ইকমার্স ব্যবসার আয় পরিকল্পনা

Lipi Sd is with Razib Ahmed 
প্রফেশনাল ওর্য়াকশপ -৫

বিজনেস রেভিনিউ মডেল

বাংলা যদি বলি ব্যবসায় আয় পরিকল্পনা।
ব্যবসায় যেখানে আয় তো সেখানে থাকবেই। কারণ ব্যবসায়ের প্রাণ হল অর্থ।
কথা গুলোর বলার কারণ হচ্ছে আজ আমাদের প্রফেশনাল ওর্য়াকশপের মূল বিষয় ছিল ফাহরিন আপুর বিজনেস মডেল রিভিনউ।আপু এই বিষয়টি নিয়ে স্টাডি করছেন। বেশ কিছু আইডিয়া ও পেয়েছেন। এখন আশা করি তার উপযুক্ত আইডিয়া খুঁজে বের করতে পারবেন এবং কাজ করবেন।

এবার আসি মূল বিষয়টি তে এই গ্রুপের কল্যানে আমরা অনেকেই এখন ই-কমার্স এর প্রতি বেশ আগ্রহি। কিন্তু কথা আছে, আমার আইডিয়া আছে, পন্যের উৎস পেয়েছি, ফেসবুকে পেইজ খুলে ফেলাম, কাস্টমার অর্ডার করলো আর বিক্রয় করে রিভিউন আসলো আর কোম্পানি দাড়িয়ে গেল ব্যাপারটা মোটেও তা নয়।

উদোগ্যক্তা হতে গেলে আপনাকে প্রতিটি ধাপে স্টাডি করতে হবে। কখনই হুজুকে নেমে পড়া যাবে না।
না হলে দিন শেষে শুন্য হাতে আপনাকে হতাশায় পড়তে হবে।

কয়েকটি সাধারণ বিষয় অবশ্যই মাথায় রেখে নামতে হবে ই-কর্মাসে। 
১. একটা বছর সময়ে নিয়ে পড়াশোনা করুন। কি বিষয় নিয়ে বা আপনার কি ধরনের আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে চান।

২.ইংরেজি পড়ার অভ্যাস করন। কেন বলছি?
কারণ আপনাকে ফরেন ওয়েবসাইট পড়তে হবে, ফেরেনার দের যোগাযোগ করতে হবে। তার চেয়ে ও বড় কথা ইনভেস্টমেন্টদের সামনে আপনাকে ইংরেজিতে প্রজেন্টেশনটা দিতে হবে।পীচ তৈরি করতে হবে ইত্যাদি। ইংরেজি পড়ার অভ্যাসটা আপনাকে এসব আপনাকে তৈরি করতে সাহায্য করবে। কারণ ভাল তথ্যের জন্য ফরেন ওয়েবসাইট পড়তে হবে।

৩. আইটি নিয়ে চর্চা এটাও রিডিংএর মতো বিষয়টি। প্রাথমিক জ্ঞান গুলো থাকতে হবে আর বাকিটা সময়ের সাথে সাথে শিখতে হবে।

৪.ফেসবুক সঠিক ব্যবহার করার জ্ঞান থাকতে হবে। কারণ আমাদের দেশে ফেসবুক হচ্ছে সার্বজনীন একটি প্ল্যাটফর্ম। ফেসবুকের কমেন্ট লাইকের ও পোস্টের জ্ঞান থাকতে হবে। ফেসবুক ব্যবহার জ্ঞান থাকা আবশ্যক একজন উদোগ্যক্তাকে। এই সম্পকিত বিস্তারিত আলোচনা ধাপে ধাপে আমি পোস্ট করবো গ্রুপে।

৫.যে প্রোডাক্টি নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন। তার সাথে পরিচিত হোন। কিভাবে, কোথায় উৎপাদন হচ্ছে, তার মান কেমন এবং আপনি কতটা সাশ্রয়ে পন্য আনতে পারবেন। প্রয়োজন পড়লে মার্কেট যাচাই করুন, এতে সহজে বিষয়টি বুঝতে পারবেন। মনে রাখবেন, যতটা সাশ্রয়ে আপনি পন্যটি আনতে পারবেন, ততটা কম মূল্যে বিক্রি করতে পারবেন আর ক্রেতা সন্তুষ্টি।

৬.টিম গুছানো। এই বিষয়টি বেশ সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।কারণ হুট করে চাইলে আপনি মনের মতো বা দক্ষ লোক পাবেন না। আপনাকে সময় দিয়ে লোকগুলোকে এক একটি বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে হবে।

৭.অনেকেই মনে করেন ই- কর্মাস ঘরে বসে করা তো বিজনেস। অবশ্যই তবে কথা,হলো আপনি ঘরে থাকলে চলবে না

অর্থাৎ,  আপনি যে প্রোডাক্ট বাছাই করেছেন ই- কমার্স ব্যবসায় করার জন্য। তার,সম্পর্কে মানে প্রোডাক্টি সর্ম্পকে যতটা পারুন জানে নিন।কোন উৎস থেকে সবচেয়ে ভালো মানের কম মূল্যে আপনি পণ্যটি সংগ্রহ করতে পারবেন তা দেখে নিন। মনে রাখবেন, যতটা কম মূল্যে আপনি প্রোডাক্টি কিনতে পারবেন, ততটা কম মূল্যে ক্রেতাকে দিতে পারবেন। এতে বিক্রয়, কাস্টমার ও আপনার কোম্পানির ব্যান্ড্র ভ্যালু তত বাড়বে।

৮) ইনভেস্ট করতে হবে আপনার যতটুকু সম্ভব। কারণ ব্যবসায় করতে গেলে টাকার প্রয়োজন অবশ্যই আছে। তাই শুরু দিকে যতটা সম্ভব নিজের অর্থ দিয়ে ব্যবসায় শুরু করা। এতে নিজের ভিতর এক প্রকার তাগিদ অনুভব করতে পারবেন। আর টাকা খরচের প্রতিটি ক্ষাত সম্পর্কে জেনে বুঝে কাজটি করবেন।

৯)পরিকল্পনা প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যয় ই- কমার্সের জন্য। কারণ সামন্য একটা কাজ যদি আপনি পরিকল্পনা ছাড়া,করেন তাহলে নিশ্চিত ধরা খেতে হবে। এর চেয়ে অনেক ভাল দশ বার ভেবে একটা কাজ করা। এক্ষেএে আপনি SWOT বিশ্লেষণ করে নিতে পারেন। যথাঃ
S= strength (শক্তি)
এখানে আপনার ই- কমার্স ব্যবসায় শক্তিশালী দিক কোন গুলো তা বিচার বিশ্লেষণ করে খুঁজে বের করুন।

W=weakness ( দূূর্বলতা)
এ পর্যায়ে আপনাকে ব্যবসায়টির দূর্বল দিক গুলো বের করতে হবে এবং তা কাটিয়ে ওঠার উপায় খুঁজে বের করতে হবে আপনাকে।

O= opportunity (সুযোগ)
ভবিষ্যতে আপনার ই- কমার্স ব্যবসায়টির জন্য কি কি ধরনের সুযোগ তৈরি হতে পারে তা খুঁজে বের করুন। তার জন্য আপবাকে সর্বদা মার্কেট র্রিসার্চ
করতে হবে সাথে স্টাডি। এতে খুব সহজেই আপনি বুঝতে পারবেন, কোন মার্কেট প্লেসে আপনার জন্য সুযোগ রয়েছে।

T= theatre ( হুমকি)

এখানেও আপনাকে খুজে বের করতে হবে ভবিষ্যতে আপনার ই- কমার্স কোম্পানির জন্য কি কি হুমকি গুলো এবং কখন জায়গা গুলো থেকে আসতে পারে তা খুজে বের করা। এর মাধ্যমে আপনি হুমকি গুলোর বিপরীতে পূর্ব প্রস্তুতি নিতে পারবেন।

১০) মার্কেটিং কৌশল বা স্টার্জি নিয়ে পরিকল্পনা করুন। এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনাকে ডিজিটাল মার্কেটিং নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে। ব্যবসায় শুরু দিকে আপনার কোম্পানির নাম ও আপনার কোম্পানির ট্যাগ লাইনের প্রমোশনটা বেশি প্রয়োজন সাথে আপনি মার্কেটে কি নতুনত্ব ও কাস্টমারদের জন্য কি কি সুবিধা নিয়ে আসছেন।

১১) টার্গেট কাস্টমারদের খুজে বের করুন। ব্যবসায়র শুরু দিকে হয়তো আপনার বুঝতে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে। তবে মার্কেট রিসার্চ ও প্রমোশনের মাধ্যমে কাস্টমারদের কাছ থেকে ফিডব্যাক পেতে পারেন।

তারপর আপনার সাইট কিভাবে বানাবেন তা নিয়ে  বলছি।

১) এখন আপনাকে ওয়েব সাইটির নাম নিয়ে ভাবতে হবে। কারণ এই নামটিই কিন্তু আপনার ই- কমার্সটির পরিচিতি বাড়াবে।

২) নামটি নিয়ে ভাবার সময় আপনাকে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। যেমনঃ

# নামটি যেন সহজ হয়।কারন আপনার সাইটির নাম শুনে কাস্টমাররা,আপনার পণ্য সম্পর্কে একটা,আইডিয়া পেতে পারে। যাকে বলে কাস্টমারের মনে একটা অদৃশমান প্রভাব তৈরি করা।

# অনেকেই আছেন বেশি স্টাইল ভাব ফুটিয়ে তুলতে গিয়ে এটা ভুলে যান, নাম যদি সহজ ও মানুষের মনে রাখার পক্ষে সহনশীল বা সুবিধাজনক না হয়। তাহলে সমস্যাটা কিন্তু আপনার মানে আপনার সাইটির প্রমোশন কম হবে।

# আপনি কি ধরনের পন্য বিক্রি করবেন তার ওপর ভিত্তি করে ওয়েব সাইটটির নাম নির্ধারন করুন। যেমনঃ চাল - ডাল ডট কমের নাম শুনে আমরা বুঝতে পারি তাদের পন্য কি হবে।

# লোগো ডিজাইনটা নামের সাথে মিল রেখে করলে ভাল হবে। কারণ আপনার নামটি আর লোগোর মধ্যে যদি কাস্টমার মিল খুঁজে না পায় শুরুতে একটা বাজে প্রভাবে অবচেতন ভাবে।

৩)ডোমেইনটা নিয়ে রাখুন এবং তা নেয়ার সময় ভালভাবে সব চেক করুন। মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও যাতে আপনি সুবিধা গুলো পান।

৪) আপনি নামটা ঠিক করে ফেলার পর হোস্টিং বা ওয়েবসাইট করতে দেরি হলে।ফেসবুক পেইজের মাধ্যমে ওয়েবসাইটটির নামটি পরিচিতি করে তোলার চেষ্টা করুন। কারণ মানুষ জানলে তবে আপনার বিজনেস শুরু হবে। তবে ডোমেইন হোস্টিং এর বিষয়টি নিশ্চিত করুন।

৫) শুরুতে আপনাকে অফিস নিয়ে না ভাবলেই ও চলবে। বাসার ঠিকানা ব্যবহার করুন। তবে টিম মেম্বার বেশি হলে, পন্য মজুত করা বা অন্যান্য কোম্পানির সাথে,ডিল করতে হলে সেখানে অফি, লাগবে। তবে শুরুতে এতো ঝামেলায় না যাওয়ায় ভাল।

৬) ওয়েবসাইট তৈরি করার ক্ষেএে ওয়ার্ডপ্রেস ব্যবহার করা ভালো। প্রয়োজনে শুরুর দিকে ফ্রি তে ওয়েবসাইট তৈরি করতে পারেন।

৭)যতটুকু সম্ভব বেসিক ইনফরমেশন দিয়ে ওয়েবসাইটি সাজান। যেমনঃ ভিশন, মিশন, সার্ভিস ইত্যাদি।

৮) আপনার পন্যের ছবি ও কন্টেন্ট নিয়ে যথেষ্ট সচেতন আপনাকে হতে হবে। কারণ এই দুটো জিনিস আপনার ওয়েবসাইটির সেল ম্যানের কাজটি করবে। ক্রেতা পন্যের ছবি ও কন্টেন্ট পড়ে ক্রয় করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করবেন। আশা করছি বুঝতে কতটা গুরুত্বপূর্ণ আপনার জন্য এই অংশটি।

আগামি পর্বে ই- কমার্স সাইটের কন্টেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় ধাপ গুলো আলোচনা করবো।

শুভ রাএি সবাইকে। —

source
ইকমার্স ব্যবসার আয় পরিকল্পনা 

No comments:

Post a Comment