বাংলাদেশ ইকমার্সে ভবিষ্যৎ ক্রাউড ফান্ডিং- Razib Ahmed

বাংলাদেশ ইকমার্সে ভবিষ্যৎ ক্রাউড ফান্ডিং- Razib Ahmed

Crowd funding নিয়ে আমার একটা লেখা ম্যাগাজিনে (কম্পিউটার জগত অগাস্ট ২০১৫) আড়াই বছর আগের। এখানে আবার দিলাম।
Crowd funding বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত পুরদমে যাত্রা শুরু করেনি। তবে বাংলাদেশের আইসিটি সেক্টর এবং অন্যান্য সেক্টরের উন্নতিতে ব্যপক ভুমিকা রাখতে পারে। এজন্য যে মানুষকে খুব বেশী আত্মত্যাগ করতে হবে তাও নয়। শুধু দরকার মানুষের মানষিকতার পরিবর্তন। ফেইসবুকের মাধ্যমে এখন অনেকের সংগেই যুক্ত হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে অনেক ভাল উদ্যোগের জন্য সংস্থানের ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। তবে একই সঙ্গে এই বিষয়টিও মাথায় রাখতে হবে যে এই দিকে প্রতারনার ঘটনাও ঘটবে।

তবে Crowd funding নিয়ে ঝাপিয়ে পরার এখনই উপযুক্ত সময়। বিশেষ করে ই-কমার্স সেক্টরে উদ্যোক্তা এর মাধ্যমে খুবই উপকৃত হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে এই মুহূর্তে প্রায় ২০০র মত Crowd funding প্ল্যাটফর্ম রয়েছে। আর সামাজিক বিভিন্ন সমস্যার জন্য ফান্ড তোলা বেশ জনপ্রিয়। সার বিশ্বে Crowd funding এর মাধ্যমে যেই অর্থ তোলা হয় তার বড় অংশই আসে যুক্তরাষ্ট্রে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলো বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে। এমনিতেই নানা রকম ফান্ডের সুবিধা আমেরিকাতে আছে। তাই এর উপরে যদি আবার Crowd funding এর মাধ্যমে আরও সহজ পদ্ধতিতে টাকা পায় তাহলে তারা আরও বেশী প্রতিদ্বন্দ্বিতামুলক সুবিধা পাবে। তাই বাংলাদেশ সহ বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলোতে এই কলচার গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিতে হবে।

বাংলাদেশে Crowd funding এর আন্দোলন ও সংস্কৃতি গড়ে তোলার এখনই উপযুক্ত সময়। ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলো শেয়ার মার্কেটে ঢুকে অর্থ সংগ্রহের কথা চিন্তা করতে পারে না। ব্যাং ঋণের চড়া সূদ এং তার থেকেও বড় কথা হল ব্যাংক গুলো ত্যলা মাথায় তেল দিতে চায়। অর্থাৎ যাদের খুব একটা ঋণ নেবার দরকার নেই তারাই ঋণ পায়। আর সামাজিক সমস্যায় তেমন কেউ এগিয়ে আসে না। ফলে দেখা যায় যে ১০০০০ টাকার অভাবে কোন রাস্তা ঠিক হচ্ছে না এবং সেই রাস্তা মরন ফাদে পরিণত হয়। শিক্ষা ও গবেষণাতেও crowd funding বদলে দিতে পারে চালচিত্র। ই-ক্যাবের সভাপতি হিসাবে ই-কমার্সের উপর একটি সার্ভে বা জরিপের ব্যপারে আমি খুব আগ্রহী। কিন্তু সমস্যা একটাই এর জন্য টাকা দরকার। টাকা পাচ্ছি না। একইভাবে ই-ক্যাব থেকে এটি ই-কমার্সের উপর বই প্রকশের জন্য অনেক অনুরধ এসেছে আমার কাছে। যদি মাত্র ১০০০ লোক এই বইটি পাবার জন্য অগ্রিম টাকা দেয় তাহলে প্রকাশক মনের আনন্দে এই বই প্রকাশ করবে।

ইউনাইটেড ইন্টারনেশনাল ইনিভার্সিটি বা ইউআইইউ’কে crowd funding এর ব্যপারে একটি প্রস্তাব দিয়ে রেখেছি ইনফরমাল ভাবে। সেখানে সাড়ে ছয় হাজারের মত ছাত্র লেখাপড়া করে। প্রত্যেকের থেকে যদি ১০০ টাকা করে হলেও এক সেমিস্টারে (৪ মাস) সংগ্রহ করা যায় তাহলে প্রতি সেমিস্টারে ৬ লাখ টাকা উঠবে। এক লাখ টাকা করেও যদি ছয় জন ছাত্র উদ্যোক্তাকে দেওয়া যায় তাহলে এক বছরে ১৮ জন উদ্যোক্তাকে এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে crowd funding এর মাধ্যমে তহবিল পাবে। চার মাসে ১০০ টাকা মানে হছে গড়ে এক টাকারও কম। এই টাকার সঙ্গে যদি বিশ্ববিদ্যালয়টি সমপরিমাণ অর্থ যোগ করে তাহলে বিশাল একটি তহবিল গড়ে উঠবে।

Crowd funding আসলে জটিল কোন বিষয় নয়। প্রতিদিন ১০০০০ লোক যদি ১০ টাকার একটি করে সিগারেট না খেয়ে এই টাকাটা কোন একটি crowd funding প্ল্যাটফর্মে দান করে তাহলে প্রতিদিন একজন করে উদ্যোক্তাকে ১ লাখ করে টাকা দেওয়া সম্ভব। এই সামান্য বিষয়টি যদি ৬৪ টি জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া যায় তহলে বাংলাদেশে প্রতি দিন নতুন করে ৬৪ জন উদ্যোক্তা তৈরি হতে পারেন।

ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রির জন্য Crowd funding এর দরকার খব বেশী। ব্যাংকগুলো এখনো এখাতে ঋণ দেয় না। ই-ক্যাবের বেশী উদ্যোক্তা অল্প বয়সী তরুণ এবং মূলধনের সংকট তাদের জন্য খুব বেশী। অথচ যারা মোটামুটি মূলধন নিয়ে নামতে পেড়েছে তাদেরও রোজার মাসে হয়তো এত ডেলিভারি আসল যে তা সরবরাহ করার মত মূলধন তাদের হাতে নেই। আন্দাজে এই ধরনের কথা বলছি না বরং রোজার সময় বেশ কয়েকজন উদ্যোক্তা আমাকে এই কথা জানিয়েছে। Crowd funding এর মাধ্যমে আমাদের ই-ক্যাবের কিছু ওয়েবসাইট হয়তো তাদের পণ্যের অগ্রিম অর্ডারও পেতে পারেন। আমের সময় রাজশাহী বিভাগ থেকে আসা আম কি পরিমাণ আনা দরকার সে নয়ে অনেক উদ্যোক্তাই টেনশনে থাকেন। আর একটি Crowd funding প্ল্যাটফর্মে কিনবা ফেইসবুকের যদি কিছু লোক সম্মিলিতভাবে কোন ই-কমার্স ওয়েবসাইটের প্রচারণা চালায় তাহলে সেই সাইটের ভিজিটর ও বিক্রি দুই বেড়ে যাবে।

source: বাংলাদেশ ইকমার্সে ভবিষ্যৎ ক্রাউড ফান্ডিং


No comments:

Post a Comment