মৃত্যুর দিকে এক বছর পার

মৃত্যুর দিকে এক বছর পার
- পার্থ প্রতীম মজুমদার

 প্রায়ই এক বছরের বেশি হলো, পাইলস নিয়ে যুদ্ধ করছি। এখন কোলন ছাড়িয়ে সারা দেহে ইনফ্ল্যামেশন ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়েছে। হাড়েও ইনফ্ল্যমেশন। ব্রেনেও ইনফ্ল্যামেষণ। মনে হয়, ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়েছে। কিছু খাওয়া যায় না, কিছু খেলেই বুকের ছাতি, হাত, ব্রেন সব  ফুলে উঠে। শুরুর দিকে ডাক্তার বলেছিল , পাইলসের অপারেশন করাতে। কিন্তু অনেকে বলে পাইলসের অপারেশন করলে নাকি বসতে অসুবিধা হয়, পরে যে কোন ভাবেই হোক পাইলস আবার দেখা দেয়, তাই আর করা হয় নি। এখন মৃত্যুর দিন গুনছি । কবে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করবো। তার। উপর শুরু হয়েছে, লো ব্লাড প্রেসার, নিশ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। এখন আর আগের মতন লিখতে, কথা বলতে শক্তি পাই না। করানোর ভয় চারিদিকে। জিহ্বায় ফেটে গেছে। এসিড, আর টক জাতীয় কিছু খাওয়া যায় না। ব্রেনের ডান পাশে নার্ভ ট্রাইজার্মিনাল নার্ভের দিকে ইফেক্ট করে। প্রেসার ডাউন হলে নার্ভের শক্তি ডাউন হয়ে বুক গলার দিকে চলে এসেছে। বুক ধড়ফড় করে । শারীরিক কষ্ট ছাড়া আর তেমন মনের কোন কষ্ট নেই। প্রকৃতি যেন দুহাত তুলে আমার কষ্টটা নিতে চাচ্ছে। রাতে নীল আকাশের সাথে মৃদু বাতাস আমাকে যেন স্বর্গীয় বাতা বরনের ছোয়া দিয়ে যাচ্ছে। করোনায় বের হওয়া হয় না, দুপুরের দিকে তেল মেখে রৌদ্রে বসি। ঘাম আসার পর গা মুছলে একদম ফুরফুরে মনে হয়, অনেক বিষ চলে গেছে। খাবার যা খায় ভক্তি লাগে। যদিও খাবারের রুচি নেই। হোম মেইড থেরাপি নিয়ে ক্ষুধা লাগাই। যেমন, খাবারের আধা ঘণ্টা আগে শসা, বা কালোজিরা, খেয়ে নিই। তারপর ক্ষুধা লাগে। প্রেসার লো হলেও ক্ষুধা লাগে না। ডিম, মাছ, মাংস সব খাই, আবার ঐদিক দিয়ে পাইলসের সমস্যা হয়। পাইলসের জন্য কোন ঔষধ ডাক্তার দেয় নি। রক্ত পড়লে খালি মলম লাগাতে বলে। শুরুর দিকে এক মাস টাইট দিলে ব্যাপার টা অন্যরকম হলেও হতে পারতো। কিছু আয়ুর্বেদিক ট্রিট মেন্ট আছে। যেমন মুলা দুই সপ্তাহ  দুবেলা খেলে পাইলস কমে যায়। কিন্তু জানতে পেরে ছি অনেক পরে। ততদিনে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়েছে। হাত, পা , মাথায় শুলানো, সহ আরো ভিটামিনের টতি দেখা যায়। এইভাবেই সমাধান করে চলছে। দেখা যাক কি হয়। গান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়ি। ভালোই লাগে।  এই ছোট্ট লেখাটি অনেকদিন ধরে রাখতে চাইছিলাম কিন্তু সত্যিই অসাধারণ ব্যাপার ঘটে। প্রকৃতিকে এবং জীবনকে অনেক কাছ থেকে অনুভব হয়। চারিদিকে কেবল শান্তির পরশ ছড়িয়ে আছে। ঘুমানোর সময় চোখ বুঝলে রাতে গ্যালাক্সি  ছায়া চোখে ভেসে ওঠে। জানালা দিয়ে নির্মল বাতাস এক দিব্য অনুভূতি তৈরি করে। শরীর কষ্ট পাওয়ার পরে বুঝতে পারলাম স্বাস্থ্য এর মূল্য কত? আসলে সবাইকে গ্যাস্ট্রিক এবং কোষ্ঠকাঠিন্য এই দুইটা জিনিস ব্যবহারে সতর্ক থাকা উচিত। এই দুইটা জিনিস থেকে সকল রোগের উৎপত্তি। ভোর এবং সন্ধ্যার সূর্য্টা অনেক সুন্দর। সন্ধ্যাবেলা আযানের ধ্বনি ভেসে উঠে। আমাদের ফ্ল্যাটের পাশেই মন্দির। সেখান থেকে শাঁখ, আগরবাতির গন্ধ চারিদিকে ছড়িয়ে যায়। এই ধরনের জায়গায় বসবাস করতে পারা অনেক সৌভাগ্যের ব্যাপার। আর ছোটবেলা রোজা তখন শীতকালে হত। রাতের বেলায় ঠান্ডা আবহওয়ায় যখন ওয়াজের ধ্বনি আকাশে ভেসে আসলে আমি যেন ইমোশনাল হয়ে যেতাম। আমার গ্রামের বাড়ির হরে কৃষ্ণ কীর্তন টা এখনো মিস করি। ধূপ দ্বীপের গন্ধে  চারিদিক যেন এক স্বর্গীয় বাতাবরণ তৈরি হয়। এখনো মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে আমি ছুটে যায়। নীল আকাশে নিচে দাঁড়িয়ে নির্মল বাতাস গায়ে মেখে দূরের ধান ক্ষেতের ছবি এখনো চোখে ভাসে।  বৃষ্টির সময় মাটির গন্ধ টা এখনো মিস করি। এখন পর্যন্ত যতদিন কাটিয়েছি আমার চারপাশে শহরে-গ্রামে মানুষগুলো চমৎকার। মাঝে মাঝে কাছের কিছু মানুষের ব্যবহার কথাবার্তা দৃষ্টিকটু মনে আঘাত লাগলেও, পরে যত দিন যায় তাদের কথার ব্যাকরণগত অর্থ বুঝতে পারলে, মন শান্ত হয়ে যায় , কারো প্রতি কোন দুঃখ থাকে না। আর যখন সময় কাটেনা তখন ফেসবুকে সার্চ ইংলিশের রাজিব আহমেদ স্যারের পোস্টগুলো পড়ি। আমি দেখেছি তারই হাত ধরে অনেক দ্রুত ইংলিশ এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম ই ক্যাব, উই দাঁড়াতে। অনেক অভিজ্ঞ বিচক্ষণ মানুষ তিনি। তার মত সাধারণ মানুষের প্রতি কর্মকান্ড আর কোন দেশে আছে বলে আমার জানা নেই। তিনি সুন্দর একটা কমিউনিটি রান করেছে । আমি চাই তার হাত ধরে আমার চেয়ে আরও উজ্জ্বল হাজার হাজার পার্থ প্রতিম মজুমদার এর জন্ম হোক। অসুস্থতার জন্য ২০১৩ সাল থেকে যে ঝড়ে পড়েছি , সেখান থেকে এই লেখাটি লেখা পর্যন্ত আমি আর উঠতে পারিনি। কিন্তু হতাশা কাটিয়ে আবার যে নতুন করে বাঁচতে শেখায় তার কাছে জানতে পেরেছি। হয়তো বেঁচে থাকলে পরে কিছু করতে পারতাম কিন্তু তাকে সম্মান ও শ্রদ্ধা করি। আমি চাই অন্তত অসুস্থতা নিয়ে কেউ যেন কারো ক্ষতি না করে, ভালো ডাক্তারের চিকিৎসা নিতে পারে। আসলে বেসিক ট্রিটমেন্ট গুলো দিয়ে সাময়িক হয়তো সুস্থ থাকা যায় , লাভ দেখানো যায় কিন্তু ক্রনিক ডিজিজ গুলোর ভালো চিকিৎসা দরকার এবং রোগ গুলোর ব্যাপারে রোগীর জ্ঞান থাকা দরকার। আশা করি দিন যত যাবে মানুষের কাছে জ্ঞান আরো তত বাড়বে চিকিৎসা ব্যবস্থা আরো উন্নতি হবে, মানুষের কাছে সহজলভ্য হবে। একটাই তো জীবন। চলে গেছে তো এই জীবনটাই শেষ। একে তো আর নতুন মোবাইলের মত বা নতুন কম্পিউটার মতন প্রাণ দিয়ে রিপ্লেস করা যাবেনা। এই পর্যন্তই। সবার শান্তি কামনা করি।
- তোমারই
পার্থ প্রতীম মজুমদার

No comments:

Post a Comment