ম্যাকবেথ- সিজন সেভেন
লেখকঃ উইলিয়াম শেখস্পিয়র
সানাই বাজছে। মঞ্চ আলোকিত। রাঁধুনি, দাসীদের রান্না
পরিবেশনের জন্য মঞ্চ জুড়ে অবস্থান। ম্যাকবেথের
প্রবেশ।
ম্যাকবেথ-শালা, রাজাকে কখন শেষ করবো বুঝতে পারছি না, কাজটা তাড়াতাড়ি
হয়ে গেলে এর থেকে বাঁচা যেতো। দরকার হলে নিজের জীবন বাজি নিয়ে কাজটা করতাম। কিন্তু
এইটাতো আবার অপরাধ হয়ে যায়। আমার দেখাদেখি সবাই কোপাকুপি করা শুরু করে দিবে। আমি
রাজ্য সামলাবো, নাকি কুপাকুপি দেখবো । রাজার দিক দিয়ে আমি তাঁর আত্মীয় , তার উপর তাঁর সেবক। এছাড়া শালায় একটু বেশি ভালো। কোন আকাম কুকাম সাথে জড়িত নাই। তাঁর উল্টা
পাল্টা কিছু হয়ে গেলে সবাই হাউকাউ শুরু করে দিবে। চোখের পানিতে রাজ্য
ভাসায় দিবে। অনেক প্রশ্ন উঠবে । আমার জীবন তখন চিকেন তান্দুরি হয়ে
যাবে। তখন আমও যাবে , ছালাও যাবে। সব ভেসে ভেসে
চলে যাবে।
Act 1, Scene 7, Page 2
লেডি ম্যাকবেথের প্রবেশ
লেডি ম্যাকবেথ-তাদের খাওয়া-দাওয়া
শেষ। তুমি ডাইনিং রুমে আসো নি কেনো?
ম্যাকবেথ-আমার কথা কি তিনি
জিজ্ঞেস করেছিলো?
লেডি ম্যাকবেথ-কেন নয়?
তুমি তো জানতে। তাই না!
ম্যাকবেথ-আমাদের এই প্ল্যান
মতন যাওয়া ঠিক হবে না, ডার্লিং। এছাড়া, রাজা আমাকে অনেক সম্মান দিয়েছে, মানুষজনও আমাকে ভালো
জানে। আমি এক মুহূর্তে সব নষ্ট করে দিতে পারি না।
লেডি ম্যাকবেথ-এই, তুমি এগুলো কি বলছো? সোনা আমার!! তোমার কি তখন নেশা ধরেছে? এখনো তো চব্বিশ ঘণ্টা
পার হয় নি। আরে ,ফইন্নি
ঘরের ফইন্নি । রাজা হলে খাটের উপর সম্মান রেখে সেই খাটের নিচে শুয়ে থাকতে পারবি। আর নয়তো সারা জীবন এই রকম কাপুরুষের মতন পাত্র
হাতে নিয়ে সম্মান খুঁজে খুঁজে চলতে হবে ।
ম্যাকবেথ- আমি আবার কি
করলাম। আমি তো সাধারন মানুষের কথা ভেবেই কথাটা বললাম।
লেডি ম্যাকবেথ-তোমার কবিতা বন্ধ
করো। মাঝে মাঝে তোমাকে পুরুষ ভাবতেই কষ্ট হয়। তুমি এক ধাপ এগিয়ে দশ ধাপ
পিছাও। এই
যে আমার স্তন, আর ঐ যে আমাদের
বাচ্চা। বুঝো নাই ব্যাপারটা !! তোমার বাচ্চাকে কি তোমার মতন গোলাম বানাতে চাও? তোমার জায়গায় আমি হলে, কবে রাজার মাথা ঘাড় থেকে আলাদা করে দিতাম !!
ম্যাকবেথ-বউ, তোমার কথা শুনে আমি স্বান্তনা পেলাম। কিন্তু
যদি ফেইল মারি তাহলে কি হবে?
লেডি ম্যাকবেথ- তুমি না ভীতু
ডিমের ফ্যাক্টরি!!! এইখানে ভয় পাবার কি আছে!! ডানক্যান
এখন গভীর ঘুমে। অনেক জার্নি করে এসেছে। তাঁর সহচররা ঘুমিয়ে পড়েছে, তাদের মদের বোতলে ঘুমের ঔষুধ মিশিয়ে
দিবো। ঘুম থেকে উঠলে কিচ্ছু মনে থাকবে না। আমাদের কাজ শেষে তাদের উপর
দোষ চাপিয়ে দিবো।
ম্যাকবেথ-তোমার তো অনেক
বুদ্ধি!! খুন করার পর ছুরির রক্ত তাদের গাঁয়ে লাগিয়ে দিলেই
তো আর কেউ আমাদের সন্দেহ করবে না। এই কাজ
শেষ হলেই তো আমরা রাজারানী হয়ে যাবো। তারপর আমরা দুজনে
খুব করে ভালবাসবো, বসে বসে বাচ্চা পয়দা করবো,
আর তাদেরকে প্রিন্স বানাবো। মু হা হা ।।
“এই বুকে বইছে যমুনা নীল অথৈ প্রেমের জল।
তার তীরে গড়বো আমি আমার প্রেমের
তাজমহল!!!
জানে ঈশ্বর জানে আল্লাহ তোমার প্রেমের কত মূল্য
কিছু সৃষ্টি হয়নি ধরায় তোমার
প্রেমের সমতূল্য!!
এই প্রেম যে কত গভীর খুজে পায়
না কোন তল
তার তীরে গড়বো আমি আমার প্রেমের
তাজমহল! ”
কিন্তু, মানুষ যদি তাদেরকে
সন্দেহ না করে ?
Act 1, Scene 7,
Page 4
লেডি ম্যাকবেথ-নো প্রব্লেম ,
ডার্লিং। আমরা তখন দুজনেই মিলে ঐতিহাসিক ননস্টপ কান্না তুলবো। ডানক্যানের মৃত্যুর শোকে জোরে
জোরে কাঁদবো।
ম্যাকবেথ-বউ তোমার কথা
শুনে বেশি বেশি করে সাহস বাড়তেছে । আমি একটা বড় সিদ্ধান্ত
নিয়ে ফেলছি - আমি আজকে মন মতন তাঁরে কুপাবো। আমি রাজা হবো !! রাজা !!
“ও
শ্যাম রে তোমার সনে
শ্যাম রে তোমার সনে
একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম
একেলা পাইয়াছি রে শ্যাম
এই নিথর বনে।
আজ পাশা খেলবো রে শ্যাম
আজ পাশা খেলবো রে শ্যাম।।
”
আচ্ছা, তাহলে এখন যাও, তারা কথা শুনে ফেলতে পারে। ভালো মতন থেকো।
Act 2, Scene 1
হাতে টর্চ নিয়ে ফ্লিয়েন্সের
সাথে বেনকুর প্রবেশ
বেনকু-বালক, কি অবস্থা ? তোমার রাত কেমন কাটছে?
ফ্লিয়ান্স-চাঁদ ডুবে গেছে। কিন্তু ঘড়ির ঘণ্টা এখনো বাজে নি।
বেনকু-বারোটার সময় চাঁদ
ডুবে যায়, তাই না?
ফ্লিয়ান্স-আমার মনে হয়,
বারোটার চেয়ে বেশি বাজে, স্যার।
বেনকু-হুম ... মনে হয়,
ঘড়ির কাঁটা আজ চাঁদের উপর অভিমান করেছে। তাই ঘণ্টা বাজে নি । আমার তালোয়ারটা নাও এই জায়গাটা অনেক অন্ধকার। আমি অনেক ক্লান্ত। অনেক ভার লাগছে। কিন্তু ঘুমাতে পারছি না। হে সর্বশক্তিমান ঈশ্বর, ঘুম আসলে, দুঃস্বপ্ন থেকে আমাকে রাখো দূরে, মিষ্টি মিষ্টি স্বপ্নে
মন দাও ভরিয়ে।
দাসীদের সহিত ম্যাকবেথের প্রবেশ
বেনকু-আমার তালোয়ারটা দাও। কে ওখানে?
ম্যাকবেথ-তোর বন্ধু।
বেনকু -কি রে তুই ঘুমাতে
যাস্ নাই? রাজা এখন গভীর ঘুমে। থেমে থেমে নাক ডাকছে। আজকে তাঁকে অনেক খুশি দেখলাম। তোদের সবার জন্য অনেক উপহার এনেছে। এই হীরার আংটিটা ভাবির জন্য। (সে ম্যাকবেথকে হীরাটি দেয়)
ম্যাকবেথ-আসলে সব কিছু হঠাৎ
করে হয়ে গেছে। তাই ঠিকমতন রাজাকে আপ্যায়ন করতে পারে নি।
বেনকু-আরে না!! জীবনে
অনেক কিছু হঠাৎ করেই হয়। আর এইখানে সব ঠিক আছে। আমরা বেশ আছি। কাল রাতে
সেই ডাইনিদের আবার স্বপ্নে দেখালাম।
বেনকু-আমার মনে হয় এগুলো নিয়ে এখন কথা বলা ঠিক হবে না। পরে কথা বলবো।
বেনকু-তোর যখন ইচ্ছা।
ম্যাকবেথ-তুই যদি আমার
সাথে থাকিস, তাহলে তোরও
লাভ হবে।
বেনকু-তুই যা বলবি আমি
তাই করবো।
ম্যাকবেথ-ওকে, তাহলে এখন রেস্ট নে।
বেনকু-তুইও নে।
বেনকু এবং ফ্লিয়ান্সের প্রস্থান
ম্যাকবেথ-(দাসীর প্রতি) যাও, তোমার ম্যামকে গিয়ে বলো, আমার ড্রিংকস তৈরি হলে যেন ঘণ্টা
বাজায়। আর তুমি শুতে যাও।
দাসীর প্রস্থান
ম্যাকবেথ-এই...এইটা কি?
ছুরি!! আমার দিকে তাক্ করা কেন? কাম্ বেবি কাম্।
আমি তোমাকে একটু ধরি। (সে বাতাসের মধ্যে হাত নাড়ায়) কি ব্যাপার , বেবি। আমি তোমাকে ধরতে
যাই, কিন্তু তুমি অধরাই রয়ে যাও, কিন্তু
তোমাকে তো দেখতে পারছি। এই ... ভুত তুত নইতো! ওমা!! ছুরি থেকে দেখি রক্ত পড়ছে!! এই, এইটা কিসের রক্ত!! আমি খুন করার আগেই ছুরি দেখছি,রক্ত দেখছি!! এখন রাত...হাজার বছরের গভীর রাত। অর্ধেক পৃথিবী এখনো ঘুমে টাল হয়ে আছে। ঘুমের মধ্যে কেউ কেউ প্রেমের মহাকাব্য রচনা করছে। আর আমি জঙ্গলের মধ্যে দাঁড়িয়ে
দাঁড়িয়ে মাতালের মতন স্বপ্ন দেখছি। হুম ... বেশি কথা বলা যাবে না। তাইলে,
আমার সাহস প্রেশারের মতন ফল
ডাউন করবে।
[পরবর্তী এপিসোডঃ ম্যাকবেথ সিজন এইট]- পার্থ প্রতীম মজুমদার
#Macbeth_in_Bangla_translate
#ম্যাকবেথ_বাংলা_অনুবাদ
#ম্যাকবেথ_পার্থ_প্রতীম_মজুমদার
#Macbeth_by_Partho_Pratim_Mazumder

No comments:
Post a Comment