।
২। রিওয়ার্ড ভিত্তিক ক্রাউডফান্ডিং মডেলের মাধ্যমে এখন সবচেয়ে বেশী অর্থ সংগ্রহ করা হয় । মানুষ কোন একটি প্রকল্পে অর্থ প্রদানের বিনিময়ে কিছু সুযোগ সুবিধা চায় । তাছাড়া যখন আপনি আপনার ব্যবসা পরিচালনার জন্যে অর্থ চাইবেন তখন অর্থদাতাকেও কিছু সুযোগ সুবিধা দেয়া উচিত । এই ধারনা থেকেই রিওয়ার্ড ভিত্তিক ক্রাউড ফান্ডিং মডেল কাজ করে । একে জনপ্রিয় করে তুলে বিশ্বের ১ম ক্রাউড ফান্ডিং প্লাটফর্ম আর্টিস্ট শেয়ার । সেখানে একজন শিল্পী যিনি গান করেন তার গানের এ্যালবাম এর মূল্য বাবদ ভক্তদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা সংগ্রহ করেন । সেই টাকা দিয়েই তিনি এ্যালবাম প্রকাশ করার খরচ মেটান এবং এ্যালবাম বের হলে তার সিডি ভক্তদেরকে উপহার হিসেবে দেন । এই একই পদ্ধতিতে বিখ্যাত আই এম সিনেমাটি নির্মিত হয়েছিল । যেখানে সিনেমাটির প্রযোজক ছিলেন সাধারন মানুষ । তারাই এর জন্যে অর্থ দিয়েছিলেন, কেউই এখানে ডোনার নন সবাই ফান্ডার ।
৩। ইকোয়িটি ক্রাউডফান্ডিং মডেল বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় মডেল । এই মডেলটি মুলত বিনিয়োগকারী এবং উদ্যোক্তার মধ্যে সম্পর্কের কাজ করে । এইজন্যে এই মডেলটি ক্রাউড ইনভেস্ট নামেও পরিচিত । এখানে একজন উদ্যোক্তা তার ব্যবসায়িক মডেলটি বিস্তারিত উপস্থাপন করেন । আগ্রহী বিনিয়োগকারী তাতে বিনিয়োগ করার সুযোগ পায় এবং বিনিময়ে তিনি ঐ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার গ্রহন করেন । ফলে প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করে যা লাভ করবে বিনিয়োগকারী তার শেয়ার অনুপাতে লভাংশ গ্রহন করবেন । এই মডেল অনুসারে এখানে কেউ ডোনার বা ফান্ডার নন সবাই বিনিয়োগকারী । ব্যবসা বানিজ্যে বিনিয়োগের এটি একটা বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ধরা হয় যা ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে আলাদা । ব্যাংক ও ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্মগুলো যেখানে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হয় না সেখানে উদ্যোক্তা তার ব্যবসার জন্যে ক্রাউড ফান্ডিং এর এই মডেলটি অনুশরন করে বিনিয়োগ সংগ্রহ করতে পারেন । তবে এখানে একজন বিনিয়োগকারী ঠিক কত পরিমান বিনিয়োগ করতে পারবেন তা দেশ ভেদে নির্দিষ্ট করে দেয়া থাকে । আমারিকাতে কোন একজনের বাৎসরিক আয় যদি ১লক্ষ ডলারের কম হয় তাহলে তিনি বছরে সর্বোচ্চ ১০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করতে পারেন । প্রোফাউন্ডার ২০১০ সালে প্রথম ইকোয়িটি ক্রাউড ফান্ডিং মডেল নিয়ে কাজ করে । ২০১২ সালে আমারিকাতে এর জন্যে একটি খসরা নীতিমালা তৈরি করা হয় যা এ বছরের মার্চ মাসে চূড়ান্ত হয় ।
৪। সুদ ভিত্তিক ক্রাউডফান্ডিং হচ্ছে যেখানে অর্থদাতা তার আর্থ প্রদানের মাধ্যমে নির্দিষ্ট হারে সুদ গ্রহণ করে থাকেন । সাধারনত কোন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এইভাবে অর্থ সংগ্রহ করে থাকে । এছাড়া একজন ব্যাক্তি তার ব্যাক্তিগত লোন হিসেবে এই মডেল অনুযায়ী অর্থ সংগ্রহ করার সুযোগ পান ।
No comments:
Post a Comment