ব্যবসা শুরুর বিভিন্ন ধাপগুলি নিয়ে আলোচনা

Razin Ahmed > Digital Skills for Bangladesh

আড্ডা পোস্ট ৩১ মে ২০২০।

বিষয়ঃ ব্যবসা শুরুর বিভিন্ন ধাপ বা প্রক্রিয়া গুলি নিয়ে আলোচনা করুন।

আড্ডা পোস্টে সবাইকে শুভেচ্ছা ও স্বাগতম।

 — with Razib Ahmed and 2 others.

May 31 at 9:55 PM · 


Rashedul Momine

আসসালামু আলাইকুম। 
আমি আমার উদ্যোক্তা হবার পিছনে কিছু কথা বলতে চাই। ২০০৮ এর দিকে আমি যখন ভার্সিটিতে পড়ি তখন একটা সরকারী চাকুরী করার সুযোগ আসে।কিন্তু আমি তা ধরতে পারি নাই। বাবা অনেক ঝারি ও বকা দিলেন মানে বাসা থেকে বের করে দেওয়ার উপক্রম। তখন ই আমি মনস্থির করি যে পড়াশোনা শেষ করে যেভাবেই হোক কিছু একটা করবো তাও নিজে। যেহেতু কম্পিউটার সাইন্সে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শেষে বিএসসি শুরু করেছি তাই নিজের প্রতি একটা কনফিডেন্স কাজ করতেছিলো যে কম্পিউটার সাব্জেক্ট। আর বুক ভরা আশা যে আর কিছু না পারলেও নিজে কম্পিউটার ট্র‍্যাকে কিছু একটা করবো। কিন্তু ২০১০ এ আমার মা ব্রেইন স্ট্রোক করাতে আমার জীবন ধারা পাল্টে গেলো। আর আমাদের একটা ডেইরি ফার্ম ছিলো যা নরসিংদীর মধ্যে সেরা ফার্ম হিসাবে কয়েকবার নির্বাচিত হয়েছিলো। সেই ফার্মে হয়েছিলো ডাকাতি আর প্রায় ৩০ লক্ষ টাকার ক্ষয় ক্ষতি আর মা এর চিকিৎসায় অনেক খরচ কারন মা তখন প্রায় ১ মাস আইসিইউ তে ছিলেন অনেক টাকা আর কিছু ধার দেনা করে আল্লাহর অশেষ রহমতে মা বেচে যান। কিন্তু এই অবস্থায় পড়াশোনা শেষ হবার পথে আমি কিন্তু তখন বাবার সাপোর্টে একটা ছোট ব্যাবসা চালু করি। সেটা হলো আমার এলাকায় স্কুল পাড়া আছে সেখানে একটা ছেলে দিয়ে একটা ফটোকপির দোকান শুরু করি তাও আবার ইঞ্জিনিয়ার হয়ে কি লজ্জা তাই না??? আমার ফ্রেন্ড সার্কেল ও আত্মীয় স্বজনরা উল্টা পাল্টা কথা শুনালো। আমি থেমে নেই। আল্লাহর অশেষ রহমতে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং শেষে একটা আইটি ফার্ম করার সপ্ন দেখি আর ফটোকপির মেশিন চালাই। ২০১০ এর শেষের দিকে আমি ফটোকপি ওয়ালা তিন বন্ধুর সাথে মিলে একটা ট্রেড লাইসেন্স করে বাকি সব কিছু ঠিক ঠাক করে শুরু করি সপ্নের আইটি ফার্ম। আলহামদুলিল্লাহ। 
পরিশেষে বলবো আমি যেটাইতে এক্সপার্ট সেইটাতে কিন্তু আমার ফোকাস ছিলো তাই সময় নিয়ে লেগে ছিলাম আর পেরেছিও এখন আল্লাহর রহমতে কাজ করে যাচ্ছি আইটি নিয়ে। আলহামদুলিল্লাহ অনেক ক্লাইন্ট আছে বিশেষ করে নিরসিংদী সদর এ আমি সফটওয়্যার ও ওয়েভসাইট মিলিয়ে আমার ক্লাইন্ট এর সংখ্যা প্রায় ১০০। এতে কিছু হসপিটাল, স্কুল কলেজ, সুপারশপ, কাপড়ের দোকান, ডাইং ও আছে। 
তাই নিজে যেটাতে পারফেক্ট সেটা নিয়ে কাজ শুরু করুন অন্যের টা দেখে না নিজের দক্ষতার উপর জোর দিয়ে দেখেন। 😁


Abida Sultana Irin

প্রতি বছরই ব্যবসায় মার্কেটিং করার ক্ষেত্রে ভিন্নতা আনতে হবে। যেমন- লাক্স পণ্য একই কিন্তু তারা প্রচারে ভিন্নতা এনেছে, পণ্যের মোড়কে ভিন্নতা এনেছে। কিন্তু একসময়ের তুমুল চলমান অ্যারোমেটিক সাবান, কসকো সাবান ভিন্নতার অভাবে হারিয়ে গেছে।


উম্মে খুবাইব

আড্ডা পোস্ট ২০২০,৬,১
টপিকঃব্যাবসা শুরুর প্রথম ধাপ এ কি করোনিয়।

#১ আপনি ব্যাবসা করতে চান তার উদ্দেশ্য টা কি।এটা নিজে নিজে প্রশ্ন করে উত্তর জেনে নিন। আপনার উদ্দেশ্য অনুযায়ী আপনার ব্যাবসার চিন্তা ধারা প্লান সব কিছু এগোবে। সেই উদ্দেশ্যে যদি শয়তানি বা চালাকি মনোভাব চলে আসে ইবলিস এর পক্ষ থেকে তাহলে অবশ্যই দোয়া এস্তেগফার করে মন কে পবীত্র করে নিন। 

#২ আপনি কি ধরনের ব্যাবসা করতে আগ্রহি ও করতে যাচ্ছেন,তা পরিবারের সবার সাথে একবার আলোচনা করে নিন।এটা জরুরি। এতে করে আপনি প্রথম ধাপেই বুঝতে পেরে যাবেন আপনার পরিবার আপনাকে সাপোর্ট করবে নাকি করবে না।
যদি করে তাহলে আলহামদুলিল্লাহ আর যদি না করে,তাহলে জার্নী টা আপনাকে একাই করতে হবে সেই মনোভাব তৈরি হয়ে যাবে।ও আপনার জন্য কাজ টা সহজ হবে কারন কারো হেল্পের আশা করে থাকলে ব্যাবসা এগোবে না। তাই প্রথমেই ক্লিয়ার হয়ে নেয়া ভালো।

#৩ আপনি কি পণ্য নিয়ে কাজ করতে চান,পায়ে হেটে সেটার সোর্স খোঁজার আগে একটু ইন্টারনেট এ ঘাটাঘাটি করে জেনে নিলে খুব কাজে দিবে।আর সোর্স কোথায় কিভাবে পাবেন অনেকেই এই নিয়ে চিন্তিত থাকেন,তবে নেটে বা ইউটিউব এ বিভিন্ন ভ্লগ থেকে তা আইডিয়া নিতে পারেন এখেত্রে কারো কাছে ধর্না দিয়ে বসে থাকতে হবে না কাউকে বিরক্তও করা লাগবে না৷ নিজে প্রথমে আইডিয়া নিন তারপর বেড়িয়ে পরুন সোর্স এর জন্য।

#৪ আপনার পণ্য যদি কাপর হয় তাহলে নিজে আগে তা ব্যাবহার করুন,যাচাই করুন সেটা কতো টা মান সম্মত,আপনার পণ্য যদি খাবার হয় তাহলে নিজে আগে খেয়ে দেখুন সেটা কতো টা ভালো ও খাঁটি যাচাই করুন। নিজের জন্য যেটা ভালো মনে করেন অবশ্যই সেটা আপনার ব্যাবসার জন্য সেটাকেই বেছে নিবেন তাতে করে আপনার আত্মবিশ্বাস টা আরো বেড়ে যাবে।ও আপনি ইনশাআল্লাহ আল্লাহর রহমতে বেষ্টিত হয়ে যাবেন।

#৫ ব্যাবসায়ীক চিন্তা ভাবনা দৌড়-ঝাপ করার সময় লক্ষ রাখতে হবে যাতে আপনার দৈনন্দিন ইবাদতে যেনো কমতি না পরে যায়,কারন যদি আপনার প্রভুকে নারাজ করেন তাহলে আপনার ব্যাবসায় কখনো সুফল আসবে না।
#৬ পণ্যের ভালো ও মন্দ দুই দিক টাই মানুষ কে জানাতে হবে।তাহলে মানুষের কনফিউশান দুর হবার সাথে সাথে আপনার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন হবে।

#৭ পণ্যের ছবি কি করে তুলতে হয়,কিভাবে কোন এঙ্গেলে ছবি তুল্লে পণ্য পরিস্কার বোঝা যায়,উচু নিচু ভাব, ডিজাইন সব যাতে বোঝা যায়,রং যাতে বোঝা যায় সেসব কৌশল ইউটিউব দেখে অথবা ব্রাউজিং করে শিখে নিন এতে করে প্রথম থেকেই আপনার পণ্যের ঝলকানি সবার মন কেড়ে নিবে।

#৮ ডেলিভারী সিস্টেম সম্পর্কে আগে থেকেই যদি জেনে নিতে পারেন তাহলে সবচে বেস্ট হয়।যেমন কতো কেজি তে কতো টাকা চার্জ আসে।হোম ডেলিভারি হয় কিনা কতো চার্জ ইত্যাদী। তাহলে পণ্যের দাম নির্ধারন করতে ও কাস্টোমারকে আস্বস্ত করতে কোনো রকম পেইন এ পরতে হবে না।

#৯ অবশ্যই অবশ্যই নিজের চরীত্র,আচরন কে সুন্দর থেকে আরো বেশি সুন্দর করার চেষ্টা কখনো থামানো যাবে না। কারন অনলাইন বিজনেস এ সফল হতে চাইলে অবশ্যই আপনার ব্যাবহার কে সুন্দর করতে হবে। আপনার ব্যাবহার যতো সুন্দর হবে ততো দ্রুত এগোতে পারবেন আপনি।

#১০ বিজনেস পেইজের পাশাপাশি অবশ্যই আপনার বিজনেস হোস্টিং এবং ডোমেইন কিনে ফেলবেন এতে করে আপনার বিজনেস অনেক সহজ হয়ে যাবে।অর্ডার হিসেব করা কালেক্ট করা,পেমেন্ট নেয়া এগুলো সব সহজ হয়ে যাবে।
যদি ডোমেইন হোস্টিং কি জিনিশ না বোঝেন তাহলে গ্রুপে সার্চ করে ডোমেইন হোস্টিং সম্পর্কিত পোস্ট গুলো পড়বেন।

#১১ আপনার পণ্য নিয়ে প্রতিদিন লেখা লিখি করতে হবে।গল্পের মতো করে সবার কাছে তুলে ধরুন আপনার পণ্য কে।


Biplob Kishore Deb

কমেন্ট-১ 
আজকের আড্ডার বিষয়বস্তুর পরিধি বিশাল। তবে সংক্ষেপে বলতে গেলে একজন ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তাকে ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে সার্বিকভাবে নিম্নোক্ত ধাপগুলো অনুসরণ করতে হয় (এখানে ব্যবসা বলতে আমি ই-কমার্স বা অনলাইন ব্যবসা বোঝাচ্ছি)ঃ 
১। মানসিক প্রস্তুতিঃ 
মানসিক প্রস্তুতি’র বিষয়টিকে অনেক সময়ই সেভাবে গুরুত্ব দেয়া হয় না। কিন্তু মানসিকভাবে প্রস্তুত না হয়ে ব্যবসা শুরু করার অর্থ হলো পুকুরে সাঁতার কাটা শিখে তার পরদিনই সমুদ্রে সার্ফিং করতে যাওয়ার মতো। মানসিক প্রস্তুতি’র মধ্যে অনেকগুলো বিষয় জড়িত। এই পর্যায়ে প্রথমে নিজেকে জিজ্ঞেস করতে হবে, ‘আমি কেন ব্যবসায়ী বা উদ্যোক্তা হতে চাচ্ছি?’ সেটা কি এই জন্যে যে, আমার কোন এক বন্ধু বা আত্মীয় ব্যবসা করে অনেক অর্থ উপার্জন করেছে; নাকি আমার পরিবার-আত্মীয়-বন্ধুদের মধ্যে কেউ মূলধন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তাই আমাকে ব্যবসা করতে হবে? এখানে মনে রাখা দরকার যে ব্যবসাতে লাভ যেমন হয়, তেমনি লসও হয়। ব্যবসা মানেই হলো ঝুঁকি, সেটা কোথাও কম-বেশি হতে পারে, কিন্তু ঝুঁকি একেবারে নেই এমনটা হতে পারে না। তাই কখনও প্রতিকূল পরিবেশের সম্মুখীন হলে দৃঢ়তার সাথে ধৈর্যসহকারে টিকে থাকার মনোবল আছে কিনা সে ব্যাপারে আগে নিজেকে নিশ্চিত হতে হবে। 
গত পরশু রাতের রেডিও ধ্বনি’র অনুষ্ঠানে রাজিব স্যার উদ্যোক্তাদের পরামর্শ দিতে গিয়ে যে তিনটি বিষয়ের উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে দুটি হলো ‘উদ্যোক্তা হবার ইচ্ছে বা আগ্রহ’ এবং ‘ধৈর্য ধরে টিকে থাকা’। তাই মানসিক প্রস্তুতি নেয়ার অংশ হিসেবে উদ্যোক্তাকে অবশ্যই জানতে হবে ব্যবসা করার তার নিজের আগ্রহ বা ইচ্ছে আছে কিনা, ব্যবসায় সফল হবার জন্য প্রয়োজনীয় পরিশ্রম করার মানসিকতা আছে কিনা এবং প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকার জন্য যথেষ্ট ধৈর্য ও মনোবল সম্পর্কেও উদ্যোক্তাকে নিশ্চিত হতে হবে। আর এই আগ্রহ থাকা-না থাকার সাথেই জড়িত উদ্যোক্তা কি ধরণের পণ্য বা সেবা নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন এই প্রশ্নটি। কারন উদ্যোক্তার ব্যক্তিগত আগ্রহ নেই এমন কোন পণ্য বা সেবা নিয়ে বেশিদূর এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। 


Biplob Kishore Deb

কমেন্ট-২
২। জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা অর্জনঃ
যেকোনো ব্যবসার ক্ষেত্রেই জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার কোন বিকল্প নেই। আর অনলাইন ব্যবসা বা ই-কমার্সের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব আরো বেশি, কারন এখানে পণ্য বা সেবা-সংক্রান্ত জ্ঞান ও দক্ষতার পাশাপাশি প্রয়োজন অনলাইন প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা। উদ্যোক্তা যে পণ্য নিয়ে কাজ করতে ইচ্ছুক সেটা সম্পর্কে তাকে খুঁটিনাটি সকল বিষয় ভালোভাবে জানতে হবে, বুঝতে হবে, শিখতে হবে। আর এই জ্ঞান অর্জনের জন্য চাই নিয়মিত পড়ার অভ্যাস, সেটা বই ও অনলাইন দুটোই হতে পারে। স্যার সেজন্যই সব সময় উদ্যোক্তাদের নিয়মিত পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে বলেন এবং ইন্টারনেটে সার্চ করে নির্দিষ্ট কোন তথ্য খুঁজে বের করার দক্ষতা অর্জন করতে বলেন। পাশাপাশি ই-কমার্স যেহেতু প্রযুক্তি নির্ভর তাই একজন উদ্যোক্তার কম্পিউটার-ইন্টারনেটের বেসিক জ্ঞান থাকার কোন বিকল্প নেই। তাই ওয়েবসাইট তৈরি তথা ডোমেইন হোস্টিং, ফেইসবুক পেইজসহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার, ব্লগিং, লেখালেখি, বাংলা ও ইংরেজি দু’ভাষাতেই টাইপ করার দক্ষতা ইত্যাদি বিষয়গুলো জানতে হবে, শিখতে হবে। 
জ্ঞান অর্জনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পণ্য সম্পর্কে হাতে-কলমে জানা বা শেখা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন। এখানেই পণ্যের সোর্সিংয়ের বিষয়টি এসে যায়। উদ্যোক্তা যে পণ্য নিয়ে ব্যবসা করতে যাচ্ছেন তার দাম-চাহিদা-যোগান-বাজার সম্ভাবনা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে জানতে হলে যেখানে পণ্যটির উৎপাদন হয় বা যেখানে এটি বিক্রি হয় সেখানে নিয়মিত যেতে হবে এবং পণ্যটির উৎপাদন থেকে শুরু করে বিপনন পর্যন্ত প্রতিটি বিষয়ে যতটা সম্ভব তথ্য সংগ্রহ করতে হবে, জ্ঞান অর্জন করতে হবে। কারন এই বাস্তব অভিজ্ঞতা-নির্ভরতথ্য ও জ্ঞানের ভিত্তিতেই একজন উদ্যোক্তাকে তার ব্যবসায়ের পরিকল্পনা সাজাতে হবে।
পণ্য ও প্রযুক্তি সম্পর্কে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পাশপাশি ব্যবসা শুরু করার জন্য আরো কিছু বিষয়াদি সম্পর্কে জানা জরুরি। যেমনঃ ট্রেড লাইসেন্স তৈরি, ব্যাংকিং সংক্রান্ত বিষয়, হিসাবরক্ষন, আয়করসহ উক্ত ব্যবসায়ের আইনগত বিভিন্ন দিক সম্পর্কে ভালোভাবে জানা একজন উদ্যোক্তার অত্যাবশ্যকীয় কাজ। 
৩। সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাঃ 
বলা হয়ে থাকে যে, কোন কাজের সুন্দর একটি পরিকল্পনা তৈরি করার অর্থ হল কাজটি’র অর্ধেক সম্পন্ন করা। ব্যবসার ক্ষেত্রেও তা সমানভাবে প্রযোজ্য। ইতিমধ্যে উদ্যোক্তা যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন সেটাকে কাজে লাগিয়ে ব্যবসার সার্বিক একটি পরিকল্পনা তৈরি করবেন। এই পর্যায়ে প্রারম্ভিক মূলধন বা বিনিয়োগ এবং অর্থ সংস্থানের মতো বিষয়গুলোকে বিবেচনায় এনে সার্বিক একটি বাজেট তৈরি করা হবে। পাশপাশি মার্কেটিং, প্রোমোশন, ব্র্যান্ডিং, প্রাইসিং এবং ব্যবসায়ের লক্ষ্যমাত্রা- এই সবগুলো বিষয়ই পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
অর্থাৎ ব্যবসায়ের পরিকল্পনার মধ্যে পণ্য উৎপাদন বা সংগ্রহ থেকে শুরু করে কাঙ্ক্ষিত ভোক্তার হাতে তা পৌঁছনো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপের উল্লেখ থাকবে। পাশাপাশি এই পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জসমূহ এবং এর জন্য করণীয় বিষয়গুলো সম্পর্কেও উদ্যোক্তার সুনির্দিষ্ট ধারণা থাকতে হবে। পরিকল্পনার এই ধাপে প্ল্যান ‘এ’ যেমন সাজাতে হবে, তেমনি পরিবর্তিত পরিস্থিতি বা প্রতিকূল পরিবেশের কথা বিবেচনায় এনে উদ্যোক্তাকে প্ল্যান ‘বি’ নিয়েও ভাবতে হবে, প্রস্তুত রাখতে হবে।


Biplob Kishore Deb

কমেন্ট-৩ 
৪। পরিকল্পনার বাস্তবায়নঃ 
এই পর্যায়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী উদ্যোক্তা ধাপে ধাপে কাজ শুরু করবেন। তবে পরিকল্পনা করা আর সেটার বাস্তবায়ন- এই দুটো কিন্তু এক বিষয় নয়। অনাকাঙ্ক্ষিত কোন বাঁধা বা সমস্যার সম্মুখীন হয়ে উদ্যোক্তাকে কখনও কখনও বাস্তবতার নিরিখে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে। তবে মাঝপথে পরিকল্পনায় বড় ধরণের কোন পরিবর্তন অতীব জরুরি না হলে না আনাই শ্রেয়, আর সেজন্যই পণ্য ও পণ্যের বাজার সম্পর্কে ভালোভাবে জ্ঞান অর্জনের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য ও জ্ঞান অর্জন যতটা ভালো হবে, পরিকল্পনা তৈরির কাজটিও ততটাই বাস্তবসম্মত হবে, ফলপ্রসূ হবে। আর তখন অনাকাঙ্ক্ষিত কোন চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে যাওয়া বা মোকাবেলা করা অনেক বেশি সহজ হবে। 
পরিশেষে, একজন উদ্যোক্তাকে মনে রাখতে হবে যে, ব্যবসা সম্পর্কিত জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের বিষয়টি কিন্তু একটি নির্দিস্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। সারা বিশ্বেই ব্যবসা, ব্যবসায়ের ধরণ, ব্যবসায়ে প্রযুক্তি’র ব্যবহার ইত্যাদি’তে প্রতিনিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে, পুরাতন ট্রেন্ড বদলে নতুন ট্রেন্ড আসছে। তাই একজন উদ্যোক্তাকে অবশ্যই নিয়মিত পড়াশোনা করার মাধ্যমে নিজেকে আপডেটেড রাখতে হবে এই সব বিষয় সম্পর্কে। নিজের কাজকে কি করে পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া যায় তার জন্য নিরন্তর চেস্টা করে যেতে হবে। বাজারে প্রতিযোগীতা আছে, থাকবেও। তাই ভালোভাবে টিকে থাকতে হলে উদ্যোক্তার মধ্যে সব সময় নিজেকে ছাড়িয়ে যাবার সংকল্প থাকতে হবে, আর তার জন্য নিয়মিত পড়াশোনা করে নিজের জ্ঞানের পরিধিকে যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি নিজের সৃষ্টিশীলতার বিকাশের মাধ্যমে নিজের কাজকে আরো উন্নত করতে হবে, প্রয়োজন অনুযায়ী ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।
শুরু করেছিলাম মানসিক প্রস্তুতি দিয়ে, শেষটাও হোক সেভাবে। জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের মতোই মানসিক প্রস্তুতিও একটি চলমান প্রক্রিয়া। ব্যবসায় উত্থান-পতন থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। আর সেজন্যই উদ্যোক্তাকে যেকোনো পরিস্থিতি’তে নিজেকে নিজের অনুপ্রাণিত করতে জানতে হবে, সব সময় ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে চলতে হবে, নিজের মধ্যে ভালো কিছু করার আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে হবে এবং সর্বোপরি কখনোই নিজের মধ্যে ধৈর্য, মনোবল ও মানসিক দৃঢ়তার মতো বিষয়গুলোর অভাব হতে দেয়া চলবে না। একজন উদ্যোক্তার জন্য অনুপ্রেরণার তীব্রতার চেয়ে, অনুপ্রেরণার স্থায়ীত্ব অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ও আকাঙ্ক্ষিত। 
সবাইকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।


Md. Rabiul Islam

এক. 
ব্যবসার সিগনেচার প্রডাক্ট বা সেবা কি হবে সেটা আগে ঠিক করতে হবে। 

দুই.
পণ্যের সোর্সিং সম্পর্কে জানতে হবে এবং বাজার গবেষণা করতে হবে 

তিন.
প্রতিযোগী ব্যবসায়ীদের সম্পর্কে জানতে হবে। 

চার. 

প্রডাক্ট এর বীজ থেকে উপযোগ তৈরি করা সম্পর্কে জানতে আদ্যোপান্ত জানতে হবে।

পাঁচ .
ক্রেতা গবেষণা করতে হবে। ক্রেতার বাসস্থান, সামাজিক মর্যাদা, আর্থিক সামর্থ্য, ক্রয় ক্ষমতা , লাইফস্টাইল সম্পর্কে জানতে হবে। 

ছয়.
নিজের প্রডাক্ট সম্পর্কে নিজের জ্ঞান ক্রেতা সাধারণের সাথে সোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে শেয়ার করার মাধ্যমে ক্রেতাদের আস্থা অর্জন করতে হবে। 

সাত.

ব্যবসার জন্য প্রাসঙ্গিক, সহজবোধ্য, ছোট এবং ইউনিক নাম নির্বাচন করতে হবে। 

আট.
অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করতে হবে এবং ফেসবুকে বিজনেস পেজ খুলতে হবে।
পেজকে যাবতীয় তথ্য দিয়ে পরিপূর্ণ করতে হবে।

নয়.
ট্রেড লাইসেন্স করে নিতে হবে।

দশ. ফেসবুক পেজ পরিচালনা করা এবং পোস্ট লেখার মতো জ্ঞান অর্জন করতে হবে। 

এই দশটি বিষয়ে একেবারে ব্যবসা শুরুর দিকে নিশ্চিত করতে হবে।


Mou Mahjabeen

আজকের আড্ডা বিষয় "ব্যবসা শুরুর আগে বিভিন্ন ধাপ ভা প্রক্রিয়া" আলোচনা -

আমি নিজেকে দিয়েই বলি, তার আগে একটু নিজের ঢোল বাজাই। আমাদের ফ্যামিলি কেউ বিজনেস করতো না। মামা চাচা রা সবাই জব করে। সেখান থেকে বিজনেস করবো আমি কল্পনা ই করা যায় না।
তাও ২০১৭-২০১৮ সাল টা শুধু সময় নিছি, সিদ্ধান্ত নিছি আর ভালো কিছু করার। করতে চেয়েছি নিজের কিছু করার স্বপ্ন নিয়ে কাজ করার জন্য একাই নেমে পড়েছি।
শুরু করার আগে কয়েকটা জিনিস ফলো করার চেষ্টা করছি-
১. কি নিয়ে কাজ করতে চাই সেই প্রোডাক্ট টাকে নির্বাচন করলাম।

২. প্রোডাক্ট এ সোর্সিং টা কোথায় পাবো, সে সম্পর্কে ধারণা নিলাম।

৩. প্রোডাক্ট এ ক্রেতা কারা হবেন বা কি ধরণের প্রোডাক্ট আমি কালেক্ট করবো সেটা ঠিক করে নিলাম। ( যদিও এই কালেকশন এর মাঝে আমার অনেক ভুল হয়েছে, সেটাও ঠিক করে ফেলছি)।

৪. প্রোডাক্ট এ প্রাইজ, সোর্স ইত্যাদি বিজনেস রিলেটেড কোন কিছু কারো সাথেই শেয়ার করা উচিত না।

৫. চেষ্টা করছি আমি যে জিনিস টা নিয়ে কাজ করবো, সেটা নিয়ে ভালো করে জেনে নিয়েছি এবং এখনো আমার প্রোডাক্ট নিয়ে পড়াশোনা করছি। আইডিয়া বাড়বে, কাজের ধরণ পরিবর্তন হবে।

৬. শুরু থেকে কোয়ালিটি সম্পন্ন পণ্য নিয়ে কাজ করেছি। আমি দুটো জিনিস নিয়ে কখনো কম্প্রোমাইজ করি নি, ১. কাস্টমার এ পন্য নিয়ে স্যাটিসফাই, ২. আর পন্য এ কোয়ালিটি আর দাম। আমার প্রোডাক্ট দাম তুলনামূলক ভাবে একটু বেশী। 

৭. যখন বিজনেস শুরু করে ফেলবো বা রানিং হয়ে যাবে, একটা জিনিস মাথায় রাখার চেষ্টা করেছি, প্রোডাক্ট কাস্টমার এ সামনে প্রেজেন্ট করার সময় পণ্য সম্পর্কে যথেষ্ট মানসম্পন্ন তথ্য দিতে হবে। কোন ভূল তথ্য দিয়ে কাস্টমার কে খুশি করানোর চেষ্টা করি নি। আমি যে প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করি সেটাই সবার সামনে তুলে ধরেছি।

আমি ভালো বিজনেস করতে পারি না তবুও এই চলার সময়ে অনেক খারাপ দিক বা বাধা এসেছে সেটা নিয়ে বলবো যারা এখনো বিজনেস শুরু করেন নি বা চিন্তা করছেন শুরু করবেন আপনার কাজের প্রধান বাধা হিসেবে আসবে আপনার কাছে মানুষরাই। তাদের কাছ থেকে সাপোর্ট চায়বেন কিন্তু তারাই আপনাকে ডিমোটিভেটেড করবে। বলবে- তোমার ফিউচার প্ল্যান কি? এসব করে কি তোমার ছোট্ট ছোট চাহিদা গুলো নিজে পূরণ করতে পারবা? এর চেয়ে চাকরী করা টা ভালো না? আবার হাজার হাজার নেতিবাচক কথা। এখন আপনি কি চায়ছেন সেটা আপনার ভেতরের মানুষ জানে। 
যদি আপনার কাজের ইচ্ছা, ধৈর্য্য, পরিশ্রম, সততা এক করে কাজে শুধু মনোনিবেশ আর এক্টিভ থাকেন তবে ইনশাআল্লাহ আপনি আপনার সফলতা নিজের মানুষদের সাথে নিয়ে দেখতে পাবেন।


Ruksana Akter

💦ব্যবসা শুরুর বিভিন্ন ধাপ বা প্রক্রিয়া গুলি নিয়ে আলোচনা💦

👉ব্যবসা করার জন্য প্রথমেই যেটা দরকার তা হচ্ছে মনঃস্থির করা বা লক্ষ্য ঠিক করা । আর দশটা কাজের থেকে ব্যবসা অবশ্যই চ্যালেঞ্জিং বিষয়। এখানে একই পণ্য হাজারো আছে, আছে সেই ভাবে প্রতিযোগিতা ও। মার্টেকপ্লেসে সুবিধা নাও হতে পারে। এসব বিষয় ভালোভাবে চিন্তা ভাবনা করেই মনঃস্থির করতে হবে।

👉 তারপর পণ্য ঠিক করতে। আমি কোন পণ্য নিয়ে কাজ করবো তা নিশ্চিত করতে হবে। এক্ষেত্রে খুবই সতর্কতার সাথে পণ্য নির্বাচন করতে হবে। কেউ একটি পণ্য নিয়ে দারুন ব্যবসা জমিয়েছে তাই আমি সেই পণ্য নিয়ে আনাড়ি হাতে কাজ শুরু করা চরম বোকামি।

👉যে পণ্য নির্বাচন করার পর সেই পণ্য সম্পর্কে সিরিয়াস পড়াশুনা শুরু করতে হবে। জানতে হবে পণ্যের এ টু জেট তথ্য যাতে ক্রেতার সকল প্রশ্নের উত্তর সহজ ভাবেই দেওয়া যায়। এতে ক্রেতার আস্থা বৃদ্ধি পায়।

👉 এখন পণ্য সম্পর্কে ধারনা হয়ে গেলে পণ্যের সোর্সিং নিশ্চিত করতে হবে। কারণ ব্যবসা শুরু করার পরবর্তী কাজ শুরু হয় পণ্যের সোর্স থেকেই। তাই আমি যাতে পর্যাপ্ত পণ্য সরবরাহ করতে পারি সেই জন্যই সোর্স নিশ্চিত করতে হবে সেই সাথে সেখানে যাতে পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা থাকে। পণ্যের গুণগত মান নিয়ে কোনো কম্প্রোমাইজ চলবে না।

👉 পেমেন্ট মাধ্যমে ও ডেলিভারি সার্ভিস নিশ্চিত করতে হবে। আমার পণ্য যাতে ক্রেতার কাছে পৌছতে পারে ঝামেলা ছাড়াই সেটা গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে।

👉নিজেকে মানসিক ভাবে প্রস্তুত রাখতে হবে আশেপাশের এবং সার্বিক পরিবেশের জন্য। একটা কাজ শুরু করলে নানান জনে নানান কথা বলবেই, তাই বলে থেমে যাওয়া যাবে না। কারণ সফল হলে সেই মন্দ কথা বলা মানুষরাই আপনাকে আইডল ভাবতে চাইবে।

সর্বোপরি যেকোনো রকমের পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে হবে নিজের মধ্যে।

একজন নতুন উদ্যোক্তা হিসেবে আমার করণীয় কাজগুলো উল্লেখ করলাম।
Razia Islam Rimi

আড্ডা পোস্ট ৩১-২০২০
টপিকঃব্যবসা শুরুর কয়েকটি ধাপ ও প্রক্রিয়া। 
এক জন উদ্যোগতার ব্যবসা শুরু করতে হলে অনেক গুলো দিক চিন্তা করতে হয়। ব্যবসা শুরু করতে গেলে যে ধাপ গুলোর প্রতি নজর দিতে হবে সেগুলো হলো---
১.সর্ব প্রথম টিক করতে হবে আমি কি নিয়ে কাজ শুরু করবো।২.যেকাজ নিয়ে উদ্যোগ শুরু করবো তার সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করবো। যেমন কোথায় উৎপন্ন হয়,কিবাবে ভালো হয়,কি কি কাজে ব্যবহার হয়,সুবিধা অসুবিধা ইত্যাদি। 
৩.¿তারপর ঐ ব্যবসার জন্য উপযুক্ত পরিকল্পনা করতে হবে। 
৪.পরিকল্পনা অনুযায়ী মূলধনের ব্যবস্থা করতে হবে। 
৫.অফলাইন ব্যবসা হলে একটা ব্যবসাহিক স্থান নির্বাচন করতে হবে দোকান নেওয়ার জন্য। 
৬. অন লাইন ব্যবসা হলে একটা ফেইজবুক পেউজ খুলতে হবে।
৭. ফেইজবুক পেউজের জন্য ওয়েব সাইট কিনতে হবে। 
৮.পেইজের লোগো তৈরি করতে হবে। 
৯.ব্যবসার জন্য রিসিট ও বিজিটিং কার্ড তৈরি করতে হবে। 
১০.টাকা লেন দেনের জন্য ব্যাংক একাউন্ট তৈরি করতে হবে। 
১১.ট্রানজেকশন একাউন্ট- যেমন বিকাশ,রকেট ইত্যাদি খুলতে হবে। 
১২.ট্রেড লাইসেন্স তৈরি করতে হবে। 
১৩.পন্যের সম্ভাব্য বাজার পর্যবেক্ষণ করতে হবে। 
১৪.পন্যের গ্রাহক নির্বাচন করতে হবে।


Priya Naz

*ব্যবসা শুরু করার প্রথম কাজ হলো পরিকল্পনা করা।
*আপনি অনলাইন না অফলাইন ব্যবসা করবেন তার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা।
অনলাইন ব্যবসার জন্য পেজ খোলা,লোগো,ওয়েবসাইট খোলা ও ডোমেইন কেনা।
অফলাইনের জন্য দোকানের জন্য উপযুক্ত জায়গা নির্বাচন করা,বিজনেজ কার্ড,ব্যানার,ট্রেড লাইসেন্স,টিন নাম্বার ও একাউন্ট করা।
*এরপর কিভাবে কাজ করলে ভাল হবে,একা না অংশিদার থাকবে,কতজন কর্মী থাকবে,কিকি সম্পদ ব্যবহার করা হবে তার জন্য সংগঠন করা।
*পন্যের সোর্সিং সম্পর্কে জানা
*প্রচার করা
*ক্রেতার পছন্দ অনুযায়ী পন্য তৈরী করা
*তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনার জন্য অভিঙ্গতা ও দক্ষতার অর্জন করা। সোর্সঃগুগল ,ইউটিউব


Asiful Islam

আসসালামুয়ালাইকুম
অনেকেই প্রশ্ন করেন যে, কোন পণ্য বা কোন সেক্টর নিয়ে ব্যবসা শুরু করবেন? এইখানে ১ম উত্তর হচ্ছে অবশ্যই যেটা আপনি সবচেয়ে ভালো পারেন। সেটা হতে পারে খাদ্য, জামা অন্যান্য।
কিন্তু একটা বিষয় মাথায় রাখতে হবে যে, আপনি যেটা নিয়ে কাজ করবেন সেইটা নিয়ে প্রতিযোগিতা কেমন বা আপনার ক্রেতার দরদাম করার ক্ষমতা এইখানে কতো শক্তিশালী বা আপনার পণ্যের কাঁচামালের সহজলভ্যটা কেমন? এই ব্যপারগুলো মাথায় না রাখলে ব্যবসা শুরুর পরবর্তীতে আপনি ঝামেলায় পড়ে যাবেন।
আর তাই ব্যবসা শুরুর আগে আপনি যেই মার্কেটে ব্যবসা করবেন সেইটা বিশ্লেষণ করা জরুরী। এই বিশ্লেষণ আপনি নিজেকে করা নিচের ৫ টি প্রশ্নের মাধ্যমে খুব সহজেই করতে পারবেন।
প্রশ্ন ১ – আপনার পণ্যের বাজারে নতুন প্রতিযোগী বা ব্যবসায়ীর প্রবেশ করা কতোটা সহজ?
উত্তরঃ যদি প্রবেশ করা সহজ হয় তাহলে যেকোনো সময় যে কেউ এই ব্যবসা শুরু করতে পারে এমনকি আপনিও। এই ক্ষেত্রে ব্যবসাতে টিকে থাকতে হলে আপনাকে নিত্যনতুন ভাবে পণ্যকে উপস্থাপন করতে হবে বা নতুন পণ্য নিয়ে আসতে হবে। তা না হলে অন্য কেও আপনার স্থান দখল করে ফেলবে।

Asiful Islam
Make A Family এর একজন অতি সাধারণ উদ্যোক্তা
কাজ করছি সুন্দরবনের চাকের মধু, কালিজিরা তেল, নারিকেল তেল এবং কাঠের ঘানিতে ভাঙ্গা সর্ষের তেল নিয়ে।


Sharmin Sultana
আড্ডা পোস্ট 
বিষয়ঃ ব্যবসা শুরুর ধাপ ও প্রক্রিয়া। 

আমার ব্যবসা আমার কাছে আমার ছোট বাচ্চার মতোন। যাকে একটু একটু করে গড়ে তুলতে হয়।

ব্যবসা শুরুর প্রথম ধাপ হচ্ছে লক্ষ্য ঠিক করা। যে পণ্য নিয়ে কাজ করবো সেটার সম্পর্কে খুব ভালো জ্ঞান থাকতে হবে।

ব্যবসায় সঠিক পরিকল্পনার উপর সফলতা নির্ভর করে, তাই সবার আগে সঠিক পরিকল্পনা অনেক প্রয়োজন । 

মূলধন ব্যবসার চাবিকাঠি। ব্যবসা পরিচালনা করতে মূলধন লাগবেই। মূলধন ছাড়া ব্যবসা করা সম্ভব না। শুরুতে সব মূলধন দিয়ে পন্য স্টক করা যাবে না।মার্কেট রিসার্চ করে, কাস্টমার ডিমান্ড বুঝতে হবে।

প্রোডাক্ট সোর্সিং ঠিক ভাবে করতে হবে এবং পণ্যের গুনগত মান ভালো হতে হবে।
প্রোডাক্টের সোর্সিং এর রুট লেভেল খুজে বের করতে হবে,তাহলে বিজনেসের প্রফিট ভালো আসবে।

ব্যাবসাতে রিস্ক নিতে হবে। যদি রিস্ক নিতে না পারেন তাহলে বিজনেস সেক্টর আপনার জন্য না।

বিজনেস এ মারকেটিং অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে।আমার যে প্রোডাক্ট সেটার সঠিক অডিয়েন্স টার্গেট করতে হবে।আমার পণ্যের পরিচিতি সবার সামনে সঠিক ভাবে তুলে ধরতে হবে।

এফ কমার্স বিজনেসে প্রোডাক্ট ফটোগ্রাফি খুব গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে।তাই ফটোগ্রাফির উপর বিশেষ নজর দিতে হবে।

সততার সাথে কাজ করতে হবে এবং আত্নবিশ্বাসী হতে হবে।ইনশাআল্লাহ আমি পারবো এরকম দৃড় মনোবল থাকতে হবে। হতাশ হওয়া যাবে না। ধৈর্য ধরে পরিশ্রম করে যেতে হবে।

ই-কমার্স বিজনেস এর জন্য একটা পেইজ বানিয়ে সুন্দর একটা নাম নির্বাচন করতে হবে। ডোমেইন, হোস্টিং, ওয়েবসাইট ইত্যাদির উপর বিশেষ নজর দিতে হবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির কল্যাণে ব্যবসা-বাণিজ্যেঅনেক পরিবর্তন এসেছে।তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সাথে তালে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। 

ব্যবসার মূল উদ্দেশ্য থাকে কম সময়ে এবং কম খরচে পণ্য উৎপাদন বা সংগ্রহ করা।খুব দ্রুত সময়ে তা ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়া। 

আমরা সবাই জানি ""পরিশ্রম সফলতার চাবিকাঠি"" সুতরাং ব্যবসায় সফলতা আনতে কঠোর পরিশ্রমী হতে হবে। পরিশ্রম ছাড়া ব্যবসায় সফলতা আসবে না।

ব্যবসা কে ভালোবাসতে হবে।ক্রেতার সন্তুষ্টি বৃদ্ধি করতে হবে।ব্যবসায় নতুন নতুন আইডিয়ার সৃস্টি করতে হবে। 

উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা যেকোনো পরিস্থিতিতে চমৎকার সমাধান দেয়।বিজনেস এ উপস্থিত বুদ্ধিমত্তা অনেক জরুরী।

ধন্যবাদ সবাইকে
Morsheda Alam Koli

আড্ডা পোস্ট
বিষয়ঃ ব্যবসা শুরুর ধাপ ও প্রক্রিয়া।
# উদ্যােক্তা হওয়ার আগেই ভাবতে হবে আমার মধ্যে বেস্ট কোনটা কি বিষয়ে আমি পারদর্শী।তারপর লক্ষ্য ঠিক করে নিতে হবে ধাপে ধাপে এগোতে হবে।
# পন্যের সোর্স খুজতে হবে এবং বাজার গবেষনা করতে হবে।
# প্রচারেই প্রসার তাই ব্যবসার প্রচারেরর মাধ্যমে প্রসার করতে হবে।
# ব্যবসার জন্য একটি ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।এটি ব্যবসায়ের জন্য একটি জীবন্ত সহায়িকা যেটা গন্তব্যে পৌছাতে সাহায্যে করবে।
# ব্যবসার জন্য টাকা জোগাড় করতে হবে।আমাকে জ্নতে হবে যে ধরনের ব্যবসা পরিকল্পনা করছি তাতে কি পরিমান মুলধন লাগবে।
# ব্যবসার শুরটা পরিবার পরিজন বন্ধু বান্ধব থেকে শুরু করতে হবে।ব্যবসার ক্ষেএে পরিবার যেন পাশে থাকে।
# ব্যবসার জন্য একটি নাম ঠিক করতে হবে। কোম্পানি নিবন্ধন ওয়েবসাইট থেকে নিশ্চিত হতে হবে যে আমার বাছাই করা নামটি ইতি মধ্যে অন্যকোন কম্পানি নিবন্ধন করেছে কিনা।
# ব্যবসা নামের সাথে মিল রেখে একটি ডোমেইন নাম নিবন্ধন করতে হবে।
# সততার সাথে কাজ করতে হবে এবং আত্নবিশ্বাসী হতে হবে।
আমি মোরশেদা আলম কলি আমি কাজ করছি বেবিড্রেস ওক্রফটিং নিয়ে।নতুন উদ্যােক্তা মাএ ২মাস।আমি আমার পণ্যের কোয়ালিটিতে বিশেষ নজড় দিয়েছি।রমজানোর ঈদে যেনারা আমার ড্রেস নিয়েছেন তেনারাই কোরবানী ঈদে রিপিট কাস্টোমার হচ্ছেন, ইতিমধ্যে,কয়েকজনঅর্ডার করেছেন।আমি আমার কাস্টোমারদের বিশ্বাস করেছি নিজ খরচে কুরিয়ার করেছি বলেছি ভালোলাগলে তেনারা নেবেন না লাগলে আমাকে ফেরত পাঠাতে পারবেন।আমার বিকাশে সমস্যা হয়ে যাওয়াতে আমি টাকা নিতে পারছিলাম না তাই তাদের টেনশন ছিল আমার চেয়ে বেশি। গত কাল আমি সবার টাকা নিয়েছি।কাস্টোমার আমাকে কাল একটা কথা বলেছে আপু আপনি বিনয়ী আপনি অনেক দূর যাবেন।আমি মনে করি বিজনেস করতে গেলে কাস্টোমাদের বিশ্বাস করতে হবে এবং বিনয়ী হতে হবে।ধন্যবাদ

No comments:

Post a Comment