Jannat Kader Chowdhury
June 18, 2018
মূলধন,পন্য এবং বিপনন এই তিনটি হল মূল পিলার যেগুলোর মাধ্যমে একটি স্টার্ট -আপ ব্যবসায় অনেক সময় ধরে টিকে থাকতে পারে। অনেক স্টার্ট -আপ ব্যবসায় যে কোন একটি বা দুইটি পিলারের উপর নির্ভর করে ব্যবসায় পরিচালনা করে যা ব্যবসায়ের উপর নেগেটিভ ইফেক্ট ফেলে।
যেমন ধরা যাক একটি স্টার্ট -আপ কোম্পানী ফান্ড রাইজিং ও মার্কেটিং এর দিকে ফোকাস করেছে কিন্তু পন্য উন্নয়নের দিকে খেয়াল নেই। এই পদ্ধতি আপনার ব্যবসায় কে নিচের দিকে নিয়ে যাবে যখন আপনার ওয়েবসাইটে অনেক কাস্টমার আসবে কিন্তু আপনার পন্য ভাল না হলে তারা আপনার পন্য কিনতে চাইবেনা। আবার ধরুন আপনি অনেক ভাল মানের পন্য তৈরি করেছেন কিন্তু কাস্টমাররা যদি আপনার পন্য সম্পর্কে অবগত না থাকে তাহলে আপনি পন্য বিক্রি হবে না বা লাভও হবে না। আবার আপনার যদি মূলধন না থাকে তাহলে আপনি কোন কাজই ঠিকমত করতে পারবেন না। তাই তিনটি পিলারই একটি স্টার্ট - আপ ব্যবসায়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।
The First pillar- Capital
মূলধনের উপর ভিত্তি করে যে কোন ব্যবসা গড়ে ওঠে এবং এটি হল ব্যবসায়ের প্রাণ।প্রতিযোগিতামুলক বাজারে টিকে থাকার জন্য ও কাজ সুষ্ঠভাবে সম্পাদন করার জন্য ফান্ডের প্রয়োজন হয়। ফান্ডের তিনটি উৎস রয়েছে যা স্টার্ট- আপের বিভিন্ন স্টেজে সরবারহ করা যায়।
১)নিজস্ব ফান্ড: যখন ব্যবসায় শুরু করা হয় তখন নিজের সংগৃহীত বা আত্মীয় স্বজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ব্যবসায় শুরু করা ভাল। সেজন্য আপনাকে প্রথমে একটি মিনিমাল ভায়াবল প্রোডাক্ট তৈরি করতে হবে এবং আপনার কিছু টার্গেট কাস্টমারের কাছ থেকে ফিডব্যাক নিতে হবে। এটি আপনাকে বুঝতে সাহায্য করবে যে আপনার পন্যটি কি বাজারে চলবে নাকি আপনার পন্য বা সেবায় নতুন করে পরিবর্তন আনতে হবে।
২) ইনভেস্টর ফান্ড: যখন আপনি একটি মিনিমাল ভায়াবল প্রোডাক্ট তৈরি করে ফেলবেন তখন ব্যবসায় আস্তে আস্তে লাভ আসা শুরু হবে। তখনই বিভিন্ন ইনভেস্টররা আপনার ব্যবসায়ে বিনিয়োগ করতে চাইবে। যাকে সীড ফান্ডিং বলা হয়।
৩) কাস্টমার: আপনার পন্য বা সেবা বিক্রি করে কাস্টমারের কাছ থেকে টাকা আয় করতে পারবেন। এইটা হল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস ফান্ড সরবারহ করার। কিন্তু সে জন্য আপনাকে অনেক সময় ও শ্রম ব্যয় করে টিকে থাকতে হবে। যদি আপনার স্টার্ট -আপ টি বিজনেস টু কাস্টমার প্রোডাক্ট(B2C) হয় তাহলে আপনার অনেক বেশী টাকার প্রয়োজন হবে। আবার যারা বিজনেস টু বিজনেস (B2B) করে তাদের সাথে ও ভাল সম্পর্ক রাখতে হবে ব্যবসায় বড় করার জন্য।
The Second pillar- product
যখন আপনি প্রোডাক্ট তৈরি করবেন তখন আবশ্যই কাস্টমারের ব্যবহার উপযোগী পন্য বা সেবা তৈরি করতে হবে। ক্রেতারা যেন আপনার পন্য বা সেবা ব্যবহার করে সাচ্ছন্দ্য বোধ করে এবং বার বার কিনতে আগ্রহী হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। তাহলে আপনি সহজেই পরবর্তী লেভেলে চলে যাবেন। এখানে তিনটি ধাপ রয়েছে-
১) আর্লি ডেভেলপমেন্ট: এই স্টেজে আপনাকে পন্য বা সেবার বিভিন্ন ফিচার তৈরি করতে হবে। কিন্তু ফিচার তৈরির প্রথমেই অনেক টাকা ইনভেস্ট করা উচিত নয়। প্রথমে আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাস্টমারের সাথে কথা বলে বুঝতে হবে তারা কি ধরনের পন্য বা সেবা চায় ।এই স্টেজে টেকনিক্যাল ফ্রেমওয়ার্ক বা টুল গুলো বার বার ব্যবহার করে একটি ছোট পন্য তৈরি করতে হবে যা সল্প সংখ্যক কাস্টমারের সামনে উপস্থাপন করা যাবে।
২)প্রোডাক্ট-মার্কেট ফিট: এখানে আপনি বিভিন্ন ধরনের ফিচার তৈরি করে দেখেন যে কোনটি মার্কেটে উপযুক্ত। অনেক সময় আর্লি রিসার্চ ঠিক মত না করার কারনে একটি পন্য তৈরি করতে অনেক সময় চলে যায়। তাই আপনাকে অনেক বেশি সতর্ক থাকতে হবে প্রোডাক্ট মার্কেটে আনার সময় যেন মানুষ আপনার পন্য বা সেবা পছন্দ করে।
৩) গ্রোথ : আপনার প্রোডাক্ট যখন মার্কেটে একবার ফিট হয়ে যাবে তখন আপনার কাস্টমারের সংখ্যা বাড়তে থাকবে। তখন এই স্টেজে আপনাকে স্কেলয়্যাবিলিটির দিকে মনোযোগী হতে হবে ।
৪) ম্যাচুরী স্টেজ : এই স্টেজে আপনার বিক্রয় কমতে থাকবে এবং কোন মার্কেটিং টুল বেশী কাজ করবে না। কাস্টমারের স্বাদ পরিবর্তন হয় এবং তারা বিকল্প কিছু খুঁজতে থাকে তাই কোন ধরনের মার্কেটিং টুল গুলো কাজে লাগেনা। তাই নতুন পন্য বা সেবার ডিজাইন করে তা বাজারে নিয়ে আসতে হবে বা বিদ্যমান প্রোডাক্টের নতুন ফিচার আনতে হবে টার্গেট কাস্টমার ধরে রাখার জন্য।
The Third Pillar-Marketing
মার্কেটিং হল এমন একটি পন্থা যার মাধ্যমে দ্রুত অনেক কাস্টমার নিকট পোঁছানো যায়। তাই বড় বড় কোম্পানীগুলো প্রতিনিয়ত মার্কেটিং টুল পরিবর্তন করে শেষ গ্রোথ পর্যন্ত কাস্টমার ধরে রাখার জন্য বর্তমানে ট্রেডিশনাল মিডিয়ার তুলনায় মানুষ এখন সোশ্যাল মিডিয়াকে মার্কেটিং মূল অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। কারন সোশ্যাল মিডিয়া (বিশেষ করে ফেইসবুক) মার্কেটিং একটি ভাল মাধ্যম যার মাধ্যমে খুব অল্প সময়ে ব্যান্ড ভেল্যু এবং সচেতনা সৃষ্টি করা যায়।
কিন্তু আপনি যখন ফেইসবুকে বিজ্ঞাপন দিবেন তখন প্রোডাক্ট বিক্রির সরাসরি অফার না দিয়ে বরং আপনার পন্য বা সেবা সম্পর্কে এমন গল্প তৈরি করেন যা মানুষ শুনতে পছন্দ করবে। তাহলে আপনার বিজ্ঞাপন মানুষ বেশী বেশী শেয়ার করবে এবং অনেক বেশি কাস্টমার ও আপনার ব্যবসায় সম্পর্কে জানতে পারবে।
যদি আপনি বিনোদনধর্মী বিজ্ঞাপন প্রস্তুত করতে পারেন তাহলে ফেইসবুক হবে সবচেয়ে ভাল মার্কেটিং টুল বেশী ট্রাফিক পাওয়ার জন্য। তাছাড়া ইমেইল এর মাধ্যমেও মার্কেটিং করা যেতে পারে টার্গেট কাস্টমারদের কাছে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে যে যখন আপনি তাদের কে ইমেইল করবেন তখন পন্যের অনেক বেশী ইমেজ বা ভিডিও পাঠানো যাবে না। সবেচেয়ে ভাল হয় যদি ৫/৬ লাইনের টেক্স এবং একটি ইমেজ বা লিংক দেওয়া হয় এবং সাধারন ভাষা ব্যবহার করতে হবে যা আমরা বন্ধু-বান্ধব বা কাছের মানুষদের সাথে ব্যবহার করি তখন টার্গেট কাস্টমাররাও আপনার সাথে সহজে সম্পৃক্ত হয়ে যাবে । আর যখন টার্গেট কাস্টমার পেয়ে যাবেন তখন অটোমেশন ইমেইল ব্যবহার করা যেতে পারে নতুন নতুন তথ্য আপডেট দেওয়ার জন্য।এভাবেই একটি স্টাট-আপ ব্যবসায় দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখা যায়।
source: স্টার্ট - আপ ব্যবসার তিনটি পিলার-মূলধন,পন্য এবং বিপনন
No comments:
Post a Comment