স্টার্টআপ এবং ছোট ব্যাবসার মধ্যে মূল পার্থক্যসমুহ- Sultan Neer

Sultan Neer
August 16, 2018
#স্টার্টআপ_এবং_ছোট_ব্যাবসার_মধ্যে_মূল_পার্থক্য_সমুহ- Sultan Neer

বছরের পর বছর ইনভেস্টরস রা স্টার্টআপ কে বড় একটি কোম্পানির ছোট ভার্শন বলে ট্রিট করে আসছেন। জদিও এটা বেশ একটি ক্রিটিকাল ধারণা কারণ স্টার্টআপ, ছোট ব্যাবসা এবং বড় করপরেশন গুলির মধ্যে ভাবাদর্শগত এবং প্রতিষ্ঠানগত নানাবিধ পার্থক্য দেখতে পাওয়া যায়!

১। পরিপক্কতা
একটা স্টার্টআপ হতে পারে সাময়িক কাজের জন্য ডিজাইন করা একটা বিজনেস মডেল যেটা হয়তো একটা সময় শেষ হয়ে যাবে। কিংবা ছট/বড় একটি কোম্পানি তে রুপ লাভ করবে। সেই ক্ষেত্রে ছোট ব্যাবসা স্থাপন ই করা হয় স্থায়ী ভাবে অনেক সময়ের জন্য টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্য তে। এটার স্থায়িত্ব জদিও নির্ভর করে কি ব্যাবসা কাদের সাথে আর কোন উপায়ে মার্কেটে ছাড়া হচ্ছে তার উপরে। তবে উদ্দেশ্যগত এই দুটি পার্থক্য এদের করেছে আলাদা।

২। ব্যাবসয়িক অবকাঠামো
স্টার্টআপ এর ব্যাবসাইক কাঠামোটাকে হতে হবে ইউনিক। একিসাথে বেশি লাভজনক ও বটে। শুধু সাধারণ ব্যাপার গুলি কে অসাধারণ ভাবে প্রকাশ করাই না, বরং সেই মডেলটির একটি ইফেক্টিভ ইনফ্রাস্ট্যাকচার করে সেটা কে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নাম ই হচ্ছে স্টার্টআপ। অপর দিকে ছোট ব্যাবসা হচ্ছে গৎবাধা নিয়মে পরিচালিত যে কোন ব্যাবসা যেখানে ইউনিক হওয়ার কোন দরকার নেই! শুধু একটি বহু প্রচলিত বিষয়ে ফোকাস করে তথাকথিত উপায়ে বাকি ১০ জনের দেখে তাদের মত করে বিজনেস শুরু করে সেটিকে শুধু মাত্র প্রফিট এর উদ্দেশে এগিয়ে নিয়ে জাওয়া।

৩। ব্যাবসার ধরণ
স্টার্টআপ এর পন্থাটা হতে পারে স্বল্প মেয়াদী। এটা শেষ হয়ে যেতে পারে তার প্রয়োজনীয় পথ টুকু পার করেই। কিংবা স্টার্টআপ থেকে রুপ নিতে পারে ছোট ব্যাবসা এবং তার পর বড় কোম্পানিতে। কিন্তু স্বভাবত এটা টেম্পোরারি হয়ে থাকে। অন্যথায় ছোট ব্যাবসাটা দীর্ঘমেয়াদী একটি পরিকল্পনা! এই ব্যাবসা ট্রেডিশনাল পন্থা অবলম্বন করে চালু করা হয়ে থাকে।

৪। ব্যাবসা প্রশারনা ও উদ্দেশ্য
সাধারন ছোট ব্যাবসা মুলত ছোট লোকাল মার্কেট কে টার্গেট করে স্থাপন করা হয়ে থাকে। তারা তাদের ব্যাবসা ও ইনভেস্টমেন্ট বৃদ্ধি করলেউ তাদের ব্যাবসার প্রশার টা থাকে ওই পরিধী পর্যন্তই। অন্য দিকে একটি স্টার্টআপ হয়তো চার দেয়ালের মাঝে শুরু হলেউ সেটার টার্গেট থাকতে পারে গ্লোবাল মার্কেট ধরা। ন্যাশনাল এবং ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট গুলিতে কাজ করাই মূল উদ্দেশ্য এই স্টার্টআপ এর।

৫। ফাইনান্সিয়াল ইনভেস্টমেন্ট
একটি ছোট ব্যাবসা হয় সেলফ সাফিশিয়েন্ট, কিংবা পরিবার বা বন্ধু মহলের সেভিংস থেকে অথবা হতে পারে ব্যাঙ্ক লোন এর উপর নির্ভর করে। এখানে অন্য প্রতিষ্ঠান কিংবা সরকারী সহযোগিতা আশা করার কোন মানেই হয় না। কারণ এটি ব্যাক্তি মালিকানায় গড়া শুধু প্রফিট এর আশায় স্থাপন করা একটি ব্যাবসা যেটায় একটি ছোট্ট বৃত্তের ভেতরকার কিছু মানুষ এর উপকার হলেউ এটার দাঁরা উপকৃত হয়না বিরাট কোন মাধ্যম বা জনগোষ্ঠী।
অন্য দিকে স্টার্টআপ টা শুরুই হয় বিনিয়োগকারী দের বিনিয়োগ এর উপর নির্ভর করে। বিশাল স্বার্থের দিকে লক্ষ রেখে।

৬। এক্সিট প্ল্যান
একটি স্টার্টআপ এর সাধারণত একটি এক্সিট প্ল্যান থাকে! আগের লিখা থেকে নিশ্চই বুঝেছেন স্টার্টআপ টা সব সময়ের জন্য চলবে ব্যাপার টা তেমন না! তাই এটার থাকতে পারে একটি সমাপ্তি, কিংবা টার্নওভার। এটার থাকতে পারে বিভিন্ন ধাপ কিংবা অধ্যায়। সাধারণত এটা কিছুদুর চলার পর initial public offering (IPO) তে চলে যায়। যখন কোন প্রাইভেট কোম্পানি বা করপোরেশান তাদের স্টক পাবলিকলি ইনভেস্ট করে তখন সেটাকে IPO বলে।
আর ছোট ব্যাবসা গুলি সাধারণত পুরোটাই নিজেদের উপর নির্ভরশীল এবং এটার কোন এক্সিট প্ল্যান থাকে না!

৭। ক্যাশ ফ্লো
প্রত্যেকটা ব্যাবসারই একটা ক্যাশ ফ্লো থাকে। ব্যাবসার জন্য টাকা কোথা থেকে আসবে, কোন কোন খাতে ইনভেস্ট হবে, কি ভাবে হবে, ইনভেস্টমেন্ট অনুযায়ী কি পরিমান লাভ ফিরে পাওয়া যাবে এই সব গুলি ব্যাপার নির্ধারণ করে নিতে হয় একটা ছোট ব্যাবসার শুরুতেই। আর একটা ছোট ব্যাবসা প্রথম থেকেই ইনভেস্টমেন্ট এর উপর নির্ভরশীল থাকে হোক সেটা একক ইনভেস্টমেন্ট কিংবা লোন।
আর স্টার্টআপ এর শুরু টা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হয় খুব ইজি ভাবে। যেহেতু এটা পরিকল্পনা বেসড বিজনেস যেখানে ইউনিক আইডিয়া টাই মুখ্য, সেটা নিয়ে রিসার্চ এবং প্রপার ডেভেলপমেন্ট প্রয়োজন। আর সেটা শুরু থেকেই ইনভেস্টমেন্ট এর উপর চলে যায় না! বেসিক ব্যাপার গুলি শেষে অপেক্ষায় থাকে IPO ফ্রেজের জন্য।

৮। রিস্ক ফ্যাক্টরস
যেহেতু স্টার্টআপ সম্পূর্ণ নতুন ধারনা নিয়ে কাজ করে, তাই এতে প্রচুর রিস্ক ফ্যাক্টর থাকে। জথা জথ প্ল্যানিং, আইডিয়া জেনেরেশান সহ প্রডাক্ট অ্যানালাইসি, ইনভেস্টর খুজে বার করা সব মিলিয়ে একটা স্টার্টআপ অন্য যে কোন ব্যাবসার থেকে বেশি রিস্কি। আর ওপর পাশে ছোট ব্যাবসার সব কিছু যেহেতু ট্রেডিশানাল, আগে থেকেই মোটামুটি ফিস্কড করা, তাই এটাতে রিস্ক টা খুব কম। তার পরেউ এসব ব্যাবসায় প্রপার জায়গায় প্রপার প্রডাক্ট নির্বাচন, সঠিক উপায় মারকেটিং সহ মার্কেট স্টাডির অনেকটাই তাদের সফলতা নির্ধারণ করে।

৯। রিটার্নস
স্টার্টআপ অনেক রিস্ক নিয়ে কাজ করে কিন্তু যেহেতু এর পরিধী ব্যাপক, তাই এই ব্যাবসার ফেরত আসা মুনাফা কিংবা ফিডব্যাক অনেক হয়। আর ছোট ব্যাবসার পরিধী কম, তাই এই ব্যাবসার ফিরতি মুনাফা টাউ খুব বেশি হয়না।

১০। কাজের পরিধী
একটি স্টার্টআপ কাজ করতে পারে নানান টপিক এর উপর ভিত্তি করে। এর কাজের পরিধী অনেক। এটা কখনোই না যে স্টার্টআপ কে গৎবাঁধা কোন নিয়মের ভেতরে থেকেই প্ল্যান করতে হবে। এমন ও হতে পারে একটি স্টার্টআপ পুরো নতুন কিছু নিয়ে কাজ করছে। যেটা আগে কেউ কখন ভাবতেউ পারেনি। কেউ জানে না সেটার স্ট্রাটেজি, কারণ আগে কেউ কখন সেটা নিয়ে কাজ করেনি। আর তাই এটা হয় অনেক চ্যালেঞ্জিং।
অপরপক্ষে, ছোট ব্যাবসার পরিধী খুবি সিমিত। সনাতন কিছু নিয়মের ভিতরে সময়উপযোগী সব থেকে প্রফিটেবল একটা নিশ নিয়ে শুরু হয় একটি ছোট ব্যাবসা।

তো আর দেরি কেন? আজ থেকেই শুরু করে দিন আপনার স্টার্টআপ কিংবা ছোট ব্যাবসা। শুরু জেটার জন্যই হোক, দুটির পথ ই কিন্তু কখনোই সহজ নয়! দুটোর জন্যই দরকার দক্ষতা আর সটিক দিক নির্দেশনা। এগুলির জন্য এই গ্রুপ টার থেকে ভালো আর কি বা হতে পারে!! :) <3

source: স্টার্টআপ এবং ছোট ব্যাবসার মধ্যে মূল পার্থক্যসমুহ

No comments:

Post a Comment