ক্রাফটিং নিয়ে আমার কিছু কথা
~ রাজিব আহমেদ
১। অমি আপুকে আমি টুকটাক চিনি প্রায় ৩ বছর ধরে। ই-ক্যাব গ্রুপে নিয়মিত গন্ডগোল হত এবং আপু প্রায়ই আমাকে মানে আসলে ই-ক্যাবকে সাপোর্ট করতেন। তিনি বেশিরভাগ পোস্ট রাত ১-২ টার দিকে দেন নিজের প্রফাইলে এবং রাত জাগি বলে তার পোস্ট গুলো চোখের সামনে পড়তো, টুকটাক লাইক কমেন্ট করতাম।
২। যাই হোক উই গ্রুপ শুরু করার পর প্রথমে আসিফকে আপনাদের ই-কমার্স নিয়ে শেখানোর ভার দেই এবং আসিফ এটি না করাতে তখন অমি আপুকে পেয়ে যাই এবং তাকে ছাই দিয়ে ভাল করে ধরার চেষ্টা করি। বাকি ইতিহাস আপনাদের সবার জানা।
৩। যাই হোক অমি আপু এরপর নাবিলা আপু, রাখি আপু, আয়েশা আপুদের ধরে নিয়ে আসেন এবং গ্রুপে একটিভ করা শুরু করেন। হিহিহি। এই হিহি নিয়ে এত মজা করা শুরু করি যে ই-কমার্স ইন্ডাস্ট্রির অনেকেই মহান ভাই, সুজন ভাই, ইমরান ভাইদের কাছে জিজ্ঞেশ করেন যে রাজিব ভাইয়ের কি হল। তিনি খালি হিহি করেন কেন? :D
৪। তখনো আসলে ক্রাফটিং কি ঠিক মত জানি না। তবে বিদেশে আমি এক বছর থেকেছি এবং সেখানে একটি জিনিশ দেখেছি যে মেশিনে তৈরি জিনিশের থেকে হাতে বানানো জিনিশের মূল্য অনেক বেশি। আর তাদের শিল্পী বলে মনে করে।
৫। যাই হোক অমি আপু সহ আপনারা ১০-২০-৩০ জন নিজেদের গল্প গুলো শেয়ার করলেন প্রডাক্ট এর সুন্দর সুন্দর ছবি দিলেন। আমরাও জানা শুরু করলাম আপনাদের কাজ নিয়ে।
৬। প্রায় সবার পোষ্টে একটি কমন কথা ছিল এখনো আছে ক্রাফটিংকে এদেশে মানুষ তেমন মর্যাদা দেয় না, এমনকি ফ্যামিলি আর ফ্রেন্ডসরাও বাজে কথা বলে, বাজে আচরন করে। অনেকে পরিবারকে না জানিয়ে লুকিয়ে কাজ করেন। সন্মান তো নেই উল্টা গ্যারান্টি সহকারে অসন্মান আছে।
৭। ২ সপ্তাহ আগে অমি আপু, নাবিলা আপু এবং আয়েশা আপুকে আমি লাঞ্চে ইনভাইট করি। তবে তা ক্রাফটিং নিয়ে নয় বরং উই গ্রুপকে কি করে একটিভ করা যায় এ নিয়ে আলোচনা করতে। সেখানে তাদের কাজ নিয়ে কথা বলি লম্বা সময় এবং ক্রাফটিং নিয়ে অনেক কিছু জানা হয়।
৮। এরপর নিউজ২৪ টিভিতে ক্রাফটিং নিয়ে ৩০ সেকেন্ডের মত বলি। টেকজুমের মিরাজ ভাইকে কথা দিয়েছি এ নিয়ে একটি লেখা দেব কিন্তু তার আগে নিজে জানার চেষ্টা করছি। টেকজুম অফিসে আপনাদের ২-৩ জনকে নিয়ে আড্ডা দেবার কথাও ফাইনাল করেছি। ইনশাল্লাহ এ বছরের মধ্যেই ক্রাফটিং নিয়ে মিডিয়াতে অনেক বেশি কথা হবে।
৯। আসিফের কোওয়ার্ক গ্রুপের সাথে মিলে উই কিছু করতে হলে আমার শর্ত আসিফের কাছে একটাই- ক্রাফটারদের ডাকতে হবে।
১০। ই-ক্যাবের প্রেসিডেন্ট শমী আপা এবং জেনারেল সেক্রেটারি তমালের সাথেও কথা বলেছি ক্রাফটিংকে ই-ক্যাবের মাধ্যমে যাতে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে তুলে ধরা হয়। ই-ক্যাব এমন কিছু করলে অনেক দ্রুত সবার কাছে চলে যাবে।
১১। দারাজে গতকাল আপনাদের নিয়ে কথা বলেছি। নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে দারাজের অফিসে আপনাদের ৫০ জনকে নিয়ে একটি আড্ডার আয়োজন ফাইনাল। আপনারা আপনাদের প্রডাক্টের স্যাম্পল নিয়ে আসবেন এবং তাদের সাথে কথা বলবেন।
১২। আমি নিজে ক্রাফটিং বিজনেসের সাথে জড়িত না। হতেও চাই না। কারন এটি আমার ফিল্ড না। তাই এখানে আমার লাভ লস কোনটাই নেই।
১৩। উই ক্রাফটিং এর সংগঠন না কিন্তু ক্রাফটিং এর মর্যাদা, গুরুত্ব আর পরিচিতি তুলে ধরার ব্যপারে কাজ করতে পারে।
১৪। অমি আপুকে আমি পছন্দ করি বা না করি তিনি এদিকে অনেক জানেন। হয়তো বড় কোন ব্যবসায়ী নন কিন্তু তিনি আসলেই অনেক জানেন। তার জ্ঞানকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছি।
১৫। যারা শাড়ি, কাপড়, খাবার কেক এসব নিয়ে কাজ করছেন তাদের কারো কারো মনে হচ্ছে যে রাজিব আহমেদ আর উই বোধহয় শুধু ক্রাফটারদের নিয়ে পড়ে আছে। তা মোটেও ঠিক না। আপনারাও এগিয়ে আসেন। আড্ডাতে আসেন, আপনাদের কথা বলেন, গ্রুপে পোস্ট দেন। আমার সাথে বসেন।
১৬। দারাজের সাথে আপনাদের সবার ব্যপারেই কথা হয়েছে, শুধু ক্রাফটারদের নিয়ে নয়।
১৭। অ্যামাজনের ওয়েবসাইটে কি করে আপনাদের পন্য ঢুকানো যায় তা নিয়েও কথা হচ্ছে শুধু ক্রাফটারদের নিয়ে নয়।
১৮। আমার শেষ কথা হল আমরা কিছু লোক যদি এক আর একটিভ থাকি তাহলে অনেক দ্রুত অনেক ভাল কিছু করা সম্ভব।
source - we
No comments:
Post a Comment