দেশীয় পণ্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবার


Kamrul Hasan ▶ ‎Digital Skills for Bangladesh

আড্ডা পোস্ট ১২ জুন ২০২০।

বিষয়ঃ দেশীয় পণ্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবার।

আজকের আড্ডায় সবাইকে শুভেচ্ছা ও স্বাগতম।

 — with Razib Ahmed and 2 others.


Farhena Nourin

আড্ডা পোস্ট ১
বিষয়ঃ- দেশীয় পণ্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবার।

বাঙালি যেমন খেতে ভালোবাসে তেমনি খাওয়াতেও ভালোবাসে। অতিথি পরায়ণে বাঙালি অন্যতম। বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার পরিবেশনের মাধ্যমে বাঙালি অতিথি আপ্যায়ণ করে থাকেন। বৈচিত্রময় বাঙালির অঞ্চলভেদে বিভিন্ন খাবারের জনপ্রিয়তাও আছে অনেক।

যেমনঃ-চট্টগ্রামের মেজবানি মাংস এবং শুটকি।


চট্টগ্রামের খাবারের কথা ভাবলেই সবার প্রথমে শুটকির কোথায় মাথায় আসে, তাই খুব স্বাভাবিক ভাবেই এ অঞ্চলের শুটকি সবথেকে জনপ্রিয় খাবার। চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষেরা শুধু মাত্র শুটকি ব্যবহার করে বিভিন্ন সুস্বাদু খাবার তৈরী করে থাকে। শুটকির আবার নানা পদের রান্না হয়।চট্টগ্রামের শুটকি ভর্তা এখন খেতে শিখেছে সারা দেশের মানুষ।

চট্টগ্রামের মানুষের শাহী খাবার হলো "মেজবানী মাংস"। সেটা হচ্ছে গরুর মাংস। যখন কোনো বিশেষ অনুষ্ঠানে দাওয়াতী মেহমানের জন্য রান্না একটু ভিন্ন রেসিপিতে রান্না করা হয়। এই খাবারের স্বাদও মনে রাখার মতো।চট্টগ্রামবাসী তাদের খাবারের জন্য যতটা না নাম কিনেছেন তারচেয়ে বেশী নাম কিনেছেন নিজেদের আতিথিয়তার জন্য। মেজবানি মাংসে মরিচ ও মসলা সহযোগে রান্না করা ঝাল গোশত। স্বাদের ভিন্নতার জন্য ব্যবহার করা হয় টক দই, নারিকেল বাটা, চিনাবাদাম বাটা সহ নানা রকম মশলা। 

মেজবানি মাংশ দুরকম। একটা হলো মাংশের রেজালা বা মাখো মাখো ঝোল দিয়ে মাংশ রান্না। অন্যটা হলো ছোলার ডাল দিয়ে মাংশ রান্না। দুটোই স্বাদে কাছে টানে এতটাই যে, কখনো কখনো রান্না করা মাংশই শহরে বিক্রি করা হয় কেজিদরে। 
আর মেজবানী যখন খাওয়ায় তখন হাজার লোকের অভাব হয়না দাওয়াতী কিংবা বিনা দাওয়াতী। 

এছাড়াও চট্টগ্রামের অন্যান্য খাবারের মধ্যে রয়েছে 
লইট্টা মাছ, বিভিন্নরকম শুটকি ইত্যাদি।


Mitu Islam

আমার উপজেলা ফরিদগঞ্জ। আর ফরিদগঞ্জ। আর ফরিদগঞ্জ এর বিখ্যাত হলো আউয়াল এর মিস্টি।


Sanjida Akter

রসমঞ্জরী

আপনারা জানেন যে কাল অনলাইনে অডিও আড্ডা হবে।যাতে থাকবে মিষ্টি জাতীয় খাবারের আলোচনা।তাই আজ আমি পরিচিত করাতে আসলাম আমার জেলা গাইবান্ধার রসমঞ্জরীর সাথে।
ঘন লালচে দুধ।জমে যেন ক্ষীর।এর মাঝে ডুবে আছে ছোট ছোট গোল গোল নরম মিষ্টি।বাটি ধরে নাড়া দিলে জমে থাকা ক্ষীর থেকে উঁকি দেয় মিষ্টিগুলো।মুখে দিলেই রসে ভরে যায়।ক্ষীর আর মিষ্টি মিলে জিহবে ছড়িয়ে পড়ে অদ্ভুত এক স্বাদ।
দেশের ভোজনরসিক দের কাছে গাইবান্ধা এখন রসমঞ্জরীর জেলা হিসেবে পরিচিত।রসমঞ্জরীর খ্যাতি দেশ ছাড়িয়ে বিদেশেও ছাড়িয়েছে।দেখতে রসমালাই এর মত হলেও প্রস্তুত প্রনালীর কারনেই এর স্বাদ আলাদা।মিষ্টিতে ব্যবহৃত ঘন রসের স্বাদের জন্য এই মিষ্টির নাম রসমঞ্জরী।

রসমঞ্জরী কোন কারিগর প্রথম তৈরি করেছেন তার নাম জানা না গেলেও এটা জানা যায় এই অঞ্চলের রসমঞ্জরী প্রথম তৈরি করেছিলেন গাইবান্ধা শহরের রমেশ ঘোষের হাত ধরেই।দোকানের স্বত্বাধিকারী এখন রমেশ ঘোষের আত্নীয় বাদল চন্দ্র ঘোষ।দোকানের সঙ্গে যুক্ত আছেন রমেশ ঘোশের স্বজনেরাই।১৯৪৮ সালের জুন মাসে ওডিশার এক কারিগরকে নিয়ে রমেশ ঘোষ শুরু করেন রসমঞ্জরী বানানো।শুরুতে রসমঞ্জরী গুলো লম্বা আকারের বানানো হত।তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আকারের বদল এসেছে।এখন এটি গোল করেই বানানো হয়।


Sanjida Akter

দেশীয় পন্যের সিলেবাস
খাবার সংক্রান্ত পোস্ট-৪

☺সূর্যপুরী আম☺
সূর্যপুরীর সুনাম রয়েছে ঠাকুরগাঁও ছাড়িয়ে পুরো দেশ জুড়ে।চমৎকার স্বাদ আর সুমিষ্ট এবং ছোট আটির আম একবার যার জিভের স্পর্শ পেয়েছে তাকে অবশ্যই আরেকবার এর স্বাদ পেতে ইচ্ছা করবে।
সূর্যপুরী আম নিয়ে কথা বলতে গেলে ঠাকুরগাঁও এর বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারী সীমান্তে মুন্ডুমুলা গ্রামের দুই বিঘা জমিতে দাড়িয়ে থাকা আম গাছটির কথা না বললেই নয়।কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে এশিয়ার সব থেকে বড় আম গাছ এটি।জানা যায় এই গাছটির বয়স ২২৪ বছরেরও বেশি।এই আম গাছ দেখতে দুর দুরান্ত থেকে লোকজনের সমাগম প্রায় প্রতিদিন।এখন এটি দেখার জন্য ১০ টাকা প্রতি প্রবেশ মূল্য নির্ধারন করা হয়েছে।
পুষ্টি গুনে সমৃদ্ধ এ আমে ভিটামিন এ,বি,কপার,পটাশিয়াম,ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালরি সমৃদ্ধ। ঔষধি গুনেও এ আম অনন্য।বিশেষ করে ক্যান্সার প্রতিরোধে,কোলেস্টেরল কমাতে,হজম শক্তি বৃদ্ধিতে ও ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে এবং চর্ম রোগে উপকারী।
তথ্যসুত্র-গুগল
সানজিদা আছি গাইবান্ধা থেকে।রাজীব স্যারের ছোট্ট একজন ছাত্রি।


Asiya Akter Kheya

দেশী পন্যের সিলেবাস এ দেশীয় খাবার একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমাদের বাঙ্গালী দের কে বলা হয় মাছে ভাতে বাঙ্গালী। তাই বুঝায় যাচ্ছে এদেশের মানুষ খাবারের বিষয়ে কতটা শৌখিন। এখানে বিভিন্ন ধরনের মাছ রয়েছে যেমন ইলিশ, রুই, কাতলা, বোয়াল, শিং, কৈ, মাগুর, চিংড়ি, পাবদা, বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছ এছাড়া অনেক মাছ রয়েছে যা বলে শেষ করা সম্ভব না। আবার একেক এলাকায় একেক মাছ বেশি পাওয়া যায়। যেমন চাঁদপুর বিখ্যাত ইলিসের জন্যে। তবে মোটামুটি সব জেলাতেই মাছ পাওয়া যায় কারন এ দেশ হল নদীমাতৃক দেশ। 

এই মাছ থেকে আবার তৈরি হয় মাছের শুটকি। মূলত সামুদ্রিক এলাকায় এই শুটকি বেশি পাওয়া যায় যেমন চট্টগ্রাম বিভাগে। 

কিছু এলাকার বিখ্যাত কিছু খাবার আছে যেমন ঢাকা জেলা: বাকরখানি, বিরিয়ানি
নরসিংদী জেলা: সাগর কলা
ফরিদপুর জেলা: খেজুরের গুঁড়
গোপালগঞ্জ জেলা: রসগোল্লা ও ছানার জিলাপি
মাদারীপুর জেলা: খেজুর গুঁড়, রসগোল্লা
শরীয়তপুর জেলা: বিবিখানা পিঠা
রাজবাড়ী জেলা: চমচম, খেজুরের গুঁড়
গাজীপুর জেলা: কাঁঠাল, পেয়ারা
মানিকগঞ্জ জেলা: খেজুর গুঁড়
মুন্সীগঞ্জ জেলা: ভাগ্যকুলের মিষ্টি
নারায়ণগঞ্জ জেলা: রসমালাই
টাঙ্গাইল জেলা: চমচম
কিশোরগঞ্জ জেলা: বালিশ মিষ্টি
বান্দরবন জেলা: হিল জুস, তামাক
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা: তালের বড়া, ছানামুখী, রসমালাই
চাঁদপুর জেলা: ইলিশ
চট্টগ্রাম জেলা: মেজবান, শুটকি
কুমিল্লা জেলা: রসমালাই
কক্সবাজার জেলা: মিষ্টিপান
ফেনী জেলা: মহিষের দুধের ঘি, খন্ডলের মিষ্টি
খাগড়াছড়ি জেলা: হলুদ
লক্ষীপুর জেলা: সুপারি
নোয়াখালী জেলা: নারকেল নাড়ু, ম্যারা ও খোলাজা পিঠা
রাঙামাটি জেলা: আনারস, কাঁঠাল, কলা
যশোর জেলা: খই, খেজুরের গুঁড়, জামতলার মিষ্টি
খুলনা জেলা: সন্দেশ, নারিকেল, গলদা চিংড়ি
বাগেরহাট জেলা: চিংড়ি, সুপারি
চুয়াডাঙ্গা জেলা: পান, তামাক, ভুট্টা
ঝিনাইদহ জেলা: হরি ও ম্যানেজারের ধান
কুষ্টিয়া জেলা: তিলের খাজা
মাগুরা জেলা: রসমালাই
মেহেরপুর জেলা: মিষ্টি সাবিত্রি ও রসকদম্ব
নড়াইল জেলা: পেড়ো সন্দেশ, খেজুর গুঁড় ও রস
সাতক্ষীরা জেলা: সন্দেশ
সিলেট জেলা: চা, কমলালেবু, সাতকড়ার আচার
হবিগঞ্জ জেলা: চা
সুনামগঞ্জ জেলা: দেশবন্ধুর মিষ্টি
মৌলভীবাজার জেলা: ম্যানেজার স্টোরের রসগোল্লা, খাসিয়া পান
বরগুনা জেলা: চুইয়া পিঠা, চ্যাবা পিঠা, মুইট্টা পিঠা, আল্লান, বিসকি
বরিশাল জেলা: আমড়া
ঝালকাঠি জেলা: আটা
পিরোজপুর জেলা: পেয়ারা, নারিকেল, সুপারি, আমড়া
পটুয়াখালী জেলা: মহিষের দই
ভোলা জেলা: নারিকেল, দই
ময়মনসিংহ জেলা: মুক্তাগাছার মন্ডা
জামালপুর জেলা: ছানার পোলাও ও পায়েস
শেরপুর জেলা: ছানার পায়েস। 
এই খাবার গুলো এদেশের ঐতিহ্য বহন করে


Jharna Akter Nitu

দেশীয় পণ্যের সিলেবাসে আমি একটি বিলুপ্তপ্রায় খাবারের নাম এড করতে চাই, 
নারায়ণগঞ্জের 'পুতা মিষ্টি '
বাংলাদেশের মানুষ অন্য সব কিছুর থেকে মিষ্টি টা বেশী পছন্দ করে, আর এটা আমাদের দেশের প্রচলন ছিল এক সময়, মেহমানদের মিষ্টি দিয়ে আপ্যায়ন করা।
পুতা মিষ্টি দেখতে আনকমন ও সুন্দর বিধায় যে কারো নজর কারবে, তছাড়া বিয়ের দিন সাগরানায় একটা বড় পুতা মিষ্টিও কিন্তু দারুন দেখাবে।
নরমালি পুতা মিষ্টি লাল হলেও আমি চাইছি, উদ্যোক্তা আপুরা এবার নরম কালোজাম করো পুতা মিষ্টি তে।
নারায়নগঞ্জের যারা মিষ্টি নিয়ে কাজ করো তাদের আহ্বান জানালাম।


প্রমিত চৌধুরী

গতকাল পোস্ট দিয়েছিলাম সেটি কমেন্ট দিলাম 

বাংলাদেশের জেলাগুলোর বিখ্যাত খাবারের নামঃ
১। পিরোজপুর - পেয়ারা, ডাব, আমড়া
২। কক্সবাজার - মিষ্টিপান
৩। কিশোরগঞ্জ - বালিশ মিষ্টি, নকশি পিঠা
৪। কুমিল্লা - রসমালাই, খদ্দর (খাদী)
৫। কুষ্টিয়া - তিলের খাজা, কুলফি আইসক্রিম
৬। কুড়িগ্রাম- 
৭। খাগড়াছড়ি - হলুদ
৮। খুলনা - সন্দেশ, নারিকেল, গলদা চিংড়ি
৯। গাইবান্ধা - রসমঞ্জরী
১০। গাজীপুর - কাঁঠাল, পেয়ারা
১১। গোপালগঞ্জ-( জানা নাই) 
১২। চট্রগ্রাম - মেজবান , শুটকি
১৩। চাঁদপুর - ইলিশ
১৪। চাঁপাইনবাবগঞ্জ - আম, শিবগঞ্জে'র চমচম, কলাইয়ের রুটি
১৫। চুয়াডাঙ্গা - পান, ভুট্টা
১৬। জয়পুরহাট-( জানা নাই) 
১৭। জামালপুর - ছানার পোলাও, ছানার পায়েস
১৮। ঝালকাঠী - লবন, আটা
১৯। ঝিনাইদাহ - হরি ও ম্যানেজারের ধান
২০। টাঙ্গাইল - চমচম
২১। ঠাকুরগাঁও - সূর্য্যপুরী আম
২২। দিনাজপুর - লিচু, পাপড়, চিড়া, শীদল, কাটারিভোগ চাল
২৩। ঢাকা - বাকরখানি, হাজীর/নান্নার বিরিয়ানী
২৪। নওগাঁ - প্যারা সন্দেশ, চাল
২৫। নরসিংদী - সাগর কলা
২৬। নড়াইল - পেড়ো সন্দেশ, খেজুর গুড়, খেজুর রস
২৭। নাটোর - কাঁচাগোল্লা
২৮। নেত্রকোনা - বালিশ মিষ্টি
২৯। নারায়ণগঞ্জ-
৩০। নীলফামারী - ডোমারের সন্দেশ
৩১। নোয়াখালী - নারকেল নাড়ু়, ম্যাড়া পিঠা
৩২। পঞ্চগড়- মিষ্টি আলু বাদাম । 
৩৩। পটুয়াখালী -
৩৪। পাবনা - প্যারডাইসের প্যারা সন্দেশ, ঘি
৩৫। ফরিদপুর - খেজুরের রস এবংগুড় *
৩৬। ফেনী - মহিশের দুধের ঘি, খন্ডলের মিষ্টি
৩৭। বগুড়া - দই, কটকটি
৩৮। বরগুনা-
৩৯। বরিশাল - আমড়া
৪০। বাগেরহাট - চিংড়ি, সুপারি
৪১। বান্দরবন - হিল জুস
৪২। ব্রাহ্মণবাড়িয়া - তালের বড়া, ছানামুখী, রসমালাই
৪৩। ভোলা - মহিষের দুধের দই, নারিকেল
৪৪। ময়মনসিংহ - মুক্তা গাছার মন্ডা, আমৃতি
৪৫। মাগুরা - রসমালাই
৪৬। মাদারীপুর - খেজুর গুড়, রসগোল্লা
৪৭। মানিকগঞ্জ - খেজুর গুড়
৪৮। মুন্সীগঞ্জ - ভাগ্যকুলের মিষ্টি
৪৯। মেহেরপুর - মিষ্টি সাবিত্রি, রসকদম্ব
৫০। মৌলভীবাজার - ম্যানেজার স্টোরের চ্যাপ্টা রসগোল্লা
৫১। যশোর - খই, খেজুর গুড়, জামতলার মিষ্টি
৫২। রংপুর - আখ (ইক্ষু)
৫৩। রাঙ্গামাটি - আনারস, কাঠাল, কলা, জুম রেস্তোরার বাশেঁর তৈরি খাবার
৫৪। রাজবাড়ী - চমচম, খেজুরের গুড়
৫৫। রাজশাহী - আম, তিলের খাজা, বিরেন'দার সিংগারা
৫৬। লক্ষ্মীপুর - সুপারি
৫৭। লালমনিরহাট-( জানা নাই) 
৫৮। শরীয়তপুর - গুড় 
৫৯। শেরপুর - ছানার পায়েস, ছানার চপ
৬০। সাতক্ষীরা - সন্দেশ
৬১। সিরাজগঞ্জ - পানিতোয়া, ধানসিড়িঁর দই
৬২। সিলেট - সাতকড়ার আচার, কমলালেবু, পাঁলেয়ার চা।



Aziza Sultana

#এক_টাকার_পুরি,,এই যুগে এক টাকার পুরি পাওয়া যায় সেটা শুনে হয়তো অবাক হচ্ছেন সবাই।কিন্তু খুলনার মিনাবাজারের পাশ দিয়ে ময়লাপোতার দিকে যে রোডটা গিয়েছে সেই রোডে পাওয়া যায় এই এক টাকার পুরি। দাম কম হলেও স্বাদের দিক দিয়ে ফাস্ট ক্লাস।


Sultana Rokkya

আগে ভাবতাম রাজমা ভারতীয় খাবার।
এখন দেখি আমার দেশের সিলেটে রাজমা উৎপাদিত হয় প্রচুর।
সুপার শপগুলোতে অনেকবার দেখেছি কিন্তু কেনা হয়নি।
এবার খেতে হবে।


Nafeea Afreen Kabir

বরিশালের লাউ সেমাই ,অসাধারণ , ঝাঝরি দিয়ে কচি লাউ কেটে সেদ্ধ করে ঘন সরের দুধ দিয়ে রান্না করা হয়, এটা রুটি কিংবা খালিও খাওয়া,যায়


সাইয়েদা উম্মুল ওয়ারা

আসেন আসেন বইসা জান,,,,,রংপুর এর খাবার বলি একটু😊
রংপুর এর তামাক, আছে হাড়ি ভাংগা আম,আছে চাল,আছে শিদল,আছে লিচু😋।
শিদল নিয়ে বলি আজ,,,,🤩
শিদল এক প্রকার জনপ্রিয় খাবার শিদল ভরতা করে খাওয়া যায়,ভুনা ও করা যায়।শিদল মুলত কচুপাতা,আর শুটকি দিয়ে বানানো হয়।শিদল পুষ্টি দিয়ে ভরপুর, আইরন আছে প্রচুর।


Latifa Ahmed Sharmin

সিলেট কে সবাই -মনিপুরি শাড়ি,সাতকরা,বিন্নিচাল,ফরাসের বিচি ইত্যাদি দিয়ে চেনে।কিন্তু সিলেটে আরোও কিছু ঐহিত্যবাহী খাবার আছে যেগুলো এতোটাই বিলুপ্তপ্রায় যে বনেদী সিলেটিরা ছাড়া আজকালকার কেউ এসব খায়নি বললেই চলে।
১-এর মধ্য 'হাস ও বাশ" উল্লেখযোগ্য।
বাশের কচি করুল(বাশের ছোট চাড়াগাছ যা কৌন আকৃতির হয়)কে কুচি কুচি করে,কেটে,হাসের মাংস দিয়ে রান্না করা তরকারী জীবনে যে একবার খেয়েছে সে ভুলবে না কখনো এর স্বাদ!আমার মায়ের হাতের এটা আমার প্রিয় খাবার।

২-তারপর আসি 'চোঙা পিঠা"!
শাখা বাশ বা বাশের কন্চির নিরেট ফাঁপা অংশে বিন্নি চাল/সুগন্ধি চাল ভরে সেই চোঙাকে পুড়িয়ে এটি বানানো হয়।এরপর হয়ে গেলে চোঙা ভেঙে বেলন আকৃতির সেই পিঠা ঝাল/মিষ্টি কিছু দিয়ে পরিবেশন করা হয়।
সহজলভ্য যেসব:
৩-চালের গুড়ি দিয়ে বানানো 'নুনবড়া" পিঠা

৪-চালের রুটি

৫-সাতকরা দিয়ে গরুর গোশত
কোরবানি ঈদে চালের রুটির সাথে সাতকরা গরু গোশতের তরকারী বানানো হয়না এমন বাসা খুজে,পাওয়া,দুষ্কর।

৬-জৈন্তাপুরের সুমিষ্ট,সুগন্ধি 'কমলালেবু" দেশের প্রায় ৬০-৭০% কমলার যোগানদেয়।

৭-শ্রীমঙ্গল এর 'লেবু"র কথা তো সবাই জানেনই।
আর এখানে মাটিতে উৎপাদিত ছোট সাইজের এক প্রকার আনারস ও খুব বিখ্যাত।
৮.নাগা মরিচ' নামের এক প্রকার ঝালমরিচের জন্যেও সিলেট বিখ্যাত।


Ommay Salma

আমরা শরীয়তপুরের মানুষ তালের বিবিখানা ও বানিয়ে থাকি।আমার সৌভাগ্য হয়েছিল এই পিঠা আমাদের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের বাসায় এই পিঠা পাঠানোর ।মহামান্য রাষ্ট্রপতি নিজেই এই পিঠা খেয়ে অনেক প্রশংসা করেছেন এর পর আমি আরো কয়েকবার পাঠিয়েছি।আলহামদুলিল্লাহ এই পিঠা খেতে দারুন অন্যরকম মজা।


Naima Akhter

বাঙালীর পছন্দের তালিকায় বিভিন্ন রকমের পিঠা যুগ যুগ ধরে রয়েছে।
যেমনঃ নকশী পিঠা, চিতই পিঠা, পাক্কন পিঠা, পোয়া পিঠা, ছিটা রুটি, পাটিশাপটা, শিমফুল, ঝিনুক পিঠা,পাপর ,পুলি পিঠা ইত্যাদি।


Binte Hossain

ও, পোয়া পিঠা/তেলের পিঠা আরেক জনপ্রিয় পিঠা এই নোয়াখালীর! যেহেতু আমরা পিঠাপুলির অঞ্চল, তাই হুটহাট পিঠা বানানো কোনো ব্যাপারই না, 


Ummu Amatullah

দেশীয় পন্যের সিলেবাস দেশীয় খাবারঃ২

বিন্নি চালের মূল উৎস বান্দরবান। জুম চাষের মাধ্যমে এই ফসল ফলানো হয়।সিলেট অঞ্চলে একে বিরুন চাল বলে। সিলেটের ঐতিহ্যবাহী জনপ্রিয় খাবার বিরুন চালের ভাত।বিন্নি চাল লাল,কালো বা স্টিকি রং হতে পারে। একে হোল গ্রেইন(whole grain) হিসেবে গন্য করা হয়।এই চাল সাদা চাল থেকে কম প্রসেসড এই কারণে সাদা চাল এর কোনো ব্র্যান এ অংশ থাকেনা কিন্তু বিন্নি চাল এ তা অক্ষুণ্ন থাকে,যা স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কম শর্করা যুক্ত ও উচ্চ ফাইবার সমৃদ্ধ, তাই কোনো ফ্যাট বৃদ্ধি হবে না।এই চাল ডায়াবেটিস বান্ধব। এই চালের ভাত একটু আঠালো হয়।এই চালের ভাত যে কোনো ভর্তা ও ভুনার সাথে খেতে সুস্বাদু। এই চালের পায়েসও সুস্বাদু


Ummu Amatullah

দেশীয় পন্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবারঃ৩

জাম্বুরা বা বাতাবী লেবু এক প্রকার লেবু জাতীয় টক মিষ্টি ফল। এর ইংরেজি নাম- Pomelo।বৈজ্ঞানিক নাম-Citrus maxima।এর আদি ভূমি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। মেহেরপুরে বারো মাসের জাম্বুরা জাত পাওয়া গেছে। কাচাঁ ফলের বাইরের দিকটা সবুজ আর পাকলে হালকা সবুজ বা হলুদ রঙের হয়। এর ভেতরের কোয়াগুলো সাদা বা গোলাপি হয়।জাম্বুরা ঠান্ডা, সর্দি -জ্বর জনিত সমস্যার জন্য খেলে ভালো ফলাফল পাওয়া যায়।এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এতে বিদ্যমান বায়োফ্লভনয়েড বেশি থাকায় ব্রেস্ট ক্যান্সারের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করে।এটি নিয়মিত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় ও পেটের নানা হজমজনিত সমস্যার প্রতিকার হয়


Sharmin Sultana

#দেশীয়_পণ্যের_সিলেবাসে_দেশীয় #খাবার

মুড়ির_মোয়া

মনে আছে, খুব ছোট্ট বেলায় #মুড়ির_মোয়া পাওয়া যেতো। বিশেষ করে শীতের সকালে। পুড়ান ঢাকার একটা সুবিধা ট্রেডিশনাল সব কিছু পাওয়া যায়।

বিদেশী খাবারের আগ্রাসনে আমাদের দেশীয় এই ঐতিহ্যময়ী খাবারের কথা আমরা ভুলে গেছি। 
মুড়ির সাথে টাটকা খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরী হয় মুড়ির মোয়া। অনেকে আবার জিড়া ও দেয়। কিন্তু যেভাবেই হোক। এই মুড়ির মোয়ার স্বাদ কি ভোলার মতো? 

যে না খেয়েছে সে কি করে বুঝবে? 

দেশীয় পন্যের সিলেবাসে আমাদের দেশীয় খাবারের নাম আসুক আর ছড়িয়ে যাক দেশীয় সংস্কৃতি।


Saleha Begum

বাংলার নিজস্ব খাদ্য তালিকার ঐতিহ্যে, পিঠাপুলির আভিজাত্য উল্লেখ করোর মতো।গ্রামাঞ্চলে সাধারণত নুতন ধান ঘরে তোলার পর পরই পিঠা তৈরির ধুম পড়ে যায়।শীতের সকালে চারদিক মিষ্টি পিঠার ঘ্রাণে মোহিত হয়ে থাকে।এটি লোকজ ও নান্দনিক সংস্কৃতির বহিঃপ্রকাশ বাংলার পিঠা।

মুখরোচক রসনা জাতীয় খাবরের তালিকায় পিঠা বাঙ্গালীর ঐতিহ্য তুলে ধরে। এছাড়াও পারস্পারিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করে তুলতে পিঠা যেনো আত্মিক মিষ্টি সাঁকো হয়ে জুড়ে আছে আমাদের ইতিহাস ও অস্তিত্বে।

চালের গুঁড়ো আটা-ময়দা অথবা অন্য কোন শস্যেও গুঁড়া ছাড়াও গুড়,চিনি, নারকেলের কোরা হলো অধিকাংশ পিঠার মুল উপাদান আমাদের লক্ষীপুরে।


Shohan Ahmed

দেশীয় খাবার হিসেবে পিঠার জুড়ি নেই। আমাদের ৫৬ হাজার বর্গমাইল আয়তনের এই দেশে কত রকমের যে পিঠা আছে তার কোন ইয়াত্তা নেই। প্রতিটি জেলায়, প্রতিটি থানা-মহল্লার রয়েছে নিজস্ব পিঠা। আবার সব এলাকায় প্রসিদ্ধ এমন পিঠাও আছে। প্রতিটি একালার পিঠাই আলাদা আলাদা ভাবে সমাদৃত এর স্বাদ ও ঐতিহ্যের জন্য।
সিলেবাস তৈরী হলে তখন নাম না জানা হাজারো পিঠা একত্রে আমরা দেখতে পাবো। কোথায় কোন পিঠা পাওয়া যাবে সেটাও স্পষ্ট করে বুঝতে পারবো। এতে করে পিঠার জনপ্রিয়তা ও গ্রহনযোগ্যতা বাড়বে।
সব অঞ্চলের মজার মজার সব পিঠার স্বাদ সবাই সহজেই নিতে পারবো। এতে একদিকে যেমন আঞ্চলিক পিঠার পরিচিতি বাড়বে তেমনি অর্থনৈতিক ভাবেও প্রান্তিক পর্যায় থেকে মানুষ সুফল ভোগ করবে।
এছাড়া অনেক পিঠাই কালের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে। সিলেবার তৈরী করে এসব পিঠা সবার সামনে তুলে ধরার মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়ার আশংকায় থাকা পিঠা গুলোও প্রাণ ফিরে পাবে।


Ummu Amatullah

দেশীয় পন্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবারঃ৪

কলা এক প্রকার বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ফল।উষ্ণ জলবায়ু দেশে কলা ভালো জন্মায়।বাংলাদেশের নরসিংদী, ময়মনসিংহ, যশোর, বরিশাল, বগুড়া, রংপুর, জয়পুরহাট, কুষ্টিয়া,ঝিনাইদহ,মেহেরপুর ইত্যাদি এলাকায় কলার চাষ হয়। এটি সারা বছর উঁচু জমিতে চাষ করা হয়।কলার বিভিন্ন জাতের মধ্যে - সাগর কলা,সবরি কলা,বিচি কলা ইত্যাদি।এর পুষ্টিগুণ অধিক। এটি ক্যালরির ভালো উৎস। এতে রয়েছে সহজে হজমযোগ্য শর্করা।কলায় প্রচুর পটাশিয়াম রয়েছে যা স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।এর মধ্যে থাকা আয়রন রক্তে হিমোগ্লোবিন উৎপাদনে সাহায্য করে।
ধন্যবাদ জানাই Kamrul Hasan ভাইকে এত সুন্দর একটা টপিক নিয়ে লিখতে বলার জন্য।


Urmela Akhi

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কালাই রুটি,চিতাই,পেচানো জিলাপি।বগুড়ার দই।নেত্রকোনার বালিশ মিষ্টি।নাটোরের কাঁচাগোল্লা।টাংগাইলের চমচম।শেরপুরের ছানার পায়েস।মহেশখালির মিষ্টি পান।বরিশালের পেয়ারা,আমড়া,ইলিশ


Farhana Farhana

দেশীয় খাবার-৪
খাগড়াছড়ির ভুট্টা।আমার মনে আছে আব্বু চাকরির সময় বস্তায় করে ভুট্টা নিয়ে আসতেন কারন ওখানে এও বেশি ভুট্টার ফলন হয়যে,আপনি চাইলে অল্প খরচেই অনেক গুলো আনতে পারবেন এবং অনেক সময় তারা রাস্তার পাশেও এমনি ফেলে রাখে,যার মন চায় নেয়।


Rodela Rodela

আমরা বাঙ্গালীরা সব সময়ে ভোজন রসিক। বড্ড খেতে পছন্দ করি আমরা। আমরা আমাদের নানি,, দাদি,, মা খালা, ফুফুদের মুখে অনেক জানা অজানা নানা খাবারের গল্প শুনি। অনেক খাবার আমাদের পরিচিত আবার অনেক খাবারের নাম শুধু মুরব্বিদের মুখে গল্পেই শুনি। হয়তো দেখা যাবে আমরা যে খাবার গুলো পেলাম বা দেখলাম তার অনেক খাবার আমাদের সন্তানরা হয়তো দেখবে না বা পাবে না। কারণ দিন দিন আমরা বিদেশি খাবারের প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পরছি। এটা আমাদের ঐতিহ্যকে বিলিন করে দিচ্ছে। যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বড়ই কষ্টকর বিষয়। তাই আমাদের সকলের উচিৎ নিজের দেশের এবং নিজের ঐতিহ্যকে লালন করা এবং বাঁচিয়ে রাখা। বাংলাদেশে এই প্রথম কোন একটি গ্রুপ যারা দেশিও পন্যের সিলেবাস তৈরি করতে যাচ্ছে। যা আমাদের জন্য আশির্বাদ স্বরুপ। এ সিলেবাসে স্থান পাবে আমাদের দেশিও খাবার। এমন অনেক খাবার আছে যা প্রায় বিলুপ্ত। কিন্তু খুশির খবর হচ্ছে এই সব খাবারের নাম এবং এ সম্পর্কে এ সিলেবাসের মাধ্যমে সকলেই দেশিও পন্য+ খাবার সম্পর্কে জানতে পাবে অনায়াসে। যা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আশির্বাদ স্বরুপ ❤️


Kaniz Fatema Mony

দেশীয় পণ্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবার একটা বিশেষ দিক।
বাঙালি মানেই ভোজন রসিক মানুষ। 
আমাদের ময়মনসিংহে মুক্তাগাছার মন্ডা খুবই বিখ্যাত। এমনকি মুক্তাগাছার একটি দোকানই আছে যা মন্ডার জন্য প্রসিদ্ধ। মুক্তাগাছার এই গোপাল পালের দোকানই হলো আসল মন্ডা।❤️❤️ আর এই দোকান ছাড়া অন্য কোথাও এমন মন্ডা পাওয়া যায় না। কেননা এটা ওনাদের বংশপরম্পরা 😇😇🤗❤️


Ommay Salma

আমার শ্বশুর বাড়ি চাঁদপুর। চাঁদপুরের বিখ্যাত পিঠা সুন্দরী পাকন।মুগডাল ও চালের গুড়া দিয়ে মন্ড তৈরী করে এই পিঠা বিভিন্ন রকম সুন্দর সুন্দর ডিজাইন করে বানিয়ে তেলে ভেজে চিনির বা গুড়ের সিরায় দিতে হয় অনেক মজার এই পিঠা।


Mahmuda Mony

নারিকেলের চিড়া। 
নারিকেল ছোট কুচি কুচি করে কেটে তারপরে চিনি দিয়ে বানানো হয় ,,এটাকে আমরা চাঁদপুরে নারিকেলের চিড়া বলি।।


Md Ali Akbar

এবার আসি দেশী পন্যের সিলেবাসে দেশিয় খাবার থাকলে কি লাভ?
১. আমরা আমাদের নিজেদের খাবার সম্পর্কে জানতে পারবো,সচেতন হতে পারবো এবং সংরক্ষন করতে পারবো।
২. দেশীয় খাবারের নতুন নতুন উদ্যোগতা আমরা পাবো।
৩. দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠিরা এর ফলে লাভবান হবে কারন এমন অনেক খাবার আছে যা শুধু প্রান্তিক পর্যায়েই রয়েছে অন্য সব জায়গা থেকে বিলুপ্ত।
৪. অনেকে খাবার তৈরিতে ভালো এবং দক্ষ তাদের কাজের মূল্যায়ন বাড়বে।
৫. ই কমার্সের প্রসারও হবে এর ফলে।
৬. দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হাছিল হবে।
৭. সর্বোপরি দেশের খাবারে স্বাদ বিদেশীরাও নিতে পারবে বা আগ্রহী হবে।


Urmela Akhi

সিরাজগঞ্জের ঘাটি।পাবনা ও নাটোরের মাছের ঝোল।সিলেটের আখনী পোলাও, হাঁস-বাশ,হিদল শুটকি।মনপুরা দ্বীপের মহিষের দুধের দই।বান্দরবনের রে মাছের শুটকি,মুন্দি, রসপুরি, নাপ্পি।

Ummu Amatullah

দেশীয় পন্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবার ৫ঃ

ডেউয়া ফল ডেউফল,ডেলোমাদার,ঢেউয়া নামেও পরিচিত। সাধারনত গ্রামাঞ্চলে এটি বেশি দেখা যায়।বর্তমানে এর চাষ অনেক কমে গেছে।এর পুষ্টিগুণ অনেক বেশি। এর কাঁঠালের মত ছোট ছোট কোয়া। পাকলে লালচে হলুদ বা লালচে কালো হয়।এটি স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়।কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।মেদ ভুঁড়ি কমাতে সাহায্য করে।মুখের রুচি বৃদ্ধি করে।ত্বকের রুক্ষতা দূর করে।বমিবমি ভাব দূর করে।এত উপকারীতার জন্য ধীরেধীরে এর চাহিদা বাড়ছে। 


Naeem Hossain

জলযোগের দই (বগুড়া)
. চুন্নুর চাপ (বগুড়া)
. হাড্ডিপট্টির চা (বগুড়া)
মহাস্থানের কটকটি (বগুড়া)
এশিয়ার দই (বগুড়া)
লটপটি (আকবরিয়া,বগুড়া)


Mst Rima Akther

দেশি পন্যের সিলেবাস খাবার নুনের বড়া। 
আমাদের সিলেটের সবচেয়ে বিখ্যাত একটি পিঠার নাম নুনের বড়া। 
এই নুনের বড়া মুলত আমরা বেশি খাই কুরবানির ঈদে তখন গরুর মাংসের সাথে এই পিঠা খেতে দারুন লাগে। 
এই নুনের বড়া তৈরি হয় চালের গুড়ো, লবন,আদা,পিয়াজ বাটা,ডাল, ও তেলের সাহায্যে। 
আজকের দেশি পন্যের সিলেবাসে খাবার পন্যের মধ্যে নুনের বড়া একটি। ❤️❤️


Rabeya Akther Panna

আমাদের বরিশালের -মলিদা,মলিদা একটা অসাধারণ পানীয়।যা চালের গুড়া,মুড়ি গুরো করা,আদা বাটা বা কুচি,নারকেল বাটা,চিনি আর পানি দিয়ে বানানো হয়।খেতে খুবই মজা


Saleha Begum

আমার লক্ষীপুরের নারিকেলের পিঠা অন্যতম। 
নারকেলের বিভিন্ন পিঠা গুলোর মধ্যেঃ নারকেলের ভাজা পুলি, নারকেলের নাড়–, নারকেলে জেলাফি, নারকেলের সিদ্ধ পুলি, নারকেলের সন্দেশ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

এছাড়াও অদ্ভুত সুন্দর নামের ও বেশ মাজাদার কিছু পিঠা রয়েছে যেমন বিবিয়ানা পিঠা বা জামাই ভুলানো পিঠা, সরভাজা পিঠা, পাতা পিঠা, সূর্যমূখী পিঠা, সুন্দরী পাকন পিঠা, পুলি পিঠা, কুলশু পিঠা, আন্দশা পিঠা, হৃদয় হরণ পিঠা, ফুল পিঠা, ঝিনুক পিঠা, দুধরাজ ও রসফুল পিঠা, লবঙ্গ লতিকা পিঠা ইত্যাদি বেশ জনপ্রিয়।

এছাড়াও সচরাচর বানানো প্রচলিত পিঠা গুলির মধ্যে পাকান পিঠা, চিতই পিঠা, ভাঁপা পিঠা, মেরা পিঠা, ঝাল পুলি পিঠা ও পাটিসাপটা উল্লেখযো

Saleha Begum
অঞ্চলভেদে এসব পিঠার নামে ভিন্নতা খুঁজে পাওয়া গেলেও পিঠাগুলোর স্বাদে কোন ভিন্নতা নেই। ভিন্নতা নেই অনুভূতির ও আন্তরিকতার। পিঠাকে ঘিরে বিখ্যাত কবি বেগম সুফিয়া কামাল লিখেছেন “পৌষ পার্বণে পিঠা খেতে বসি খুশিতে বিষম খেয়ে, আরো উল্লাস বাড়িয়েছে মনে মায়ের বকুনি পেয়ে”। পিঠা নিয়ে নানা রসাত্মক গান ও বাঁধা হয়েছে।

যেমনঃ “তেলেভাজা ছক্কা পিঠা গো গামচা বাঁধা দই সকল জামাই খাইয়া গেল গো আমর ননদের জামাই কই”? তালের পিঠা নিয়ে একটি বিখ্যাত গানের অংশবিশেষ হলঃ “তালের পিঠা বানাইয়া কারে বা খাওয়াই এদিক সেদিক চাইয়া দেখলাম মনের মানুষ নাই”।

শীতের পিঠাপুলি নিয়ে শহরে বাচ্চাদের আগ্রহ নেই বললেই চলে। তাদের কাছে ফাস্টফুডের আইটেম গুলোই বেশি প্রিয়। আমাদের মত উনুনের ধারে মায়ের পাশে বসে, গম গরম পিঠা খাওয়ার মজাটা এদের অজানা।
Saleha Begum

আমাদের লক্ষীপুরে খেজুরের রসের সিন্নি, শীতের দিনে প্রিয় খাবার। খুব ভোরো অথবা রাতের বেলায় আমরা গাছ থেকে রস পেড়ে রসের সিন্নি রান্না করে খেতাম। রসের গুড় ও মুড়ি মাখা নারিকেল দিয়ে আমাদের খুবই পছন্দের খাবার। আর রসের দিয়ে কত রকম পিঠা -- কাইচ্চানা পিঠা। কলিজা পিঠা। চিতল পিঠা রস দিয়ে রান্না এ সবই এতিহ্য লক্ষীপুরের। আর অনেকটা বিলুপ্ত 


Urmela Akhi

শিবগঞ্জের আদি চমচম,বরিশালের মলিদা।যশোরের ঘাটকোল,কলার মোচা ও থোড়,কাঁঠালের ইচড়,ছাক্কা,ছিটেরুটি।নরসিংদীর লটকোন।পতেঙ্গার কাকড়া ভুনা।রাঙামাটির হাঙরের শুটকি,মহিষের চামড়া ভুনা।খাগড়াছড়ির বাশকুড়ুল।বগুড়ার মুরগীপুরি।


Mhafuza Y Moon

আড্ডা পোস্টঃ১২জুন,২০২০

টপিকঃ দেশিয় পন্যর সিলেবাসে দেশিয় খাবার।

সাতকড়া,,,

সাতকড়া বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের একটি অন্যতম ট্রেডিশনাল খাবার।যা বাংলাদেশ সহ বাইরের দেশেও এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে।সিলেটের ভৌগলিক অবস্থান ও অনুকূল আবহাওয়ার কারনে এখানেই এর প্রচুর চাষ হয় ও বানিজ্যিক ভাবে তা বিক্রি হয়।
সিলেটের মানুষের মুখে শোনা বাহারি পদের খাবার রান্না ও তৈরি করা হয় বলে একে সাতকড়া নাম দেওয়া হয়।
তবে আদি সিলেটর মানুষ একে হাতকরাও বলে।
এই মন মাতানো লেবু জাতীয় ফলটি দিয়ে মাছ,মাংস, শুটকি ইত্যাদি দিয়ে রান্না সহ আচারো বানানো যায়।যেগুলোর স্বাদ ও ঘ্রান হয় অতুলনীয়।

আমার জীবনে দুইবার আমি এই মজার সাতকড়ার স্বাদ পেয়েছি।কড়াই গোশতো ও ছোট মাছের চড়চড়ি দিয়ে সাতকড়া খাওয়ার দারুন অভিজ্ঞতা আছে।রান্নায় ব্যবহার করা হলে তরকারির স্বাদ বেড়ে যায় বহুগুন।
ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করে ও রোদে শুকিয়ে পাত্রে সংরক্ষণ করে সারা বছরই খাওয়া যায়।


S M Mehdi Hassan

সবাইকে আজকের আড্ডায় স্বাগতম। একটা দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির একটা অপরিহার্য অংশ হচ্ছে সেই দেশের খাবার-দাবার। আমাদের দেশ উর্বর দেশ। বছর জুড়ে নানা ধরণের শাকসবজি হয় এবং নদীমাতৃক দেশ হবার কারণে মাছও প্রচুর। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে যেসব বিদেশীরা আমাদের দেশে এসেছিল তারাও বিভিন্ন খাবার নিয়ে এসেছে যেমন আলু এ উপমহাদেশে এনেছে পর্তুগীজরা। আনারস, আচার এগুলোও পর্তুগীজরা এনেছে এ দেশে। পোলাও, বিরিয়ানি, হালিম, সমুচা, পরটা, বোরহানি, ফিরনি, এসব খাবার বাংলাতে মুঘলরা জনপ্রিয় করেছে। এছাড়াও বিভিন্ন জেলাতে বিভিন্ন ধরণের খাবার আছে। আমি চট্টগ্রামে আমার জীবনের প্রথম ২০ বছর কাটিয়েছি। গরুর মাংস এবং শুটকি মাছ চট্টগ্রামের মানুষের সবচেয়ে জনপ্রিয় খাবার। আমি শুটকি মাছের ভক্ত না কিন্তু গরুর মাংসের বিশাল ভক্ত। খাবার ছাড়া আমাদের দেশীয় পণ্যের তালিকা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। 

এখন অনলাইনে দেশীয় খাবার বিক্রির কিছু বিষয় নিয়ে কথা বলব। এটা যদিও আজকের আড্ডার টপিকের সাথে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। কিন্তু আমার মনে হয় যারা দেশীয় খাবার নিয়ে অনলাইনে ব্যবসা করতে চান তাদের এগুলো মাথায় রাখা দরকার। 
 ১। ব্যক্তিগত ভাবে আমি মনে করি যে খাবার এমন একটা জিনিস যেটা আমার মতে বড় শহরে (ঢাকা, চট্টগ্রাম) এ বেশি চলবে। এর কারণ হচ্ছে শহরের মানুষরা ব্যস্ত জীবন-যাপন করে। এমনকি গৃহিণীরাও ঘরের কাজ, বাচ্চাদের পড়াশুনা এসব সামলে অনেক ক্ষেত্রে রান্না করতে অনেক সমস্যা হয়। এই চাপ কমাতে তারা অনলাইনে খাবার অর্ডার করে। আবার ঢাকার মতো শহরে সারা বাংলাদেশ থেকে লোক এসে থাকে। তারা তাদের স্থানীয় খাবার, সবজি খেতে পারে না। এটা খুব সাধারণ একটা ব্যাপার যে গ্রাম থেকে কোন আত্মীয় ঢাকাতে এলে সে গ্রামের ফল, সবজি, মিষ্টি, মাছ এগুলো নিয়ে যাবে। শহরে তারা এসব খাবার পায় না। এসব পেলে তারা খুবই খুশি হয়। 

অন্যদিকে গ্রামের মানুষ কিন্তু এত ব্যস্ত জীবন-যাপন করে না। সেখানে মানুষের খাদ্যাভ্যাস অন্যরকম। গ্রামে বা জেলা শহরে অনেক মানুষ আছেন যারা সপ্তাহে কয়েকবার বাজারে যান বা প্রতিদিন বাজারে যান কারণ তারা তাজা শাকসবজি মাছ খেতে পছন্দ করেন। 

২। অনেক খাবার আছে যেগুলো পচনশীল যেমন- মাছ, মাংস, তরল দুধ, শাকসবজি, বিভিন্ন ফল। উইয়ের অনেক উদ্যোক্তা হোমমেইড খাবার বিক্রী যেমন- পোলাও, বিরিয়ানি, ইত্যাদি বিক্রি করেন। এগুলোও কিন্তু বেশিক্ষণ রাখা যায় না। এছাড়া বিভিন্ন মিষ্টি, দই আছে যেগুলো বেশিদিন স্টোর করে রাখা যায় না। এখানেই হচ্ছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এসব খাবার প্রস্তুত ও বিক্রিতে অনেক সাবধানতা অবলম্বন করতে হয়। নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় খাবার স্টোর করা, এরপরে সেটা ক্রেতার কাছে ডেলিভারি দেয়া যাতে খাবারের মান নষ্ট না হয়। এই জন্যে বিশেষ ধরণের বাক্স বা গাড়িতে খাবার ডেলিভারি দেয়া। এগুলো একটু ব্যয়বহুল। 

৩। অন্যদিকে অনেক খাদ্যদ্রব্য আছে যেগুলো দীর্ঘদিন ধরে স্টোর করে রাখা যায় যেমন- চাল, গম সহ বিভিন্ন ধরণের শস্য, মসলা, গুড়া দুধ, ডিম, ডাল, তেল, বাদাম। এগুলোতে তেমন সমস্যা হয় না। 
 একজন উদ্যোক্তা অনলাইনে কি ধরণের দেশী খাবার নিয়ে কাজ করছেন সেটা ধরণের উপরে সেই উদ্যোক্তার বিনিয়োগ এবং ব্যবসার মডেল অনেক খানি নির্ভর করবে। আপনি যদি রান্না করা খাবার বা পচনশীল খাবার নিয়ে কাজ করেন তাহলে সেখানে আপনার এক ধরণের বিজনেস মডেল হবে। আর আপনি যদি চাল, ডাল, তেল এগুলো নিয়ে কাজ করেন তাহলে অন্যরকম মডেল।


Israt Jahan Shampa

চাল ভেজে তা আবার ধুয়ে কিছুখন ভিজিয়ে রেখে গুর বা চিনি এবং নারিকেল কেটে দিয়ে ভাত এর মতো জরজরা করে রান্না করে মধ্যে। আঞ্চলিক ভাষায় যার নাম বিস্কি। এটা বাউফল উপজেলায় প্রচলিত খাবার। যা সাধারনত বৃষ্টি দিনে খাওয়া হয়।

Saleha Begum

আমাদের লক্ষীপুরে খেজুরের রসের সিন্নি, শীতের দিনে প্রিয় খাবার। খুব ভোরো অথবা রাতের বেলায় আমরা গাছ থেকে রস পেড়ে রসের সিন্নি রান্না করে খেতাম। রসের গুড় ও মুড়ি মাখা নারিকেল দিয়ে আমাদের খুবই পছন্দের খাবার। আর রসের দিয়ে কত রকম পিঠা -- কাইচ্চানা পিঠা। কলিজা পিঠা। চিতল পিঠা রস দিয়ে রান্না এ সবই এতিহ্য লক্ষীপুরের। আর অনেকটা বিলুপ্ত ।

Rohima Akter Efa

আজকের আড্ডায় আমি অনেক অজানা খাবারের সন্ধান পেলাম।যেমন: দুধ কদু, নুনের বড়া,চুইঝাল,গোটা পিঠা, মুক্তা গাছার মন্ডা,নুনাশ পিঠা, পেপের নাড়ু, মলিদা, মুড়ির নাড়ু, তিসির নাড়ু।বাকি খাবার গুলা মোটামুটি চিনি বা খেয়েছি।আপনাদের কি অবস্থা?আমার মতো কোনো অজানা খাবারের সন্ধান পেয়েছেন কি??


Shahnaz Akhter

আড্ডা পোস্টঃ
দেশীয় পন্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবারঃ

"চাপটি" ভার্সেস "দোসা"😍😍😍

এই পোস্ট দেখার পর আমিত আনন্দে আটখানা।অনেকদিন পর একটা মনের মত টপিক পাইছি।আমি মুন্সিগঞ্জের মেয়ে। প্রতিটি জেলাতেই আলাদা আলাদা খাবারের ঐতিহ্য রয়েছে তেমনি আমার জেলাতেও আছে।

মুন্সিগঞ্জের একটা মজার ও জিভে জল আসা খাবার হল " চাপটি " যা বানানো হয় খুদের চাল দিয়ে। খুদের চাল ভিজিয়ে রেখে গুড়া করে পেস্ট করতে হয় তাতে কাচা মরিচ, ধনে পাতা আর পেয়াজ কুচি ও লবন দিয়ে মাখিয়ে ঘন তরল বানিয়ে নিতে হয়।

তারপর তাওয়াতে পাতলা করে দিয়ে বানানো হয়।অনেকটা রুটির মত।এটা বেশীক্ষন তাওয়াতে রাখলে অনেক মচমচে হয়ে যায়। আমরা চাপটি বিভিন্ন রকমের 
ভর্তা দিয়ে খাই। আমার মনে হয় ভর্তার রাজধানী হল মুন্সিগঞ্জ।আবার ভর্তা ছাড়াও বিভিন্ন ঝোল দিয়ে খাই।

আমার মনে আছে আমি প্রথম যেদিন দোসা খেয়েছিলাম তখন বলেছিলাম এটার থেকে তো আমার 
দেশী চাপটি অনেক মজার। লোকে এই খাওয়ার জন্য এত পাগল।আর চাপটির কথা তো মানুষ এই দশ বছরে মনে হয় ভূলেই গেছে।চাপটি বলতেও অনেকে মনে হয় লজ্জা পায়।

দেশী পন্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবারের নাম যুক্ত হলে
আমরা আবার বুঝতে পারব যে আমাদের দেশী খাবার ই বেশী স্বাদের। যেমন মানুষ ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খাওয়ার জন্য 
পাগল কিন্তু মুন্সিগঞ্জের আলু ভাজা এর কাছে কিছুই না তা আবার পরের পোস্ট এ লিখব।

আলু ভাজা ভার্সেস ফ্রেঞ্চ ফ্রাই।


Saleha Begum

খোলাজালি পিঠা বা খোলাজা পিঠা চালের গুড়ার তৈরি একটি বাঙালি পিঠা যা দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের নোয়াখালী অঞ্চলে উৎপন্ন এবং খুবই জনপ্রিয়। ঐতিহ্যবাহী এই পিঠা বৃহত্তর নোয়াখালী অর্থাৎ নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর জেলা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী কুমিল্লা, ও চট্টগ্রাম জেলার কিছু অঞ্চলে বেশ প্রচলিত এবং বহুলভাবে জনপ্রিয়।এ পিঠা ঐতিহ্যগতভাবেই মাটির খোলায় তৈরি করা হয়।
* সাদা রঙের এই পিঠা দেখতে গোলাকার, অসংখ্য ক্ষুদ্র ছিদ্রবহুল এবং খেতে মুচমুচে বা তুলতুলে হয়।

বাংলাদেশের আরেক ঐতিহ্যবাহী পিঠা চিতই পিঠার সাথে এই পিঠার রূপ ও স্বাদে অনেক মিল রয়েছে। খোলাজালি পিঠাকে চিতই পিঠার পাতলা সংস্করণও বলা যায়। এ কারণে এ পিঠাকে পাতলা চিতই ও বলা হয়।
* দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় খাবার দোসার সাথে নোয়াখালীর এ খোলাজালি পিঠার দেখতে মিল থাকলেও খেতে কিছুটা ভিন্ন

ঐতিহ্যবাহী খোলাজালি পিঠা তৈরি হয় মাটির খোলা নামক এক ধরনের তাওয়ায়। খোলাজা বা খোলা পিঠা ছাড়াও এ পিঠাকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়। দেখতে ও খেতে কিছুটা "চিতই পিঠা"র সাথে মিল থাকায় খোলাজালি পিঠাকে পাতলা চিতই, খোলা চিতই বা ডিম চিতই


Jinnat Raihun Sumi

দেশি পন্যের সিলেবাসে আমরা দেশিয় জনপ্রিয় আবার বিলুপ্ত প্রায় খাবার নিয়ে জানতে পারবো।আমার বাবার বাড়ি নরসিংদী। আমার জেলার নকশি বা ফুল পিঠা,ঝিনুক পিঠা,সেউই(হাতে কাটা চালের সেমাই)চ্যাপা শুটকির বড়া দেশ বিখ্যাত। আর সতীনমোচড় পিঠা বিলুপ্ত প্রায় ঐতিহ্য।


Sumona Afrin

দেশীয় পণ্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবার 

🌺 বউয়া/খুদের ভাত/খুদের ভাকা ঃবিক্রমপুরের ঐতিহ্যবাহী খাবার "বউয়া"
বিভিন্ন ধরনের ভর্তা সাথে।
সকালের নাস্তায় এটি বিক্রমপুরে খুব জনপ্রিয়। 
অবশ্যই এখন সবজায়গায় ই জনপ্রিয়তা এর তুঙ্গে। 

🌺কাজীর ভাতঃএটাও যথা সম্ভব ফরিদপুর, বিক্রমপুরের ট্র‍্যাডিশনাল। 
এই ভাত কয়েকদিনের ভেজানো পুরোনো চাল দিয়ে রান্না করতে হয়।
কিছুটা টকটক ও আঠালো হয়।
এটাও বিভিন্ন ধরনের ভর্তার সাথে খাওয়া হয়।

আমার নানুবাড়ী বিক্রমপুর হওয়ার সুবাদে এসব খাওয়ার সুযোগ হয়েছে। তবে বউয়া আমার বিশেষ পছন্দের❤️❤️


Nafeea Afreen Kabir

বরিশালের লেবু আচার, , খুবই মজার, , গরম ভাতের সাথে টপাটপ করে খেয়ে নেয়া যায় এই লেবুর আচার ,,, লেবু ,সরিষার তেল, সরিষা বাটা,পাচঁফোড়ন, শুকনো মরিচ, কাচাঁ রসুন দিয়ে বানানো হয় এই লেবু আচার


Tasmima Rahman

আড্ডা পোস্ট ১২ জুন 

পোস্ট ৪
টপিক : দেশীয় পণ্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবার 

বাঙালি মানেই ভোজনরসিক। যেকোনো খাবারই হতে পারে ঝাল , মিষ্টি , টক ইত্যাদি। মিষ্টির কথায় যদি আসি তাহলে সেটা কেমন লাগে আমি জানিনা তবে আমার অনেক প্রিয়। অনেক মানে অনেক প্রিয়।

দেশীয় সিলেবাস আর দেশীয় খাবার যখন একত্রে মিলে যায় তখন মাথাতে একটা কথাই আসে আর সেটা হলো পিঠা । তাই পিঠা নিয়েই বলবো। আমাদের দেশে ৬৪টা জেলা আছে। ৬৪জেলার প্রত্যেক জেলার কম করে হলেও ৫/১০ রকম নিজস্ব পিঠা আছে। আর আমার তো ৪/৫ জেলার সাথে সম্পর্ক আছে। জন্ম হয়েছে এক জায়গায় , হোমটাউন আরেক জায়গায় , বড় হয়েছি আরেক জায়গায় , নানুবাসা , আম্মুর দাদাবাড়ির সূত্রে আরেক নানুবাসা। যাক এই কথা এখন বলতে গেলে রাত পার হয়ে যাবে তাও শেষ হবে না। 



যশোর যেহেতু হোমটাউন তাই এটা দিয়েই শুরু করবো। টেকনিক্যাল দিক থেকে যশোর যেমন এগিয়ে পিঠাপুলির দিক থেকেও তেমনি। আমাদের যশোরের একটি ঐতিহ্যবাহী পিঠা হলো ছিটারুটি। এখন অনেকেই বলবেন রুটি আবার পিঠা হয় কিভাবে ? নিশ্চই পাগল হয়ে গিয়েছি আমি এমন কিছুই ভাববেন। তবে বলি , না আমি ঠিকই আছি। এটা আমাদের যশোরে এটা শীতকালে বানানো হয়ে থাকে। চালের গোলাটা হাত দিয়ে ছিটিয়ে ছিটিয়ে রুটির shape দিয়ে বানানো হয়। মূলত মাংস দিয়ে খাওয়া হয় এটা। আমার অনেক প্রিয় এটা। শীতে দাদুবাসায় গেলেই দাদি বানায় ছিটারুটি। দুঃখিত কাছে কোনো ফটো নেই তাই দেখতে পারলাম না। আরেকটা পিঠা আছে নামটা হলো রসপান/পুলি পিঠা। এটা মূলত আটা বা ময়দাকে রুটির মতো shape দিয়ে ভেতরে নারিকেল ও চিনির পুর দেওয়া হয়। এটাকে ডুবো তেলে ভাজা হলে তখন বলা হয় রসপান পিঠা বা নারিকেলের পিঠা বা পুলি পিঠা । কিন্তু যখন সেটাকে ভাপ দিয়ে দুধের মধ্যে ভেজানো হয় তখন সেটা হয় দুধ পুলি। দুইটার টেস্টই অসাধারণ। 



তারপর আসি আমার সেই নানুবাসা মানে যেটা আরকি আমার আম্মুর দাদাবাড়ি মানে সিলেট। সিলেটের দুটি পিঠার কথা বলবো দুটোই ঝালও না মিষ্টিও না। প্রথমটি হলো নুনগড়া পিঠা। এটা মূলত আদা ,রসুন , হলুদ , পানি ও চালের গুঁড়া দিয়ে রুটির মত তৈরী করা হয় এবং পরে সেটাকে বিভিন্ন shape এ কাটা যায়। কতদিন যে খাইনা !
তারপর যেই পিঠার কথা বলবো সেটা হলো চৈপিঠা। এটা নারিকেল ও চালের গুঁড়া বানানো হয় এবং বিভিন্ন shape দিয়ে ভাপ দেওয়া হয়। পরে এটাকে তেলে পেঁয়াজ মরিচ দিয়ে ফ্রাই করে খাওয়া হয়। 



দেশীয় সিলেবাসে দেশীয় খাবারের এটা দ্বিতীয় পোস্ট ছিল। অনেক আগেই দেওয়া যেত কিন্তু হলো না। লেট আজকেও। 


Umma Tamima

দেশি খাবারের সাথে কয়েকটা বিদেশি খাবার রাখলে, দেখা যাবে আপনার দেশি খাবারটাই আপনা খাওয়ার রুচিটাকে সমুন্নত রাখছে। আমরা মাছে ভাতে বাঙালি, তাই মাছটা আমাদের খাদ্যতালিকার প্রধান অংশ। আমাদের ফেনির সোনাগাজী এলাকায় চিরিং,লরকা মাছ নামে দু প্রকারের মাছ পাওয়া যায়। অন্য এলাকায় পাওয়া যায় কিনা জানা নেই। কিন্তু এই দুই মাছের স্বাদ সত্যি অনেক। আর এগুলোর একটা পদ রান্না করা হয় কলা পাতা বা হলুদ পাতা, বা লাউ, কুমড়া পাতা মুড়িয়ে খোলায় দিয়ে।অনেকে উপরে কয়লা দিয়ে দেয় বা অনেকে ভাঁপে রান্না করে। আর এই রান্নাটা যে একবার খাবে তার আবার খেতে ইচ্ছে করবে 😍😍. আর মহিষের দুধের দধি আমাদের এলাকায় অনেক জনপ্রিয়। দেশি খাবারেই আমাদের আত্নতৃপ্তি।


Rizwana Tanny

💎নিজ জেলা মুন্সিগঞ্জঃ
১. চিত্তার দই+মিষ্টি 
২. সিপাহিপাড়ার ১২ ভাজা
৩.মিরকাদিম এর হাতে ভাজা মুড়ি
৪. বিবিখানা পিঠা
৫.রামপালের সাগর কলা
৬.আলদী বাজার এর রসগোল্লা।
💎সেকেন্ড হোম নারায়ণগঞ্জঃ
১. চিটাগং রোড এ প্রানবল্লভ এর কাচাগোল্লা+দই
২. চাষাড়া ডি আই টি র ওভাল্টিন কেক।
৩. বন্দরে তাপস এর পরোটা-ভাজি।
৪.২ নং গেট এ আলম কেবিন এর তেহারি
৫. সুগন্ধার লাচ্চা সেমাই
৬. ১ নাং রেল গেট এ মিষ্টিমুখ এর মিষ্টি। 
৭. কালীবাজারে মাউরা হোটেল এর গরুর গোস্ত।
৮. চাষাড়া আনন্দ রেস্তোরাঁ র কাবাব -নান।

💎শশুড় বাড়িঃ মানিকগঞ্জ 
১. ঘিওর এর তেরশ্রী এর মিষ্টি + ঘি
২. ঝিটকা র রসগোল্লা
৩. ঝিটকা বাজারের হাজারি গুড়
৪. টাউনে পাগলার মিষ্টি 
৫. টাউনে মদিনা'র পান্তুয়া


Mukta Rahman

দেশীয় পণ্যের সিলেবাস 
টপিকঃ দেশীয় খাবার 

❤ চাপাইনবাবগঞ্জের পেঁচানো জিলাপি
জিলাপি এমনিতে পেচানো হলেও চাপাইনবাবগঞ্জেরজিলাপি বিশেষ প্রক্রিয়ায় এবং আলাদা ভাবে তৈরি করা হয়।

❤বগুড়ার দই 
বগুড়ার দই সম্পর্কে জানে না এমন মানুষ নেই।সারাদেশে অত্যন্ত জনপ্রিয় বগুড়ার দই।স্বাদে মানে সেরা হলো বগুড়ার দই।
অন্যান্য জেলা থেকা বগুড়ার দই এর সুনাম বেশি।

❤টাংগাইলের চমচম
মিষ্টি প্রিয় মানুষদের চমচম এর নাম শুনলেও মনে হয় মুখে পানি আসবে।টাংগাইলের চমচম অত্যন্ত সুস্বাদু একটি মিষ্টি।সারা দেশে এর বেশ সুনাম রয়েছে। 

❤মহেশখালির মিষ্টি পান
পান প্রেমী দের জন্য মহেশখালির মিষ্টি পান ফ্যান্টাসি।খাবার এর শেষে মিষ্টি পান খেতে অনেকেই ভালোবাসে।আর যদি হয় মহেশখালির মিষ্টি পান তাহলে তো সবার অনেক ভালো লাগবে।


ইসরাত সুলতানা

আড্ডা পোস্টঃ১৩ জুন ২০২০

আজের টপিকঃদেশীয় খাবার

আচ্ছা আমাদের স্মৃতির পাতা গুলো উল্টালেয় ঘুরেফিরে একই খাবারের কথা মনে পরে।ছোট থেকে মা দাদী নানীরা খায়েছিল সে গুলোই।নানীর হাতের চিতল পিঠা।দাদুর হাতের শুটকি ভর্তা। মার হাতের সব কিছুই তো ভালো লাগে।একবার বড় মার বাবা বাড়িতে গিয়ে খেয়েছিলাম লাল লাল ছোট আলু শুটকি দিয়ে রান্না সে স্বাদ এখনো মুখে লেগে আছে।আমাদের চট্টগ্রামের বিখ্যাত মেজবানি মাংস এর কথা দেশ বিদেশে ছড়িয়ে গেছে।আসলেই সেই স্বাদ এখনো বৃদ্ধিমান রয়েছে। চালের জিলাপি বিখ্যাত নানা বাড়িতে গেলাই নানা নিয়ে আসতো সন্ধ্যা হলেই সে কে আনন্দ সবাই মিলে সেগুলো নিয়ে কাড়াকাড়ি। ভাই আমেরিকায় বসে বসে বরই ভর্তা, আম এর ভর্তা, পেয়াজু বানায় ভাবী আর আমাদের ছবি পাঠাই।এতো কিছু বলার পিছনে একটাই কারণ দেশীয় খাবার এ মিশে থাকে অনেক স্মৃতিময় অনুভূতি ভালোবাসা মিশানো।যার স্বাদ আমৃত্যু হৃদয়ে তরতাজা অনুভূতির জন্ম দিয়ে যায়।
আর জীবন চলতে কত কি যে খাচ্ছি তা যতক্ষণ খায় ওই শেষ পরে আর মনেই থাকে না।
আমি অনেক মানুষকে দেখেছি প্রবাসীদের তাদের সব সুখ সাচ্ছন্দ্য থাকা স্বত্তেও তাদের একটাই আকুতি দেশের খাবার খেতে মন চাই।

দেশীয় খাবারের সাথে কোন কিছুই তুলনা হয় না


Rita Mondol

আড্ডা পোস্ট 
টপিকঃ দেশি পন্যের সিলেবাসে দেশি খাবার 
আমি যশোরের মেয়ে।কিন্তু মা বাবা দুইজনের বাড়িই বরিশাল। আর বর্তমানে এখন আছি ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ এ। 
আর আমি যে কয়টি জায়গার নাম বলছি সব জায়গায়তে দেশি খাবার অনেক আছে।কিন্তু থাকলে কি আমার তো জন্ম হয়েছে যশোরে, বেড়ে উঠেছি যশোরে,বিয়েও হয়েছে যশোরে। তাই যশোরের সব দেশি খাবার এর সাথেই আমার পরিচয় বেশি।যেমনঃ যশোরের ছিটা রুটি আর হাসের মাংস,খেজুর গুর আর তা দিয়ে বানানো সাজের পিঠা যেন অমৃত খেতে।আরো আছে জামতলাবা সাজেকের মিষ্টি। 
এরপর বলি বরিশালের দই আর মুড়ি,দেশি মাছ বিশেষ করে ইলিশ মাছ।
এরপর বলি ঠাকুরগাঁও এর ঐতিহ্যবাহী খাবার আলু ডাল,সিদল। এগুলো আমি জানি কারণ আমি এই সব জায়গার সাথে অনেক পরিচিত আর তাই খাবার গুলো ও আমার পরিচিত। 
কিন্তু আমি অন্য এলাকার দেশি খাবার গুলো ও সম্পর্কে ও ধারণা পাবো যদি একটা সিলেবাস হয়।যেখানে আমাদের ৬৪ জেলার সব দেশি খাবার লিপিবদ্ধ থাকবে আর জানবো শেখান থেকে আর সেই খাবার সম্পর্কে আগ্রহ বাড়বে খাবার। তাই দেশি খাবার সম্পর্কে জানার জন্য সিলেবাস খুব জরুরী।


Goury Saha Misty

ধন্যবাদ ভাইয়া 
মাছে ভাতে বাঙ্গালি। 
ছাপান্ন হাজার বর্গমাইলের এই দেশে অসংখ্য নদী নালা রয়েছে আর তাতে পাওয়া যায় অনেক রকমের মাছ। তাই বাঙালির নিত্য দিনের খাদ্য তালিকায় মাছ না থাকলে যেন খাবারের পূর্ণতা আসে না। রুই, কাতলা, চিতল, বোয়াল, শিং, মাগুর,ইলিশ, পাবদা,। এছাড়াও রয়েছে মলা, ডেলা, টেংরা, পুটি, কাচকি, বাতাসী বাহারি নামের ছোট মাছ। এই মাছ গুলো সুস্বাদু না আছে অনেক পুষ্টিগুণও। এই মাছ রান্নায় ও রয়েছে ভিন্নতা। জেলা তো বটে অঞ্চল ভেদেও রয়েছে ভিন্নতা।বাঙালি মাছ খাওয়া উপযোগী করেন সেকে, সামান্য পুড়িয়ে, ভেজে, ভর্তা, ভাপে সিদ্ধ, বড়া বানিয়ে বা কোপ্তা বানিয়ে। ইলিশ আমাদের জাতীয় মাছ। চাঁদপুরে তাহার বসবাস। চাঁদপুরের ইলিশ শুনলেই জিভে জল আসে। এই ইলিশ জিআই ভুক্ত পন্য হয়েছে। ইলিশ মাছের ঝোল, ভাজা থেকে শুরু করে এর আচার পর্যন্ত বানানো হচ্ছে। এমন অনেক মাছ ও খাবারের নাম ও গুনাগুন জানবো দেশীয় পন্যের সিলেবাসের মাধ্যমে


Ayesha Binte Ali

দেশীয় পণ্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবার 

উই তে আসার পরে বিভিন্ন বিষয়ে জানতে গুগল সার্চ করে একদিন গোলের গুড়ের নাম পাই, 
আমরা সাধারণত খেজুর, তাল ও আখের গুড় সম্পর্কে কমবেশি সবাই জানি,, কিন্তু গোলের গুড় সম্পর্কে কয়জন জানি? 
গোলপাতা গাছের রস থেকে প্রাপ্ত গুড় কে গোলের গুড় বলা হয়। এই গোলপাতার রস ডায়াবেটিস রোগীরা ও খেতে পারবে। ১৬ কলসি খেজুরের রস জ্বাল দিলে ১ কলসি গুড় হয় কিন্তু গোলপাতার ৮ কলসি রস জ্বাল করলে ১ কলসি গুড় পাওয়া যায়। ফলে দাম টা ও সাশ্রয়ী হয়। আর খেতেও অসাধারণ।
এই গোলপাতা সাধারণত নোনা এলাকায় হয় আর এটা চাষ করতে কোন রাসায়নিক সারের দরকার হয়না। কিন্তু এত সহজলভ্য হবার পরেও দিন দিন এই সম্পদ হারিয়ে যেতে বসেছে। তাল ও খেজুরের রস সংগ্রহ করা যতটা কষ্টের, গোলের রস সংগ্রহ করা ততটাই সহজ,, কারন এই গাছের গোড়া দিয়ে যে ফুলের মোচা বের হয়,, ওখান থেকেই রস পাওয়া যায়। 
আমি খুব করে চাই যে এই খাবার টা ও দেশী পণ্যের সিলেবাসে যুক্ত হোক, মানুষ জানুক ও ফিরিয়ে আনুক এই সম্পদ কে, পৌছে যাক সবার ঘরে ঘরে ই-কমার্সের মাধ্যমে। আর এটা নিয়ে কাজ করলে অনেক নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ হবে,, ফলে বেকারত্ব দূর হবে।


Sharmin Sultana

#দেশীয়_পণ্যের_সিলেবাসে_দেশীয় #খাবার_২

#ঢাকা_জেলার_বাকরখানি

📍যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের খাদ্যাভ্যাসে অনেক পরিবর্তন এসেছে । খাবারের ধরনে এসেছে আধুনিকতা। তবে অঞ্চল ও খাবারের স্বাদ ভেদে এখনো অনেক ঐতিহ্যবাহী খাবার টিকে আছে।

🌼 #পুরান_ঢাকার_বাকরখানি এর মধ্যে অন্যতম। প্রায় আড়াই শ’ বছরের পুরনো ঐতিহ্যের ধারক এ বাকরখানি।

🌼কাপভর্তি চায়ের মাধ্যমেই জেগে ওঠে পুরান ঢাকাবাসী। এত বছর পুরনো হয়েছে সত্য, তবে বাকরখানির চাহিদা কমেনি বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে। এমনকি আধুনিক সময়ে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বাকরখানি বিদেশেও রফতানি হচ্ছে।

🌼 পুরান ঢাকার বিখ্যাত এই বাকরখানি আজ যাচ্ছে কুয়েত, শ্রীলঙ্কা, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে।

🌼পুরান ঢাকার ইতিহাস থেকে জানা যায়, ঐতিহ্যবাহী এই বাকরখানি তৈরির পেছনে রয়েছে নবাবদের এক অমর প্রেমকাহিনী।

🌼মূলত বাকরখানি ছিলো নবাবদের খাবার। ময়দার সঙ্গে দুধের মালাই ও মাখন মিশিয়ে খামির তৈরি করে নবাবদের জন্য বাকরখানি বানানো হতো। সে সময় এটা ছিল নবাব আর আমিরদের প্রিয় খাবার।

🌼মালাই-মাখনের বাকরখানি এখন আর তৈরি হয় না। তবে পুরনো ঢাকার অনেক খানদানি পরিবার বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে মালাই-মাখনের বাকরখানি এখনো সরবরাহ করা হয়ে থাকে। 

🌼নোনতা, কাবাব, ছানা, পনির, চিনি, কিমা ও নারিকেলের সংমিশ্রণেও তৈরি করা যায় বাকরখানি।

🌼এ ছাড়া গরু ও খাসির মাংস দিয়েও এক ধরনের বাকরখানি তৈরি করা যায়। এই ধরনের বাকরখানি সাধারণত ঈদের সময় স্পেশাল অর্ডার দিয়ে তৈরি করা হয়।

🌼নোনতা বাকরখানি সাধারণত ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য তৈরি করা হয়।

🌼বাকরখানি চায়ের সঙ্গে খাওয়ার প্রচলন পুরান ঢাকাতেই বেশি। এ ছাড়াও গরু, খাসি, মুরগির মাংসের সঙ্গেও বাকরখানির স্বাদ অতুলনীয়।


Mousumi Datta Mou

আড্ডা পোস্ট ১২ জুন ২০২০।

বিষয়ঃ দেশীয় পণ্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবার।
দেশীয় খাবারের মধ্যে রয়েছে অনেক খাবার যেমন নারকেল নাড়ু, নকশী পিঠা, চিতই পিঠা,পুলি পিঠা,হাতে কাটা চুসি পিঠা,পোয়া পিঠা ইত্যাদি,খেজুরের গুড়,ছোট মাছ,কৈ, শিং,পুঁটি, টেংরা, খলসে,শৈল ইত্যাদি।
রাজমা, শিমের বিচি, কাজুবাদাম, কুমিল্লার রসমালাই, বগুড়ায় দই, সিলেটের সাতকরা, নোয়াখালী জেলার খোলজা, বরিশালের ইলিশ, মহেশখালীর পান,রাজশাহীর লিচু, সাতক্ষীরার আম, চুয়াডাঙ্গার আম, মাসরুম,তুলসীমালার চাল,মধুভাত,সিদল,শিতলপাটি,আদাজামির,জলঢুপি,ডেফল,জারক লেবু,লুকলুকি ,শুঁটকি মাছ,শুঁটকি মাংস,পাট শাক, চাঁদপুরের সরষে ইলিশ, গৌরনদীর দই, টাঙ্গাইল এর চমচম,পুরান ঢাকার বিরিয়ানি , বাখরখানি, খুলনার ইন্দোমোহনের সন্দেশ, মিষ্টি,ক্ষীর, পায়েস,ননী, ঘি,মাখম, বরিশালের চালের রুটি, চিংড়ি মাছের মালাই কারি, হাঁসের মাংস,সরষে ইলিশ, ময়মনসিংহ জেলার মিষ্টি,টক মিষ্টি ঝালের মিশ্রনে আমের আচার, লক্ষীপুরের সন্দেশ আরো কত কি আর নাম মনে পড়ছে না। এগুলো আমি কিছু টার নাম জানতাম বাকি কিছুটার নাম জেনেছি উইতে এসে। আমাদের দেশের খাবার খুবই সুস্বাদু।


Kazi Anisa

দেশীয় খাবারের মধ্যে কয়েক পদের বিখ্যাত মিষ্টির নাম জানতে পেরেছে উই এর বদৌলতে। আসলে চমচম বলতে আগে টাঙ্গাইলের চমচম বুঝতাম আর এখন শিবগঞ্জের চমচম ও মজা লাগে।চাঁদপুরের আউয়ালের মিষ্টিও অনেক মজা। রাজমা যে আমাদের দেশে হয় জানতাম না। আসলে এধরনের আঞ্চলিক বহু খাবারের নাম জানা যাবে এবং খাওয়া যাবে যদি সিলেবাসে দেশী খাবার সম্পর্কে লেখা থাকে।


Ummu Amatullah

দেশীয় পন্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবারঃ ৭

শরীফা একটি অত্যন্ত সুস্বাদু ফল।এই ফল সীতাফল বা মেওয়া নামেও পরিচিত। এটি বিলুপ্তপ্রায় একটি ফল।অনেকেই মনে করেন,কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কারের অনেক আগেই পর্তুগিজরা প্রশান্ত মহাসাগরীয়র কোন এক দ্বীপ থেকে ভারতবর্ষে নিয়ে আসে। বর্তমানে থাইল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হয়।কিন্তু বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে এই ফল।তাই আমাদের আবার এর চাষ করে বিশ্ববাজারে এর বাজার তৈরি করে আবার আমরা আর্থিকভাবে লাভবান হতে পারি। পাকা ফলের বীজ কালো আর কাচাঁ ফলের বীজ সাদা।এই ফল বলকারক, বাত-পিত্তনাশক,তৃষ্নানিবারক ও বমিরোধে সাহায্য করে।এর শিকড় রক্ত আমাশয় রোগে উপকারী। 


Sharmin Kulsum

শেষ খানা বলে আমাদের লক্ষীপুর অঞ্চলে। এটা আসলে মেইন ডিশ শেষ করার পর দুধভাত সাথে কলা চটকে খাওয়া কে বলে। অনেকের পাতে এ সময় গুড় ও দেখা যায়। আর বর্তমান সময়ে এই শেষ খানায় রয়েছে অনেক আয়োজন। দেশীয় মিষ্টি, দই,পিঠা শেষ খানার অন্তর্ভুক্ত।


Ummu Amatullah

দেশীয় পন্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবারঃ
পোস্ট - ৮ঃ

পানিফল আমরা কমবেশি সবাই চিনি।একে শিংড়া নামেও পরিচিত। প্রায় ৩০০০ বছর আগে চীনে চাষ হত।এখন বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে অনেক দেখা যায়।এটি জলজ উদ্ভিদ। এর গায়ে কাটা থাকে।এটি কাচাঁ, সেদ্ধ বা রান্না করে খাওয়া যায়।বিভিন্ন দেশে পিঠা, কেক, বিস্কুট তৈরি করে খায়।ঢাকায় ফলের দোকানগুলোতে প্রায়ই দেখা যায়।এর রং লাল,নীলাভ সবুজ বা কালচে হয়।এর নরম সাদা শাঁস খেতে অনেক মজা। 


Sahiba Sultana

টপিকঃদেশিয় পন্যের দেশিয় খাবার 

দেশিয় খাবারে পিছিয়ে নেই ফেনীও।তাই আর দেরি কিসে বলেই ফেলি।
ফেনীর খন্ডলের মিস্টি, মহিষের দই সেরা। পিঠার মধ্যে চাঁইয়া পিঠা যার নাম শুনলেই অনেকে অভাক হয়। নোয়াখালী, ফেনীতে এই পিঠা উৎসব, বিভিন্ন বিয়ে এবং বাচ্চাদের দাত ও জন্ম উপলক্ষে বানানো হয়।শুটকি ভর্তা 😋এটা প্রায় সব জেলাতেই প্রচলিত খাবার।আরও আছে ফেনির ঐতিহ্যবাহি শুটকি ভুনা।
মাছে ভাতে বাংগালী আমরা। প্রতিটি জেলায় আছে অনেক রকম মাছ।এক জেলায় এক মাছের চাষ সেরা।
এভাবে দেশের প্রতিটি জেলা হরেক রকম খাবারের জন্য বিখ্যাত। যার একটা সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা উঠে আসবে দেশিয় সিলেবাসে।

এই সিলেবাস পড়ে এক জেলার মানুষ অন্য জেলার ট্রেডিশনাল, বিখ্যাত খাবার সম্পর্কে জানবে।
এছাড়াও অনেক উদ্যোক্তা এসব দেশিয় খাবার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। যার চাহিদা সারা দেশ ব্যাপি। সিলেবাসের মাধ্যমে সহজেই আমরা জানবো কোন জেলার কোন উদ্যোক্তা কি কি খাবার নিয়ে কাজ করছেন।

শুধু তাই নয়।দেশের বাইরের মানুষও এক সময় বাংলাদেশের খাবার নিয়ে জানবে।দেশের বাইরেও যাবে এই খাবার গুলা।


Biplob Kishore Deb

পুরো কমেন্টটি তিনটি ভাগে ভাগ করে দিচ্ছি এখানেঃ

কমেন্ট-১

দেশীয় পণ্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবার

আবহমানকাল ধরেই নদী বিধৌত পলি মাটি’র সুজলা-সুফলা-শস্য-শ্যামলা আমাদের এই দেশ। খাবারের দিক দিয়ে প্রকৃতি প্রাচীনকাল থেকেই দু’হাত ভরে দিয়েছে আমাদের। মাঠের শস্য থেকে শুরু করে গাছের ফল, সবজি; আবার গৃহপালিত পশু’র ডিম, মাংস ও দুধ থেকে শুরু করে নদীর মাছ- সব ধরণের খাবারই আমরা প্রকৃতি থেকে পেয়ে আসছি। ঋতুর পালাবদল আবার সেই খাবারেও এনে দিয়েছি বৈচিত্র্য। ফলে বাঙ্গালি সুপ্রাচীনকাল থেকেই রসনা বিলাসী এবং বাঙ্গালির ভোজন বিলাসের কথা আমাদের সাহিত্যে, লোকগানে বার বার উঠে এসেছে।

তাই নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, দেশীয় পণ্যের সিলেবাসের একটি বড় অংশ জুড়েই থাকবে আমাদের দেশীয় খাবার। আজ সারাদিন খাবার নিয়ে অসংখ্য পোস্ট এসেছে ডিএসবি গ্রুপে এবং সেখানে লক্ষ্যনীয় বিষয় হলো বিভিন্ন জেলার খাবারেও যে অপূর্ব সব বৈচিত্র্য রয়েছে, আমি নিশ্চিত আমাদের দেশের ১০ শতাংশ মানুষেরও এ ব্যাপারে কোন ধারণা নেই। এমন অনেক খাবারের নাম আমি আজ প্রথম জানলাম (যেমনঃ বরিশালের ‘মলিনা’)। দেশীয় পণ্যের সিলেবাস একটি পরিকল্পিত কাঠামোর মাধ্যমে বিস্তৃত আকারে এই জানানোর কাজটি করবে।

বিভিন্ন প্রকার দেশী খাবার সম্পর্কে জানার এই কাজটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারন যে বিষয় সম্পর্কে আমরা জানি না, সে বিষয়ে আমাদের আগ্রহ তৈরি হবারও কোন সম্ভাবনা থাকে না। যেমনঃ উই’তে আসার আগে রাজবাড়ি ও চাপাইনবাবগঞ্জের চমচম সম্পর্কে আমার কোন ধারণাই ছিলো না; চমচম বলতে আমি শুধু টাঙ্গাইলের চমচমই জানতাম। আজকে রাইজিংবিডি’র সাথে সাক্ষাৎকারে এমনকি স্যারও বলেছেন যে এই দুটো জেলার চমচম সম্পর্কে তিনিও জানতেন না।

আমি আজ রাজবাড়ির চমচম সম্পর্কে জানতে পেরেছি বলেই কিন্তু আমার মধ্যে রাজবাড়ির চমচম চেখে দেখার সাধ হয়েছে, বা চাপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জের চমচম খাবার ইচ্ছে হয়েছে। এভাবেই দেশীয় পণ্যের সিলেবাসের কল্যাণে আমরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নাম না জানা বিভিন্ন খাবার আইটেম সম্পর্কে জানতে পারবো, আর জানলে তবেই না এই সব খাবারের স্বাদ আস্বাদনের আগ্রহ জন্মাবে আমাদের মধ্যে।


Biplob Kishore Deb

কমেন্ট-২
দেশীয় পণ্যের সিলেবাস এবং দেশী খাবারে এক্সপেরিমেন্ট বা পরীক্ষানিরীক্ষা
বাঙ্গালি’র খাবারে প্রকৃতি’র অবদান যেমন অনস্বীকার্য, তেমনি ইতিহাসে ক্ষমতার পালাবদলের সাথে সাথে পৃথিবী’র বিভিন্ন সংস্কৃতি’র বিভিন্ন খাবারের সস্মীলন ঘটেছে বাঙ্গালির রান্নাঘরে। মুঘলদের হাত ধরে যেমন এসেছে বিরিয়ানী, কাবাব, মোঘলাই, জর্দা, তেমনি ইউরোপিয়ানদের হাত ধরে এসেছে চা, বিস্কিট, পাউরুটি, স্যুপের মতো খাবার। 
রসনা বিলাসী বাঙ্গালি কালের বিবর্তনে এই সব খাবারের অনেকগুলোই আপন করে নিয়েছে একেবারে নিজেদের মতো করে, অন্যের অন্ধ অনুকরণে নয়। দেশীয় মসলা বা অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করে অন্য সংস্কৃতি’র খাবারেও নিয়ে এসেছে দেশীয় স্বাদ।
খাবার নিয়ে বাঙ্গালির এই যে এক্সপেরিমেন্ট বা পরীক্ষানিরীক্ষা সেটার সুযোগ ও সম্ভাবনাও ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে দেশীয় পণ্যের সিলেবাসের কল্যাণে। কারন এই সিলেবাসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খাবার সম্পর্কে যখন মানুষ জানবে তখন সেই সব খাবার নিয়ে ফিউশন বা এক্সপেরিমেন্টের বিভিন্ন আইডিয়াও পাবেন তারা (যেমনঃ উই’তে এক আপু করোলার চিপস নিয়ে পোস্ট দিয়েছিলেন)। আর এভাবে করে দেশীয় খাবারে নতুন নতুন আইটেম যুক্ত হবে, সমৃদ্ধ হবে আমাদের দেশীয় খাবার। 
আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করেছি যে, কোন একটি খাবারের অংশবিশেষ যেটা এক অঞ্চলের মানুষ ফেলে দেয় সেটাই অন্য অঞ্চলের মানুষ বিশেষ রন্ধন প্রক্রিয়ায় মজাদার ও সুস্বাদু খাবারে পরিণত করে। যেমনঃ কালোজিরা দিয়ে কাঁচকলার খোসা ভর্তা আমার খুব প্রিয় একটি খাবার। আবার খাবার নিয়ে করা পোস্টগুলোতে দেখেছি যে, একই খাবারের নামেও অঞ্চলভেদে ভিন্নতা রয়েছে। 
দেশীয় পণ্যের সিলেবাসের কল্যাণে এই সকল প্রকার অজানা তথ্যই খোলা বইয়ের মতো আমাদের সামনে উন্মুক্ত হয়ে যাবে। আমরা এগুলো সম্পর্কে জানবো, শিখবো এবং এভাবে করে দেশের এক প্রান্তের খাবার অন্য প্রান্তে চলে যাবে ই-কমার্সের কল্যাণে। 


হুমায়রা ইসলাম তাকওয়া

আমি চাঁদপুরে থাকি।তাই শুধু চাদঁপুরের খাবারের নামগুলোই জানি।দেশীয় পন্যের সিলেবাসের মাধ্যমে দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা খাবার গুলোর সম্পর্কে জানতে পারবো। 

চাঁদপুরের নাম নিলেই সবার প্রথম ইলিশের নাম চলে আসে।অন্য যেকোনো অঞ্চলের চেয়ে চাঁদপুরের ইলিশ স্বাদে গুণে অনন্য। দেশের প্রথম ব্র্যান্ডিং জেলা চাঁদপুর যার ব্র্যান্ডিং পণ্য ইলিশ মাছ। বাঙালি হিসেবে প্রিয় খাবার সরষে ইলিশ।কিছু মিষ্টির জন্য ও চাদঁপুর প্রসিদ্ধ। ওয়ান মিনিটের আইসক্রিম, আউয়ালের মিষ্টি, মতলবের ক্ষীর। এছাড়াও নদী তীরবর্তী অঞ্চল হওয়ায় সবধরনের কৃষি পণ্য ও মাছ এখানে প্রচুর পাওয়া যায়।
দেশের প্রতিটি জেলার সম্পর্কে জানতে চাই তাই দেশীয় পণ্যের সিলেবাসে খাবারের গুরুত্ব অনেক।


Fahmida Akter

বাঙালী বরাবরই ভোজন রসিক জাতি। তাই দেশীয় পন্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবার খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশাল অংশ জুড়ে আছে। এর মাঝেও আরো গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে জায়গা দখল করে যে খাবার তা হল বিভিন্ন এলাকার বিভিন্ন রকম পিঠা। 
পিঠা ইংরেজি আমাদের কেক শেখানো হলেও কেক শব্দটা দেশীয় পিঠার আভিজাত্য ও বৈচিত্র্য ঠিকঠাক প্রকাশ করতে পারে না। আমাদের দেশের আনাচে-কানাচে বিভিন্ন গ্রামে বছর জুড়ে তৈরি হতে থাকে নানা রকম পিঠা। সবচেয়ে জনপ্রিয় পিঠার মধ্যে রয়েছে পাটিসাপ্টা পিঠা, ভাপা পিঠা, চিতই পিঠা, পাকন পিঠা, পুলি পিঠা, চই পিঠা, মেরা পিঠা, তালের বড়া পিঠা ও কেক পিঠা, বিবিখানা পিঠা, রসমঞ্জরি পিঠা, পোয়া পিঠা, ছিট রুটি পিঠা, নকশি পিঠা, ডিমের বিস্কিট পিঠা, ফুলঝুরি পিঠা, সুজির বড়া পিঠা। এক ধরনের পিঠারও রয়েছে বিভিন্ন প্রকার। যেমন পুলি পিঠার প্রকারের মধ্যে রয়েছে নারকেল পুলি, দুধ পুলি, ছানার পুলি, মাংস পুলি। 
এ সবই দেশি খাবারের ভান্ডারকে অনেক বেশি সমৃদ্ধ করেছে। দেশি পন্যের সিলেবাসে আমরা সবাই আরো অনেক নাম না জানা পিঠার সন্ধান জানতে পারবো বলে আশা করছি।


Rafa Binte Faroque

পোস্টঃ১ 
দেশী পণ্যের সিলেবাস 

বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী অনেক রকম খাবার রয়েছে।প্রতিটা জেলা নানা রকম দেশীয় খাবারের জন্য বিখ্যাত।একেক খাবার একেক জেলাকে ব্র্যান্ডিং করে।

আমার জন্মস্থান ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।
তাই সবার প্রথম এই এলাকার বিখ্যাত "ছানামুখী" নিয়ে লিখছি।আমার বাবা প্রায়ই এই ছানামুখীর গল্প করেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পছন্দের খাবারের তালিকায় প্রথম সারিতে আসে ছানামুখীর নাম।বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০০ বছর আগে লোভনীয় খাবারের তালিকায় এই নামটি যোগ করেছিলেন মহাদেব পাঁড়ে ।তার পর দীর্ঘ সময় ধরে বৃটিশ কর্মকর্তা থেকে আমজনতা সবাই তৃপ্ত এর স্বাদে। 
বৃটিশ রাজত্বকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মিষ্টি, ছানামুখী এর সুখ্যাতি দেশ বিদেশে ছড়িয়ে পড়েছিল। ব্রাহ্মণবাড়িয়ারমিষ্টির সুনামের পেছনে যে ব্যক্তির নাম জড়িত তিনি হলেন মহাদেব পাঁড়ে। তাঁর জন্ম স্থান কাশীধামে। তাঁর বড় ভাই দুর্গা প্রসাদ কিশোর মহাদেবকে নিয়ে কলকাতায় আসতে হয়। বড় ভাই এর মিষ্টির দোকানে মিষ্টি তৈরী শুরু করেন বালক মহাদেব। কিন্তু অসময়ে বড় ভাই দুর্গা প্রসাদ পরলোক গমন করেন।নিরাশ্রয় হয়ে মহাদেব বেড়িয়ে পড়লেন নিরুদ্দেশে।অবশেষে এলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে। শতাধিক বছর পূর্বে তখন শহরের মেড্ডার শিবরাম মোদকের একটি মিষ্টির দোকান ছিল।তিনি মহাদেবকে আশ্রয় দিলেন।মহাদেব আসার পর শিব রামের মিষ্টির সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। মৃত্যুর সময় শিবরাম তাঁর মিষ্টির দোকানটি মহাদেবকে দিয়ে যান। জানা যায় যে, ভারতের বড়লাট লর্ড ক্যানিং এর জন্য একটি বিশেষ ধরনের মিষ্টি তৈরী করে পাঠানো হয়েছিল কলকাতায়।লর্ড ক্যানিং এবং স্ত্রী লেডী ক্যানিং এ মিষ্টি খেয়ে খুব প্রশংসা করেছিলেন। এরপর এ মিষ্টির নাম রাখা হয় ‘লেডি ক্যানিং’ মিষ্টি বর্তমানে যা‘লেডি ক্যানি’ নামে পরিচিত। তাঁর তৈরী আর একটি মিষ্টির নাম ‘ছানামুখী’।এ ছানামুখীর সুনাম এখনও দেশ বিদেশে অক্ষুন্ন রয়েছে।১৯৮৬ সালে ইসলামাবাদে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত অফিসে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের এক অনুষ্ঠানে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল জিয়াঊল হক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার লেডী ক্যানি খেয়ে উচ্ছ্বখিত প্রশংসা করেছিলেন যা পাকিস্তানের বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল। বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বেশিরভাগ মিষ্টির দোকানে পাওয়া যায় এই সুস্বাদু খাবারটি।


Kotha Shahrior

দেশীও পণ্যের সিলেবাসে দেশীও খাবার...
আমি এখানে আমার যশোর অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী কিছু খাবার নিয়েই কথা বলি...

গুড় পাটালি, গুড়জল
আগে অতিথি দেরকে মিষ্টিমুখ করানো হতো এই গুড়জল দিয়ে...
সে সময় ধান ও আখ চাষের ওপরই মিষ্টি নির্ভরশীল ছিল... আখ, খেজুর, তালের গুড়-মিছরিই ছিল তখনকার শ্রেষ্ঠ মিষ্টি...
মধ্যযুগে ছানা আবিষ্কৃত হলে মিষ্টি তৈরিতে বিপ্লব সংঘটিত হয়...
টকের সাহায্যে দুধকে ভেঙে ছানা তৈরি করে সেই ছানা দিয়ে বিভিন্ন মিষ্টি তৈরি করা শুরু করে ঘোষেরা...
কিন্তু বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে ক্ষীর, পায়েস আজও স্বনামে-সুনামে মাথা তুলে রয়েছে...
যশোর অঞ্চলে ‘আল্লা আল্লা’, হ্যালা, সরুই পিঠা, রসের ক্ষীর, রসে ভেজা চিতই পিঠা, বা শুকনা গরম গরম চিতই পিঠা দিয়ে ঝোলা গুড়, ভাপা পুলি, দুধকদু এসব ঐতিহ্যবাহী খাবার অন্যতম সেরা মিষ্টি খাবার ছিল তখনকার... 
হারিয়ে যাওয়া এই মিষ্টি খাবারের পাশাপাশি আঞ্চলিক কয়েক রকম ঝাল খাবারও ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে...
অতিথি আপ্যায়ন, কুলখানি, মুখেভাত, খতনা, গায়েহলুদ, বিয়ে, ঈদ, মহররম, বর্ষবরণসহ বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে এই খাবারগুলো অতুলনীয় ছিল সবার কাছে... হকদানা, ছাক্কা, ডিমের খাট্টা, কাঁঠালের বিচি দিয়ে কুকড়োর (মুরগি) গোশ, নারকেল দিয়ে মুরগির ঝোল সাথে সিটা রুটি, চুই ঝাল দিয়ে খাসির গোশ, ঘাটকোল ভর্তা, ঘাটকোল ভাজি, নারকেলের দুধে ঘাটকোল, ডিম আমড়ার খাট্টা, যশোর অঞ্চলের অন্যতম খাবার...
এর মধ্যে বেশীর ভাগ ই এখন হারিয়ে গেছে...!!
দেশী পণ্যের সিলেবাসের বদৌলতে এই খাবারের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া খাবার গুলো আবার আনা যেতে পারে


Rafa Binte Faroque

পোস্ট ৩ঃ
দেশী পণ্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবারঃ

দেশী পনিরঃ

ইন্টারন্যাশনাল ডেইরী এসোসিয়েশন এর কাছে পাঁচশো এর মতো পনির তালিকাভুক্ত আছে।এর বাইরে ও নাকি পনিরের আরো রকম আছে।
তবে টপিক যেহেতু দেশী পনির নিয়ে তাই সেই আলোচনায় আর গেলাম না। 
আমাদের দেশে যেই পনির তৈরী হয় সেটা হলো cottage cheese। 

পনির যদিও সিলেট, সুনামগন্জ, মৌলভীবাজারের কুলাউড়া,নারায়ণগন্জ সহ আরো অনেক জায়গায় তৈরী হয় তবে কিশোরগন্জের অষ্টগ্রামের পনির আর ঢাকাই পনির এর নামডাক বেশী। কিশোরগন্জ জেলা তো পনিরের নামেই ব্র্যান্ডিং হচ্ছে।

আমাদের দেশীয় পনির এর ইতিহাস ঐতিহ্য অনেক পুরানো।ধারণা করা হয় মোগল বংশীয় এক দেওয়ান 'পনির খাঁ'এর নাম অনুসারে পনিরের নাম করণ করা হয়েছে। মোগল শাসনামলে থেকেই বাংলাদেশের পনির ব্যাবহার করা হতো রাজাবাদশাহ্ দের রান্নায়।এর পর ইংরেজ শাসনামলে এই পনির পৌঁছে যায় বৃটিশ রাজদরবারেও।রাণীর পছন্দের খাবারের তালিকায় ছিলো অষ্টগ্রামের পনির।আমাদের রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ হাওরের মানুষ।ছোট বেলা থেকেই পনির খেয়ে বড় হয়েছেন।সেই স্বাদ পেতে কিশোরগঞ্জের পনির নিয়ে এসেছেন বঙ্গভবনেও।

অষ্টগ্রামের পনির এর কেন এত নামডাক?

হাওরের আলো বাতাস আর তাজা ঘাস খেয়ে বড় হওয়া মহিষ গরু ছাগল এর দুধ এর মানের কারণেই পনিরের স্বাদ ও মান খুব ভালো হয়।প্রায় দশ লিটার দুধ থেকে কমবেশী এক কেজি পনির পাওয়া যায়।
হাওড়ে বসবাস রত প্রবীণ লোকদের সাথে কথা বলে জানা যায় একসময় গবাদিপশুর অনেক প্রাচুর্য ছিলো হাওড় এলাকায়।এত বেশী দুধ পাওয়া যেতো নিজেরা খেয়ে হাটে বিক্রি করেও শেষ করা যেতো না। সেই দুধ সংরক্ষণের কোন উপায় থেকেই এই পনিরের উৎপত্তি।পনির ও এত বেশি উৎপাদন হতো যে গৃহস্থ থেকে নিয়ে দিনমজুর সবার খাবার তালিকাতেই ছিলো এই পনির।গরমভাতের সাথে পনির কুচি কিংবা ধোঁয়াওঠা চিতই পিঠার উপর একটুকরো পনির দিয়েও আপ্যায়ন করা হতো।

দুধ বা দুধ থেকে উৎপন্ন ছানা থেকে বেশীর ভাগই মিষ্টান্ন তৈরী হয়ে থাকে সেই তুলনায় পনির অনেকটা ভিন্ন স্বাদের।বিভিন্ন মশলাদার খাবার রান্নায় ও এই পনির ব্যবহার করা হয়।
আজকাল আমরা বিভিন্ন ফাস্টফুডের সাথে যেই চিজ খেয়ে থাকি সেটা আর আমাদের দেশীয় পনির এক নয়।

প্রচার এর অভাব,কৃষিকাজে অাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের কারণে ফসলফলানোয় লাভ বেশী,হাওড়ে অকালবন্যায় গবাদিপশুর খামার কমে যাওয়া এসব কারণে অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছিলো আমাদের ঐতিহ্যবাহী এই পনির।
আমরাই পারি আবার প্রচার প্রসারের মাধ্যমে পনিরের সুদিন ফিরিয়ে আনতে।প্রান্তিক খামারীদের মুখে হাসি ফোটাতে।অষ্টগ্রামের পনিরকে দেশ ছাড়িয়ে দেশের বাইরেও পরিচিত করাতে।


Rafa Binte Faroque

পোস্ট ৪ঃ
দেশী পণ্যের সিলেবাসে দেশী খাবারঃ 
চুই ঝালঃ

চুইঝাল খেয়েছিলাম আরো দুইবছর আগে।অনলাইন থেকে কিনেছিলাম।স্বাদ টা এত দারুণ এখন প্রায়ই খাওয়া হয়।

চুইঝাল একটি প্রচলিত মসলা জাতীয় অর্থকরী ফসল।দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এটি বেশি চাষ হয়ে থাকে। স্থানীরা এটিকে চুইঝাল বলে থাকে।আর বৈজ্ঞানিক নাম Piper chaba।এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থানীয় প্রজাতি।বাংলাদেশে সাতক্ষীরা এবং খুলনাঞ্চলে সবচেয়ে ভালো চুই উৎপাদন হয়।

মাংসেই চুই বেশি ব্যবহার করা হয়।অনেকে চুই দিয়ে মাছও রান্না করে থাকেন।শুধুমাত্র চুইঝাল দিয়ে খাসির মাংসের রান্নার কারণে খুলনার চুকনগরে আব্বাসের হোটেলের সুখ্যাতি রয়েছে সারা দেশে।

রান্নায় ব্যবহার করা ছাড়াও চুইঝালের অনেক ওষধি গুণ ও রয়েছে।

স্থানীয়রা এখন বানিজ্যিক ভাবে চুই চাষ করছেন।তারা মনে করেন সবাই উদ্যোগ নিলে চুই বাংলাদেশের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বাইরেও রপ্তানি করা যাবে।


Rafa Binte Faroque

পোস্টঃ৬
দেশী পণ্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবারঃ
জলঢুপি আনারসঃ

আনারস পছন্দ করে না এমন মানুষ মনে হয় নাই।
গোলগাল টসটসে রসালো স্বাদের জলঢুপি আনারস চিনি আমরা কমবেশি সবাই।এই আনারস শ্রীমঙ্গলে চাষ হলেও মূলত জলঢুপি আনারসের উৎপত্তিস্থল সিলেটের বিয়ানীবাজারের জলঢুপ গ্রামে।ওই গ্রামের নামেই আনারসের নামকরণ।

সেখানে উঁচু-নিচু টিলাতে,বাড়ির আশপাশে আনারস চাষ হতো,এখনো হয়।সেই আনারস পরে শ্রীমঙ্গলে বিস্তৃতি লাভ করে। 

বর্তমানে শ্রীমঙ্গলের অসংখ্য টিলায় আনারস চাষ হয় এমন তথ্য জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। বৃহত্তর সিলেটের মধ্যে সর্বাধিক আনারস চাষের রেকর্ড মৌলভীবাজার তথা শ্রীমঙ্গলে।এই আনারস ধরে রেখেছে শ্রীমঙ্গলের সুনাম। 


Rafa Binte Faroque

পোস্ট ৭ঃ
দেশী পণ্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবারঃ
দেশী কফিঃ

নিগার আপুর মুখেই প্রথম শুনি বাংলাদেশে কফি চাষ ও হচ্ছে।
কফিসাধারণত পশ্চিমা দেশের অন্যতম পানীয়। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে সারাবিশ্বের সবার কাছেই পানীয় হিসেবে বেশ জনপ্রিয় এখন।

জানা গেছে, ২০০১ সালের দিকে খাগড়াছড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্রে পরীক্ষামূলকভাবে কফি চাষ শুরু হয়।যা ইতোমধ্যে সাফল্যের মুখ দেখতে শুরু করেছে।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৬শ’ ফুট উপরে যে কোন মাটিতে কফি চাষ করা সম্ভব। তবে পাহাড়ি উপত্যকা ও ঝরনার পাশের জমি এবং যেসব জমিতে লবণাক্ততা নেই; সেসব জমি কফি চাষের উপযোগী।

বাড়ির আঙিনা, ফুলের টব কিংবা বাড়ির ছাদেও কফি চাষ সম্ভব। চারা রোপণের ৪-৫ বছরের মধ্যে কফির ফল-গোটা সংগ্রহ করা যাবে। 

কফি গাছ থেকে শুধুমাত্র পানীয়ই নয়। কফি গাছের অন্যান্য উপকরণ ব্যবহার করে মধু ও শ্যাম্পু তৈরি করা যাবে। একটি কফি গাছের ফুল থেকে প্রতিবারে একশ’ গ্রাম মধু সংগ্রহ করা যায়।

স্থানীয় কৃষকের মাঝে সঠিকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া গেলে কফি চাষে স্বচ্ছলতা আসবে পাহাড়ি জীবনে।কৃষি পর্যায়ে কফি চাষের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তুলতে পারলে এটি ভবিষ্যতে দেশের অর্থকরী ফসলে পরিণত হবে


Rafa Binte Faroque

পোস্ট ৮ঃ
দেশী পণ্যেট সিলেবাসে দেশীয় খাবারঃ
দেশী চা

আমি চা খেতে পছন্দ করি না।শখ করেও খাইনি কখনো চা।
সেই ছোট বেলায় রচনা পড়েছিলাম পাটের পর চা বাংলাদেশের দ্বিতীয় অর্থকরি ফসল।

চা উৎপাদনে বাংলাদেশের অবস্থান দীর্ঘদিন দশম থেকে নবম হয়েছে।রপ্তানীতে নব্বইয়ের দশকে পঞ্চম অবস্থান ছিলো।সেগুলো এখন সোনালী অতিত।

সিলেটের মালনিছড়া চা-বাগানের মাধ্যমে ১৮৫৪ সালে বাংলাদেশে চা চাষ শুরু হয়৷ তবে বাণিজ্যিক চাষ শুরু হয় ১৮৫৭ সালে৷ বর্তমানে হেক্টর প্রতি গড়ে উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ২৪৭ কেজি চা৷

চা সংসদের তথ্য মতে, দেশে বর্তমানে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ৯০৪ হেক্টর জমিতে তিন শ্রেণির ১৬৩টি চা-বাগান রয়েছে৷ এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯০টি চা-বাগান রয়েছে মৌলবীবাজার জেলায়৷এছাড়া হবিগঞ্জ ও সিলেটে ২০টি করে, চট্টগ্রামে ২২টি, পঞ্চগড়ে ৯টি এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও রাঙামাটিতে একটি করে চা-বাগান রয়েছে৷
পঞ্চগড়ের অর্গানিক চা বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে।

দুঃখের বিষয় হলো আমাদের এত সমৃদ্ধ চা শিল্প থাকার পরেও রপ্তানীর চারগুণ চা আমদানী করা লাগে।চা এর রং,স্বাদ ও ঘ্রাণে সেরা আমাদের দেশীয় চা এর বাজার টিকিয়ে রাখতে আমাদের সবার ই এগিয়ে আসতে হবে।যেন অন্তত বাইরের দেশ থেকে চা আমদানী করার দরকার না হয়।


Rafa Binte Faroque

পোস্ট ৯ঃ
দেশী পণ্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবারঃ
ধনির চিড়াঃ

ডিএসবি তে ঘুরতে গিয়ে এই নাম দেখে ইন্টারেস্টিং লাগলো খুব।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বারবাড়িয়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী পণ্য এই ধনির চিড়া।একশ বছরের ও পুরানো এর ইতিহাস।বৃটিশ রাজদরবারেও এই চিড়ার কদর ছিলো খুব।

উনবিংশ শতাব্দীর শেষ দিকে বাংলায় অনেক অভাব দেখে দিলে উপজেলার বারবাড়িয়া গ্রামের শ্রীমতী ধনি রানী তার ছেলেদের খাবারের খোঁজে বলিয়াদি জমিদারের নিকট সাহায্যের জন্য গেলে জমিদাররা উনাকে কিছু ধান সাহায্য হিসাবে দেন।তিনি দেখলেন ধান থেকে ভাত রান্না করলে তা তাড়াতাড়ি শেষ হয়ে যাবে।তাই বেশিদিন কিভাবে খাওয়া যাবে এই চিন্তা থেকে চিড়া বানান এবং কিছু ধান বীজের জন্য রেখে দেন।সেই থেকে এই চিড়ার নাম হয় ধনির চিড়া। 

কালিয়াকৈরের উৎপাদিত নয়াশাইল বা নাইয়া শাইল ধান থেকে বিশেষ ধরনের ঢেঁকিতে এই চিড়া তৈরী হয়।
দু'জন লোক অর্ধদিন পরিশ্রম করে মাত্র ১০/১২ কেজি চিড়া তৈরি করতে পারে।অত্যন্ত মিষ্টি-সুগন্ধিযুক্ত দেখতে সাদা বর্ণের এ চিড়া খুবই হালকা ও আকারে ছোট। পানিতে ভিজানোর সাথে সাথে এ চিড়া গলে যায় এবং সুগন্ধ ছড়ায়।

ঐতিহ্যবাহী এই পণ্য প্রচারের অভাবে বিলুপ্তপ্রায়।আমরাই পারি আবার এর সুদিন ফিরিয়ে আনতে।


Rafa Binte Faroque

পোস্ট ১০
দেশী পণ্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবারঃ
ধনির চিড়াঃ

ধনির চিড়া নিয়ে এক পর্ব লিখেছি আগে এখন আরেক পর্ব লিখছি..

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বারবাড়িয়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী পণ্য এই ধনির চিড়া।একশ বছরের ও পুরানো এর ইতিহাস।শুধু বাংলাদেশেই না বৃটিশ রাজদরবারেও এই চিড়ার কদর ছিলো খুব।

ধনির চিড়া কেমন করে বৃটিশ সম্রাজ্য জয় করেছিলো এই পর্বে শুধু সেই গল্পই বলবো..

১৮৮৬ সালে ইংল্যান্ডের মহারানী ভিক্টোরিয়ার জন্মোৎসবে তৎকালীন ঢাকার গভর্নর কয়েক মণ ধনির চিড়া অতিথি আপ্যায়নের জন্য পাঠান।সেই জন্মোৎসবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় অতিথিবৃন্দ এ চিড়ার গুণগত মান ও স্বাদ গ্রহণ করে মুগ্ধ হয়। পরে রানী এ চিড়ার প্রস্তুতকারীকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইংল্যান্ড সফরের আমন্ত্রণ জানান।তার আমন্ত্রণপত্র নিয়ে রাণীর বিশেষ দূত তৎকালীন ঢাকা জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ ধনি রানীর গ্রামের বাড়ি কালিয়াকৈর উপজেলার বারবাড়িয়া গিয়ে আমন্ত্রণের কথা জানালে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। বাংলার ঐতিহ্য মসলিন শাড়ির ধ্বংসের ইতিহাস ধনি রানী লোকমুখে শুনেছিলেন।

বিশ্বখ্যাত মসলিন শাড়ী উৎপাদনকারীদের হাতের কব্জি কেটে দেয়ার কথা মনে পড়ায় ভয়ে ধনী রানী ইংল্যান্ড সফরে যেতে অস্বীকার করে।

বৃটিশ সরকার দ্বিতীয়বারের মতো তাকে ইংল্যান্ড সফরের আমন্ত্রণ জানালে ধনি রানী ভারতবর্ষের তীর্থস্থানসমূহ ভ্রমনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ১৮৮৭ সালে তিনি বৃটিশ রাজের অতিথি হিসাবে ভারতবর্ষ ভ্রমন করেন।

ঐতিহ্যবাহী এই পণ্য প্রচারের অভাবে বিলুপ্তপ্রায়।আমরাই পারি আবার এর সুদিন ফিরিয়ে আনতে।


Rafa Binte Faroque

পোস্ট ১১
দেশী পণ্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবারঃ
ডেউয়াঃ

ছোট বেলায় ডেওয়ার ভর্তা খেয়েছিলাম স্বাদ টা এখন ও মুখে লেগে আছে মনে হয় 
অথচ ফল বললেই আমরা বিদেশি দামি ফল যেমন- আপেল, কমলা, আঙুর ইত্যাদি বুঝি,এসব ফলে বেশি পরিমাণে ভিটামিন থাকে বলে মনে করি।

খোঁজ নিলে দেখা যায় আমাদের দেশে ভিটামিনসমৃদ্ধ ফলের অভাব নেই।
এসবের দাম আপেল, কমলা, আঙুর, বেদানা ইত্যাদি ফলের চেয়ে কম।
ডেউফল বা ডেউয়া হল তাদের মধ্যে অন্যতম। 

ইংরেজি নাম: Money jack
বৈজ্ঞানিক নাম: Artrocarpus lakoocha

গাজীপুর, টাংগাইল, ময়মনসিংহ, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি এলাকায় বিশেষ ভাবে উৎপন্ন হয় এই ফল।এছাড়া গ্রামের দিকে কিছু কিছু এলাকায় এই ফল দেখা যায়,শহরে তেমন চোখে পড়ে না।

আমরা সঠিক ভাবে প্রচার করতে পারলে বানিজ্যিক ভাবেও এই ফল চাষ করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে দেশের বাইরেও রপ্তানি করা যাবে।


Rafa Binte Faroque

পোস্ট ১২
দেশী পণ্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবারঃ
কাউনের চালঃ 

ছোটবেলায় একবার খেয়েছিলাম।একসময় বাংলাদেশে প্রচুর পরিমাণে কাউন চাষ হতো।অনেক বেশী পুষ্টিগুণ সম্পম্ন কাউন এখন প্রচার প্রসারের অভাবে ধানের সাথে পাল্লা দিয়ে টিকতে না পেরে তার জৌলুস হারাতে বসেছে। 

লোক মুখে শোনা যায় রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় বেশি পরিমাণ কাউনের চাষ হতো বিধায় এর নাম কাউন রাখা হয়।
অতিথি আপ্যায়নে, উৎসব-পার্বণে কাউনের পায়েসের বেশ প্রচলন আছে।মিষ্টিপ্রেমীদের কাছে ভীষণ পছন্দের একটি খাবার কাউনের ক্ষির, কাউনের পায়েস।বিস্কুট তৈরিতেও কাউন ব্যবহৃত হয়।কাউন চাল দিয়ে শুধু পায়েশই নয়, বিরিয়ানি, পোলাও, ভুনা খিচুড়ি এমনকি সাদা ভাতও রান্না করা যায়।আজও অনেক বাড়িতে কাউন চালের জাউ রান্না হয়।


Rafa Binte Faroque

পোস্ট ১৩ঃ
দেশী পণ্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবারঃ
বগুড়ার মিষ্টি দইঃ

আমার বরের অফিস ট্যুরের সুবাদে বগুড়ার মিষ্টি দই টা অনেক বেশী খাওয়া হয় বাসায়।আত্বীয় দের উপহার ও পাঠানো হয়।দই টাই এত মজার নিজে খেয়ে মনে হয় সবাইকে ও খাওয়াই।এর স্বাদ চেনাই।

বাংলাদেশের সব জায়গায় দই পাওয়া গেলেও বগুড়ার দই সবচেয়ে জনপ্রিয়।বগুড়া জেলা ব্র্যান্ড পণ্য এই মিষ্টি দই 
এর ঐতিহ্য প্রায় ২০০ বছর হতে চললো..
বগুড়ার শেরপুরে প্রথম দই তৈরী হয় প্রায় আড়াইশ বছর আগে। তৎকালীন বগুড়ার শেরপুরের ঘোষ পরিবারের ঘেটু ঘোষ প্রথম দই তৈরী আরম্ভ করেন।

বগুড়ার দই এর সুনাম কিন্তু দেশেই নয় দেশের বাইরেও রয়েছে।
১৯৩৮ সালে বাংলার গভর্নর স্যার জন এন্ডারসন দই খেয়ে মুগ্ধ হয়ে এ দই ইংল্যান্ডে রপ্তানির পরিকল্পনা করেছিলেন।

দইয়ের খ্যাতি ব্রিটিশ আমল থেকে সর্বত্র ছড়িয়ে পরে।
ষাটের দশকের প্রথম ভাগে ব্রিটেনের রানি এলিজাবেথও বগুড়ার দইয়ের স্বাদ নিয়েছেন। 

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান বগুড়া বেড়াতে গিয়ে দই খান এবং উপঢৌকন পাঠান ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিদের কাছে।

বগুড়ার এই দইয়ের সুনাম দুইশো বছর ধরে একই রকম আছে।


Rafa Binte Faroque

পোস্ট ১৪ঃ
দেশী পণ্যের সিলেবাস এ দেশীয় খাবারঃ
কমলাঃ

কমলা পছন্দ করে না এমন মানুষ মনে হয় নেই।মূলত রূপ, গন্ধ এবং স্বাদের কারণেই এই ফল এত বেশি জনপ্রিয়। 
আর কমলার কথা বলতে গেলে সবার আগেই মনে পড়ে সিলেটের কথা।কারণ আমাদের দেশে উৎপাদিত অধিকাংশ কমলাই সিলেট অঞ্চলের। 

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ২শ' বছরও আগে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার পাথারিয়া পাহাড়ের টিলায় কমলা চাষ হতো।
বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী, কুলাউড়া এবং সিলেটের বিয়ানীবাজারে প্রচুর পরিমাণে কমলার চাষ হচ্ছে।বাণিজ্যিকভাবে কমলা চাষ হয় এমন বাগানের সংখ্যা চার শতাধিক। 

তবুও আমাদের চাহিদা পূরণ করতে প্রচুর পরিমাণ কমলা বিদেশ থেকে আমদানী করা লাগে।কমলা কে আরো বিস্তৃত পরিসরে চাষাবাদ করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানী করতে উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবী


Farjana Yasmin Mousumi

পোস্ট-২

বিষয়ঃ দেশীয় পণ্যের সিলেবাস, দেশীয় খাবার-শুকতো

নামটা কি আপনাদের অপরিচিত লাগছে? লাগতেই পারে, পরিচিত করাতেই আজ বলবো শুকতোর কথা।
এটি রংপুর অঞ্চলের মানুষের প্রিয় খাবার। রংপুর, কুড়িগ্রাম এর আঞ্চলিক নাম শুকতানি। এটি পাট শাক দিয়ে তৈরি হয়। 
পাট শাক প্রথমে ভালভাবে বেছে নিতে হয়, এক্ষেত্রে শুধু পাতা ব্যবহৃত হয়। তারপর কড়া রোদে কুলো অথবা পাটিতে শুকাতে দিতে হয়। শুধু শুকাতে দিয়েই কাজ শেষ তা নয়, ১০/১৫ মিনিট পরপর হাত দিয়ে ভাল করে মথে দিতে হয়। যতক্ষণ না এগুলো সরু চিকন হয়। মোটামুটি দুইদিন রোদে দিয়ে শুকালেই শুকতো/শুকতানি প্রস্তুত হয়ে যায়।

শুকতো ছোট মাছ, আলু দিয়ে রান্না করে খেতে খুব মজা। অনেকেই শুধু শুকতোই রান্না করে খায়। পেটের অসুখের জন্য শুকতো ভিজিয়ে সেই পানি পান করলেও অনেক উপকার পাওয়া যায়।


Suraia Akter

আমি ঢাকার মফস্বলের মেয়ে,ঢাকা শহরের বউ। নানু বাড়ি কুমিল্লা। কোনটা কোন জেলার বিখ্যাত খাবার বলতে পারবনা। তবে ছোট বেলা থেকে যেসব খাবার আমাদের বাসায় দেখে বা খেয়ে বড় হয়েছি সেগুলো বলি। সিদল ,ইলিশ শুটকি এগুলো হাট থেকে নিয়ে আসতো।চিংড়ি,পুটি,বইচা,খলসা,মলা, টাকি শুটকি এগুলো সব মা আর দাদির হাতে করা। কুইয়া মাছ, কানজি চালের জাউ,কানজি চালের চাপটি,বউ ভাত,কানজি চালের লোডানি। পুড়ানো মিষ্টি আলু। তেলের পিঠা, পুলি পিঠা, পাটিসাপটা, চিতই,দুধ চিতই,ভাপা,মেরা,মুড়ির মোয়া, জোসনা,ঝুড়ি,ঝিকিমিকি, তালের পিঠা,ফুল পিঠা, বিস্কিট পিঠা, ফাপড়ি,সুই/হাতের সেমাই, সুজির হালুয়া, বুটের ডালের হালুয়া,আতপ চালের রুটি, ছিটা রুটি /জামাই পিঠা, বেগুন পুলি আর আমাদের বাড়ির ঐতিহ্যবাহী পিঠা পাকন আর জালা জাউয়ের পিঠা। পুরো এলাকায় বিলানো হতো। আরো খাবার আছেতো।সব্জীর পাতলা খিচুড়ি, কাওনের জর্দা, চাল কুমরার মোরব্বা, আমের মোরব্বা, কততো রকমের আচার। লিখতে যেয়ে আবেগে আপ্লূত হয়ে গেছি। কোনটা না বাদ পরে যায় আবার। আসলে আমরা যদি সবাই সবার ছোট বেলা থেকে দেখে আসা খাবারের লিস্ট করি তাহলে দেখা যাবে অনেক নতুন খাবারের সাথে আমরা পরিচিত হতে পারবো। অনেক বড় হয়ে গেল। আজকের মতো এতটুকুই।আমি কিন্তু ঢাকার মেয়ে।


Ummu Amatullah

দেশীয় পন্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবার ৯ঃ
বাঙালির খাওয়া-দাওয়ায় মিষ্টি একটি অতি জনপ্রিয় খাবার। বাঙালির যে কোন উপলক্ষ-অনুষ্ঠানই মিষ্টি ছাড়া অপূর্ণ। মিষ্টির নাম শুনলেই জিভে জল আসে। সামাজিক বা পারিবারিক যে কোন অনুষ্ঠানেই মিষ্টি ছাড়া চলেনা।বাংলাদেশের কিছু বিখ্যাত মিষ্টি হলঃ
টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ির চমচম,
নাটোরের কাঁচাগোল্লা,
কুমিল্লার রসমালাই,
বিক্রমপুর ও কলাপাড়ার রসগোল্লা,
বগুড়ার দই(মূলত শেরপুর) ও গৌরনদীর দই,
যশোরের খেজুরগুড়ের সন্দেশ,
শাহজাদপুরের রাঘবশাই, পানতোয়া
মুক্তাগাছার ঞলাডেষে
খুলনা ও মুন্সিগঞ্জের আমৃতি
কিশোরগঞ্জ-নেত্রকোণার বালিশ মিষ্টি
বগুড়ার দই
নওগার প্যারা সন্দেশ
ময়মনসিংহের আমিরতি,মালাইকারী এবং চালের জিলাপি
যশোরের জামতলার মিষ্টি
যশোরের খেজুরের নোলন গুড়ের প্যারা সন্দেশ
যশোরের খেজুর রসের ভিজা পিঠা
মাদারীপুরের রসগোল্লাতো
রাজশাহীর তিলের খাজা
সিরাজদিখানের পাতক্ষীরা 
রাজবাড়ির শংকরের ক্ষীরের চমচম 
নওগাঁর রসমালাই 
পাবনার প্যারাডাইসের প্যারা সন্দেশ 
পাবনার শ্যামলের দই 
সিরাজগঞ্জের শাহাজাদপুরের পানিতোয়া 
কুষ্টিয়ায় মহিষের দুধের দই 
মেহেরপুরের সাবিত্রী নামে একটা মিষ্টান্ন
কুষ্টিয়ার তিলের খাজা
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছানামুখি।
মানিকপুর—চকরিয়ার মহিষের দই
ইকবালের সন্দেশ (দেওয়ান বাজার)
বোম্বাইয়াওয়ালার ক্ষীর(এনায়েত বাজার)
মহাস্থানের কটকটি
গাইবান্ধার রসমঞ্জরী
কুষ্টিয়ার স্পেশাল চমচম
ঢাকার বঙ্গবন্ধু আভিনিউ এর পূর্ণিমার জিলাপী
গুলশান এর সমরখন্দ এর রেশমী জিলাপী
দেওয়ানগঞ্জ, জামালপুর এর রসগোল্লা।
মহেশখালীর মোষের দই
রাজশাহীর রসকদম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জের আদি চমচম
শিবগঞ্জের (চাঁপাই নবাবগঞ্জ) চমচম, প‌্যারা সন্দেশ।
কিশোরগঞ্জের তালরসের পিঠা ( চিনির শিরায় ভেজানো)
লক্ষ্মীপুরের রামগতির মহিষের দই।
ফেনীর খন্ডলের মিস্টি।


Shuchi Khan

আড্ডা পোস্ট ১২ জুন ২০২০

বিষয় : দেশীয় পণ্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবার ।

বাঙ্গালী যেহেতু ভোজন রসিক জাতী তাই দেশীয় পণ্যের সিলেবাসের বৃহৎ অংশ জুড়েই থাকবে নানান রকমের খাবারের নাম এবং পরিচিতি এটা সাভাবিক । 

৬৪ টা জেলারই রয়েছে নানা রকমের ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং ভীন্নধর্মী স্বাদ।
যেমন আমি গোপালগন্জের মেয়ে সেই হিসেবে গোপালগন্জের কিছু ঐতিহ্যবাহী খাবারের সাথে আপনাদের পরিচিত করিয়ে দেই .....

আগে একটু বলে নেই কেউ জানেন কিনা জানি না !!গোপালগন্জ শহরটা মধুমতির কোল ঘেঁষে গড়ে উঠেছে এই মধুমতি নদীতে এক সময় প্রচুর ইলিশ পাওয়া যেতো এখন শুধুই অতীত যাই হোক আসল কথায় আসি 

গোপালগন্জে তথা ঐ অন্চলের মানুষের সবচেয়ে প্রীয় খাবার 
*ইলিশ পাঁতুড়ী এটা লাউ শাকে মুড়ে করতে হয়।
* কৈ পাতুড়ী বা ভাঁপানো এটা বিষেশ করে শীতের দিনে খাওয়া হয়। 
* বেলে মাছের ঝুরি
*ফলই বা ফলি মাছ পেটানো ভাঁজি 😂
এটা বড় আকর্ষণীয় আইটেম তবে বেশ কষ্টকর ।

* কাঁঠালের ইঁচোড় চিংড়ি বা গরুর গোশ সাথে নারকেলের দুধ দিয়ে রান্না ।

তারপর আসি পিঠা আইটেম এ 

গোপালগন্জের ঐতিহ্যবাহী পিঠা 
*দুধ চিতুই 
*দুধ পুলি 
*চন্দ্র পুলি 
*পাটিসপটা 
*আনদোশা 
*পাকান 
*হাতঝাড়া পিঠা 
*ভাঁপা পিঠা 
*তালের বড়া 
*চুষি পিঠা ইত্যাদি ।

মিষ্টান্ন :
*কাউনের চালের পায়েস 
*খেজুরের রসের ক্ষীর ।
*চাষনি 
* সাবুর পায়েস । 

হালুয়া : 
* ছোলার ডালের হালুয়া 
*বুটের হালুয়া 
* পেঁপের হালুয়া /লাড্ডু 
*গাজরের হালুয়া /লাড্ডু 
*তালের হালুয়া 

সবচেয়ে মজার ক্ষুদের চালের খিচুড়ি ।

আমাদের গোপালগন্জ জেলার 
 সবচেয়ে পুরোনো এবং ঐতিহ্য বাহী মিষ্টি হচ্ছে 
*রসগোল্লা 
*ছানার জিলাপি 
*রসোমালাই 
*দানাদার ইত্যাদি । 
আমার মনে হয় দেশি পণ্যের সিলেবাসে এই গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে ইনশাআল্লাহ।

ধন্যবাদ 


Jannatul Ferdous Hena

দেশীয় পন্যের সিলেবাস দেশী খাবারঃ
খাবার এর নাম আসলে প্রধান একটা দেশী পন্য সবার ঘরে ঘরে পাবোই।সেটা হলো আলু।
এই আলু আমাদের প্রতিটি মানুষের জীবনের খাদ্য তালিকার সাথে জড়িত।এর পুষ্টি গুন তো আছেই।সাথে সকল রান্নার স্বাদ বাড়ায়।আমার এই পন্যের প্রতি অন্য রকম ভালোবাসা আছে।এটা বাসায় থাকলে আর চিন্তা থাকে না।মন চাইলেই আলু ভর্তা করে ফেলি।বগুড়ায় ভর্তার জন্য আলাদা আঠালো আলু পাওয়া যায়।এটা অনেক জনপ্রিয়ও আলু।কেউ ভর্তার আলু বলে, আবার কেউ হাগরাই আলু বলে।এই আলু ভর্তা করার পর আঠালো হয়।খেতেও অনেক মজার।বগুড়া অঞ্চলে এই আলু দিয়ে জনপ্রিয় আর এক খাবার হয় তা হচ্ছে আলুঘাটি, যা অনেকে আলুরডাল বলে থাকেন।এটা আলুর সাথে গরুর গোস দিয়ে রান্না করা হয়।বিভিন্ন মিলাদ, মজলিস এ এই খাবার প্রধান খাবার হিসেবে রান্না করা হয়।


Sadia Khondokar

দেশীয় পন্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবার:মিস্টি। 
আমি টাঙ্গাইলের মেয়ে। ছোট থেকেই মিস্টি প্রিয়। টাঙ্গাইলের পোড়াবাড়ীর চমচম আমার সবচেয়ে প্রিয়। অনেক জেলার অনেক মিস্টি খেয়েছি। তবে সেরা মিস্টি আমার টাঙ্গাইলের চমচম। যার কোনো তুলনা নেই। ছোটোবেলায় দাদুবাড়ীতে যাবার সময় স্ট্যান্ডে বসে আগে মিস্টি খেতাম। তারপর বাড়ী যেতাম। আবার ঢাকায় আসার সময় ব্যাগ ভরে নিয়ে আসতাম। এখনো বাসায় টাঙ্গাইলেক্যর চমচম থাকবেই। বিয়ে বা যে কোনো অনুস্ঠানে বাবা সবাইকে চমচম খাওয়াতে বেশী পছন্দ করে। নিজের জেলার মিস্টি বলে কথা।


Ummu Amatullah

দেশীয় পন্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবার ১০ঃ

কাউনের চাল পুষ্টিগুণে ভরপুর। একসময় কাউন অনেক চাষ হত।কিন্তু এখন বিলুপ্তপ্রায়। ময়মনসিংহে একসময় প্রচুর চাষ হত এই চাল।
কাউন চালে রয়েছে প্রচুর পরিমানে আমিষ,খনিজলবন,প্রোটিন,কার্বোহাইড্রেট, মিনারেল, ডায়োটরি ফাইবার, পটাশিয়াম, ভিটামিন বি। কাউনের চালে আঁশ অনেক বেশি থাকে।তাই পাকস্থলীর জন্য ভালো। পটাশিয়াম, জিংক, আয়রন থাকার কারনে মহিলাদের জন্য অনেক উপকারী। এই চাল এল ডি এল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে।রক্তচাপ নিয়ন্ত্রনে রাখে। এই চাল দিয়ে পায়েস, ক্ষীর,বিরিয়ানি,পোলাও, ভুনা খিচুড়ি এমনকি সাদা ভাতও রান্না করা যায়। 


Mun Mun Mitu

আসলামলাইকুম 
টপিকঃ দেশীয় পন্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবার। 
আমার সিগনেচার আইটেম নারকেলে তৈরী বিভিন্ন পদের নাড়ু। 
নারকেল দিয়ে আমরা অনেক খাবার রান্না বা তৈরী করে থাকে। 
 পিঠা / মিষ্টি যাই বলেন নারকেল দিয়ে তৈরী অন্যতম খাবার হচ্ছে নাড়ু/ লাড্ডু। 
এটা দেশীয় খাবারে তালিকায় আমার কাছে অন্যতম। এটি স্বাদে মজাদার। এক এক ধরনের নাড়ু করা যায়, মুড়ি,ছাতু,দুধ,গাজর, আতপ চালের, বাদাম,সেমাই সহ আরো অনেক নাড়ুর পদ করা যায় নারকেল দিয়ে 
নাড়ু যে কোন উপলক্ষে খাওয়া যায় যেমন নতুন জামাই এর সামনে দেয়, মেহমান এলে নাস্তা হিসেবে, বিকালে চায়ের সাথে। নাড়ু বেশ কিছুদিন সংরক্ষন করা যায় বলে প্রবাসেও যারা থাকেন তাদের ও পাঠানো হয়।। 
আমার দাদি কে দেখেছি করতে, তিনি হয়ত উনার দাদির থেকে শিখেছে তাই বলাই যায় নাড়ু অনেক পুরতন এবং একটি অন্যতম দেশীয় খাবার। আমি নাড়ুর ইতিহাস জানিনা জেনে লিখবো।


Ummu Amatullah

দেশীয় পন্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবার - ১১ঃ

সাতকড়া একটি লেবু জাতীয় ফল গাছ।এটি বাংলাদেশের সিলেটে পাওয়া যায়।সাতকড়া প্রচুর ভিটামিন সমৃদ্ধ ফল।এতে ভিটামিন সি,
ক্যালসিয়াম, ফসফরাস।ছোট ছোট টুকরো টুকরো করে কাটা হয় এবং গরুর মাংস, মাটন এবং মাছের তরকারীতে দিয়ে রান্না করা হয়। সাতকড়া দিয়ে আচারও বানানো হয়।অনেক আগে সাতকড়া খেয়েছিলাম। 
সিলেটে এর ব্যাপক চাহিদা থাকায় পাশের দেশ ভারত থেকে আমদানি করা হয়। দেশে যদি বাণিজ্যিক ভাবে চাষ করা হয় তবে দেশের চাহিদা পূরনের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি করে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।এই গাছ ২০ থেকে ২৫ ফুট লম্বা হয়। ফাল্গুন মাসে ফুল আসে।


Ti Sha

দেশীয় পণ্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবার ১:
◆ নেত্রকোনার বালিশ মিষ্টি:
বড় আকারের হওয়ায়, কোল বালিশ আকারের হওয়ায় আর এর উপর খিরসার লেয়ার অনেকটা বালিশ কাভারের মতো হওয়ায় এর নাম হয়েছে বালিশ মিষ্টি। বালিশের মতো বড় না হলেও এই মিষ্টি কিন্তু বেশ বড়। দোকানে যেটা পাওয়া যায় তা একটায় প্রায় আজ কেজি হয়। 
কিশোরগঞ্জের নামের সাথে বালিশ মিষ্টির নাম ইন্টারনেটে জুড়ে থাকলেও বালিশ মিষ্টির উদ্ভাবক কিন্তু প্রতিবেশী নেত্রকোনা শহরের বারহাট্টা রোডের 'গয়ানাথ মিষ্টান্ন ভাণ্ডার'-এর স্বত্বাধিকারী গয়ানাথ ঘোষ। হিন্দুদের মধ্যে ঘোষ পরিবার কিন্তু মিষ্টি তৈরিতে বিখ্যাত। গয়নাথ ঘোষ চেয়েছিলেন নতুন ধরনের মিষ্টি তৈরি করে তাক লাগিয়ে দিতে। একদিন বিশাল আকারের মিষ্টি বানিয়ে ক্রেতাদের খেতে দিলেন। ক্রেতারা পছন্দ করলো খুব। তারাই নাম দিলো বালিশ মিষ্টি। গয়নাথের নামটিও জুড়ে যায় বালিশ মিষ্টির সাথে। আর তাই বালিশ মিষ্টির অপর নাম কিন্তু "গয়নাথের বালিশ"🌸


Mahfuza Helen

দিশীয় পণ্যের সিলেবাসে দেশীয় খাব:
মিষ্টি।
মিষ্টি আমার খুব পছন্দ। আমার সব চায়ে ভালো লাগে কাঁচাগোল্লা খেতে।এটা নাটোরের বিখ্যাত মিষ্টি। আমি নাটোরে থাকি তাই নাটোরোর কাঁচাগোল্লা আমার খুব প্রিয়।এটা কাঁচা ছানা দিয়ে চিনির শিরায় ডুবিয়ে করা হয়।তাই এটার একটা অন্য রকম সাদ আছে।


Monera Yesmin Rinke

রাতে আড্ডা থাকতে পারি নাই ,, এমন মাঝে হয় আমার,, কিন্তু সকালে এসে আগে আড্ডা পোস্টে বসে পরি 🙂
দেশীয় পণ্যর সিলেবাসে দেশীয় খাবার 😋😋

আমরা সবাই মানে বাঙালি যারা আছি সব সময় আমাদের খাবার এর দিকে একটু টান বেশী 🙂যদি বলি খাবো না তারপর ও লোভ সামলাতে পরি না বসে পরি খাইতে,, আর কথায় আছে না" মাছে ভাতে বাঙালি "
আমরা মাছ, ভাত হলে অনেক খুশি আর কি চায় পেট পুরে মন ভরে খাবার খাই,,,
মাছ এর কথা বলতে আমার যশোর জেলার বিখ্যাত মাছ কৈ এর কথা মনে পরে যাই, ,খালে বিলে এই মাছ এক সময় প্রচুর পরিমাণ পাওয়া যেত কিন্তু এখন তা প্রায় বিলুপ্ত ,,, এখন তেমন একটা দেখা যায় না,,, কিন্তু এই কৈ মাছ এর এখন চাষ হচ্ছে ,,, কিন্তু নতুন নাম বিদেশি কৈ কি অবস্থা দেখেন আমার দেশের মাছ নাকি এখন বিদেশি মাছ? 

কৈ মাছ খুব মজার এটা খেতে,, কৈমাছ এর ঝোল এটার তো কোনো তুলনা হয়না,, এটা আমার দেশীয় খাবার এর মধ্যে বেষ্ট 😍😍


Hossain Topa

কুমিল্লার মাতৃ ভান্ডারের রসমালাই খুবই মজার।
যদিও কুমিল্লা যেতে ময়নামতি ক‍্যান্টনমেন্ট থেকে শুরু করে পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড পর্যন্ত হাফ সেঞ্চুরি করবে মাতৃ ভান্ডার নামের দোকান।
কিন্তু আসলে আসল মাতৃ ভান্ডারের কোন শাখা; প্রশাখা বা উপশাখা বলে কিছু নেই।

একটা শুধুমাত্র একটা ই মাতৃ ভান্ডার এর ছোট্ট একটা শোরুম।
আসলে শোরুম বললেও ভুল হবে। ছোট্ট একটা দোকান। এটা কুমিল্লা শহরের কান্দিরপাড়ের পাশে মনোহরপুরে অবস্থিত।

এটার রসমালাই এতো বিখ‍্যাত কারণ ২০ লিটার খাটি দুধের সাথে ৭ কেজি চিনি জ্বাল করে ১৩ কেজি রসমালাই বানায় মাত্র।

একবার খেলে স্বাদ মুখে লেগে থাকবে।😊


Shanta Akther

আড্ডা পোস্ট 6
দেশী পন‍্যের সিলেবাস
দেশী খাবার 3
🎋কানজীর ঝাউ বা ভাত🎋

এক ঈদের ছুটিতে আমি আমার খালার বাসায় বেড়াতে যাই।তখন ওনারাও বেড়াতে যাবে ওনার ননশের বাসায়।বলা বাহুল‍্য আমার খালার বাসা নারায়ণগঞ্জ পঞ্চবটি।আর ওনার ননশের বাড়ি বুড়িগঙ্গা নদীর ঐপার কেরানীগঞ্জে।
যাইহোক বেড়াতে গেলাম আমার নিজের জেলা নোয়াখালী।তাই আমি ঐ এলাকা দেখে প্রথমে ভাবি এতো পুরো গ্রাম যেটা আমি আশা করিনি।

সকালের নাস্তা খাওয়ার পর দুপুরের খাবার খেতে গিয়ে আমি একটা বাজে গন্ধ আবিষ্কার করলাম।যেটা কানজি প্রেমীদের কাছে সুঘ্রাণ ও হতে পারে।আমি যখন বুঝতে পারলাম না এটি কি তখন কাজিন কে জিজ্ঞেস করলাম।ও তখন এটার নাম বলল কানজির ঝাউ।
কি বলবো ওরা এটা এতো মজা করে ভর্তার সাথে খায় আর আমি গন্ধে কিছু বলতেও পারিনা সইতেও পারিনা।
তো ঐদিন ছিল আমার জীবনে নতুন এলাকার নতুন খাবারের সাথে পরিচিত হওয়ার প্রথম দিন।

যদিও তখন না খেতে পাররেও এখন খাই তবে তা ভাত।ঝাঊ একটু বেশি টক হয়।

এই ভাত আমি রান্না করতে পারিনা তবে যতটুকু জানি তাই বলছি।এটা সিদ্ধ চালকে ভাত রান্নার মতো ধুয়ে চুলায় কিছুক্ষন ফুটিয়ে তারপর মাটির হাঁড়িতে প্রতিদিন কিছু কিছু করে রাখে পানিসহ তবে হাড়িটি গরম জায়গায় রাখতে হয় আর মাটির হাড়ি আর সিদ্ধ চাল ছাড়া এই ঝাউ হয়না।

এরপর চার পাচ দিন পর ঐ পানিসহ বা ঐ পানি ফেলেও রান্না করা যায়।এই ঝাউ নরমাল ঝাউ বা ভাতের মতোই পরে রান্না করে।
আর এটা ভর্তা দিয়ে খাওয়া হয়।

এই ভাত আমাদের দেশের বিভিন্ন জেলায় রান্না হয়।এমনকি জাপান, মালয়েশিয়া অনেক দেশেই ফারমান্টটেড রাইচ বলে।


Marium Hossain

আড্ডা পোষ্ট ১২ জুন ২০২০

বিষয়ঃদেশীয় পণ্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবার।

পোষ্ট নংঃ১

খাবারঃপনির

আমি কিশোরগঞ্জের মেয়ে তাই আজকে আমার জেলার ঐতিহ্যবাহী খাবার নিয়ে সবাইকে জানাবো।

পনির আমরা অনেকেই চিনি।কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানতাম না এই পনির কোন জেলার ঐতিহ্যবাহী খাবার।

কিশোরগঞ্জের স্লোগানই হচ্ছে,,
"হাওর-বাওড় মাছে ভরা,কিশোরগঞ্জের পনির সেরা"।

কিশোরগঞ্জ জেলার হাওর এর রাণীখ্যাত উপজেলার অষ্টগ্রাম হলো পনির এর উৎপত্তিস্থল।
অষ্টগ্রামের পনিরের ঐতিহ্য প্রায় সাড়ে তিনশত বছরের।১৯৬০ সালে প্রায় ঘরে ঘরে পনির তৈরি হতো।তখন পনির ব্যবসায়ী ছিলো ৩০-৩৫ জন।কিন্তু এখন অনেক কমে এসেছে।
পনির ব্যবসায়ীর অনেকে এখন ঢাকা নবাবপুর,চট্রগ্রাম সিলেটে পারি জমিয়েছেন।

পনির এর ব্যবসায়ী কমে যাওয়ার কারণ জানতে গেলে ব্যবসয়ীদের অনেকে বলেন, গরুর দুধের দাম বৃদ্ধি,চাইল্যাঘাসের অভাব,গাভীর অভাব এছাড়া বর্তমানে ট্রাক্টরের ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ার গাভী ও মহিষের চাহিদা কমে যাওয়ার পনির ব্যবসায়ীর সংখ্যা কমে যাওয়া বিশেষ কারণ।

রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদের প্রিয় খাবারের তালিকায় ছিলো পনির। তিনি যখনই অষ্টগ্রাম যেতেন পনিয়ে খেয়ে আসতেন এবং বঙ্গভবনে ফেরার সময় পনির সাথে করে নিয়ে আসতেন।

পনির আমাদের জন্য অনেক উপকারী একটি খাবার।

★হাঁড় ও দাঁত মজবুত করে।পনিরে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন থাকে।এছাড়াও পনিরে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস থাকে।

★দেহে ডায়াবেটিস প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।

★কোলেস্টেরল কমায়।

★ক্যান্সার প্রতিরোধক।পনিরে হাই কোয়ালিটির প্রোটিন থাকে যা দেহে ক্যান্সার প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে।লাইলোনিক এসিড ও স্পাইনগোলিপিডস নামে দুই উপাদানে ভরা পনির।যা ক্যান্সার প্রতিরোধক।

★হার্টের জন্য অনেক লাভজনক।পনির খেলে শরীরে রক্তচলাচল সঠিক ভাবে হয়।উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে বিধায় হার্টের সমস্যা কম দেখা দেয়।


Marium Hossain

আড্ডা পোষ্ট ১২ জুন ২০২০ 

বিষয়ঃ দেশীয় পণ্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবার।

পোষ্টঃ২

খাবারঃনকশী পিঠা।

কিশোরগঞ্জের আরো একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার হলো নকশী পিঠা।

নকশী পিঠার সাথে আমরা কম বেশি সবাই পরিচিতো।নকশী পিঠাকে অনেকে ফুল পিঠা বা পাকন পিঠাও বলে থাকে।

এ পিঠাতে চিত্রাঙ্কন বা নকশা করা হয় বিধায় একে নকশী পিঠা বলে।(তথ্য গুগোল) 

ঈদে,বিয়েতে নকশী পিঠা না হলেই না।
গ্রামে ঈদের আগে ৪-৫ দিন যাবত চলে শুধু বিভিন্ন রকমের পিঠার আয়োজন তার মধ্যে নকশী পিঠা অন্যতম।কিশোরগঞ্জ প্রায় সবার ঘরে ঘরে নকশী পিঠা থাকবেই।
আমি ঢাকা থাকি কিন্তু সব সময় গ্রাম থেকে কেউ আসলে নকশী পিঠা নিয়ে আসবেই।

নতুন জামাই আসলে অনেক রকমের পিঠা দিয়ে জামাইকে নাস্তা দেয়ার চল এখনও কিশোরগঞ্জের অনেক গ্রামে এই প্রচলন রয়ে গেছে।

নকশী পিঠা দেখতে যেমন সুন্দর ক্ষেতেই কিন্তু দারুন মজা।সাধারণত গুড়ের সিরায় ভিজিয়ে বা চিনি দিয়ে নকশী পিঠা খাওয়া হয়।তবে আখের বা খেজুরের গুড়ের সিরায় ভিজিয়ে খেতে মজা বেশি।


Rumpa Afruza

আমি পুরান ঢাকার মেয়ে...পুরান ঢাকার খুবই জনপ্রিয় একটি সকালের নাস্তা হচ্ছে বাখরখানি ও দুধ চা 💕 যদিও আমরা পুরান ঢাকাবাসী বাখরখানিকে "নিমশুকারুটি" বলে থাকি। এটা যে কতটা সুস্বাদু না খেলে বুঝতে পারবে না কেউ...পুরান ঢাকার বাড়ি গুলোতে এই নিম শুকারুটি ও দুধ চা দিয়ে দিন শুরু হয়...অনেকে আবার মাংসের তরকারি এবং মিষ্টি দিয়েও এই নিম শুকারুটি বা বাখরখানি খেয়ে থাকেন। দেশে বিদেশে খুবই বিখ্যাত আমাদের এই বাখরখানি... 💞


Mst Arzumand Any

আড্ডা পোস্টঃ ১২জুন ২০২০
বিষয়ঃদেশি পন্যের সিলেবাসে দেশিয় খাবার🙂

আমি যেহেতু রাজশাহীর মেয়ে তাই আমার রাজশাহীর বিখ্যাত দেশি খাবার নিয়ে লিখছি।রাজশাহীর বিখ্যাত দেশি খাবারের মধ্যে কালাইরুটি অত্যন্ত সুস্বাদু খাবার।মোখরোচক একটি খাবার।

কালাইরুটি হলো বাংলাদেশের উত্তর বঙ্গ রাজশাহীর বিখ্যাত ও ঐতিহ্যবাহী খাবার।কালাইরুটি সংরক্ষণ করা যায়।কলাই এর আটা,আতপ চাল এবং ময়দা বা আটা দিয়ে, পরিমাণ মত লবন দিয়ে নরমাল পানি অল্প পরিমান নিয়ে ময়ান দিয়ে তৈরি করতে হয়।এটি অত্যন্ত সুস্বাদু একটি খাবার। যারা খেয়েছেন তারা জানেন আর যারা এখনো এর স্বাদ নেননি তাদের বলবো অবশ্যই খেয়ে দেখবেন।।বেগুন ভর্তা, গরুর বট/ভুরি ভুনা, গরুর গোস্ত/খাসির গোস্ত ভুনা,কাচা মরিচ,পেয়াজ,ধনেপাতা ভর্তা দিয়ে খেতে ভিষন মজার।

কালাইরুটি যেমন মজার তেমন পুস্টিগুনেও ভরপুর,জেনে নিন এর পুষ্টিগুনঃ

মাষকলাইয়ে থাকে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, মিনারেল (জিঙ্ক, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম) ও অল্প পরিমাণে ফ্যাট আর চালে কার্বোহাইড্রেট, সামান্য প্রোটিন ও ফ্যাট। তবে কলাইয়ের চেয়ে চালে ফ্যাটের পরিমাণ বেশি। চালের এবং মাষকলাইয়ের ময়দার সংমিশ্রণে তৈরি হয় কালাই রুটি। এই রুটিতে যে পরিমাণ মিনারেল থাকে তা শরীরের জন্য খুবই উপকারী। বিশেষ করে কার্বোহাইড্রেট শরীরের গঠন মজবুত ও অতিরিক্ত শক্তি জোগায়। মিনারেলগুলো শরীরের বিপাকক্রিয়া সম্পন্ন করে। এছাড়া কালাই রুটিতে প্রোটিনের পরিমাণ বেশি থাকায় তা শরীরের গঠন মজবুত করে। ডায়াবেটিস রোগীদের ভাতের চেয়ে রুটি খাওয়াই বেশি ভালো। সেক্ষেত্রে কলাই রুটি তাদের জন্য অধিক উপকারী।


ফারিয়া আবেদীন রাফা

দেশীয় পণ্যের ভেতরে দেশীয় খাবার অন্যতম। 
পড়াশোনা, জানার জন্য চমৎকার একটা টপিক।

আমি ফারিয়া আবেদীন 
কাজ করছি একদম খাটি দেশীয় খাবার নিয়ে।
যেম্নঃ
➤দেশীয় নানান রকম ভেষজ/হারবাল উপাদান (তুলসীপাতা, পুদিনাপাতা, আদা, লং, সজনে, মধু, লেবু) দিয়ে তৈরি করছি ঠান্ডার লজেন্স, সিরাপ, মাইগ্রেন টি। সম্পূর্ণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া মুক্ত এই খাবারগুলো বড়-ছোট সবাই খেতে পারবে।
➤দেশীয় মিষ্টি জাতীয় খাবারে কটকটি অন্যতম 😁
এই কটকটি নিয়ে প্রত্যকের আছে মজার স্মৃতি, 
আমি এই কটকটি নিয়ে কাজ করছি যাতে পুরানো স্মৃতি কিছুটা হলেও মনে করাতে পারি।
বিদেশী লজেন্স, চকলেট এর খুব ভালো বিকল্প হতে পারে এই কটকটি।

➤দেশীয় বিভিন্ন সিজনাল ফল(আম,জলপাই, বরই, তেতুল, কতবেল) ইত্যাদি দিয়ে তৈরি মুখরোচক আচার নিয়ে কাজ করছি। ভেজালের ভীড়ে হোমমেড আচার অনেকের জন্যেই আশার আলো হিসেবে কাজ করছে 


Diti Roy
বিষয়ঃ দেশীয় পণ্যের সিলেবাসে দেশীয় খাবার।

কেওড়া

বাংলাদেশের ৬৪জেলার মধ্যে চতুর্থ বৃহত্তম শহর খুলনা।খুলনা চিংড়ি, সুন্দরবনের জন্য বিখ্যাত হলেও ভোজনের দিক দিয়ে কিন্তু পিছিয়ে নেই।

সুন্দরবনে ঘুরতে যাননি এমন মানুষ কম পাওয়া যায়। কিন্তু সুন্দরবনে যেয়ে কেওড়া খাননি।এমন মানুষ পাওয়া যায় কম। কেওড়া দক্ষিণাঞ্চের মানুষের কাছে জনপ্রিয় মৌসুমি ফল। কেওড়া জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত পাওয়া যায়।

কেওড়া কাঁচা, সেদ্ধ করে, ডালের সাথে টক রান্না করে, অম্বল তৈরি করে খাওয়া যায়। এছাড়া কেওড়া দিয়ে আচার,জেলী,চকলেট, নোড়া ইত্যাদি খাবার তৈরি করে রেখে দেন সারা বছর খাওয়ার জন্য।

কিন্তু দুঃখের কথা আমার মা আচার তৈরি করলে তা তিন দিনের বেশি থাকে না। আমার ছোট ভাই সব খেয়ে সাবাড় করে দেয়।তাঁর ভয়ে আমার মা আচার লুকিয়ে রাখে কিন্তু সে যেখানে থাক কখন বের করে খায় কেউ জানতে পারে না।খাওয়া শেষ হলে খালি পাত্র পাওয়া যায় 😭

কেওড়ার আচার বা বিভিন্ন আইটেম তৈরি করতে লবঙগ,দারুচিনি, এলাচ,ঝালের গুঁড়া, জিরা,চিনি, তেল,লবণের ব্যবহার করা হয়।

কেওড়ার অনেক ঔষধি গুণ আছে। আমাশয়,ক্ষুধা মন্দা, হজম শক্তি বৃদ্ধি, বমিভাব দূর, সর্দি কাশি দূর করে এবং মুখে রুচি ফিরিয়ে আনে।

স্থানীয়ভাবে এর চাহিদা থাকলেও যদি বিশ্ব বাজারে এর চাহিদা বৃদ্ধি করা যায় তাহলে সুন্দরবনের উপকূলীয় নারীরা আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠবে।ফলে দারিদ্র্যের হার অনেকাংশ কমবে।

No comments:

Post a Comment